Allamah Nurul Islam Faruqi - R- Welfare Foundation

Allamah Nurul Islam Faruqi - R- Welfare Foundation শহীদে মিল্লাত অাল্লামা শাইখ নূরুল ইসলাম ফারুকী রহঃ

01/08/2021

শোকের আগস্ট চেতনার আগস্ট
--- এইচ এম মীর শহীদ
আগস্ট এসেছে-অলক্ষুণে আগস্ট। আগস্ট এসেছে- এক সাগর কান্না নিয়ে। আগস্ট এসেছে- এক পাহাড় শোক নিয়ে। আগষ্ট এসেছে- অশ্রুবন্যায় হৃদয় রাজ্যের পুরোটা প্লাবিত করে। আগস্ট এলেই বাঙালি শোকে মুহ্যমান হয়, দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খায, কষ্টে নীল হয় এবং দ্রোহে জাগরিত হয়। এ দেশের সুন্নি মুসলমানের হৃদয় রাজ্যের রাজা, বোবা সুন্নীদের স্পীকার, শতধা বিভক্ত সুন্নীদের ঐক্যের স্বপ্নদ্রষ্টা, মদীনার পানে ছুটে চলা নবীপ্রেমিকদের হৃদ-সাগরের পাল তোলা নৌকার মাঝি, শহীদের মিল্লাত আল্লামা শায়খ নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ.) কে নিজ ঘরেই পশু জবাইয়ের মতো নির্মমভাবে জবাই করে শহীদ করা হযেছে- এই আগস্ট মাসেই। তাই দেশপ্রেমিক সুন্নী মুসলমানদের শোকের মাত্রা অন্যদের চাইতে দ্বিগুণ। দেখতে দেখতে পাঁচ বছর চলে গেল। ফারুকী হত্যার বিচার আজও হয়নি। এই সরকারের আমলে আদৌ বিচার হবে কি-না, তা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান। বিচার হওয়া দূরে থাক- আসামীদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়নি। গ্রেফতার করা দূরে থাক, আসামীদের চিহ্নিতই করা হয়নি। চিহ্নিত করা দূরে থাক, এজাহারভুক্ত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। ভাবা যায়!?

ফারুকী হত্যার পর এক ফারুকীকে নিয়েই আমি ১০টি কবিতা লিখেছি। এক বুক আশা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাহী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে করুণ ভাষায় চিঠি লিখেছি। তিনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু নেননি। চিঠি লিখেছি- ফারুকী যেই মসজিদে খোতবা দিতেন এবং নামায পড়াতেন সেই মসজিদের মুসল্লি, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোটের মাননীয় বিচারপতিদের কাছেও। তাঁরা 'সরকারের এই গড়িমসি কেন'- তা জানতে চেয়ে নিজ উদ্যোগে রুল জারি করতে পারতেন, কিন্ত করেননি। চিঠি লিখেছি- ফারুকী যেই চ্যানেলে অনুষ্ঠান করতেন, সেই 'চ্যানেল আই'এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শায়খ সিরাজকে, তিনি ধারাবাহিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রচার করতে পারতেন, কিন্ত করেননি। চিঠি লিখেছি- সুন্নী অঙ্গনে সাংবাদিকতার পথিকৃত, 'গেদুচাচা' খ্যাত প্রতিথযশা সাংবাদিক খন্দকার মোজাম্মেল হক সাহেবকে। তিনি ফারুকী হত্যার আসামীদের গ্রেফতারে বাঁধাটা কোথায়, কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না- এর আনুপূর্বিক বর্ণনা দিয়ে তাঁর পত্রিকায় কভার স্টোরি করতে পারতেন, করেননি। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বলতে পারতেন- কিন্তু বলেননি। চিঠি লিখেছি- বাংলাদেশের সকল দরবারের মাননীয় গদিনশীন ও সাজ্জাদানশীন পীর সাহেবানদের প্রতি, তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামতে পারতেন, অন্ততঃ প্রধানমন্ত্রীকে কাছে যেতে পারতেন। নাহ্, তারাও কিছুই করেন নি, কিছুই বলেন নি। তবে তাঁরা সবাই আমার চিঠিগুলো পেয়েছেন। কিন্তু কেউই আমার এই দরদমাখা চিঠিগুলো পড়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। ফারুকী হত্যার বিচারের জন্য কেউই এক মিনিটও সময় ব্যয় করেননি। এ লক্ষ্যে কেউই নড়াচড়া পর্যন্ত করেননি। আমার সেই চিঠিগুলি সারা বছর ওয়ালে ওয়ালে ঘুরেছে। শত শতবার শেয়ার হয়েছে। শত শত কমেন্ট পড়েছে। সেই চিঠিগুলো পড়ে এদেশের ইসলাম প্রিয়, শান্তিপ্রিয়, নবীপাগল মানুষগুলো ডুকরে কেঁদেছে। কিন্ত হায়- পাষাণদের মন গলেনি! কমেন্টের জবাব দিতে দিতে আমার হাজার ঘন্টা ব্যয় হয়েছে। হাত ব্যাথা করেছে। কাজ নস্ট হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

