সোচ্চার । Torture WatchDog Bangladesh

সোচ্চার । Torture WatchDog Bangladesh Socchar (meaning ‘Vocal” in Bengali) is a US-based human rights research and advocacy organization. Together, we can make a significant impact.

Socchar (meaning ‘Vocal” in Bengali) is a US-based human rights research and advocacy organization dedicated to advancing and safeguarding human rights in Bangladesh. Our core belief is that every individual should lead a life free from discrimination, violence, and oppression. Our mission is to promote and protect the human rights and fundamental freedoms of any individuals or groups according to

the guidelines of the United Nations (UN), the Universal Declaration of Human Rights (UDHR), and the International Human Rights Law. We are dedicated to promoting the principles of justice, equality, and freedom for all individuals, regardless of their ethnicity, race, or political background. We address a spectrum of critical issues, including political or non-political torture, gender or social discrimination, enforced disappearance, extrajudicial killing, access to education, healthcare, and justice, and the protection of marginalized populations. Through rigorous research, study, and publication we raise awareness against any sort of human rights violation and advocate for policy changes that protect and empower vulnerable populations. At Socchar, our unwavering commitment involves collaborating with local communities, civil society organizations, like-minded any other organizations, and government agencies to promote human rights in various facets. Our team comprises human rights professionals who are deeply passionate about catalyzing meaningful change in the lives of Bangladeshi residents. We tirelessly work to raise awareness regarding human rights issues and advocate for transformative actions at the grassroots, national, and international levels and envision of a new Bangladesh where every person can live with dignity, free from oppression, and with full access to their fundamental human rights. We firmly believe that through collective efforts, we can forge a brighter future for the people of Bangladesh. We invite you to join us in our mission to champion human rights and foster a more just and equitable society for all.

ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে পড়েও যে আমাকে এতোটা বায়োলজি জানতে হবে, আমি কল্পনাও করিনি কোনদিন। হ্যা, আমার উপর অত্যাচার ...
06/11/2026

ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে পড়েও যে আমাকে এতোটা বায়োলজি জানতে হবে, আমি কল্পনাও করিনি কোনদিন।

হ্যা, আমার উপর অত্যাচার করতে করতে কুয়েট ছাত্রলীগ আমাকে বায়োলজি শিখিয়ে ফেলেছিলো। শিখিয়েছিলো, কতটা অত্যাচারে কতটা ক্রিয়েটিনিন বাড়ে, অথবা কতটা ক্রিয়েটিনিন বাড়লে আপনাকে ডায়ালাইসিস করতে হয়।

অথচ আমি ভালো পারতাম কেমিস্ট্রি।

বাবা ছিলেন দিনমজুর। দুই ভাই বোনের ছোট্ট সংসার। পড়াশোনা করেছি পাবনার মাদ্রাসায়। দাখিল আর আলিম পাশ করার পর আর সবার মতো রংবেরঙের কোচিং করার সামর্থ্য আমার ছিলো না।

তবে বাবা আমাকে কোচিং এ ভর্তি করতে না পারলেও রাজশাহী পর্যন্ত পাঠাতে পেরেছিলেন। ওখানে রুয়েটের ভাইদের কাছে থেকে ম্যাথ আর ফিজিক্সে সাহায্য নিতে শুরু করি। আমার এই চেষ্টা আল্লাহ পাক কবুল করলেন। এডমিশন দিয়ে ভর্তি হলাম খুলনা প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপিই ডিপার্টমেন্টে।

ইউনিভার্সিটি লাইফ নিয়ে আর দশটা ছেলের মতো আমারও অনেক স্বপ্ন ছিলো।

এবং সেসব স্বপ্ন সত্যিও হয়েছিলো সত্যি বলতে।

শুরুতেই বঙ্গবন্ধু হলে সিট পেয়ে যাই। বন্ধুদের সাথে হলের দিন রাতগুলো সুন্দর কেটে যেতে থাকে। আমার অবস্থা তখন অনেকটা, "এই পথ যদি না শেষ হয়" টাইপের।

তবে পথটা শেষ হলো।

যখন শেষ হওয়ার কথা ছিলো, তার অনেক আগেই শেষ হলো। কুয়েটের রঙিন স্বপ্ন আর রঙিন থাকলো না, বরং থার্ড সেমিস্টারে ভয়ঙ্কর এক দুঃস্বপ্ন এসে আমার জীবনে লন্ডভন্ড করে দিলো।

সেকেন্ড ইয়ার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একইসাথে কঠিন এবং রঙিন একটা বছর।

প্রথম বর্ষের উড়াউড়ি শেষ করে সেকেন্ড ইয়ার থেকেই আমাদের বাস্তবতার জমিনে নেমে আসতে হয়। ঘিরে ধরে হাজার কনফিউশন। কোনদিকে যাবো? বিসিএস নাকি কর্পোরেট? স্কলারশিপ নাকি শিক্ষকতা?

এই কনফারেন্স দূর করার জন্য খুলনাতে একটা কোচিং ছিলো। যেখানে আমাদের ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ভাইয়েরা ক্যারিয়ার পরামর্শ দিতেন, কার কোনদিকে যাওয়া উচিত।

তো একদিন ঐ কোচিং থেকে আমাদের কিছু ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তখন দৌলতপুর থানার ওসি ছিলেন এম আনোয়ার হোসেন।

থানায় নিয়ে সেই ভাইদের উপর নির্যাতন করা হয় যে আর কে কে এই কোচিং এর সাথে জড়িত। উনারা হয়তো চাপে পড়ে কিছু নাম বলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই লিস্ট দিয়ে দেওয়া হয় কুয়েট ছাত্রলীগের হাতে।

অথচ বেআইনি কিছু সন্দেহ করলে পুলিশ নিজেই গ্রেফতার করতে পারতো। বাট ছাত্রলীগের হাতে দিয়ে বরং তাদের নির্যাতনের লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২০১৭ সাল। শাহবাগ এক বছর পার হয়েছে। শিবির ধরা তখন ছাত্রলীগের কাছে উৎসবের মতো একটা ব্যাপার। সো, পুলিশের সেই লিস্ট নিয়ে কুয়েটের হলে হলে নেই রাত্রে উৎসব শুরু হয়ে গেল।

তারিখ ১ মে, দিবাগত রাত। মানে ক্যালেন্ডারের পাতায় ২ মে হয়ে গেছে। শহর ঘুমিয়ে গেছে, বাট ঘুমায়নি কুয়েট। বরং প্রতিটা হলে লিস্ট ধরে ধরে "শিবির" জড়ো করা হচ্ছে গেস্ট রুমে।

আনুমানিক রাত বারোটা একটার দিকে আমাকে হুট করে ঘুম থেকে তোলা হয়। তখনই প্রথম জানতে পারি, আমিও "শিবির", লিস্টে আমারও নাম আছে, আমাকেও এখন গেস্ট রুমে যেতে হবে।

