11/03/2025
এক প্রাথমিক স্কুলএ মিড-ডে- মিল ভিজিটের সময় এক অনবদ্য মুহূর্তের সাক্ষী হলাম।
পর পর সব বাচ্চারা আহারে বসেছে সঙ্গে শিক্ষক মহাশয়ের অনুরোধে আমরাও স্বাদ গ্রহণে তাদের সঙ্গেই পাত পেড়ে বসেছি । আমার পাশেই একটা বাচ্চা মেয়ে বসেছে। হঠাৎ দেখি একটি খুব ছোটো বাচ্চা সেই বাচ্চা মেয়ের পাশে বসার খুব চেষ্টা করছে- একটু পর বিফল হয়ে জায়গা না থাকায় সে অন্য জায়গায় বসলো। আহার পরিবেশন করা হলো। সকলে খাচ্ছে । কিন্তু খেয়াল করলাম আমার পাশের সেই বাচ্চা মেয়েটি তেমন খাচ্ছে না - কেমন একটা আড়ষ্ট ভাব। তাকে বার বার জিজ্ঞাসা করা হল কি অসুবিধা তার? কিন্তু সে কিছুই আর বলে না, ভাবলাম আমাদের মত বুড়ো ছাত্রদের দেখে লজ্জা পেয়েছে হয়তো। আমরা খেয়ে উঠে গেলাম। হাত ধোবার সময় দেখি সেই বাচ্চা ছেলেটি ভাতের থালাসুদ্ধ উঠে এসে মেয়েটির পাশে বসলো - যেমনকার ভাত তেমনই আছে! হঠাৎ কোন মন্ত্রবলে মেয়েটির আড়ষ্টতা উধাও ! এবং সে ছেলেটির ভাত মেখে তার মুখে গ্রাস তুলে দিলো । এবং নিজেও খেতে শুরু করলো। দুজনের মুখেই যেন সরলতার এক অদ্ভুত আনন্দ ফুটে উঠল। জানলাম তারা ভাই বোন। দিদি দায়িত্ব নিয়ে ভাই কে প্রতিদিন খাইয়ে দেই। তাই দিদির পাশে বসার জন্যে এত প্রচেষ্টা। ভাই খেতে পারছিলো না বলে দিদিও খাচ্ছিলো না ! হায় রে ভাতৃস্নেহ ! কি নির্মল অথচ কি শক্তিশালী - এই ধেড়ে কেও কাঁদিয়ে দিল ! এই জন্যেই হয়তো মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব!
তোদের এই স্নেহ যেন চির অমলিন থাকে - মনে মনে এই আশীর্বাদ করলাম।
সংগৃহীত