Darul Uloom Baraikhali

Darul Uloom Baraikhali Educational Institution for under privileged people with great care

আজ ২৮ রমজান।মানে—আজ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হবে ২৯ রমজানের রাত।রমজানের শেষ বিজোড় রাত।হয়তো এটাই আপনার এই বছরের শেষ শবে ক...
03/18/2026

আজ ২৮ রমজান।

মানে—আজ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হবে ২৯ রমজানের রাত।

রমজানের শেষ বিজোড় রাত।

হয়তো এটাই আপনার এই বছরের শেষ শবে কদর-তালাশের রাত।
হয়তো এটাই সেই রাত, যেখানে একটা সিজদা, একটা কান্না, একটা দোয়া—আপনার বহু বছরের অন্ধকার মুছে দিতে পারে।
হয়তো এটাই সেই রাত, যেটাকে আপনি পরে মনে করে বলবেন—সেদিনই আমি সত্যি বদলে গিয়েছিলাম।

অনেকে ২৭ রমজানের পর একটু ঢিলে হয়ে যায়।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ তো বলেননি—শুধু ২৭-এই খুঁজো।
তিনি বলেছেন—

“তোমরা লাইলাতুল কদরকে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে খোঁজো।”
(সহীহ আল-বুখারি: ২০১৭, সহীহ মুসলিম: ১১৬৯)

তাই আজকের রাতকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আজকের পোস্টে একসাথে দিলাম—

১০টি দোয়া
১০টি জিকির
আল্লাহর ১০টি সুন্দর নাম

আজ সারাদিনে এগুলো দেখে নিন।
যা পারেন মুখস্থ করুন।
যা পারেন লিখে রাখুন।
তারপর আজ রাতে সিজদায়, জিকিরে, কান্নায়, দোয়ায়—একটি একটি করে পড়ুন।

হয়তো আজকের রাতের জন্য এটাই হবে আপনার পূর্ণ গাইড।

---

আজ রাতের ১০টি দোয়া

১) শবে কদরের মূল দোয়া

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্না।

অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করো।
(তিরমিজি: ৩৫১৩)

এটাই আজ রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।

২) সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَىٰ عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাতা‘তু, আউযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবুউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ বিযামবি, ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয জুনুবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি আমার রব, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার নিয়ামত স্বীকার করছি, আমার গুনাহও স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করো।
(সহীহ আল-বুখারি: ৬৩০৬)

৩) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ:
রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান নার।

অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও, এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।
(সূরা বাকারা: ২০১)

৪) হিদায়াত ও তাকওয়ার দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَىٰ وَالتُّقَىٰ وَالْعَفَافَ وَالْغِنَىٰ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত্তুকা, ওয়াল আফাফা, ওয়াল গিনা।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা এবং অমুখাপেক্ষিতা চাই।
(সহীহ মুসলিম: ২৭২১)

৫) কবর ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ের দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন আযাবিল ক্ববর, ওয়া মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে।
(সহীহ আল-বুখারি: ১৩৭৭, সহীহ মুসলিম: ৫৮৮)

৬) আফিয়াহর দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা, সুস্থতা ও কল্যাণ চাই।
(ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১)

৭) ঈমানের উপর অটল থাকার দোয়া

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَىٰ دِينِكَ

উচ্চারণ:
ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিক।

অর্থ:
হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর অটল রাখো।
(তিরমিজি: ২১৪০)

৮) দোয়া ইউনুস

لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যালিমিন।

অর্থ:
তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
(সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৭)

৯) মা-বাবার জন্য দোয়া

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

উচ্চারণ:
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

অর্থ:
হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।
(সূরা আল-ইসরা: ২৪)

১০) জান্নাতুল ফিরদাউসের দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْفِرْدَوْسَ الْأَعْلَىٰ مِنَ الْجَنَّةِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ফিরদাউসাল আ‘লা মিনাল জান্নাহ।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ ফিরদাউস চাই।
(সহীহ আল-বুখারি: ২৭৯০)

---

আজ রাতের ১০টি জিকির

১) أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।

২) سُبْحَانَ اللَّهِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহ
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র।

৩) الْحَمْدُ لِلَّهِ

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহ
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

৪) اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

৫) لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

৬) لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।

৭) سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁর।

৮) سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল আজিম
অর্থ: মহান আল্লাহ পবিত্র।

৯) حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল
অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।

১০) اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ
অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর রহমত নাজিল করুন।

---

আজ রাতে আল্লাহর ১০টি নাম ধরে ডাকুন

১) ইয়া আফুউ

অর্থ: হে পরম ক্ষমাকারী
কখন ডাকবেন: গুনাহ মাফ চাইতে।

২) ইয়া গাফফার

অর্থ: হে বারবার ক্ষমাকারী
কখন ডাকবেন: বারবার একই ভুলের জন্য তওবা করতে।

৩) ইয়া রহমান

অর্থ: হে পরম দয়ালু
কখন ডাকবেন: রহমত ও নরম অন্তর চাইতে।

৪) ইয়া রহিম

অর্থ: হে অশেষ করুণাময়
কখন ডাকবেন: বিশেষ রহমত ও নৈকট্য চাইতে।

৫) ইয়া ওয়াহহাব

অর্থ: হে অবারিত দানকারী
কখন ডাকবেন: যা আপনার হাতে নেই, তা চাইতে।

৬) ইয়া রাযযাক

অর্থ: হে রিযিকদাতা
কখন ডাকবেন: হালাল ও বরকতময় রিযিক চাইতে।

৭) ইয়া শাফি

অর্থ: হে আরোগ্যদাতা
কখন ডাকবেন: শরীর, মন ও পরিবারের শিফা চাইতে।

৮) ইয়া হাদি

অর্থ: হে পথপ্রদর্শক
কখন ডাকবেন: হিদায়াত, সন্তানদের হিদায়াত, ঘরের হিদায়াত চাইতে।