আমার শ্রম বৃথা গেছে- যাক। আমার সময় নষ্ট হয়েছে- হোক। আমার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে- হোক। কিন্তু আমার এই চিঠিগুলো পড়ে যেসব মানুষের অশ্রু ঝড়েছে- তা বৃথা যেতে পারে না। একদিন সে অশ্রুগুলি অভিশাপের প্লাবন হয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ, যারা কেঁদেছেন, তাঁরা কেউই শহীদে মিল্লাত আল্লামা ফারুকীর রক্তের সম্পর্কের নন। তাঁরা যে সবাই ফারুকীর রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী- তাও নন। তাঁরা নবীপ্রেমিক ঈমানদার মুসলমান। আর নবী প্রেমিকদের চোখের পানি কখনো বৃথা যায় না- যেতে পারে না। এ আমার বিশ্বাস। আজ আগস্ট এসেছে হৃদয়াকাশে জমে থাকা মেঘমালা থেকে আবারও অঝোর ধারায় বর্ষন হচ্ছে। আজ আগস্ট এসেছে- মনের গহীনে লুকায়িত কষ্টগুলো আবারও ধীরে ধীরে গ্রাস করছে সমস্ত দেহ-মন। আজ আগস্ট এসেছে- ক্ষত-বিক্ষত কলিজা থেকে আবারো তাজা খুন ঝরছে বিন্দু বিন্দু হয়ে আর সমগ্র দেহে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। আজ আগস্ট এসেছে- মস্তিষ্কের নিউরণে ঠনঠনে ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। রাসূল (দরুদ) প্রেমে দীপ্ত, অবিচারে অতৃপ্ত শহীদে মিল্লাত শায়খ ফারুকীর (রহ.) আত্মা আজ পুরো জাতিকে অভিশাপ দিচ্ছে।