ঘুম থেকে উঠে দেখি ছাত্রলীগের পদাধারী বেশ কিছু নেতারা আমার রুমে। তাদের মধ্যে ছিলো মেকানিক্যাল ০৮ ব্যাচের শাফায়াত হোসেন নয়ন, তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি। ছিলো তরিকুল ইসলাম তিলকও। আরো অনেকেই ছিলো।

ঘুম থেকে ডেকে তুলে আমাকে নেওয়া হলো বঙ্গবন্ধু হলের গেস্ট রুমে।

বঙ্গবন্ধু হলের গেস্ট রুমে ঢুকে দেখি "আসামি" শুধু আমি নই, বরং আসামী আরো ৬-৭ জন। আমাদের নিয়ে এখন কী করা হবে, সেই প্রশ্নটা করার সময় আমরা কেউই পায়নি, কারণ ঢোকার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় মার।

কিছু বুঝে উঠার আগেই পানির পাইপ, স্ট্যাম্প, বেল্ট আর জিআই পাইপের মুহুর্মুর্হু আঘাতে আমি লুটিয়ে পড়ি। মানুষ যে মানুষকে এভাবে মারতে পারে, আমি সেদিনের আগে জানতাম না। মাঝেমধ্যেই মনে হচ্ছিলো, এরা কোন মানুষ না। এরা হলো চাবি দেওয়া রোবট। যাদের তৈরিই করা হয়েছে নির্দয়ভাবে মানুষের উপর অত্যাচার করার জন্য। তাদের চোখে আমি এক ফোঁটাও মায়া দেখিনি।

কথাবার্তা শুনে যেটুকু বুঝেছিলাম, তাদেরকে আমাদের শরীরের সবখানে পেটানোর অনুমতি উপর থেকে দেওয়া হয়েছিলো। শুধু মাথায় মারতে না করা হয়েছিলো।

তবে বেশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা করার কারণেই কিনা, নাইম ভাইয়ের মাথাতেও ওরা আঘাত করে বসে। মাথায় রডেল বাড়ি খেয়ে নাইম ভাই আমার সামনেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঐ মুহূর্তে মনে হয়েছিলো, আমিও আজ আর বেঁচে ফিরতে পারবো না।

ভালো কেমিস্ট্রি পারার জন্য আফসোস হচ্ছিলো খুব। মজুরের ছেলে ভালো কেমিস্ট্রি না পারলে তো আর এই স্বপ্নের ভার্সিটিতে আসা লাগতো না আমার!!

এক পর্যায়ে মার খেয়ে আমরা সবাই ফ্লোরে শুয়ে পড়ি। প্রায় ২০ দিন আমি ঠিক মতো হাঁটতে পর্যন্ত পারিনি। অবশ্য পাশের লালন শাহ হলের লুৎফর ভাইয়ের কপাল ছিলো আরো খারাপ। সেদিন মার খেয়ে উনার কিডনি ড্যামেজ হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন তাকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়েছিলো।

যাহোক, সকালে ঐ অবস্থায় পুলিশ আমাদের থানায় তুলে নিয়ে যায়। বাট আমাদের শারীরিক অবস্থা জেলে দেওয়ার মতো না হওয়ায় উনারা আমাদের ফুলতলা উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। আমার নামে কেস ফাইল হয়। ২০ দিনের মতো আমরা কারাগারে ছিলাম। এখনও পর্যন্ত সেই কেস আমার দুঃস্বপ্ন হয়ে আমার জীবনে উপস্থিত আছে। আজও আমাকে ঢাকা থেকে খুলনা যেতে হয়, হাজিরা দিতে।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আমি আর হলে যাই নাই।

মাত্র ২০ দিন আগেই হলে বসে মনে হচ্ছিলো, এই পথ যেন না শেষ হয়।

সেই ক্যাম্পাস লাইফ আমার জন্য জাহান্নাম হয়ে গেল। এমনকি ক্লাস আর পরীক্ষা দিতেও ভয় লাগতো। ক্যাম্পাস ছাত্রছাত্রীদের কাছে মায়ের মতো। আমার কাছে ছিলো যমের মতো।

যে আমি প্রথম দুই সেমিস্টারে ক্লাস মিস দিই নাই, সেই আমাকে এবার বসতে হলো ক্যালকুলেটর নিয়ে। গুনে গুনে ৬০% ক্লাসই করতাম। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। সমস্যা হলো, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা ক্লাস ভিত্তিক না। ল্যাব আর প্রোজেক্ট ভিত্তিক। হলে না থাকার কারণে এসবের কিছুই করা হয়ে উঠেনি। দৌলতপুর থানা আর কুয়েট ছাত্রলীগের এক রাতের হঠকারিতার ফল তাই আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে জীবনভর।

তবে এতো সাবধান থাকার পরেও আমার নির্যাতিত হওয়ার ছোটগল্পটা রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মতো হয়ে গেল।

শেষ হয়েও হইলো না শেষ।

২০১৯ এর ২৫ শে মার্চ।

মামলা তখনও আছে। আছে হাজিরা দেওয়ার খড়্গও। বাট ঐদিন ছিলো আমার ফেয়ারওয়েল। ঘড়ি দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, আর কয়েক ঘন্টা, তারপরেই এই জাহান্নাম থেকে মুক্তি।

কিন্তু বিধাতার চাওয়া ছিলো অন্যকিছু।

ভার্সিটির শেষ দিনেও আমাকে অনুষ্ঠান থেকে তুলে নেওয়া হলো। শুরু হলো মাইর। যেন জাহান্নামের দ্বাররক্ষী কুয়েট ছাত্রলীগও আমাদের বিদায়ী সংবর্ধনা দিচ্ছে, মারের মাধ্যমে। আমাকে সহ তিনজনকে তুলে নেওয়া হয়।

নিয়ে যাওয়া হলো ফজলুল হক হলের একটা রুমে। সেদিনও সেখানে ছিলো তিলক। সাথে ছিলো ১৫ ব্যাচের ফয়সাল, আরো কয়েকজন জুনিয়র। স্ট্যাম্প আর বাঁশ দিয়ে অকল্পনীয় পরিমাণ মারধোর করা হয়। এবার যেহেতু আমরা মানুষ কম, তাই মারও ভাগে পড়েছিলো বেশি।

ফেয়ারওয়েলের পর মা বাবার কাছে না, আমাকে যেতে হলো হাসপাতালে। এবারও ২০ দিনের ধাক্কা।

এবার হাসপাতালে শিখলাম বায়োলজি।

অত্যাচারের কারণে ক্রিয়েটিনিন লেভেল হয়ে গেছিলো ৬.৫। ৭ হলেই ডায়ালাইসিস করতে হয়। স্বাভাবিক মানুষের থাকে .৯ থেকে ১.২ এর মধ্যে।

কুয়েটে এসেছিলাম ইঞ্জিনিয়ারিং শিখতে। কুয়েট আমাকে বায়োলজি পর্যন্ত শিখাই দিলো। কুয়েটের এই অবদান আমি ভুলি কী করে?