৯) ইয়া কারীম

অর্থ: হে মহাদানশীল
কখন ডাকবেন: বড় আশা নিয়ে, লজ্জা না করে চাইতে।

১০) ইয়া মুজীব

অর্থ: হে দোয়া কবুলকারী
কখন ডাকবেন: যখন মনে হবে—আজ আমার ডাক তুমি ফিরিয়ে দিও না।

---

সব একসাথে না পারলেও একটা সহজ নিয়ম ধরুন।

দুই রাকাত নামাজ পড়ুন।
সিজদায় যান।
একটা দোয়া পড়ুন।
তারপর একটা জিকির করুন।
তারপর আল্লাহর একটা নাম ধরে ডাকুন।

যেমন—

ইয়া আফুউ — আমাকে মাফ করো।
ইয়া রহমান — আমাকে রহমতে ঢেকে নাও।
ইয়া মুজীব — আজ আমার দোয়া কবুল করো।
ইয়া রাযযাক — আমার জন্য হালাল রিযিক লিখে দাও।
ইয়া শাফি — আমার কষ্ট দূর করো।

এইভাবে রাতটাকে জীবন্ত করে তুলুন।

---

মনে রাখবেন

আজ রাত শুধু জেগে থাকলেই হবে না।
আজ রাতকে গুছিয়ে কাটাতে হবে।

কী পড়বেন—জানতে হবে।
কী চাইবেন—জানতে হবে।
কী নামে আল্লাহকে ডাকবেন—সেটাও ঠিক করতে হবে।

আজকের রাত হতে পারে আপনার এই রমজানের শেষ বিজোড় রাত।
এটাই হতে পারে আপনার শেষ কদর-তালাশের রাত।

---

শেষ কথা

আজ রাত আমি নষ্ট করবো না।

হয়তো আজ রাতই শবে কদর।
হয়তো আজ রাতেই আপনার বহু বছরের গুনাহ মুছে যাবে।
হয়তো আজ রাতেই আপনার চোখের পানি কবুল হবে।
হয়তো আজ রাতেই আল্লাহ আপনার ভাগ্যে নতুন কিছু লিখে দেবেন।

তাই আজ রাতের আগেই প্রস্তুত হন।
এই ১০টি দোয়া, ১০টি জিকির, ১০টি নাম সঙ্গে রাখুন।
রাতে সিজদায় যান।
কাঁদুন।
চান।
আল্লাহকে ডাকুন।

কারণ তাঁর দরজা এখনো খোলা আছে।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে আজ রাতের পূর্ণ বরকত নসিব করুন, আপনার সব গুনাহ মাফ করুন, এবং আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।

— সংগৃহীত।

03/16/2026

👉 শবে কদরের ১০ সূরা
👉 শবে কদরের ১০ দুআ
👉 শবে কদর ২৭ রমাদন হওয়ার সুক্ষ‍্য ইশারা

📌🛑আজ শবে কদরের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাবনার রাত — এই ১০টি সূরা ও ১০টি দোয়া এখনই দেখে নিন

আজ ২৬ রমজান।

মানে—আজ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হবে ২৭ রমজানের রাত।

অনেক আলেমের মতে—এটাই শবে কদরের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাবনার রাত।

তাই এই পোস্টটা এখনই পড়ুন।
সেভ করে রাখুন।
কারণ আজ রাতের আগে প্রস্তুতি নিতেই হবে।

আজ রাত শুধু জেগে থাকলেই হবে না।
জানতে হবে—কী পড়বেন, কী চাইবেন, কীভাবে রাত কাটাবেন।

অনেকে রাতে ইবাদতে বসেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দ্বিধায় পড়ে যান।

কোন সূরা পড়বো?
কোন দোয়া পড়বো?
কী চাইবো?
কোথা থেকে শুরু করবো?

তাই আজকের এই পোস্টে একসাথে দিলাম—
১০টি সূরা এবং ১০টি দোয়া।

আজ সারাদিনে সময় করে এগুলো দেখে নিন।
যা পারেন মুখস্থ করুন।
যা পারেন লিখে রাখুন।
আজ রাতের জন্য এটাই হতে পারে আপনার পূর্ণ গাইড।

---

আজ রাতের ১০টি সূরা

১) সূরা কদর — শবে কদরের সূরা

إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ

উচ্চারণ:
ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল ক্বদর।

অর্থ:
নিশ্চয়ই আমরা এটা নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে।
(সূরা কদর: ১)

আজ রাতের শুরু হোক এই সূরা দিয়ে।

২) সূরা দুখান — তাকদিরের রাতের সূরা

فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ

উচ্চারণ:
ফিহা ইউফরাকু কুল্লু আমরিন হাকিম।

অর্থ:
এই রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।
(সূরা দুখান: ৪)

আজ রাতে তাকদিরের জন্য দোয়া করুন।

৩) সূরা মুলক — কবরের আযাব থেকে রক্ষা

নবীজি ﷺ বলেছেন—এই সূরা একজনের জন্য সুপারিশ করবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়।
(আবু দাউদ: ১৪০০, তিরমিজি: ২৮৯১)

উচ্চারণ শুরু:
তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক...

আজ রাতের শেষে এটা পড়ুন।

৪) সূরা সাজদাহ — তাহাজ্জুদকারীদের সূরা

تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ

উচ্চারণ:
তাতাজাফা জুনুবুহুম আনিল মাদাজি‘।

অর্থ:
তাদের পার্শ্ব বিছানা থেকে দূরে থাকে।
(সূরা সাজদাহ: ১৬)

আজ রাতের তাহাজ্জুদের জন্য হৃদয় তৈরি করবে।

৫) সূরা মুযযাম্মিল — রাতের ইবাদতের ডাক

قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا

উচ্চারণ:
কুমিল লাইলা ইল্লা কলিলা।

অর্থ:
রাতে দাঁড়াও, অল্প অংশ ছাড়া।
(সূরা মুযযাম্মিল: ২)

আজ রাতের জন্য এই আহ্বান আপনার জন্যও।

৬) সূরা নাবা — কিয়ামতের মহা সংবাদ

عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ

উচ্চারণ:
আম্মা ইয়াতাসা’আলুন।

এই সূরা পড়লে আখিরাত, হিসাব, জান্নাত, জাহান্নাম—সব অন্তরে নেমে আসে।

৭) সূরা ইনফিতার — আমলনামার সতর্কতা

يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ

উচ্চারণ:
ইয়ালামুনা মা তাফ‘আলুন।

অর্থ:
তারা জানে তোমরা কী করো।
(সূরা ইনফিতার: ১২)

আজ রাতের প্রতিটি আমল লেখা হবে।

৮) সূরা জিলজাল — অণু পরিমাণ হিসাব

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ

উচ্চারণ:
ফামাই ইয়া‘মাল মিসক্বালা যাররাতিন খাইরাইঁ ইয়ারাহু।

অর্থ:
যে অণু পরিমাণ ভালো করবে তা দেখবে।
(সূরা জিলজাল: ৭)

ছোট আমলও আজ মূল্যবান।

৯) সূরা কারিয়াহ — পাল্লা ভারী হবে না হালকা?

