11/07/2026
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে নবীনবরণ ও ফল উৎসব গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সাধারণ সম্পাদক, প্রধান অতিথি ও উপদেষ্টাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করা হয়। পরে একে একে নবীন সদস্যদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং ফুল, স্মারক চাবির রিং ও শুভেচ্ছা নোট দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। নবীন সদস্যদের অনুভূতি প্রকাশ অনুষ্ঠানটিকে আরও আন্তরিক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এ সময় নবীন সদস্য অমিত সরকার বলেন, 'সত্য বলতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভায় যাওয়ার আগে আমার বন্ধুসভা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। তবে আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা কর্তৃক আয়োজিত বন্ধুবরণ ও ফল উৎসবে অংশ নেওয়ার পর বুঝতে পারলাম, এটি নিজেকে মেলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে সবাই নিজের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়। বিভাগীয় পরিচয়ের বাইরেও যে একটি সুন্দর বন্ধুমহল গড়ে উঠতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। আশা করি আগামী দিনগুলোতে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে পারব এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারব।'
নবীন সদস্য মহতাসিন সাখাওয়াত সিমি বলেন, 'প্রথম দিনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভায় এসে মনে হয়েছে, আমি সত্যিই একটি উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে এসেছি। সবার আন্তরিকতা ও আপন করে নেওয়ার মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে। আশা করি এই বন্ধুসভার সঙ্গে থেকে অনেক কিছু শিখব, সমাজের জন্য অর্থবহ বিভিন্ন কাজে অংশ নেব এবং সুন্দর কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করব।'
নবীন সদস্য নাফিস আরাফাত বলেন, 'শৈশব-কৈশোরে আমার প্রতিদিনের প্রভাতবেলার সঙ্গী ছিল প্রথম আলো। তখনই প্রথম পরিচয় হয় প্রথম আলো বন্ধুসভার সঙ্গে। ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম, একদিন আমিও বন্ধুসভার সঙ্গে কাজ করব। আজ বন্ধুবরণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন ও কৌতূহল পূর্ণতা পেল। আমি প্রথম আলো বন্ধুসভার সহযাত্রী হয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।'
নবীন সদস্য মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। এই সংগঠন আমাকে শুধু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ নয়, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত কাজের মূল্যও শেখাচ্ছে। প্রতিটি আয়োজন নতুন কিছু শেখার ও নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ করে দেয়।'
এভাবে একে একে নবীন সদস্যরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং "Show Your Talent" পর্বসহ নানা আয়োজন ছিল। "Show Your Talent" পর্বে নবীন সদস্যরা গান, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুকসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার প্রকাশ ঘটান। অনেক নবীন সদস্য প্রথমবারের মতো মাইক্রোফোন হাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশনা করেন, যা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কবিতা আবৃত্তিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন নাফিস আরাফাত, দ্বিতীয় স্থান সৌমিত্র কুমার এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন সাবিহা খাতুন জেবা। গানে প্রথম স্থান অধিকার করেন মো. মেহেদী হাসান, যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন লামিয়া আক্তার কেয়া ও আনিকা আক্তার ইতি, এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তানজিলা সুলতানা মিথিলা।
এ সময় প্রধান অতিথি ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা সারিকা তাসনিম বলেন, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছি সেই ২০০৭ সালে। কিন্তু তারপরও বারবার ফিরে আসি বন্ধুসভায়, কারণ এটি আমার পরিবার। বন্ধুসভা আমাকে দিয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, প্রিয় মানুষ এবং সমাজের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা। নবীনদের প্রতি আমার আহ্বান, তোমরাও এই পরিবারের সঙ্গে থেকে নিজেদের দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করো এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাও।'
সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায় বলেন, 'বন্ধুসভা এমন একটি সংগঠন, যা একজন শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল, দক্ষ, বিবেকবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কাজে আত্মনিয়োগের অনুপ্রেরণা জোগায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সঙ্গে তোমাদের এই পথচলা আনন্দময়, সুন্দর ও সার্থক হোক।'
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, 'এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নবীন সদস্যদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো, তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বন্ধুসভার পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। ভবিষ্যতেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা মানবিক, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।'
অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সহসভাপতি মো. আররাফি সিরাজী (অন্তর)। অনুষ্ঠান শেষে সবাই একসঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং ফল উৎসবের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উপদেষ্টা সারিকা তাসনিম, ফরহাদ হোসেন ও রিয়াদ খান সভাপতি সুইটি রাণী, সহসভাপতি মো. আররাফি সিরাজী (অন্তর), সাধারণ সম্পাদক বাঁধন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী সরকার,সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসিফ উদ্দিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম শাহরিয়ার, প্রচার সম্পাদক শামীম হোসেন, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মুয়াজ্জিন হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, জেন্ডার ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক পুষ্পিতা দাশ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোসা. ইফফাত আরা ইনাম (স্নেহা), দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক বায়েজীদ হায়দার, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. নাঈম হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মো: নাহিম হাসান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক রায়হান-আর-রাফি স্বচ্ছ, ম্যাগাজিন সম্পাদক মো. জুবায়ের ফাহিম হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য মো: নাসিম খলিফা, সদস্য আদিত এবং সোহান, নবীন সদস্য নাফিস আরাফাত, অমিত সরকার, সৌমিত্র, মুজাহিদ, অনিক, দূর্জয়, মেহেদী, শুভ, মোরশেদ আকন্দ, মেহেদী, শাফিন, রাফি,মুছা, আলকাফিয়া, অনিকা, আসলাহন, তাহমিনা, সিমি, প্রিয়ংকা, কেয়া, জেবা, জান্নাত, মিথিলাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।