বাংলাদেশে দেরীতে হলেও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়। এদেশে সাধারণ হত্যাকাণ্ডের বিচারও হয়। এদেশে নাস্তিকদের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত আইনে বিচার হয়। কিন্তু ফারুকীর হত্যাকান্ডের বিচার হয় না! কেন হয় না? আমার তো মনে হয়- ফারুকীর হত্যাকান্ডের সাথে সরকারের কেউ না কেউ জড়িত আছে। যে বা যারাই জড়িত থাকুক- তারা সরকারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী! আমার কেন জানি মনে হচ্ছে- এই হত্যাকাণ্ডে সৌদি দূতাবাসেরও হাত থাকতে পারে। কারণ, ফারুকীর শাহাদাতের আগে তাঁকে সৌদি দূতাবাসে বারবার ডেকে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে শাসানো হয়েছে। না হয়, এ রকম একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের কোন কূল কিনারা করতে পারবে না- আমাদের পুলিশ প্রশাসন? নাহ, এতটুকু অথর্ব আমাদের পুলিশ প্রশাসন নয়। উপরে বসে কেউ না কেউ কলকাঠি ঠিকই নাড়ছে। এই বিচার না হওয়ার জন্য কেউ না কেউ টাকা ছড়িয়েছে। কেউ না কেউ প্রভাব বিস্তার করেছে। কেউ না কেউ খুনিদের প্রটেকশন দিয়েছে এবং বর্তমানে কেউ না কেউ খুনিদের আড়াল করছে। আর কিছু হোক বা না হোক, খবিস তারেক মনোয়ারের নেতৃত্বে বাতিল মতবাদের অনুসারী যে সব মোল্লারা ফারুকীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যে মুজাফফর বিন মহসিন নামের খবিসটি মসজিদের মেহরাবে দাঁড়িয়ে ফারুকীকে শিরকের ধোঁয়া তুলে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে- তাদের তো অন্তত গ্রেফতার করা যেতো। আমি মনে করি- ফারুকী হত্যার বিচার হলে জঙ্গি উস্কানীদাতা এই মোল্লাগুলো ফেঁসে যেতো এবং দেশে জঙ্গি হামলা হতো না।

ভাগ্যিস! ফারুকী তাঁর জীবনের শেষপ্রান্তে এসে সুন্নীয়ত ভিত্তিক ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ভাগ্যিস! দেশে ছাত্রসেনা ছিল। না হয়, ফারুকীর কথা আমরা গরু খাওয়া সু্ন্নীরা হয়তো কবেই ভুলে যেতাম। যেভাবে এদেশের পীরেরা ফারুকীকে ভুলে গিয়েছেন। যেভাবে এদেশের দরবারের গদিনশীনরা ফারুকীকে ভুলে গিয়েছেন। যেভাবে অন্য সুন্নী নামধারীরা ফারুকীকে ভুলে গিয়েছেন। বাঙালি এমনিতেই এক ভুলোমনা জাতি। সুন্নী হলে তো আর কথায়ই নেই। ভুলতে উস্তাদ। কিন্তু সুন্নীয়ত বিক্রি করে খানেওয়ালা প্রাণীদের আমি জিজ্ঞেস করি- ফারুকীকে কেন শাহাদাত বরণ করতে হলো? কেন আপনারা গর্জে উঠতে পারেন না? কেন আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন না? আপনাদের কিসের এতো লাজ? অাপনাদের কিসের এতো ভয়? আচ্ছা আমাকে বলুন- ফারুকীর দোষটা কী? তিনি নবী (দরুদ) প্রেমের কথা বলতেন- এই তো? তিনি নবীর (দরুদ) প্রতি ভালোবাসা, আহলে বায়তের মুহাব্বত, সাহাবীদের সম্মান, এবং আউলিয়ায়ে কেরামের প্রতি ভক্তির কথা বলতেন- এই তো? তিনি ওরস ফাতেহা ও আউলিয়াদের শানে কথা বলতেন- এইতো? তিনি নানা দেশ ঘুরে ঘুরে বিলুপ্তপ্রায় ইসলামী ঐতিহ্য, ঈমান-আকিদার স্মারকগুলো জনমানুষের সামনে তুলে ধরতেন- এই তো? তাঁর আর তো কোন দোষ আমি দেখি না। ফারুকীর আর কোন অপরাধের কথা- তাকে খুন করতে যাওয়া জালিমরাও বলেনি। তো ফারুকী আর আপনার আকিদা ও বোধ-বিশ্বাসের মাঝে কি কোন তফাৎ আছে কি? ফারুকী যাওয়ার চলে গেছেন। এখন আমার আর আপনার পালা। তাই আসুন, অন্ততঃ নিজেদের ঈমান-আকিদা রক্ষা ও নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে ফারুকী হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হই এবং ছাত্রসেনা ঘোষিত আন্দোলনে শামিল হই। দুনিয়াতে হয়তো গা বাঁচিয়ে চলতে পারবেন। কিন্তু মনে রাখুন- অাখেরাতে ঠিকই ধরা খাবেন।