الْقَارِعَةُ

উচ্চারণ:
আল ক্বারিঅাহ।

আজ রাতের সিজদা, দোয়া, কান্না—সবই সেই পাল্লা ভারী করতে পারে।

১০) সূরা তাকাসুর — দুনিয়ার মোহ ভাঙার সূরা

أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ

উচ্চারণ:
আলহাকুমুত তাকাসুর।

অর্থ:
প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফিল করে রেখেছে।
(সূরা তাকাসুর: ১)

আজ রাতের আগে নিজেকে জাগিয়ে তুলুন।

---

আজ রাতের ১০টি দোয়া

১) শবে কদরের দোয়া

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি।

অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করো।
(তিরমিজি: ৩৫১৩)

এটাই আজ রাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।

২) সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَىٰ عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাতা‘তু, আউযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবুউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ বিযামবি, ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয জুনুবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ:
হে আল্লাহ, তুমি আমার রব, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার নিয়ামত স্বীকার করছি, আমার গুনাহও স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করো।
(সহীহ আল-বুখারি: ৬৩০৬)

৩) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ:
রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান নার।

অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতেও কল্যাণ দাও, এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করো।
(সূরা বাকারা: ২০১)

৪) হিদায়াত ও তাকওয়ার দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَىٰ وَالتُّقَىٰ وَالْعَفَافَ وَالْغِنَىٰ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত্তুকা, ওয়াল আফাফা, ওয়াল গিনা।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা এবং অমুখাপেক্ষিতা চাই।
(সহীহ মুসলিম: ২৭২১)

৫) কবর ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ের দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন আযাবিল ক্ববর, ওয়া মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে।
(সহীহ আল-বুখারি: ১৩৭৭, সহীহ মুসলিম: ৫৮৮)

৬) আফিয়াহর দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা, সুস্থতা ও কল্যাণ চাই।
(ইবনে মাজাহ: ৩৮৭১)

৭) ঈমানের উপর অটল থাকার দোয়া

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَىٰ دِينِكَ

উচ্চারণ:
ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিক।

অর্থ:
হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের উপর অটল রাখো।
(তিরমিজি: ২১৪০)

৮) দোয়া ইউনুস

لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা, ইন্নি কুনতু মিনায যালিমিন।

অর্থ:
তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
(সূরা আল-আম্বিয়া: ৮৭)

৯) মা-বাবার জন্য দোয়া

رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

উচ্চারণ:
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

অর্থ:
হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন।
(সূরা আল-ইসরা: ২৪)

১০) জান্নাতুল ফিরদাউসের দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْفِرْدَوْسَ الْأَعْلَىٰ مِنَ الْجَنَّةِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল ফিরদাউসাল আ‘লা মিনাল জান্নাহ।

অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ ফিরদাউস চাই।
(সহীহ আল-বুখারি: ২৭৯০)

——

আজ যেহেতু সকাল, তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন।

দোয়ার একটা তালিকা লিখে ফেলুন।
কাদের জন্য দোয়া করবেন, তা ঠিক করুন।
যে সূরাগুলো পড়তে চান, সেগুলো চিহ্নিত করুন।
আজকের কাজগুলো যতটা পারেন হালকা রাখুন।
রাতে যেন মন ভাঙা না থাকে, শরীর ক্লান্ত হয়ে না পড়ে।

যদি পারেন, দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নিন।
মাগরিবের আগেই মনকে গুছিয়ে ফেলুন।
আজ রাতকে সাধারণ রাত ভাববেন না।

---

আজ রাত কীভাবে কাটাবেন

আজ রাতে সব একসাথে করতে না পারলেও, অন্তত একটা সহজ নিয়ম ধরুন।

কিছু সূরা পড়ুন।
অর্থ ভাবুন।
তারপর সিজদায় গিয়ে দোয়া করুন।
একটির পর একটি।

গুনাহ মাফ চান।
জান্নাত চান।
রিযিক চান।
মা-বাবার জন্য চান।
সন্তানের জন্য চান।
পুরো উম্মাহর জন্য চান।

চোখে পানি এলে কাঁদুন।
না এলে অন্তর ভেজান।

কারণ আজ রাত শুধু তিলাওয়াতের রাত না—
এটা দোয়া, কান্না, মাগফিরাত, আর তাকদির বদলে যাওয়ার রাত।

---

মনে রাখবেন

আজ রাত শুধু জেগে থাকলেই হবে না।
আজ রাতকে গুছিয়ে কাটাতে হবে।

কোন সূরা পড়বেন—জানতে হবে।
কোন দোয়া পড়বেন—জানতে হবে।
কী চাইবেন—সেটাও ঠিক করতে হবে।

---

শেষ কথা

আজ সকালেই নিয়ত করুন—
আজ রাত আমি নষ্ট করবো না।

হয়তো আজ রাতই শবে কদর।
হয়তো আজ রাতেই আপনার বহু বছরের গুনাহ মুছে যাবে।
হয়তো আজ রাতেই আপনার চোখের পানি কবুল হবে।

তাই আজ রাতের আগেই প্রস্তুত হন।
এই ১০টি সূরা আর ১০টি দোয়া নিয়ে রাখুন।
রাতে সিজদায় যান।
কাঁদুন।
চান।
আল্লাহর দরজা খোলা আছে।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে আজ রাতের পূর্ণ বরকত নসিব করুন, আপনার সব গুনাহ মাফ করুন, এবং আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।

