08/10/2026
হাতে ২ মিনিট সময় থাকলে পোস্টটি পড়ার অনুরোধ করছি। এবং ভালো লাগলে শেয়ার করে দিবেন।
নিজের জন্য গাড়ি কিনবেন বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা জমিয়েছিলেন। অথচ সেই টাকাই একদিন বদলে দিল শত শত অসহায় পরিবারের জীবন.........
নানা পাটেকারের জীবনের এই গল্পটা শুনলে হয়তো আপনিও কিছুক্ষণ চুপ হয়ে যাবেন।
প্রায় এক দশক আগে মহারাষ্ট্রে একের পর এক কৃষকের আত্মহত্যার খবর আসছিল। একদিন টেলিভিশনে এমনই একজন কৃষকের পরিবারের সাক্ষাৎকার দেখছিলেন নানা।
সেখানে মৃত কৃষকের বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের কথা শুনতে শুনতে তাঁর মনে একটি বিষয় গভীরভাবে নাড়া দেয়।
প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শোক তো ছিলই, কিন্তু তার চেয়েও বড় হয়ে সামনে এসেছিল আরেকটি চিন্তা—পরিবারটি পরের দিন কী খাবে?
সেই মুহূর্তে নিজের জমানো টাকার কথা মনে পড়ে তাঁর।
গাড়ি কেনার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গাড়ি কেনার বদলে সেই অর্থ দিয়ে কৃষক আত্মহত্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
বন্ধু মকরন্দ আনাসপুরেকে ফোন করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করে প্রত্যেকের হাতে ১৫ হাজার টাকার করে চেক পৌঁছে দিতে।
তিনি নিজে গিয়ে চেক বিতরণ করতে প্রথমে রাজিও ছিলেন না। কারণ তাঁর কাছে সাহায্য করে সেটা প্রকাশ্যে দেখানোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।
কিন্তু বন্ধুর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তাঁকে যেতে হয়।
আর সেখানেই তিনি এমন একটি দৃশ্য দেখেন, যা তাঁর চিন্তাটাই বদলে দেয়।
এক জায়গায় প্রায় ২২০ জন নারী বসে ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই কৃষক পরিবারের বিধবা।
তখন নানা বুঝতে পারেন—শুধু কয়েকটি চেক বিতরণ করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। দরকার আরও বড় উদ্যোগ, আরও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা।
সেখান থেকেই শুরু হয় NAAM Foundation-এর যাত্রা।
আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয়?
এই উদ্যোগে শুধু বড়লোকরাই অর্থ দেননি।
গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরের খেটে খাওয়া মানুষ—অনেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নানা এমন এক বৃদ্ধার কথাও স্মরণ করেছেন, যিনি মাথায় কাজের ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিশ্রমে তাঁর শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছিল। সেই নারী নিজের কাছে থাকা মাত্র ১০০ টাকার একটি নোট বের করে সাহায্যের জন্য দিয়ে দিয়েছিলেন।
হয়তো ১০০ টাকা কারও কাছে খুব সামান্য।
কিন্তু একজন দরিদ্র মানুষের নিজের প্রয়োজনের টাকা থেকে অন্যের জন্য সেই ১০০ টাকা দিয়ে দেওয়া—তার মূল্য কি টাকায় মাপা যায়?
মানুষের জন্য কিছু করতে সবসময় কোটি কোটি টাকা লাগে না। কখনো কখনো প্রয়োজন শুধু একটি সহানুভূতিশীল হৃদয়।
নানা পাটেকারের এই গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এটাই
আপনার সামর্থ্য যতটুকুই হোক, কারও কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো কিছু যদি আপনার হাতে থাকে, সেটাই অনেক বড় মানবিকতা।
৭৫ বছর বয়সে হ্নদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন......😢
"নানা পাটেকর"