আমি ভুললেও আমার শরীর ভুললো না। কিছুই খাইতে পারতাম না। এবারও আমাকে গ্রেফতার করা হলো। ১০ দিন থাকতে হলো জেলে।

ফেয়ারওয়েলে সবার কত সুন্দর সুন্দর স্মৃতি থাকে।

আমার ফেয়ারওয়েল স্মৃতি হয়ে থাকলো হাসপাতালের বেডের সাথে হ্যান্ডকাফ দিয়ে বেঁধে রাখা আমার হাত।

ইউনিভার্সিটির টিচারদের কাছে থেকে বাঁধা আসেনি, আবার হেল্পও পাইনি। ক্লাসমেট অনেকেই মিশতে ভয় পেতো। অবশ্য কারণও ছিলো। আমার মতো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর সাথে সম্পর্ক রেখে কেই বা বিপদে পড়তে চাইবে?

তবে এলাকার অবস্থা ছিলো ভয়াবহ। আমার নামে পুলিশি কেস হওয়ায় আর বাসায় পুলিশ যাওয়ার কারণে পাড়ার লোকজনও আমাকে ভয়ঙ্কর কেউ ভাবতে শুরু করে।

যদিও পরে এলাকার লোকজন ভুল বুঝতে পেরে অনেক আফসোস করেছে আমার জন্য।

তবে আল্লাহ আমাকে খারাপ রাখেননি। ঢাকায় বেসরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে জব করছি। ব্যস্ততাতেই কেটে যায় সময়। খুব একটা সময় থাকে না হাতে। এর মধ্যে সুযোগ পেলে মানুষকে রক্ত দেই। সামাজিক কাজ বলতে,এইটুকুই।

শুধু কুয়েট লাইফের কথা মনে পড়লেই বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠে।

মনে পড়ে, স্ট্যাম্প, হ্যান্ডকাফ, গেস্টরুম আর ফেয়ারওয়েল।

আমি ঠিক থাকতে পারি না। কে ই বা পারবে?

ক্যারিয়ার আমার হয়েছে ঠিকই, বাট আমার স্বপ্নের ইউনিভার্সিটি জীবনটাকে আর কোথায় ফেরত পাবো আমি?

ফেরত আমি চাইও না। শুধু চাই, আমার উপর জুলুম করা প্রত্যেকের কঠিন শাস্তি হোক। যাতে আর কাউকে আমার মতো কুয়েটকে জাহান্নাম না মনে করতে হয়, যেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে বাংলাদেশের আর কোন ছেলেকে কিডনির বায়োলজি পড়তে না হয়!!

শাহীনুজ্জামান

কুয়েট।

ফুটনোট: ভিকটিমের উপরে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা ও নির্যাতনের সময়ে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা ‘সোচ্চার’ এর পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়েছে। তবে নির্যাতনে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ভিক্টিমের জবানবন্দী ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে যাচাই করা হয় নি এবং অভিযুক্তদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য সোচ্চারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

সম্ভাব্যশাস্তি: বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমানিত হলে নির্যাতনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ৩২৫ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা হতে পারে।

সাদা মাইক্রো দেখলেই এখনও চমকে উঠি : বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্ধকার অধ্যায়সাদা মাইক্রোতে তোলার পরেই আমার চোখ শক্ত করে বেঁ...
05/18/2026

সাদা মাইক্রো দেখলেই এখনও চমকে উঠি : বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্ধকার অধ্যায়

সাদা মাইক্রোতে তোলার পরেই আমার চোখ শক্ত করে বেঁধে ফেলা হয়।

তারপর আমি আর কিছু দেখতে পাইনি।

নিকষ কালো অন্ধকার নেমে আসে চারদিকে।

একেই কি তাহলে গুম বলে?

আমার মনে পড়ে আম্মার কথা। দুপুরে শেষবার কথা বলেছি। বলেছিলাম যে পুলিশ আমাদের নিয়ে যাবে। বাট সেই নিয়ে যাওয়া এমন হবে, ভাবিনি।

অন্ধকারে মানুষ দেখতে পায় না, এটা ভুল একটা কথা। বরং অন্ধকারেই মানুষ সবচে ভালো দেখে। অন্ধকারেই আমরা দেখতে পাই আমাদের ভয়, আমাদের অতীত , আমাদের আতঙ্ক।

গাড়ি চলতে শুরু করে। হাত পেছনে, হাতকড়ায় বন্দি। তবে কি ইলিয়াস আলীকেও এভাবেই তুলে নেওয়া হয়েছিল? আমার বুকটা খা খা করতে থাকে। নিজের জন্য না, আম্মার জন্য, বাবার জন্য।

প্রথম বছরে ছিলাম শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা ছিলো খুব, তাই পরের বছর পরীক্ষা দিয়ে চলে আসি বুটেক্সে। ভর্তি হই ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে।

যদিও বুটেক্সে আমার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ছিলো ভয়ঙ্কর।

হলে উঠতে এসে দেখি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপেয সংঘর্ষে ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের আর হলে উঠা হলো না। ৬ মাস পর ওসমানী হলের গণরুমে উঠি। অবশ্য ২০×২০ রুমে ৪০ জন থাকার অভিজ্ঞতা যত কম বলা যায়, ততই ভালো।

থার্ড ইয়ারের শেষে গিয়ে একটু আরাম করে থাকার মতো রুম পাই।

কাজেই,বলা যায়, ২০১৮ তেই প্রথম আমি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারি বুটেক্স লাইফে।

কিন্তু এই ২০১৮ র স্বস্তি বেশিদিন আমার ভাগ্যে জুটেনি। বরং এই ২০১৮ এখনও হয়ে আছে আমার জীবনের জন্য সবচেয়ে কঠিনতম বছর।

২০১৮ র কোটা আন্দোলনের পর, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে নড়ে যায় সারাদেশ। ধানমন্ডিতে বাচ্চা ছেলেমেয়েদের মিছিলে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এই হামলার পর কোনদিন রাজনীতি না বোঝা ছেলে মেয়েরাও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করে ফেসবুকে।

এই ফেসবুক পোস্ট কেন্দ্র করেই প্রথমে আমার বন্ধুকে টার্গেট করে বুটেক্স ছাত্রলীগ। তাকে সারারাত নির্যাতন করা হয়। মূলত ওর মোবাইল চেক করেই মেসেজে আমার নামটা ওরা পায়। তবে রাতে না, আমাকে গেস্টরুমে ডাকা হয় সকাল নটার দিকে।

গেস্টরুমে ঢোকার সাথে সাথেই আমাকে ঐ মেসেজ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তবে উত্তরের অপেক্ষা করা হয়নি। ৪০ ব্যাচের সাজ্জাদ স্ট্যাম্প দিয়ে আমার পায়ে এতো জোরে বাড়ি মারে যে আমি ফ্লোরে পড়ে যাই। এরপর নন্দী আর ফাহাদ এসে মারতে শুরু করে।

এই নির্যাতনের মূল লিড দেয় ফাহাদ আর নন্দী। প্রশ্ন আসতে থাকে একের পর এক, কাকে চিনি, কে কে এখানে দায়িত্ব পালন করছে। প্রশ্নের সাথে সাথে চলে মারও। এক পর্যায়ে একজন এসে পায়ে আরেকটা বাড়ি দেয় স্ট্যাম্প দিয়ে। একটুও ব্যথা লাগে না। বুঝলাম, পায়ের সহ্য ক্ষমতা শেষ। ওদের নির্যাতন কখন শেষ হবে?