— Ekram Hossain

📌📌২৭তম রাত লাইলাতুল কদর বিষয়ে কিছু সূক্ষ্ম ইশারা—

❂ কিছু আলেম কুরআনের সূরা কদরের ভেতর থেকেও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত খুঁজে বের করেছেন। সূরা কদরে আল্লাহ তাআলা বলেন:
سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ
‘এটি শান্তিময়—ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।’

এখানে هِيَ শব্দটি সূরার গণনায় ২৭তম শব্দ হিসেবে আসে। এ থেকে কেউ কেউ ইঙ্গিত নিয়েছেন যে, শবে কদর ২৭ রমজান হতে পারে।

❂ আরেকটি সুন্দর সূক্ষ্ম ইঙ্গিত কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন—সূরা কদরে لَيْلَةُ الْقَدْرِ বাক্যটি তিনবার এসেছে। لَيْلَةُ الْقَدْرِ এই শব্দগুচ্ছে ৯টি অক্ষর। ৯*৩ = ২৭। এ হিসাব থেকেও কেউ কেউ ২৭ তারিখের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

❂ তাফসিরে কুরতুবিতেও একটি সুন্দর ঘটনা আছে।
একদিন হযরত উমর রাযি. সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘লাইলাতুল কদর কোন রাত?’

সেখানে তরুণ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযি). উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, আমি ‘সাত’ সংখ্যার মধ্যে একটি বিশেষ মিল দেখেছি। আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন—
— সাত আসমান,
— সাত জমিন,
— তাওয়াফ সাত চক্কর,
— সাফা-মারওয়ার সাঈ সাত চক্কর,
— রমিতে সাত কংকর,
— সিজদার অঙ্গ সাতটি।

অনুরূপভাবে মানুষের সৃষ্টির ধাপগুলোও কুরআনে সাতভাবে এসেছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَّكِينٍ
অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً
পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করেছি জমাট বাঁধা রক্তে।
فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً
অতঃপর রক্তপিন্ডকে পরিণত করেছি মাংসপিন্ডে।
فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا
অতঃপর মাংসপিণ্ডকে পরিণত করেছি হাড্ডিতে।
فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا
অতঃপর হাড্ডিকে আবৃত করেছি মাংস দিয়ে।
ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
অবশেষে ওকে গড়ে তুলেছি অন্য এক সৃষ্টি রূপে; অতএব নিপুণতম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না মহান। [সূরা মুমিনূন : ১২-১৪]

❂ আলোচ্য আয়াতসমূহে মানব সৃষ্টির সাতটি স্তর উল্লেখ করা হয়েছে।
— সর্বপ্রথম স্তর سُلَالَةٍ مِّن طِينٍ মাটির সারাংশ।
— দ্বিতীয় نُطْفَةً বীর্য।
— তৃতীয় عَلَقَةً জমাট রক্ত,
— চতুর্থ مُضْغَةً মাংসপিণ্ড।
— পঞ্চম عِظَامًا হাড্ডি।
— ষষ্ঠ لَحْمًا অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃতকরণ।
— সপ্তম خَلْقًا آخَرَ সৃষ্টিটির পূর্ণত্ব অর্থাৎ রূহ সঞ্চারকরণ।

সূরা ‘আবাসা’-তেও খাদ্যের প্রসঙ্গে এসেছে,
فَلْيَنْظُرِ الإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ. فَأَنبَتْنَا فِيهَا حَبًّا. وَعِنَبًا وَقَضْبًا. وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا. وَحَدَائِقَ غُلْبًا. وَفَاكِهَةً وَأَبًّا
মানুষ তার খাদ্যের ব্যপারটাই ভেবে দেখুক না কেন। আমি প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করি। তারপর যমীনকে বিদীর্ণ করে দেই। অতঃপর তাতে আমি উৎপন্ন করি-শস্য, আঙ্গুর ও শাক-সবজি, যায়তূন ও খেজুর, আর ঘন বৃক্ষ পরিপূর্ণ বাগবাগিচা, আর নানান জাতের ফল আর ঘাস-লতাপাতা। [সূরা ‘আবাসা : ২৪-৩০]

❑ আলোচ্য আয়াতসমূহে খাদ্যের ব্যপারটা সাতটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে–
১. حَبًّا শস্য,
২. عِنَبًا আঙ্গুর,
৩. قَضْبًا শাক-সবজি,
৪. زَيْتُونًا যায়তূন,
৫. نَخْلًا খেজুর,
৬. حَدَائِقَ غُلْبًا ঘন বৃক্ষ পরিপূর্ণ বাগবাগিচা,
৭. وَفَاكِهَةً وَأَبًّا নানান জাতের ফল ও ঘাস-লতাপাতা।

এই সব মিল দেখে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযি.) বললেন, যেহেতু লাইলাতুল কদর শেষ দশকে, তাই সাতের হিসাবে ২৭তম রাত বেশি উপযুক্ত মনে হয়।

এ কথা শুনে হযরত উমর (রাযি.) প্রশংসা করে বললেন, তোমরা এই তরুণের মতো বিশ্লেষণও করতে পারলে না! [তাফসির কুরতুবী, সূরা মুমিনূন]

❂ তবে মনে রাখতে হবে—এগুলো নিশ্চিত দলিল নয়; বরং ইশারা মাত্র। কুরআন বা সহীহ হাদিসে স্পষ্টভাবে ২৭ তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।

☞ তাহলে কী করবে একজন মুমিন?

