07/09/2026
আমার ছেলেটা মানসিক প্রতিবন্ধী, ও হলুদ রেখা, লাল রেখা বুঝে না.. 😭
গাজার এক ফিলিস্তিনি মায়ের ভিডিও ক্লিপ দেখছিলাম। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে আকুল মিনতি করছিলেন তিনি। মধ্য গাজার পূর্বাঞ্চলে, সেনাবাহিনীর চেকপোস্টের সামনে পড়ে থাকা তাঁর ছেলের লাশটা যেন একটু উদ্ধার করে আনা হয়।
এই ছেলেটির আগে আরও তিনটি সন্তানকে হারিয়েছেন এই হতভাগিনী মা। তিনি বলছিলেন, আমার ছেলেটা মানসিক প্রতিবন্ধী। ও তো আর সেনাবাহিনীর ওই হলুদ রেখা কিংবা লাল রেখার নিয়ম-কানুন বুঝত না! দশ দিন আগে ওরা ওরে মেরে ফেলেছে, সেই থেকে লাশটা ওখানেই রাস্তায় পড়ে আছে। একটু থমকে গিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন, আমি এখন শুধু ওর পরনের প্যান্ট আর শার্টটুকু ফেরত চাই। আমি জানি, এতদিনে কড়া রোদে ওর শরীর গলে গেছে, কুকুরে খুবলে খেয়েছে, সব পচে গেছে।
ভিডিওটা আর দেখার শক্তি আমার ছিল না, ওখানেই বন্ধ করে দিলাম। অথচ সেই শোকার্ত মা তখনো রেড ক্রস, রেড ক্রিসেন্ট, জাতিসংঘ আর পৃথিবীর সব মানুষের কাছে কেঁদে কেঁদে মিনতি করে যাচ্ছেন। একটা মায়ের আর কী-ই বা চাওয়া, শুধু সন্তানের শেষ স্মৃতি ওই প্যান্ট আর শার্টটুকু!
হে নিষ্ঠুর পৃথিবী, এই চাওয়াটুকুও কি বড্ড বেশি?!
***
যুদ্ধের প্রথম বছরের কথা। আমি তখন যাদের মানসিক ট্রমার চিকিৎসা দিতাম, তাদের এক কিশোরের কথা মনে পড়ে গেল। ছেলেটি আমাকে বলেছিল, একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের দুই তলার মাঝখানে আটকে ছিল তার বাবার লাশ, যার অর্ধেকটা ঝুলে ছিল রাস্তার দিকে। আর বাবা-ছেলের মাঝখানের দূরত্বটুকু জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিল এক সারি ট্যাংক।
ছেলেটি প্রতিদিন দেখত কীভাবে চোখের সামনে তার বাবার শরীর পচে গলে যাচ্ছে, মাংসের টুকরোগুলো খসে খসে নিচে পড়ছে। সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া একটা ছেলে দিনের পর দিন দেখল তার বাবার লাশের এই পরিণতি, অথচ একজন সন্তান হিসেবে বাবাকে শেষ বিদায় জানানো বা দাফন করার ন্যূনতম অধিকারটুকুও সে পেল না।
এই সত্য ঘটনাগুলো যখন লিখছি, বুকটা ফেটে যাচ্ছে সেই মায়ের যন্ত্রণায়। তিনি বলছিলেন, আমার আর কোনো সন্তান বেঁচে নেই...
কত সহজ, কত স্বাভাবিকভাবে বললেন কথাটি! যুদ্ধ তাঁর বুক খালি করে সবকটি সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে। আর আজ এই স্বার্থপর পৃথিবীর কাছে তাঁর একমাত্র আকুতি—ছেলের পরনের প্যান্ট আর শার্টটা পাওয়ার।
হে আল্লাহ! লিখতে লিখতে আমি আজ বড় ক্লান্ত, এই সীমাহীন কষ্টের কথা বলতে বলতে আমি বড্ড পরিশ্রান্ত।আপনি তো জানেন ক্লান্তিতে আমাদের গলা অবধি ডুবে গেছে।
— ডা. সাইদ মোহাম্মদ আল-কাহলুত
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও লেখক, গাজা, ফিলিস্তিন
#গাজায়প্রতিদিন
৯জুলাই ২০২৬