তারিখ: ০১ আগস্ট, ২০১৯ খৃ.
[রিপোস্ট]

24/07/2021

৮৯ বছর আগের সেই অলৌকিক ঘটনা!
-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-
যেদিন লাখো মানুষ স্বচক্ষে দেখতে পারল দুই সাহাবী (রাঃ) কে, সেদিন ছিলো ২৫শে এপ্রিল, ১৯৩২ সাল। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ৪০মাইল দূরে সালমান পার্ক একটি প্রাচীন জনপদ। সেই ঐতিহ্যবাহী নগরী সালমান পার্কে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সর্বপ্রথম কবরস্থ হন বিখ্যাত সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রাঃ)।

এরপর প্রায় ১৩০০ বছর পর সেখানে সমাহিত করা হয় আরো দু’জন সাহাবীকে। তার মধ্যে একজন হলেন- হযরত হুযাইফা (রাঃ) এবং হযরত জাবের বিন আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)।শেষোক্ত দু’জন সাহাবীর কবর প্রথমে সালমান পার্কে ছিল না। তাঁদের কবর ছিল সালমান পার্ক থেকে বেশ কিছু দূরে একটা অনাবাদী জায়গায়। যার অতি নিকট দিয়ে কলকল রবে বয়ে চলেছে ঐতিহাসিক দজলা নদী।

দীর্ঘদিন পর একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদেরকে (কবরস্থ সাহাবীদের) সেখান থেকে সরিয়ে এনে সালমান পার্কে দাফন করা হয়। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, সেটি ছিল বিগত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম বিস্ময়কর ঘটনা।

সেই সময় ইরাকের বাদশাহ ছিলেন বাদশাহ ফয়সাল। একদিন বাদশাহ ফয়সাল ঘুমিয়ে আছেন। হঠাৎ স্বপ্নে দেখেন হযরত হুযায়ইফা (রাঃ) তাঁকে বলছেন- “আমাদের বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে অন্যত্র দাফন করা হোক। কেননা, আমার কবরে পানি জমতে শুরু করেছে, আর হযরত জাবের (রাঃ) এর কবরে পানি প্রবেশ করার উপক্রম হয়েছে।”

কিন্তু বাদশাহ ফয়সাল ব্যস্ততার কারণে পরদিন স্বপ্নের কথা ভুলে যান। এরপর দ্বিতীয় রাতেও তিনি একই স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু নানাবিধ ঝামেলার কারণে সেদিনও স্বপ্নের নির্দেশ পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তখন হযরত হুযাইফা (রাঃ) তৃতীয় রাত্রে একইভাবে স্বপ্নযোগে ইরাকের মুফতী আজমকে একাজ সমাধা করার দায়িত্ব দেন।

সেই সঙ্গে এও বলেন যে, ‘আমি পর পর দু’রাত ধরে বাদশাহকে এ ব্যাপারটি অবহিত করে আসছি। কিন্তু তিনি দিনের বেলায় ভুলে যাওয়ার কারণে এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হননি। এখন আপনার দায়িত্ব হচ্ছে, আমার নির্দেশটি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং যথাশীঘ্রই আমাদেরকে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করা।

স্বপ্নযোগে এ দৃশ্য দেখে মুফতীয়ে আজম কালবিলম্ব না করে পরদিন সকালেই ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরী আল সাঈদকে সংগে নিয়ে বাদশাহর দরবারে হাজির হন এবং তাঁকে স্বীয় স্বপ্নের কথা বিস্তারিত ভাবে খুলে বলেন। বাদশাহ ব্যাপারটা বিশদভাবে আলোচনা করার পর এরূপ একটি স্পর্শকাতর পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে মুফতীয়ে আজমের নিকট ফতওয়া তলব করেন।