হাকীমুল উম্মাহ হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) একটি অত্যন্ত কার্যকর কথা বলেছেন—যে ব্যক্তি শবে কদরের নিয়তে রাত জেগে ইবাদত করবে, তার নিয়তের কারণে ইনশাআল্লাহ সে শবে কদরের সওয়াব পাবে। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন
إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ
সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। [সহীহ বুখারী : ১]
অর্থাৎ, যদি বান্দা আন্তরিকভাবে ধারণা করে—আজ হয়তো লাইলাতুল কদর। তারপর এ নিয়তে ইবাদত করে, তাহলে আল্লাহ তাঁর নিয়তের মর্যাদা দেবেন। একজন ফারসি কবি খুব সুন্দরভাবে বলেছেন
اے خواجہ! جوئی ز شب قدر نشانی
هر شب، شب قدر است اگر قدر بدانی
হে বন্ধু! তুমি কেন শবে কদরের আলামত খুঁজে বেড়াও?
তুমি যদি কদর করতে জানো—তবে প্রতিটি রাতই তোমার জন্য শবে কদর।

— সংগৃহীত।

03/10/2026

আসসালামু আলাইকুম।

বছরের সবচেয়ে দামী ১০ টি রাত শুরু হয়েছে। আমাকে আপনাদের দুয়ায় রাখবেন। আপনারাও আমার দুয়ায় আছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

সাধ্যমত বেশি বেশি নেক আমল করার চেষ্টা করুন।

রাসূল (স) বছরের আর কোনদিন ইবাদাতের জন্য পরিবারের সবাইকে সারারাত জাগিয়ে রাখতেন না, এই ১০ রাত ব্যতীত। এই ১০ রাতে নিজে জেগে অন্যদেরকেও আল্লাহর জন্য ইবাদাত করাতেন।

আসুন, এই ১০ রাত কাজে লাগাই। বেশি বেশি যিকর আযকার, লম্বা সলাতের মাধ্যমে রাতগুলোকে বিচারের দিনে আমাদের জন্য উত্তম সাক্ষী হিসেবে রাখি। আল্লাহ আমাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
আমিন।

উত্তম যিকিরসমূহঃ
সুবহানআল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ
লা~ ইলা-হা ইল্লাল্লাহ
আল্লাহু আকবার
আস্তাগফিরুল্লাহ
লা~ ইলা-হা ইল্লা আংতা...
লা~ হাওলা..
দরুদ

উত্তম সলাতঃ
লম্বা কিরাত, রুকু সিজদা সহ সলাত। কিরাত লম্বা করতে ফাতিহার পরে সূরা ইখলাস বারবার পড়তে পারেন। যতক্ষণ দাঁড়িয়ে(অসুস্থদের জন্য বসে) থাকতে পারেন, কন্টিনিউ করেন। এরপর রুকু। রুকুর তাসবিহ যতক্ষণ পারেন। এরপর সিজদা। যতক্ষন প্রশান্তি লাগে... শেষ বৈঠকের দুয়া। যত আকুতি আছে।
এভাবে ২/৪/৬/৮ যে যত রাকাত পারেন। পড়েন। মসজিদে তারাবি পড়ে আসলেও আবার পড়েন। নিজের মত করে। সুন্দর সলাত।
দুইটা রাকাত সুন্দর সলাত জীবনের সবকিছুকে ছাপিয়ে নাজাতের উসিলা হয়ে যেতে পারে।

আল্লাহ কবুল করুন
আমিন।

সংগৃহীত।

03/10/2026

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী (اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني) - লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মাসনুন দোয়া। এর অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন"।বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ রাতে এই দোয়া বেশি পাঠ করা।

রাসুলে কারিম (সাঃ) বলেছেন যার মোটা মোটি অর্থঃ রমজান মাসে চার কাজ বেশি বেশি করিবে। প্রথম দুই কাজঃ কালেমায়ে তাইয়ে‍‍‍‍‍‍‍‍‍...
02/20/2026

রাসুলে কারিম (সাঃ) বলেছেন যার মোটা মোটি অর্থঃ রমজান মাসে চার কাজ বেশি বেশি করিবে। প্রথম দুই কাজঃ কালেমায়ে তাইয়ে‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍বা ও ইস্তেগফার। দ্বিতীয় দুই কাজঃ বেহেশত পাওয়ার ও দোযখ হইতে নাজাতের জন্য প্রার্থনা করা। এই চার কাজ এক সাথে নিম্ন রূপে পড়ি।

হাদি, তুমি থাকবে এদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে অন্তরে। তোমার মজবুত ঈমান, দেশ প্রেম, আর আন্তরিকতা, এদেশের মানুষ ভুলে গেলে...
12/13/2025

হাদি, তুমি থাকবে এদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তরে অন্তরে। তোমার মজবুত ঈমান, দেশ প্রেম, আর আন্তরিকতা, এদেশের মানুষ ভুলে গেলেও আকাশ বাতাস, গাছ পালা সাক্ষী হয়ে থাকবে। তোমার মত হাদি হাজার বছরেও জন্ম নেয় না। তুমি চলে গেলে বাংলাদেশ অনেক বড় কিছু হারাবে!

11/24/2025

যে দেশে মর্গে থাকা মেয়েদের লাশ ধর্ষণ হয়, ৬ বছরের মেয়ে বাচ্চা যে দেশে ধর্ষণ হয়, সে দেশে ওড়না পরা না পরা এক কথা।

আজকের লেখার বিষয়বস্তু সেটা না।

আমি ম্যাক্সিমাম বাংলাদেশিদের ভিতরে একটা জিনিস খেয়াল করেছি অনেক বছর যাবৎ তা হলো অপ্রাসঙ্গিক জিনিস নিয়ে নাড়াচাড়া করা।

হচ্ছে ভূমিকম্প। কোথায় সেফটি নিয়ে আলোচনা হবে, evacuation নিয়ে আলোচনা হবে, প্রিপারেশন নিয়ে আলোচনা হবে।

আলোচনা হচ্ছে ওড়না নিয়ে।

একটা কথা বলি, আমরা যারা হিজাব পরি, হিজাবটা হলো আমাদের কাছে অনেকটা মোবাইল ফোনের মতো। ফোন যখন ক্যারি করেন আপনার কি মনে হয় আপনি কোনো extra কিছু ক্যারি করছেন? হিজাব টা ও আমাদের কাছে ওরকম।

আমার personal লাইফে বাসার বিভিন্ন পয়েন্টে পয়েন্টে আবায়া ঝুলানো আছে। বাসায় আমরা সবাই কমফোর্টেবল জামা কাপড় ই পরি। ধরেন, রান্না করতেছি হঠাৎ পার্সেল আসলো। আবায়া টা নিয়ে এক দৌড়ে যেন দরজাটা খুলতে পারি সেজন্য ই এই ব্যবস্থা।

হিজাব /ওড়না হলো একটা ডিসিশন। একটা অভ্যাস। একবার হয়ে গেলে, মন থেকে একসেপ্ট করে ফেললে এটা আপনার পার্ট অফ লাইফ হয়ে যাবে।

এখন আসেন যে গ্রুপ এই ভূমিকম্পে ওড়না বিতর্ক শুরু করলো তাঁদের আসলে নরমাল লাইফে ও ওড়না পরার habit নাই তাই ভূমিকম্পের মতো panicking situation এ ওড়না খোজা তাঁদের জন্য আসলেই too much.