তবে ওরা যে শুধু মারামারিতেই সীমাবদ্ধ ছিলো, তাও না।

বরং কিছুক্ষণ পর পর অদ্ভুত এবং উদ্ভট প্রস্তাব দেয় যে এগুলোতে রাজি হলেই আমাকে আর মারা হবে না। বলাই বাহুল্য, ওদের এসব প্রস্তাবে আমি রাজি হইনি।

এবার কিছুক্ষণের জন্য নির্যাতন থামে, আমাদের এবার ওসমানী হলের গেস্ট রুম থেকে নেওয়া হয় নজরুল হলের টিভি রুমে। ওখানে ঢুকেই দেখি আমাদের ৩-৪ জন বন্ধু। সবার অবস্থাই আমাদের মতো বিধ্বস্ত। বুঝতে আর বাকি থাকে না, ওদের সাথে কী হয়েছে।

এর মধ্যে দফায় দফায় পুলিশ ক্যাম্পাসে এসে এসে একজন দুজন করে ধরে নিয়ে যেতে থাকে। তবে আমাদের পুলিশের হাতে না দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই গালিগালাজ মারের চেয়ে কম কষ্টকর ছিলো না। রাগে, দুঃখে, কষ্টে আমার মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে।

আমাদের সারাদিন ঐ ঘরে আটকে রাখা হয়। প্রশ্ন ছিলো একটাই। আর কে কে আমাদের দল করে? আমি যতই চিনি না বলি, ততই গালিগালাজ আর মানসিক টর্চারের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ওরা আমার ফোনের মেসেজ থেকে সাকিব ভাইয়ের নাম বের করে ফেলে।

আমরাও সাকিব ভাইয়ের কথাই সবাই মিলে বলতে থাকি। যাতে একজনের উপর দিয়েই পার হয়ে যায়। তবে আমার উত্তর ছাত্রলীগ বিশ্বাস করেনি। আমার ফোন নিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এনএসআই এর কাছে।

এর মধ্যেই ওরা শিবির ছাড়িয়ে আমাদের কাছে হাজির করে জঙ্গিবাদের বয়ান। তুরস্কে পিএইচডি করা এক স্যারের সাহায্যে ফিলিস্তিনে পাঠানোর জন্য কিছু টাকা তুলেছিলাম। এটাকে ওরা জঙ্গি অর্থায়ন বলে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লাগে।

একটা উদ্দেশ্য ছিলো আমাদের ভয় দেখানো।

আরেকটা উদ্দেশ্য ছিলো, পিএইচডিরত স্যার, মানে এমদাদ স্যার ছিলেন ছাত্রলীগের জম। তিনি প্রভোস্ট থাকার সময় নজরুল হলে ছাত্রলীগ প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। কাজেই, এখন উনাকে জঙ্গি ট্যাগ দিতে পারলেই উনার উপর ছাত্রলীগের একটা মধুর প্রতিশোধ নেওয়া হতো।

কাজেই, সন্ধ্যা পর্যন্ত এমদাদ স্যারের সাথে জড়িয়ে আমাকে জঙ্গি বলে চালানোর একটা চেষ্টা করা হয়।

সন্ধ্যার পর এনএসআই এর তিনজন সদস্য রুমে প্রবেশ করে। সকালে যিনি ফোন নিয়ে গিয়েছিলো, তিনি না। নতুন তিনজন।

তাদের সাথে সাথে ঘরে প্রবেশ করে হল সভাপতি সাকিব আর হল সেক্রেটারি লিঙ্কন। দুইজনই ছিলো ৩৮ ব্যাচের।

আনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে এনএসআই এর তিনজন সদস্য বলে, আপনাদের থেকে যেহেতু কোন সন্তোষজনক উত্তর পাইনি, এবার আপনাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এরপরই সামনে দেখি সেই সাদা মাইক্রো।

মাইক্রোতে উঠার আগ মুহূর্তে এক ভাইয়ের সাহায্যে বাড়িতে কথা বলি।

মাইক্রোতে উঠার পরেই আমার চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। হাতে লাগানো হয় হাতকড়া। এরপর শুরু হয় আমাদের অন্ধকার যাত্রা।

নিজের জন্য মায়া বা কষ্ট কিছুই হয় নাই। আম্মা হার্টের রোগী। আমার হারিয়ে যাওয়া সহ্য করতে পারবে তো? আমার সামনে ভেসে উঠে আমার বাবার মুখ, ভেসে উঠে আমার গ্রাম, স্কুল, কলেজ। গাড়ি চলতে থাকে অজানার উদ্দেশ্যে। এটাকেই কি তবে গুম বলে?

৩০-৪০ মিনিট পর মাইক্রো থামে। তবে কি ক্রসফায়ার দেবে? দিতেও পারে। মানুষের অধিকার আছে, শিবিরের তো আর অধিকার নাই। তখনও আমাদের হাত আর মুখ বাঁধা। চোখে কিছু দেখছি না।

আমাদের নেওয়া হলো একটা রুমে। চোখ বাঁধা অবস্থাতেই আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হলো বসে পড়তে। আমরা তখন পায়ের উপর ভর দিয়ে বসে পড়ি। কোথায় আছি, কয়দিন আছি, বুঝতেও পারি নাই। বের হয়ে এসে ক্যালেন্ডার দেখে আবিষ্কার করি, দুইদিন পার হয়ে গেছে।

স্মৃতি যদি প্রতারণা না করে থাকে, তাহলে আমাদের ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয় আট তারিখ রাত দুইটার সময়। মামলায় লেখা হলো, আমরা ছাত্রদের উসকে দিচ্ছি আর গাড়ি ভাঙচুর করছি। আরেকটা মামলা দিলো কুখ্যাত ৫৭ ধারায়। ফেইক ফেসবুক পোস্ট, ফেইক কমেন্টের স্ক্রিনশট দিয়ে এই মামলাটা দেওয়া হয়। অথচ এসবের সাথে আমার নূন্যতম সম্পর্কও ছিলো না।