মুফতীয়ে আজম দেহ মুবারক স্থানান্তরের অনুকূলে ফতওয়া প্রদান করেন। অতঃপর সিন্ধান্ত হয় যে, কুরবানীর ঈদের দিন যোহরের নামায শেষে সাহাবীদ্বয়ের কবর খুঁড়ে তাঁদের দেহ মুবারক অন্য কোন নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হবে। ইরাক সহ দেশ বিদেশের সংবাদ মাধ্যম গুলোতে খবরটি প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে সর্বত্র আলোচনার সৃষ্টি হয়।

জনগণ সাহাবীদ্বয়কে দেখতে পাবার আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। তখন বিশ্বের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন মক্কা নগরীতে সমবেত। কারণ, সময়টা ছিল হজ্জের মৌসুম। এ সংবাদ শ্রবণে হাজীগণ বাদশাহ ফয়সালের কাছে আবেদন করলেন আমরাও মহান
সাহাবীদ্বয়ের চেহারা মোবারক দর্শনে আগ্রহী। অনুগ্রহ পূর্বক তারিখটা আরো ক’দিন পিছিয়ে দেয়া হোক।

এদিকে ইরান, তুরস্ক, লেবানন, ফিলিস্তিনি, হেজায, বুলগেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা, রাশিয়া, ভারত বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে বাদশাহ ফয়সালের নিকট একই আবেদন সম্বলিত অসংখ্য বার্তা আসতে লাগল।

বাদশাহ্ ফয়সাল মহাবিপদে পড়লেন। একদিকে গোটা মুসলিম বিশ্বের তারিখ পেছানোর জোরালো অনুরোধ, অন্যদিকে দ্রুত কবর স্থানান্তরের অলৌকিক নির্দেশ। উভয় সংকটে পড়লেন। অবশেষে এ ব্যাপারে সিন্ধান্ত হলো যে, কিছুদিন যাতে কবরের ভিতর পানি প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য নদীর দিক থেকে দশ ফুট দুরে একটি গভীর গর্ত খনন করে সেখানে কাঁকর ফেলা হবে।

আর সারাবিশ্বের মুসলমানদের আগ্রহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তারিখটি আরো দশদিন পিছিয়ে দেয়া হলো। এ ঘোষনার পর ক’দিনের মধ্যেই সালমান পার্কের ছোট বসতিটি লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল অসংখ্য জ্ঞানী-গুণী, রাষ্ট্রদূত, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ঢল নামল এ পার্কে।

তাঁবুতে তাঁবুতে পরিপূর্ণ হয়ে গেল মাদায়েনের ঐতিহাসিক মাঠটি। একটি গ্রহণযোগ্য হিসাব অনুযায়ী আগত দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লক্ষের অধিক। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতীক্ষিত দিনটি এসে গেল। লক্ষ লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে কবর খোঁড়া হলো। দেখা গেল সত্যিই হযরত হুযাইফা (রাঃ) এর কবরে কিছু পানি জমে গেছে এবং হযরত জাবের (রাঃ) এর কবরে কিছুটা আর্দ্রতা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে সমবেত জনতা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন। তাঁদের কণ্ঠে বার বার উচ্চারিত হতে লাগল -”আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” ধ্বনি। চোখে নেমে আসে অশ্রুর বন্যা। বাদশাহ ফয়সালের নেতৃত্বে তাঁর মন্ত্রী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আগত রাষ্ট্রদুতগণের সহযোগিতায় প্রথমে হযরত হুযাইফা (রাঃ) এর দেহ মোবারক কবর থেকে ক্রেনের দ্বারা তোলা হল।