Palestine এর মেয়েরা তো এত bombing এর ভিতরে ও বোরখা পরে দৌড়াচ্ছে। তার মানে দাঁড়ালো, পোশাক হলো মানুষের অভ্যাস এবং একটা সিদ্ধান্ত যে "আমি আজ থেকে এভাবে চলবো ".

যাইহোক ভূমিকম্পের প্রসঙ্গে আসি।
ভূমিকম্প নিয়ে সবার মাঝে মৃত্যু আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

মৃত্যু নিয়ে panicking করে দুই শ্রেণীর মানূষ।

Believer দের ভিতরে যারা মুনাফেক

এবং non-believer দের ভিতরে যারা গ্রাউন্ডেড থাকে না, যাদের জীবন সম্পর্কে যথেষ্ট insight নাই।

According to the religion, মৃত্যু পূর্বনির্ধারিত। মৃত্যুদূত আসলে ইঁদুরের গর্তে লুকালে ও বাঁচতে পারবেন না,
তখন আপনাকে যেতেই হবে।

যদি কখনো দেখেন, মৃত্যু খুব কাছে। Surrender করা, calm থাকা best option. যত চিল্লাচিল্লি করবেন তত অস্থিরতা বাড়বে।

আপনি believer হলে, ধর্মীয় নীতি অনুসারে যা করতে বলা হয়েছে বিপদে পড়লে তাই করবেন এবং calm থাকবেন, panicking করবেন না।

আর non believer যারা আছেন তাঁদের সেই মুহূর্তে কি করা উচিত বা তারা কি করে সেটা আমার জানা নাই। তাই কিছু বলতে পারলাম না।

মৃত্যু সম্পর্কে আমার ধারণা নাই। আর না থাকাটা ই স্বাভাবিক। যতটুকু মনে হয়, মানুষ যখন জীবন থাকতে purposefully জীবন কাটায় না তখন সে তার soul থেকে ডিসকানেক্ট হয়ে পরে। তখনি তার এটাচমেন্ট তৈরী হয় দুনিয়াবী সম্পদ, সন্তান এবং সম্পর্কে। মৃত্যু আসলে মানুষ এইসব থেকে detached হবে ভেবে panicking করে।

অথচ আপনি যদি আপনার soul এর সাথে connect থেকে যথেষ্ট insight নিয়ে জীবন যাপন করতেন, জীবনে পরিমিতি বোধ থাকতো, আপনার স্রষ্টার সাথে সত্যিকারের কানেকশন্স থাকতো, তাহলে ভালো মন্দ যাই আসুক সেটা মেনে নেয়াটা সহজ হতো আপনার জন্য।

দুনিয়ায় চলতে সব থেকে বেশি কানেকশন রাখবেন আপনার স্রষ্টার সাথে, সবথেকে বেশি কথা বলবেন তার সাথে। এবং অনেক বেশি দোয়া করবেন নিজের এবং সবার জন্ন‍্য যেনো আল্লাহ্ মৃত্যুকে সহজ করে দেন এবং জীবন মৃত্যুর মাঝখানের সময় (সাক্রাত) যন্ত্রণা দূর করে দেন।

এই ভূমিকম্পে সবথেকে সুন্দর দৃশ্য ছিল সবাই লুকাচ্ছিলো, আর একটা ছেলে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো।ভিডিও তা নিশ্চয়ই দেখেছেন, না দেখলে দেখে নিয়েন।

আল্লাহর সাথে তার বন্ধন কতটা মজবুত হলে এমনটা করা যায়। I am so inspired by him.

আপনার স্রষ্টার সাথে আপনার bond যত মজবুত, আপনি ততো বেশি গ্রাউন্ডেড হতে পারবেন।

মৃত্যু নিয়ে অনেকগুলো কথা আপনাদের জন্য লিখলাম। জানিনা আমার মৃত্যু আসলে আমি কিভাবে রিএক্ট করবো ? তবে চেষ্টা করবো উপরের সবগুলো পয়েন্ট মনে রাখতে।

আপনারা চেষ্টা করেন অল্প কিছুদিনের জন্য হলে ও নিরাপদে সরে যেতে (হতে পারে গ্রামের বাড়ি ) এবং উপরের সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে প্যানিকিং না করে স্থির থাকতে। এরপর আল্লাহর ফয়সালা মেনে নিতে। আজ যাই আর কাল যাই, ফেরত তো যেতেই হবে যেখান থেকে এসেছি সেখানে। তাই যখন কোনো অপসন নাই তখন surrender করা ই বুদ্ধিমানের কাজ। এরপর আল্লাহ যা করে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন।