এই দুই দিন আমার পরিবার এমন কোনো বাহিনী ছিল না, যার সাথে যোগাযোগ করেনি। কিন্তু কোথাও থেকে আমার সম্পর্কে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। সবাই আমাকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তাঁর কী অনুভূতি হয়েছিল। আমার আম্মু বলেছিলেন,
“আমি তোকে আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করে দিয়েছিলাম। কারণ আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।”

কী ভয়ংকর ছিল সেই দিনগুলো—যা আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দিয়ে গেছে। আমার আব্বুর অফিস পর্যন্ত তারা খোঁজ নিয়েছিল। আসলে এই পরিস্থিতি লিখে কখনোই বোঝানো যায় না, আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দিয়ে ঠিক কী ভয়াবহ সময় অতিক্রম করেছে।

আমাকে জেলে থাকতে হয় প্রায় ৬৫ দিন।

বলাই বাহুল্য এরপর আর আমার হলে থাকা হয়নি। বন্ধুরা ক্যাম্পাসে আমাকে এড়িয়ে গেলেও বাইরে ওরা আমার সাথে আগের মতোই মিশতো। শিক্ষকরা নিউট্রালই ছিলো, অতিরিক্ত কোন সমস্যা আমার সাথে করেনি।

তবে অনেকগুলো কুইজ আর ল্যাব না দিতে পারার কারণে আমার রেজাল্ট আরও খারাপ হয়ে যায়।

খারাপ রেজাল্টের ভারের চেয়েও ভারী লাগে খারাপ স্মৃতির ভার। এখনও রাস্তায় সাদা মাইক্রো দেখলে আমি চমকে উঠি। এখনও চোখ বন্ধ করলে আমি সেই অন্ধকারটাই দেখি।

অথচ আমার ইউনিভার্সিটি লাইফটা তো আলোয় আলোয় ভরে যাওয়ার কথা ছিলো।

সেই আলোকে যারা এতোটা অন্ধকারে ঢেকে দিলো, তাদের বিচার করার দায় রাষ্ট্রের, বুটেক্স কর্তৃপক্ষের। আশা করি, অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি দিয়ে বুটেক্স কতৃপক্ষ আমার উপর হওয়া এই জুলুমের দায় শোধ করবে।

গালিব

বুটেক্স।

ফুটনোট: ভিকটিমের উপরে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা ও নির্যাতনের সময়ে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা ‘সোচ্চার’ এর পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়েছে। তবে নির্যাতনে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ভিক্টিমের জবানবন্দী ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে যাচাই করা হয় নি এবং অভিযুক্তদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য সোচ্চারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

সম্ভাব্য শাস্তি: বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমানিত হলে নির্যাতনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ৩২৫ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা হতে পারে।

সোচ্চার স্টুডেন্টস' নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টারের সাফল্য: মাতৃত্ববান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে প্রশাসনের কমিটি গঠননোয়াখালী ...
05/18/2026

সোচ্চার স্টুডেন্টস' নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টারের সাফল্য: মাতৃত্ববান্ধব নীতিমালা প্রণয়নে প্রশাসনের কমিটি গঠন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন জটিলতায় শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় শিথিলতা ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। ১৩ মে ২০২৬ তারিখে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

এই কমিটি সোচ্চার স্টুডেন্টস' নেটওয়ার্ক (SSN), নোবিপ্রবি চ্যাপ্টারের উত্থাপিত ৪ দফা প্রস্তাবনা, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ নীতিমালা এবং একাডেমিক কাউন্সিলের নির্দেশনার আলোকে একটি বাস্তবসম্মত ও শিক্ষার্থী-সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের সম্ভাবনা যাচাই করবে এবং সুপারিশ প্রদান করবে।

এটি নিঃসন্দেহে সোচ্চার স্টুডেন্টস' নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টারের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী গণস্বাক্ষর অভিযান, ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অ্যাডভোকেসির ফলেই আজ এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার, মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং নারী-বান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবিতে তাদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

সোচ্চার স্টুডেন্টস' নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টারের সকল সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং এই দাবির পক্ষে সংহতি প্রকাশকারী সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ এবং সুসংগঠিত অ্যাডভোকেসি প্রমাণ করেছে—যৌক্তিক দাবি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

আমরা আশা করি, গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নোবিপ্রবিতে শিগগিরই একটি কার্যকর মাতৃত্ববান্ধব নীতিমালা প্রণীত হবে, যা নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।


Socchar Student's Network-SSN, NSTU Chapter

আমারই দুই বন্ধু যখন আমার পথ আগলে দাঁড়ালো, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।বিশ্বাস করতে পারিনি, চার বছর যাদের সাথে ঘুরেছি, প্রোজ...
05/12/2026

আমারই দুই বন্ধু যখন আমার পথ আগলে দাঁড়ালো, আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।

বিশ্বাস করতে পারিনি, চার বছর যাদের সাথে ঘুরেছি, প্রোজেক্টে হেল্প করেছি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে তারা একদিন আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাবে টর্চার সেলে।

ছাত্রলীগ হতে হলে অনেক কাজ করতে হয়, আমি জানতাম। শুধু জানতাম না যে ছাত্রলীগ করতে হলে এমনকি বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটাও ভুলে যেতে হয়, বন্ধুকে নিয়ে যেতে হয় নরকের দরজায়।

ফিরোজ আর আশিকুর রহমান শোভন এই কাজটাই করেছিলো।

ওদের জন্যই মৃত্যুর আগেই আমার নরক দর্শন হয়ে গিয়েছিলো। তাও কুয়েট জীবন শেষ করার ২০ দিন আগে।

অবশ্য এই মারটা আমার ফার্স্ট ইয়ারেই খাওয়ার কথা ছিলো।

কুয়েটে ভর্তির পর যখন আকাশে উড়ছি পাখির মতো, তখন শিবিরের এক ভাইয়ের লিস্টে ২০ জনের সাথে সাথে আমার নামটাও পাওয়া গেল। কেন পাওয়া গেল, কীভাবে পাওয়া গেল, আমি জানি না।

শুধু জানি, সেদিন থেকেই আমি ছাত্রলীগের টার্গেট হয়ে গেছিলাম। ফার্স্ট ইয়ার হওয়াতে আমি মার খাইনি বটে, কিন্তু ক্যাম্পাসে আমার চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়। আমাকে কোথাও দেখা হলেই মারা হবে, কুয়েট ছাত্রলীগের এমন ঘোষণার পর আমি ২০ দিন ক্লাসে যাই নাই।

এক পর্যায়ে আমার বাবা কুয়েটে আসেন। এসে ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করে আমাকে ক্লাস করার "অনুমতি" নিয়ে দেন।

বাবার নিচু মাথা দেখে আমার মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছা করে, এই রাষ্ট্র, এই ইউনিভার্সিটি আর এই সমাজের উপর আমার খুব অভিমান হয়।

অথচ কুয়েটে চান্স পাওয়ার পর বাবা কত গর্বই না করেছিলেন!!

