09/25/2026
চমকদার শহরের আড়ালে প্রবাসীদের না বলা আত্মত্যাগ।
১. ‘ডিজিটাল উপস্থিতি’ বনাম ‘বাস্তব অনুপস্থিতি’
আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে আজ প্রবাসীরা প্রতিদিন ভিডিও কলে পরিবারের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। কিন্তু এই ডিজিটাল সচ্ছলতাই এক নতুন মানসিক যন্ত্রণার জন্ম দিয়েছে। স্ক্রিনের ওপারে মায়ের অসুস্থতা, সন্তানের বেড়ে ওঠা কিংবা বাবা-মার বয়সের ভারাক্রান্ত মুখ দেখেও পাশে দাঁড়িয়ে হাত রাখতে না পারার অক্ষমতা মানুষকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খায়। ভিডিও কলের সবুজ বাতি নিভে যাওয়ার পরের মুহূর্তের ঘরজোড়া নিঃসঙ্গতা প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় নীরব শত্রু।
২. ক্যালেন্ডারের জীবন এবং ঋতুহীন অস্তিত্ব
প্রবাসীদের জীবন মূলত ঘড়ি আর ক্যালেন্ডারের পাতার বন্দি। সেখানে নিজের জন্মদিনের কোনো অর্থ নেই, উৎসব মানেই শুধু কাজ আর কাজ। দেশের মাটি, পরিচিত গন্ধ, কিংবা মেলায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না। বছরের পর বছর একই রকম চার দেয়ালের রুটিন, কুয়াশাচ্ছন্ন বা তীব্র রোদের অচেনা আকাশ আর মেট্রোর ছুটন্ত ভিড়ে নিজের অস্তিত্বকে একটা ঘড়ির কাটার মতো যান্ত্রিক মনে হতে শুরু করে।
# # #৩. ‘শহরের ভিড়ে একাকী দ্বীপ’
বিদেশের জমজমাট ও আধুনিক শহরে থেকেও প্রবাসীরা মানসিকভাবে এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করেন। ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য, কর্মব্যস্ততা এবং টিকে থাকার অন্তহীন দৌড় মানুষকে এতই ক্লান্ত করে তোলে যে নিজের ভাষা ও মনের সুখে দু’কথা বলার মানুষ পাওয়াও অনেক সময় বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়। এই নিঃসঙ্গতা দীর্ঘ হতে হতে একসময় মানসিক অবসাদে রূপ নেয়, যা তারা হাসিমুখে দেশের পরিবারের কাছে লুকিয়ে যান।
৪. দ্বিমুখী আত্মত্যাগ: নিজের সাথে আপস
প্রবাসীদের জীবন এক অদ্ভুত আত্মত্যাগের গল্প। তারা নিজের শখ, আরাম-আয়েশ, তারুণ্য এবং মনের সুপ্ত ইচ্ছেগুলোকে বিসর্জন দেন শুধু প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো—দেশের মানুষ মনে করে প্রবাসে বুঝি টাকার গাছ আছে, আর প্রবাসীরা মনে করেন দেশের মানুষ তাদের ভেতরের রক্তক্ষরণ বা কষ্টের গভীরতা কখনো বুঝতে পারবে না।
প্রবাসীদের এই জীবন কোনো সাধারণ গল্প নয়; এটি এক আজীবন না বলা যুদ্ধের নাম, যেখানে জয়ী হওয়ার চেয়ে টিকে থাকাটাই অনেক বড় অর্জন।।