03/16/2026
এক বোন তার জীবনের সমস্যার সমাধানের জন্য কিছু দুআ চাইছিলেন। আমি তাকে দুআর তালিকা করতে গাইড করছিলাম। আপুর দুআগুলো দেখে আমার নিজের মনও নড়ে উঠল। দেখুন তো, এগুলো আপনাদের মনেও সাড়া জাগায় কি না।-
হে আমার রব, হে আমার মালিক, হে দয়ালু, করুণাময়!
আমি আপনার কাছে একান্ত বিনীত হয়ে, ভেঙেচুরে, ক্ষত-বিক্ষত হৃদয় নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আপনি আমার অন্তরের সব ব্যথা জানেন, আমার মনের গোপন কান্নার খবরও একমাত্র আপনিই রাখেন।
হে আল্লাহ! আমার সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য, চেহারা, চুল—সবকিছু কেমন নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জানি, দুনিয়ার সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আপনি তো আমার রব, আপনি চাইলে আমাকে সুস্থতা, ত্বকের উজ্জ্বলতা, চুলের ঘনত্ব ও শোভা ফিরিয়ে দিতে পারেন! আপনি তো আল-জামীল, সৌন্দর্যের উৎস! হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থতা দিন, আমার সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিন, এমনভাবে যে এটি ঈমানের নূরে আলোকিত হয়, যাতে আমার স্বামী আমাকে দেখে ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে যায়, যাতে আমার চেহারায় মুমিন বান্দার নূরের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে!
হে আল্লাহ! আমার বয়স বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমার বিয়ের ব্যবস্থা হচ্ছে না। আপনি তো সকল শক্তির অধিকারী, আপনি তো তাকদিরের নিয়ন্ত্রক। হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য নেক স্বামী নির্ধারণ করুন, যিনি আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সাথী হবেন। তিনি যেন আমার হৃদয়ের প্রশান্তি হন, আমার ঈমানের রক্ষক হন, আমার ভালোবাসার কেন্দ্র হন, আমার জান্নাতের পথের সাথী হন।
হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য পথ সহজ করুন, যেকোনো বাঁধা দূর করে দিন, আমাকে অন্তরের প্রশান্তি দিন, যেন আমি আপনার ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকি।
হে আল্লাহ! আমি গীবত, গুনাহ, অলসতা থেকে বাঁচতে চাই। আমার জিহ্বা যেন অন্যের দোষ খোঁজা থেকে মুক্ত থাকে, আমার অন্তর যেন ঈর্ষা-বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকে। আমি যেন অন্যের বদনাম না করি, আমি যেন কারও সম্মানহানি না করি। আমাকে সেই তাওফিক দিন যা আমাকে গীবত থেকে মুক্ত রাখে, আমাকে সে তাওফিক দিন যা আমার জিহ্বাকে শুধু সত্য ও কল্যাণে ব্যস্ত রাখে।
হে আল্লাহ! আমি কতবার আপনার কাছে ওয়াদা করেছি, কতবার তাওবা করেছি, আবার ভেঙে ফেলেছি! আমি দুর্বল, আমি অক্ষম। আপনি আমাকে শক্তি দিন, আমাকে ধৈর্য দিন, আমাকে এমন এক অন্তর দিন যা আপনার সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই চায় না। আমাকে তাওফিক দিন যেন আমি আমার ওয়াদা রাখতে পারি, যেন আমি কখনো গুনাহে ফিরে না যাই, যেন আমি আপনার হিদায়াত থেকে বিচ্যুত না হই।
হে আল্লাহ! আমার পরিবারে কিছু মানুষের আচরণ আমাকে প্রচণ্ড কষ্ট দেয়। আমি বারবার তাদের আচরণ নিয়ে চিন্তা করি, আমার মন শান্ত হয় না, আমার ভেতরে অশান্তি জ্বলে-পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হে আল্লাহ, আমাকে ধৈর্য দিন, আমাকে মানসিক প্রশান্তি দিন, আমাকে এমন হৃদয় দিন যা তাদের কথায় ভেঙে না পড়ে বরং আপনাকে বেশি বেশি ডাকে। আপনি তাদেরও সংশোধন করুন, আমার হৃদয়ের ক্ষতগুলো আপনি শুকিয়ে দিন, আমাকে এমন এক প্রশান্ত অন্তর দিন যা শুধু আপনার দিকে ফিরে আসে।
হে আল্লাহ! আমি পূর্ণ হিদায়াত চাই। আমি চাই আপনার পথে অবিচল থাকতে, গুনাহ থেকে দূরে থাকতে, আমার ঈমান যেন কখনো দুর্বল না হয়। আমাকে তাওফিক দিন যেন আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ফরজ-সুন্নাত, নফল ইবাদত ও জিকিরে নিয়মিত হতে পারি।
হে আল্লাহ! আমি মাঝে মাঝে কিয়ামুল লাইল করি, কিন্তু আমার কান্না আসে না। আমার হৃদয় কঠিন হয়ে যাচ্ছে নাকি? আমার অন্তর থেকে আপনার ভয় দূরে সরে যাচ্ছে নাকি?
হে আল্লাহ, আমাকে এমন এক অন্তর দিন যা নামাজে আপনাকে অনুভব করতে পারে, যা আপনাকে ভয় পায়, যা আপনার ভালোবাসায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। আমাকে খুশু-খুযু দিন, আমার দুআ ও ইবাদত কবুল করুন।
اللَّهُمَّ اجْعَلْ حَيَاتِي زِيَادَةً فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً مِنْ كُلِّ شَرٍّ.
"হে আল্লাহ! আমার জীবনকে আমার জন্য সকল কল্যাণ বৃদ্ধির মাধ্যম বানিয়ে দিন, এবং আমার মৃত্যুকে সকল অনিষ্ট থেকে পরিত্রাণের মাধ্যম বানিয়ে দিন।"
হে আল্লাহ, আমার সব দুআ কবুল করুন। আমাকে দুনিয়ায় ও আখিরাতে সফল করুন, আমার সকল কষ্ট আপনি দূর করে দিন, আমাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের পথে পরিচালিত করুন।
আমিন, আমিন, আমিন!
- 'আমার প্রিয় দুআর ডায়েরি' বই থেকে
লাতীফাতে আমরা অথেনটিক জমজমের পানি সেল করি। আপনারা জমজমের পানি খেয়ে নিয়ত করে দোয়া করতে পারেন। যাদের বাসায় জমজমের পানি আছে তারা নিয়ত করে খাবেন, না থাকলে লাতীফাতে অর্ডার করে দিবেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, সে উদ্দেশ্যেই তা উপকার দেয়।”
— ইবনে মাজাহ
াতীফাহ