স্বচ্ছল একটা পরিবারেই আমার জন্ম। মা বাবার আদেরেই বড় হয়েছি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করেছি।

তবে ইন্টারে উঠে সেই স্বচ্ছলতার জীবনে প্রথম অস্বচ্ছলতার ছাপ পড়লো। ভেঙে পড়িনি, ভয়ও পাইনি। বাবা এতোদূর এনেছে, আমি বাকিটুকু যেতে পারবো না? টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ চালানো শুরু করি। বড় ভাইদের সহযোগিতায় একটা কোচিং এ ভর্তি হই। রুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি সবখানেই চান্স হয়।

কুয়েটে ১৫৬ তম স্থান অর্জন করে ভর্তি হই EEE ডিপার্টমেন্টে।

এই ভর্তি হওয়ার খবরে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন আমার বাবা। ভেবেছিলেন, ছেলে ভালো জায়গায় চান্স পেয়ে গেছে। আর কোন ভয় নাই।

অথচ সেই বাবাই এখন ছাত্রলীগের পোলাপাইনের সামনে চোখে মুখে ভয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যাতে তার ছেলেকে না মারা হয়, যেন তাকে ক্লাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

কী যে এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার এই দেশে ছিলো, চিন্তাও করতে পারি না।

বাবার কাকুতি মিনতিতে ক্লাসের অনুমতি পেয়েছিলাম বটে, কিন্তু টার্গেট আমি সবসময়ই ছিলাম।

ভয়টাও তাই সবসময়ই ছিলো।

তবে ফোর্থ ইয়ারের শেষের সীমানা যত আগাইয়া আসতে থাকে, আমার ভয়ও তত কমতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার মনে হয়, ওরা সম্ভবত আমার কথা ভুলেই গেছে। শেষই তো হয়ে গেল, আর বোধহয় কোন সমস্যা হবে না।

৩০ জানুয়ারি, ২০১৮।

ক্লাস শেষ করে পরের ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে খিদা লেগে যায়। নাস্তার জন্য বের হয়ে পড়ি। মনে একইসাথে রোমাঞ্চ আর দুঃখ। রোমাঞ্চ, কারণ আর কিছুদিন পরেই আমি গ্র্যাজুয়েট হয়ে যাবো। শুরু হবে আমার নতুন জীবন।

আর দুঃখ কারণ, আর মাত্র ২০ দিন। তারপরেই আমার এই রঙবেরঙের কুয়েট জীবন শেষ।

তখনও জানতাম না, এই রঙবেরঙের কুয়েট জীবনে আজ ঠিক কত বড় কালো দাগ পড়তে যাচ্ছে।

ফিরোজ আর শোভনকে পথরোধ করতে দেখে আমি কোন বাঁধা দিই নি। শত্রুর সাথে জোর জবরদস্তি চলে, বন্ধুর সাথে লড়াই করি কী করে? ওরা আমাকে নিয়ে যায় বঙ্গবন্ধু হলের ৩০১ অথবা ৪০১ নাম্বার রুমে।

রুমটা ছিলো সভাপতি শোভনের।।

মারটাও সেই প্রথম শুরু করে। বন্ধুদের সাথে বুঝি এমনিই করার নিয়ম, কে জানে!!

এরপর একে একে আরো অনেকেই সেই উৎসবে যুগ দেয়। এর মধ্যে সভাপতি শোভন, সেক্রেটারি সেজান আর তরিকুল ইসলাম তিলক, এই তিনজন ছিলো সবচে বেশি আক্রমনাত্মক।।আরো ছিলো তারেক হাসান আর সামি। এরাই ছিলো মূলত কুয়েট ছাত্রলীগের পঞ্চপান্ডব। আপনি কুয়েটের প্রতিটা মারামারিতে আর টর্চারে এই ৫ জনের নাম পাবেন।

আর এদের মধ্যে সবচেয়ে পৈশাচিক জানোয়ারটার ন ছিলো সেজান। মারার সময় সে হিতাহিত জ্ঞান হারাইয়া ফেলতো। ২০১৭ তে এরা লুৎফর নামের একটা ছেলেকে এতোটাই নির্যাতন করে যে তাকে খুলনা মেডিকেলে নিয়ে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। এবং সেই মারের ভয়াবহতা দেখে মেডিকেলের নার্স পর্যন্ত হতবাক হয়ে গেছিলো।

আমাকে মারার জন্য ওদের কাছে স্ট্যাম্প, বেল্ট, লাঠি শোটা সবই ছিলো। বিশেষভাবে আনা হয়েছিলো পিভিসি পাইপ। এরপর আমার আঙুলগুলো সামনের টেবিলে রেখে আঙুলের উপর পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। আমার আঙুলের সমস্ত হাড় ভেঙে যায়, অসহ্য ব্যথায় আমি কাতরাতে শুরু করি।

তবে আমার কাতরানো ওদের মধ্যে কোন পরিবর্তন আনতে পারলো না।

বরং কেউ একজন আমাকে এতোটাই জোরে থাপ্পড় মারলো যে আমি চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যাই। এবং আমি আবিষ্কার করি,আমি কিছু শুনতে পাচ্ছি না।।শুধু ওদের মুখ নাড়ানো বুঝতে পারি।

একইসাথে আমার চোখও অন্ধকার হয়ে আসে। আমি টলতে শুরু করি।

কিন্তু ওদের কাছে এসবই ছিলো নাটক। সো, আমার নাটক ছুটিয়ে দেওয়ার জন্য ওরা আবার মার শুরু করে। প্রশ্ন করে, উত্তর দেওয়ার আগেই মার শুরু করে। এক পর্যায়ে কে মারছে আর কে প্রশ্ন করছে, সেটা আলাদা করার ক্ষমতা চলে যায়। এমনকি দুইটা থাপ্পড় আলাদা করার সময়ও আমাকে দেওয়া হচ্ছিলো না।

মনে মনে ভাবছিলাম কেবল মৃত্যুর কথা। শুনেছি জাহান্নাম এতোটাই ভয়ঙ্কর যে মানুষ সেখানে নিজের মৃত্যু কামনা করবে। কিন্তু দুনিয়ার বুকে এ কোন জাহান্নাম, যেখানেও আমাকে মৃত্যুর অপেক্ষাই করতে হচ্ছে?

