04/14/2026
নিউইয়র্কে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগের দাবি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর
নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও আটক করার অভিযোগে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি ৮ এপ্রিল বুধবার দায়ের করেছে নিউইয়র্ক আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক এবং লিগ্যাল এইড সোসাইটিসহ একটি জোট, যা ফেডারেল আদালতে আটজন অভিবাসীর পক্ষে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে বহু মানুষকে সম্ভাব্য অপরাধ বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ ছাড়াই শুধুমাত্র তাদের চেহারা, ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে আটক করা হয়েছে।
মামলার বাদীরা বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে একজন ৪১ বছর বয়সী লাতিনো ব্যক্তি স্টেটেন আইল্যান্ডে ডমিনো খেলার সময়, একজন ৩৬ বছর বয়সী হিস্পানিক ব্যক্তি ব্রুকলিনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের সময় এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের একজন ২৪ বছর বয়সী স্নাতক হেম্পস্টেডে ট্রেনে ওঠার পথে আটক হন। পরবর্তীতে জরুরি আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিং বেড়ে গেছে এবং এটি নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাজে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করে এবং বর্ণভিত্তিক প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা”।
মামলাটি সংবাদমাধ্যম দ্যা সিটি তাদের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে যে অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন নিউইয়র্কবাসীকে আইস আটক করেছে, যাদের অনেকেই মূল টার্গেট ছিল না এবং ৮৫ শতাংশের কোনো ফৌজদারি রেকর্ড ছিল না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের একটি ২০২৫ সালের ব্যাখ্যার পর থেকে অভিবাসন অভিযানগুলোতে ভাষা, চেহারা ও কর্মসংস্থানকে আংশিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আইস কতৃক স্ট্রিট অ্যারেস্টের বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।