27/09/2026
চেনা যায়? যায় কি? 🧐
ভাইয়াজ্বির চাঁদবদনখানি চেনাচেনা ঠেকছিল। নামটাও শুনেছি বোধ হচ্ছিল। ব্যাক ডেটে খানিক সার্চ দিতেই পেয়ে গেলাম। বিহারের সিওয়ান থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা সহীহ হামি ভি বঙ্গালি আছি সুরজ কুমারজ্বি হলেন সেই মাল থুড়ি বীর যিনি আজ থেকে ঠিক একবছর আগে আরসালান বা হায়াত বিরিয়ানির পুজো বিজ্ঞাপনে দুর্গামূর্তির ছবি থাকায় ক্ষেপে উঠেছিলেন ও বিস্তর হৈহল্লা করেছিলেন। চূড়ান্ত হাস্যকর এই কর্মের যুক্তি হিসেবে সিওয়ানের সহীহ বঙ্গালি সুরজজ্বির বক্তব্য ছিল, দুর্গাপুজোর পবিত্র উৎসবে কেন বিরিয়ানির অ্যাডে ঠাকুরের ছবি থাকবে। তখনও বিজেপি ক্ষমতায় আসেনি। ফলে বিহারী বীরত্ব বিরিয়ানির অ্যাড অব্দিই সীমাবদ্ধ ছিল। যে কোন বোধবুদ্ধি সম্পন্ন জাতির উচিত হতো ওই সীমানাটুকুর মধ্যেই অনতিবিলম্বে বিহার থেকে আগত এসমস্ত সহীহ বঙ্গালি ও তাদের দলবলকে বিহারের ট্রেনে চাপিয়ে দেওয়া।কিন্তু একুশ শতকের বাঙালির সঙ্গে বোধবুদ্ধির খুব কিছু সম্পর্ক নেই। ফলত তারা সুরজ ভাইয়াদের ট্রেনে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে শাসকের চেয়ারে টেনে তুলে দিয়েছেন। ফলাফল হাতেনাতে। সিওয়ান থেকে আগত সহীহ বঙ্গালি সুরজজ্বি বই বিক্রি করলে বাঙালিদের বধ করার ডাক দিচ্ছেন। বাঙালি রাজনৈতিক দলগুলো দুর্গাপুজোয় বুকস্টল দেয় সেই ১৯৫০ সাল থেকে। ১৯৫০ সালে সুরজ্বির পূর্বপুরুষ হয়ত সবে দুপায়ে হাঁটতে শিখেছেন। এখন সেই সুরজ্বিরাই বিহার থেকে এসে ঠিক করে দেবেন বাঙালি রাজনৈতিক দলগুলি বাঙালির শারদোৎসবে বুকস্টল দিতে পারবে কি পারবে না। আশা আছে, এখানেই না থেমে সহীহ বঙ্গালি সুরজ্বিরা ক্রমে শারদোৎসবে আমিষ ভক্ষণও নিষিদ্ধ করার দিকে এগোবেন। গ্রীন সিগনাল তো সুরজ্বিদের ভগবান বাগেশ্বর বাবা দিয়েই গেছেন। আর সুরজজ্বির উথ্থানও বিরিয়ানির বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ করেই। আপাতত বই পড়া বই বেচার মতন বিশ্রী কাজটি বন্ধ করিয়েই সুরজজ্বি আমিষ নিষিদ্ধকরণের ধর্মযুদ্ধে প্রত্যাবর্তন করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
🖊️ রাজদীপ বিশ্বাস রুদ্র