আমি যত কাতরাতে থাকি,ওদের চোখ মুখে তত আনন্দ ফুটে উঠতে দেখি। ওরা আরো দ্বিগুন উৎসাহে আমাকে পেটাতে থাকে।

এক পর্যায়ে শোভন আমার মাথায় পিস্তল ধরে গুলি করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে।

অবশেষে বেলা তিনটার দিকে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তবে খালি খালি না। শোভনের পিস্তল থেকে একটা বুলেট আর হলের কাঠ কাটার কুড়ালটাও আমার সাথে দিয়ে দেওয়া হয়। যাতে নাশকতার মামলে দেওয়া সহজ হয়। পুলিশের চোখের সামনে পুরো ঘটনা ঘটলেও পুলিশ সম্ভবত মজাই পেয়েছিলো।।

গ্রেফতারের পর আমাদের প্রথম নেওয়া হয় হাসপাতালে। পরবর্তীতে দেওয়া হয় হাজতে। দুটো মামলা করা হয় আমার নামে। অস্ত্র মামলা আর নাশকতা মামলা। অস্ত্র মামলা এতোটাই হাস্যকর ছিলো যে জজ শুরুতেই বিরক্ত হয়ে নাকচ করে দেন। তবে নাশকতার মামলা এখনও চলছে। কুয়েট আমাকে ছাড়লেও আমার উপর নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে এই মামলাটা রয়ে গেছে আমার মাথার উপর। আরো কতদিন এই ঘানি আমাকে টানতে হবে, আমি জানি না।

রিমান্ড আবেদন করা হলে দুইদিনের রিমান্ডও আমাকে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ এইসময় খুব ভালো মানুষ সেজে এসে বলে, আমাদের যে কোন দোষ নাই, সেটা ওরা জানে। এবং টাকা পয়সা দিলে আমাকে মুক্ত করে দেওয়া হবে। বারবার নিষেধ সত্বেও আমার পরিবার থেকে বেশ কিছু টাকা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

৪০ দিন মতো আমাকে জেলে থাকতে হয়।

ছাত্রলীগকে এই অসীম নির্যাতনের লাইসেন্স খালি পুলিশ না, বরং ভিসি আর শিক্ষকদেরই দেওয়া। পুরো প্রশাসনের সামনে আমাদের নির্যাতন করে ফেলে রাখা হয়, একজন শিক্ষকও আমাদের জন্য এগিয়ে আসেননি। প্রতিবাদ করেননি।

এর কিছুদিন পরেই আমার ডিপার্টমেন্টেরই একজন শিক্ষক ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হয়ে খুন হন। অথচ তখনই যদি শিক্ষকরা ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন, এই ঘটনা ঘটতে পারতো?

তবে এই ঘটনা আমাকে মানুষ চিনিয়েছে।

মানুষ ঠিক কতটা অনুভূতিশূণ্য পশু হতে পারে, সেটা আমাকে শিখিয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে বন্ধু বান্ধবরা উপরে উপরে আমাকে এড়াতে শুরু করলেও ভেতরে ভেতরে হেল্পফুলই ছিলো।

এলাকায় আমার তেমন কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি,কারণ ততদিনে সবাই জানতো যে মামলাগুলো রাজনৈতিক। এসবের কোন সত্যতা নাই।

তবে মৃত্যু হয়েছিলো আমার একটা স্বপ্নের।

আমাকে নির্যাতনের ঠিক পরদিন পত্রিকায় আমার একটা ছবি ছাপা হয়। ভয়ঙ্কর ছবি। নাক ঠোঁট ফুলে গেছে, চোখের নিচে কালো দাগ। দেখলে ভয় পাওয়ার কথা।

তবে সেদিন শুধু আমার চেহারা না, বরং আমার স্বপ্নটাও ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়, যার ছবিটা কেউ কখনও দেখেনি। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিলো সরকারি চাকরি করবো।

ছাত্রলীগের দেওয়া নাশকতার মিথ্যা মামলা আমার সেই স্বপ্নকে হত্যা করে ফেলে চিরতরে। আমার আর কোনদিন সরকারই চাকরির পরীক্ষা দেওয়া হয়নি।

দেশ স্বাধীন হয়েছে। অনেক কিছুর বিচার হচ্ছে। আমি শুধু অপেক্ষা করে আছি, আমার স্বপ্নকে গলাটিপে খুন করেছিলো যারা,তাদের বিচারটা দেখার জন্য!!

আল আমিন, ইইই’১৩
কুয়েট

ফুটনোট: ভিকটিমের উপরে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা ও নির্যাতনের সময়ে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা ‘সোচ্চার’ এর পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়েছে। তবে নির্যাতনে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ভিক্টিমের জবানবন্দী ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে যাচাই করা হয় নি এবং অভিযুক্তদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য সোচ্চারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।


সম্ভাব্যশাস্তি: বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমানিত হলে নির্যাতনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ৩২৫ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা হতে পারে।

Join the NextGen Global Eco-Leadership Summit 2026 — a dynamic, day-long international training program on sustainabilit...
05/02/2026

Join the NextGen Global Eco-Leadership Summit 2026 — a dynamic, day-long international training program on sustainability, environmental policy, and youth entrepreneurship!

Organized by MBSTU Research Society (MBSTURS) and Socchar Students' Network-SSN, MBSTU Chapter, and hosted by the Shishu Ullash Organization and the International Global Youth Platform. This summit will equip you with practical skills, global insights, and leadership strategies to tackle real-world challenges like climate change and social impact.

📅 Date: 7 May 2026
🕙 Time: 10:00 AM – 6:00 PM
📍 Venue: 12th floor, 3rd Academic building, MBSTU
💰 Fee: BDT 200 only

⏳ Deadline: 5 May 2026 (Limited seats!)

🔗 Register now: https://forms.gle/Poa9SbRc7QpWwSPr8

🚀 Don’t miss this opportunity to grow, connect, and lead the change!

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম নির্যাতনের অভিযোগ: সোচ্চারের নিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়...
04/24/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম নির্যাতনের অভিযোগ: সোচ্চারের নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘গেস্টরুম’ নিয়ে মানসিক হয়রানির অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে সোচ্চার – Torture Watchdog Bangladesh।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ৪৩তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী—আল মোসাদ্দেক, খালিদ আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ আনাস, সাবিক ইসলাম, ইব্রাহিম ও মনিরুল এর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের রাত জেগে ‘শিষ্টাচার’ শেখানোর নামে মানসিক হয়রানি ও অপমানজনক আচরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ২টা বা আড়াইটা পর্যন্ত তাদের গেস্টরুমে বসিয়ে রাখা হয়। এসময় ‘ম্যানার শেখানো’র নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপমানজনক মন্তব্য এবং জোরপূর্বক আচরণ করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে মানসিক নির্যাতন ও র‍্যাগিংয়ের শামিল। অভিযোগ অনুযায়ী, নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। এছাড়া কথা না শুনলে আরও সিনিয়রদের কাছে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। সাধারণত ১০০৩ ও ১০০৪ নম্বর কক্ষে এসব কার্যক্রম চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ডাইনিং রুমে প্রকাশ্যেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সোচ্চারের সভাপতি ড. শিব্বির আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক ড. মাহফুজুল হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের একটি নির্যাতনমূলক কাঠামো, যা শিক্ষার্থীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ও নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গেস্টরুম ও গণরুমের মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হতো, তা কোনোভাবেই ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। তারা আরও বলেন, ‘পরিচিতিমূলক বৈঠক’ বা ‘ম্যানার শেখানো’—এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে নির্যাতনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো জোরপূর্বক, অপমানজনক বা ভয়ভিত্তিক আচরণ স্পষ্টভাবে নির্যাতন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন।