সংগৃহীত ও এডিটেড।

07/14/2025

যাদের রাতে ঘুমাতে দেরি হয়ে যায় তাদের জন্য এই গল্পটি।।

যাদের রাতে ঘুমাতে দেরি হয়, তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ
একটি কথা। এক ব্যক্তি হযরত ইব্রাহিম ইবনে আদহাম
(রহঃ) এর সাথে তর্ক করছিলো যে-'বরকত' বলতে কিছুই
নেই।
তিনি বললেন, তুমি কি ছাগল ও কুকুর দেখেছো?
লোকটি বলল,
জি দেখেছি।
শায়খ লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন- বলতো কুকুর আর
ছাগল এর মধ্যে কে বেশি বাচ্চা দেয়?
লোকটি বললো, কুকুর।
শায়খ বললেন, এদের মধ্যে তুমি কোন জন্তুটিকে বেশি
দেখতে পাও, কুকুর না ছাগল?
লোকটি বললো, ছাগল।
শায়খ ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন,
"ছাগলকে মানুষ খায়, কোরবানির সময় কত ছাগল
কোরবান করা হয়, এরপর ও ছাগলের সংখ্যায় বেশি দেখা
যায়, কমে না। এর রহস্য কি বলে মনে হয় তোমার?
লোকটি জিজ্ঞাসা করলো- কি রহস্য শায়খ?
শায়খ বললেন- একবার ভেবে দেখো, এটা কি বরকত নয়?
লোকটি বললো, তাহলে এর কারণ কি যে ছাগলের মধ্যে
বরকত হয়, আর কুকুরের মধ্যে বরকত হয় না?
শায়খ বললেন, এর কারণ হলো ছাগল সন্ধ্যা হতেই ঘুমিয়ে
যায়, আর ভোরে জাগ্রত হয়, এই সময়টাই হয় রহমত ও
বরকত বর্ষণের মুহূর্ত। ফলে তার মধ্যে বরকত হয়। আর
কুকুর সারা রাত জাগ্রত থাকে ফজরের আগে ঘুমায়। তাই
সে বরকত থেকে বঞ্চিত থাকে।
একটু চিন্তার বিষয়, নবীজি (সঃ) এর সুন্নাত হলো-এশার
নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যাওয়া। শেষ রাতে জাগ্রত হয়ে
তাহাজ্জুদ পড়া, কেননা আল্লাহ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
প্রথম আসমানে নেমে এসে বান্দাদের কে দোয়া করার জন্য
ক্ষমা চাওয়ার জন্য ডাকতে থাকেন।
আর আমরা? সাড়া রাত মোবাইলে, ইন্টারনেটে হা'রা'ম
কাজে ব্যস্ত থেকে ঠিক এই সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি। আর
ফজরের তো খবরই নেই। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই
আছেন যারা যখন শুনেন মসজিদের ফজরের আজান
হচ্ছে, ঠিক তখনই তারা ঘুমাতে যান। তাদের মনে হয়
হায়রে, ঘুমের সময় হয়ে গেছে। কিন্তু তাদের এটা মনে হয়
না, আজানটা যখন হয়েই গেছে, নামাজটা পড়ে ঘুমিয়ে
পড়ি।
অথচ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ফজরের কেবল দুই রাকাত
সুন্নাত সালাত পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা আছে সবকিছুর
চাইতে উত্তম, সুবহানআল্লাহ। তাহলে দুই রাকাত ফরজের
কতটা মর্যাদা হতে পারে? এমন অতি মূল্যবান সময় আমরা
ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেই। তাহলে আমাদের কাজ কর্মে আল্লাহ
বরকত দিবেন কিভাবে?
আবার আমরাই দোয়া করে অস্থির হয়ে যাই আর ভাবি -
আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করেন না কেন?
কিন্তু যখন আমাদের হাতে মোবাইল ছিল না, তখন সময়টা
এমন ছিল না। আগের দিনের মানুষ সন্ধ্যার একটু পর পর
সাত আটটার দিকে ঘুমিয়ে যেত। স্বামী স্ত্রী রাতে ঘুমানোর
আগে অনেক গল্প করতেন। অনেক লম্বা একটা সময়
ঘুমানোর পরে তাদের ভোর পাঁচটার দিকে উঠতে কোন
সমস্যা হতো না। ভোর বেলায় তারা খেতে খামারে কাজ
করতে চলে যেত। দুপুরের মধ্যেই কাজ শেষ করে বাড়ি
ফিরত। তারপর বউ বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে পারতো।
কিন্তু এখন আমাদের আর সেই সুযোগ হয় না। ঘুমের সময় ছাড়া আমারা
আর কেউ বাসায় থাকি না। শুধু কাজ আর কাজ।
আমাদের সামাজিক বন্ধন ঠুনকো হয়ে যাচ্ছে। নারীরা
তাদের সঙ্গীর কাছে সময় ভিক্ষা চাইছেন, পুরুষেরাও
তাদের নারীর কাছে। কিন্তু কেউ কাউকে সময় দিতে
পারছেন না।
তাই আসুন আমরা এখনই নিজেকে পরিবর্তন করি,
আল্লাহর বিধান সমূহকে যথাযথভাবে গুরুত্বের সাথে পালন
করি। তাহলে আশা করা যায়, তিনি আমাদের দোয়া কবুল
করবেন এবং কাজকর্মে বরকত দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তৌফিক দান
করেন, আল্লাহুম্মা আমিন।

05/11/2025

কোরবানী সম্পর্কে কিছু জরুরি আলোচনা।।

প্রথমে নিয়াতকে সহি করা এই বলে যে, হে আল্লাহ্ আমি শুধু মাত্র আপনাকে রাজি খুশী করার উদ্দেশ্যে কোরবানী করার নিয়াত করছি। মনে রাখবেন কোরবানীর টাকা টা অবশ্যই হালাল হতে হবে।

আমাদের প্রীয় নবী হযরত মোহাম্মদ মুস্তাফা (সা:) কোরবানী করতেন নিজের পক্ষ থেকে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং তার উম্মতের পক্ষ থেকে যারা কোরবানি করতে পারেনি (অক্ষম )।

আমরা অনেকেই মৃত ব‍্যাক্তির পক্ষ থেকে আলাদা করে কোরবানী করে থাকি। আমাদের প্রীয় নবী মোহাম্মদ (সা:) মৃত ব‍্যাক্তির পক্ষ থেকে কখনো আলাদা করে কোরবানী করেন নি। তিনি সমস্ত মৃত আত্মীয়দের পক্ষ থেকে একটা কোরবানি করতেন ।

