28/10/2026
আমাদের যখন জীবন নিয়ে প্রচুর অভিযোগ, তখন যেন আমরা আবুল খায়ের ভাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ওয়াশা মোড়ে আবুল খায়ের ভাইকে একে একে ৫টা গুলি করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রা-সীরা।
আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তার পেটের বাম পাশে যে ক্ষতটা দেখতে পাচ্ছেন, গুলির আঘাতে এই জায়গা দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। আর পেটের মাঝখানে যে কাটা দাগ দেখতে পাচ্ছেন, সেখানে একের পর এক সার্জারি হয়েছে। আবুল খায়ের ভাই বললেন, “জুলাই কাকে কী দিয়েছে জানি না, আমাকে তীব্র যন্ত্রণা দিয়ে গেছে।”
দীর্ঘ নয় মাস হাসপাতালে ছিলেন তিনি। এই নয় মাস প্রতিদিন যখন তার ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হতো, আবুল খায়ের ভাইয়ের ভাষায়, প্রতিটা দিন ড্রেসিং করার ওই সময়টাকে মৃত্যুর মতো মনে হতো। তার মনে হতো, এই যন্ত্রণা সহ্য করার চেয়ে তো মৃত্যু ভালো।
একটা সময় এমন হয়েছিল, ড্রেসিং করার লোক আসলেই তার মনে হতো যেন আজরাইল এসেছে। তিনি কান্নাকাটি করতেন, অনুরোধ করতেন, যেন তাকে অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করে তারপর ড্রেসিং করা হয়।
আমাদের পেটের ভেতরে নাড়িভুঁড়ি সাধারণত যে অবস্থানে থাকে, আবুল খায়ের ভাইয়ের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো পেটের ওপরের দিকে স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিটা দিন তার জন্য এই যন্ত্রণা, এই কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা, চলাফেরা করা আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। আজকে এই মানুষটার ইন্টারভিউ নিয়ে আমি নিজের প্রতি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছি। কিছুই বলার নাই। আল্লাহ ভাইকে অনেক ভালো রাখুক।
#যাদের_ত্যাগ_জানানো_হয়নি ৯
©আকিফ আবদুল্লাহ