সোচ্চারের পক্ষ থেকে দাবি:
১. অভিযোগের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে।
৩. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রতিটি আবাসিক হলে “র‍্যাগিং ও নির্যাতন প্রতিরোধ সেল” এবং ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫. নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন এবং নিরাপদ রিপোর্টিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
সোচ্চার বিশ্বাস করে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা শুধু একটি অভিযোগের সমাধান নয়; বরং এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের নির্যাতনমূলক সংস্কৃতি বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

বার্তাপ্রেরক:

শফিকুল ইসলাম মাহফুজ
মিডিয়া ও পাবলিকেশন ডিরেক্টর, সোচ্চার : Torture WatchDog Bangladesh,
এবং পিএইচডি গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা বার্মিংহাম, ইউএসএ।
Email: [email protected]

সোচ্চারের জাতীয় নির্বাচনের আসন ভিত্তিক জরিপ কতটা সঠিক হয়েছে?সোচ্চার ১৪টা আসনের আসন-ভিত্তিক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছিলো ন...
02/13/2026

সোচ্চারের জাতীয় নির্বাচনের আসন ভিত্তিক জরিপ কতটা সঠিক হয়েছে?

সোচ্চার ১৪টা আসনের আসন-ভিত্তিক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছিলো নির্বাচনের আগেঃ ঢাকা-১, ৮, ১১, ১৩, ১৫, ১৭; লক্ষীপুর-৩; সিলেট-৬; চাপাইনবাবগঞ্জ-৩; চট্রগ্রাম-১০; কুমিল্লা-৯, ১০; ময়মনসিংহ-৯; গাইবান্ধা-২।

০) ঢাকার চারটা হাই-প্রোফাইল আসনে সোচ্চারের জরিপ শতভাগ অ্যাকুরেসিসহ মিলেছে। উইনিং ক্যান্ডিডেট, ভোটের মার্জিন, কন্টেস্ট সবকিছুতেই। তারেক রহমানের আসনে সোচ্চারের ফলাফল ছিলো তারেক রহমান ৩% এগিয়ে আছে, প্রকৃত ফলাফলে তিনি ৩.১২% ভোট বেশি পেয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান এগিয়ে ছিলেন ৯.৫%, প্রকৃত ফলাফলে ১৫ শতাংশের মতো ভোট বেশি পেয়ে জিতেছেন। নাহিদ ইসলাম ও ববি হাজ্জাজের আসনেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে যা আমাদের ফলাফলকে রেজোনেট করে।

১) সোচ্চারে জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলে ঢাকা-১, ১৩, ১৭; সিলেট-৬; চট্রগ্রাম-১০; ময়মনসিংহ-৯ এই আসনগুলোতে বিএনপি এগিয়ে ছিলো। এবং প্রকৃত ফলাফলে বিএনপি জিতেছে এই আসনগুলোতে।

২) ঢাকা-১১, ১৫; চাপাইনবাবগঞ্জ-৩; গাইবান্ধা-২ এই আসনগুলোতে জামায়াত জোট এগিয়ে ছিলো এবং জামায়াত জিতেছে।

৩) ঢাকা-৮; লক্ষীপুর-৩; কুমিল্লা-৯, ১০ এই চারটি আসনে সোচ্চারের ফলাফলে জামায়াত জোট এগিয়ে ছিলো, কিন্তু প্রকৃত ফলাফলে বিএনপি জিতেছে। ১৪টা আসনের মধ্যে সোচ্চার ১০টা আসনের ফলাফল সঠিকভাবে প্রেডিক্ট করতে পেরেছে।

৪) সোচ্চার দেখিয়েছিলো ঢাকা-১১, ১৩, ১৭, লক্ষীপুর-৩, সিলেট-৬, কুমিল্লা-৯ এ ছয়টা আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে (৫% এর কম ব্যবধান)। এ ছয়টা আসনের ৫টাতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।

৫) সোচ্চারের ফলাফল মতে ঢাকা-১, ময়মনসিংহ-৯ এ দুইটিতে বিএনপি এবং ঢাকা-৮, ১৫, গাইবান্ধা-্‌২ এ তিনটিতে জামায়াত ভালো ব্যবধানে (১০% বা এর উপরে) জিতবে। এ ৫টির মধ্যে ঢাকা-৮ বাদে বাকিগুলোতে প্রেডিকশান সঠিক ছিলো।

৬) প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারে এ প্রশ্নে সোচ্চারের প্রেডিকশান এসেছিলো তারেক রহমান। প্রকৃত ফলাফলে তাই হয়েছে।

৭) প্রকাশিত ১৪টি আসনের বাইরে সোচ্চার আরো ৫টি আসনে জরিপ করেছিলো যেগুলো প্রকাশ করা হয় নি। সেখানে ৫টার মধ্যে ৪টার উইনিং ক্যান্ডিডেট প্রেডিকশান সঠিক ছিলো। একটাতে সোচ্চারের প্রেডিকশান ছিলো বিএনপি জিততে পারে কিন্তু জামায়াত জিতেছে। এগুলো সহ হিসেব করলে ১৯টার মধ্যে সোচ্চার ১৪টা আসনের ব্যাপারে নির্ভুল প্রেডিকশান দিয়েছে। এগুলো যেহেতু প্রকাশিত হয় নি তাই পারফরম্যান্স অ্যানালাইসিসে যোগ করা হয় নি।

আমাদের সীমিত সময় ও সামর্থের মধ্যে অল্প কিছু আসনে আমরা সার্ভে করতে পেরেছি। যে আসনগুলো আমরা চুজ করেছি সেগুলো হাই-প্রোফাইল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ আসন ছিলো, যেগুলোতে প্রেডিকশান করা চ্যালেঞ্জিং। আমরা সাইন্টেফিক মেথড ফলো করে সার্ভে করেছি এবং সে অনুপাতে ফলাফল প্রকাশ করেছি।

৭১% অ্যাকুরেসিসহ জাতীয় নির্বাচনের আসন-ভিত্তিক প্রেডিকশান আর কেউ দিতে পেরেছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা আরো বেশি আসনের বা ৩০০ আসনের সার্ভে করতে পারলে এই অ্যাকুরেসি আরো বাড়তো অবশ্যই।

Address

1635 S Michigan Avenue
Villa Park, IL
60181

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সোচ্চার । Torture WatchDog Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to সোচ্চার । Torture WatchDog Bangladesh:

Share