ক্রেনের সাহায্যে তাঁর পবিত্র দেহটি এমন ভাবে উঠানো হয় যে, মোবারক দেহটি আপনাতেই ক্রেনের মাথায় ফিট করে রাখা স্ট্রেচারে এসে পৌঁছায়।অতঃপর স্ট্রেচারটি ক্রেন থেকে পৃথক করে নেয়া হল। বাদশাহ ফয়সাল, মুফতী সাহেব, সিরিয়া এবং তুরস্কের নির্বাচিত মন্ত্রীবর্গ এবং মিশরের যুবরাজ শাহ ফারুক অত্যন্ত যত্ন ও তা’জীম সহকারে দেহ মোবারককে তুলে এনে একটি কফিনের ভিতর রাখেন।

অতঃপর একই ভাবে হযরত জাবের (রাঃ) এর পবিত্র দেহ মুবারক তুলে আনা হয়।আশ্চর্যের বিষয় হলো শতশত বছর কেটে গেলেও শুধু তাঁদের দেহ মোবারকই নয়, কাফন বাঁধার ফিতা গুলোর মধ্যেও কোন পরিবর্তন আসেনি, সুবাহানাল্লাহ্! দেহ দুটি দেখে কেউ কেউ কল্পনাও করতে করতে পারছিল না যে, এগুলো দীর্ঘ তেরশত বছরের প্রাচীণ।

আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলো তাঁদের চোখগুলো ছিল খোলা, সেই খোলা চোখ থেকে রহস্যময় অপার্থিব জ্যোতি এমনভাবে ঠিকরে পড়ছিল, যে, অনেকেই তাঁদের চোখ ভাল ভাবে দেখার চেষ্টা করেন, কিন্তু চোখ থেকে বেরিয়ে আসা অতি উজ্জ্বল আলোর কারণে কেউই দৃষ্টি ঠিক রাখতে পারছিলেন না।

এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে বড় বড় ডাক্তারগণ হতবাক হয়ে যান। এ সময় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন জনৈক জার্মান চক্ষু বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে সবকিছু খুঁটে খুঁটে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে মুফতী সাহেবের হাত ধরে বললেন “ইসলামের সত্যতা এবং সাহাবীগণের উচ্চ মর্যাদার সপক্ষে এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে?” এ বলে তিনি কালিমা পড়ে সঙ্গে সঙ্গে মুসলমান হয়ে যান।

অতঃপর পবিত্র দেহ দু’টিকে কফিনে রাখার পর উপস্থিত জনতা তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে দু’আ করেন। এরপর আলেমগণ ও মন্ত্রীবর্গ কফিন দু’টো কাঁধে উঠিয়ে নেন। কিছুদুর যাওয়ার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিবর্গ এবং সবশেষে বাদশাহ ফয়সাল কাঁধ পেতে নেন। দীর্ঘ চার ঘন্টা পর চরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে পবিত্র দেহ দুটি সালমান পার্কে এসে পৌঁছে।

যে সৌভাগ্যবানরা দেহ দু’টিকে প্রথমে কফিনে রেখেছিলেন, তারাই কফিন দু’টি নবনির্মিত কবরে নামিয়ে রাখেন। আর এভাবেই জনতার আল্লাহু আকবার ধ্বনির মধ্য দিয়ে ইসলামের এই মহান সাহাবীদ্বয়কে পুনরায় মাটির কোলে শুইয়ে দেওয়া হয়। সুবহানআল্লহ।

Courtesyঃ Mir Nur A Rahman
________________________

Address

Supremecourt Mazar Mosque, Ramna, Dhaka 1000
Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 22:00
Tuesday 09:00 - 22:00
Wednesday 09:00 - 22:00
Thursday 09:00 - 22:00
Saturday 09:00 - 22:00
Sunday 09:00 - 22:00

Telephone

+8801713409008

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Allamah Nurul Islam Faruqi - R- Welfare Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Allamah Nurul Islam Faruqi - R- Welfare Foundation:

Share