মৃত ব‍্যাক্তির উপর কোরবানি করা ওয়াজিব না। কাজেই নফল কোরবানিতে তাদেরকে শরিক করে সাওয়াব পৌছানো, যেভাবে রাসুলুল্লাহ (সঃ) করেছেন। যেমন একটা ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা অথবা গরু, উট হলে সাত ভাগের এক ভাগ সমস্ত মৃত ও জীবিত আত্মীয়দেরকে পক্ষ থেকে ( যারা কোরবানি করতে অক্ষম ) কোরবানি করা। এটাই সুন্নত,
তবে কোন ব‍্যাক্তি যদি তার মৃত্যুর আগে ওসিয়াহ করে যান এই বলে যে, আমার মৃত্যুর পর আমার ধন সম্পদ থেকে আমার পক্ষে আল্লাহ্'র নামে কোরবানী করবে। তাহলে সেই মৃত ব‍্যাক্তির পক্ষ থেকে সেই ওসিয়াত আদায় করতে হবে। এবং এটা মৃত ব‍্যাক্তির পক্ষে সাদকাহ্ হবে। এই গোস্ত সবাই না খেয়ে বরং শুধু গরীব মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করাই উত্তম।

এছাড়া ও মৃত ব‍্যাক্তির পক্ষ থেকে আলাদা করে কোরবানী না করে সেই টাকা মৃত ব‍্যাক্তিদের পক্ষ থেকে মসজিদ বানানোর কাজে গোপনে দান করা বেশি উত্তম। এই দান সাদকাহে জারিয়া হিসেবে মৃত ব‍্যাক্তি তার আমলনামায় চিরকাল পেতে থাকবে ইনশাআল্লাহ্।

নিম্নে সুন্নাত তরীকায় কোরবানী করার পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট দলিলগুলি উল্লেখ করা হলো:

# # # ১. **নিয়ত করা**
কোরবানীর নিয়ত অন্তরে ও জবানে প্রকাশ করা সুন্নাত। নিম্নোক্ত দোয়া পড়া যেতে পারে:
**بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ هَذَا مِنْكَ وَلَكَ**
*(বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা হাযা মিনকা ওয়া লাকা...)*
**দলিল:**
- সুনান আবু দাউদ (২৮১০), সুনান ইবনে মাজাহ (৩১২১)-এ উল্লেখ আছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) কোরবানীর সময় এই দোয়া পড়তেন।

# # # ২. **কোরবানীর সংখ্যা ও নিয়ত**
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের পক্ষ থেকে, পরিবারের পক্ষ থেকে এবং উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানী করতেন।
**দলিল:**
- **নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে:**
- তিরমিযী (১৫০৫) ও নাসায়ীতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
**"عَنْ أَهْلِ بَيْتِي"** *(আমার পরিবারের পক্ষ থেকে)*
- **উম্মতের পক্ষ থেকে:**
- ইমাম আহমাদ (২৩১৯০) ও তাবরানীতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
**"اللَّهُمَّ هَذَا عَنِّي وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي"** *(হে আল্লাহ! এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কোরবানী করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।)*

# # # ৩. **মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানী**
- **সাধারণভাবে মৃতের পক্ষে আলাদা কোরবানী:**
রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনোই শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির পক্ষে আলাদা কোরবানী করেননি। বরং তিনি নিজের কোরবানীতে জীবিত-মৃত সবাইকে শরিক করতেন।
**দলিল:**
- ইবনে মাজাহ (৩১২১) ও মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
**"يَا فَاطِمَةُ، قُومِي إِلَى أُضْحِيَّتِكِ فَاشْهَدِيَهَا، فَإِنَّهُ يُغْفَرُ لَكِ بِأَوَّلِ قَطْرَةٍ مِنْ دَمِهَا"** *(হে ফাতিমা! তোমার কোরবানীর কাছে যাও এবং তাতে উপস্থিত থাকো, কারণ এর প্রথম ফোঁটা রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথেই তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।)*
এখানে রাসূল (সা.) ফাতিমা (রা.)-কে নিজের কোরবানীতে শরিক করেছিলেন, আলাদা কোরবানী দেননি।

- **অসিয়ত থাকলে:**
যদি মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে যান, তাহলে তার সম্পদ থেকে তার পক্ষে কোরবানী করা ওয়াজিব। এটি তার পক্ষ থেকে সাদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে।
**দলিল:**
- ইমাম মালিক (আল-মুয়াত্তা, ২/৪৬৫) ও ইবনে কুদামা (আল-মুগনী, ১১/৯৫) বলেছেন:
**"مَنْ أَوْصَى بِأُضْحِيَّةٍ تُضَحَّى عَنْهُ مِنْ مَالِهِ"** *(যে ব্যক্তি কোরবানীর অসিয়ত করে গেছে, তার সম্পদ থেকে তা আদায় করতে হবে।)*

# # # ৪. **মৃতের জন্য সাদাকাহে জারিয়াহ উত্তম**
মৃত ব্যক্তির জন্য কোরবানীর চেয়ে সাদাকাহে জারিয়াহ (যেমন: মসজিদ নির্মাণ, কূপ খনন) বেশি সওয়াবের কাজ।
**দলিল:**
- সহীহ মুসলিম (১৬৩১):
**"إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ..."** *(মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ছাড়া... সাদাকাহে জারিয়াহ, উপকারী জ্ঞান ও নেক সন্তান।)*

# # # ৫. **গোস্ত বিতরণ**
কোরবানীর গোস্ত তিন ভাগে বণ্টন করা মুস্তাহাব:
১. নিজের জন্য,
২. আত্মীয়-স্বজনের জন্য,
৩. গরীব-মিসকিনদের জন্য।
**দলিল:**
- সুনান ইবনে মাজাহ (৩১২৭):
**"كُلُوا وَادَّخِرُوا وَتَصَدَّقُوا"** *(খাও, সংরক্ষণ করো এবং দান করো।)*

- মৃত ব্যক্তির পক্ষে আলাদা কোরবানী না করে নিজের কোরবানীতে তাকে শরিক করুন।
- অসিয়ত থাকলে তা আদায় করুন।
- মৃতের জন্য সাদাকাহে জারিয়াহ করা উত্তম।
- গোস্ত সঠিকভাবে বিতরণ করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ মোতাবেক কোরবানী করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

সংগৃহীত।

Address

New York, NY

Telephone

+17182004634

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Darul Uloom Baraikhali posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Darul Uloom Baraikhali:

Share