09/24/2020
বাংলাদেশ সরকার সমীপে খোলা চিঠি : ফারুক আবদুল্লাহ
মাননীয় সরকার আপনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এসেছেন খুব ভালো কথা কিন্তু এটার যথাপোযুক্ত ব্যবহার হচ্ছে কিনা এটা সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা আছে কিনা? কখনো কি এই আইনে পর্যালোচনা করে দেখেছেন এটা এক শ্রেনীর এক ধর্মের উগ্রবাদী সংস্থাগুলো একচেটিয়া ব্যবহার করতেছে শুধুমাত্র তাদের ধার্মিক কঠোরতার বিপক্ষে যারা কথা বলে তাদের বিপক্ষে!!
নিরাপত্তা আইন রয়েছে তার মানে এটা নয় এই আইন শুধুমাত্র যে কেউ যে কারো বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কেস বসে থাকবে এবং একটা মানুষকে সমাজ থেকে কিভাবে তাকে বহিষ্কার করা যাবে, তার মান সম্মান নিয়ে খেলা করা যাবে, একশ্রেণীর মানুষের দ্বারা এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি বারবার ঘটেছে বরিশালের খুশিগঞ্জ মসজিদ-মাদরাসার একটা ছেলে ষোলটা কুরআনে নিজে হাগু করে পাশের হিন্দু সমাজের নাম দিয়ে তাদেরকে গ্রামছাড়া করেছিল পরবর্তীতে সিআইডি দ্বারা খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেল তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ!!
সুতরাং হে সরকার এ বিষয়ে অবশ্যই নজরদারি রাখা সম্পূর্ণ আপনার
মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে এবং কারো মতের বিরুদ্ধে গেলে তার নামে কেস করে দেবো এবং ভুয়া কেসে আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রশাসন যারা সাধারন মানুষের অনেক উপযুক্ত ক্ষেত্রে সঠিক সময় উপস্থিত হয় না তারা সেখানে ধার্মিক কঠোরতা রক্ষার জন্য 5 মিনিটে উপস্থিত হয়ে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ধরে নিয়ে যাবে এবং সমাজের কিছু উগ্রবাদী সংগঠন মসজিদ থেকে তাকে হত্যা করা জায়েজ ঘোষণা করবে , এক সপ্তাহ ধরে মাইক নিয়ে তাকে এবং তার পরিবারকে ইসলামবিরোধী বলে প্রচার করবে যাতে তার কাছে কেউ কোন ধরনের মাল-সামান বিক্রি না করে ।
এটা কোন ধরনের নিরাপত্তাহীন হলো এ বিষয়ে ক্লিয়ার করা দরকার সরকারের আপনার।
সেই সাথে,
আমি এইসব মোল্লা বাহিনীর দেরকে বলতে চাই আপনারা তখন কোথায় ছিলেন, যখন সাত বছরের ছোট ছেলে মাদ্রাসাতে ধর্ষিত হয় মাদরাসার প্রিন্সিপাল এর দ্বারা। এবং তার মা যখন দ্বারে দ্বারে এটার বিচার চেয়ে বেড়াই তখন এই প্রশাসন কোথায় ছিলো ? তখন কেন তাদেরকে ধরতে পারে নাই অথচ হাজারটা প্রমাণ তাদের বিরুদ্ধে ছিল। 2019 সালের আগস্ট মাস থেকে 2020 সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত 13 হাজারের অধিক ধর্ষণ হয়েছে যার অধিকাংশ মানে 68% ধর্ষণ ছোট ছোট বাচ্চার শিশু এবং কওমি মাদ্রাসা থেকে ঘটেছে। তখন আমাদের মডারেট মুসলিম সমাজের এমন বিচার চাওয়ার মূহুর্ত কেন আসেনা। এখন কেউ এই কওমি মাদ্রাসা তে শিশুদেরকে এইভাবে অত্যাচার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে বই রাখে তাকে হত্যা করার বিরুদ্ধে কট্টর মৌলবাদী সমাজ আন্দোলন করে তখন এই নিরাপত্তা আইন কোথায় থাকে?
কিছু পাকিস্তানি দোসর সমাজ যেভাবে বাংলাদেশের আইন-কানুন নিয়ে খেলা করতেছে তারা প্রতিটা ওয়াজ মাহফিল এবং মসজিদের নামাজ শেষে মসজিদে বসে বসে ফেসবুক ব্যবহার করতেছে যে ফেসবুকটা একজন নাস্তিকের তৈরি,
সেখান থেকে খুঁজে খুঁজে আমাদের মতো কোনো মুক্তমনা মানুষের পোস্ট দেখতে এবং সেখান থেকে মাইকে ঘোষণা করে তাকে ধাওয়া করে তার মান সম্মান নিয়ে খেলা করতেছে অসংখ্য ক্ষেত্রে তাকে হত্যা করা হয়েছে। 2013 সাল থেকে 2018 সাল পর্যন্ত চাষের উপরে মুক্তমনা মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং এক হাজারের অধিক মানুষকে নিরাপত্তার জন্য দেশত্যাগ করে যাওয়া লাগছে। হে সরকার তখন আপনার নিরাপত্তা আইন কোথায় ছিল কেন তাদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারেন নাই কেন হত্যাকারী গ্রেপ্তার হয়নি?
হে সরকার আপনি কখনো কি লক্ষ্য করেছেন?
তখন এইসব কাঠমোল্লা টাইপের ধার্মিক সমাজ ওয়াজ মাহফিলে নাস্তিকদের যেখানে পাও সেখানেই হত্যা করার ঘোষণা করে??
কখনো কি লক্ষ্য করেছেন? অপকর্মের সূচনা সেই ফেব্রুয়ারির বইমেলার শুরুতেই হয়েছিল তখন আমি একটা পোস্ট করেছিলাম ; সেখানে তথ্য প্রমান সহকারে দেখিয়েছিলাম তথাকথিত কট্টর ধার্মিক এবং তার চেলা যারা এদেশের মাটিতে মরুসংস্কৃতি কায়েম করা যায় এবং পাকিস্তানী শৈর শাসন কায়েম করতে চাই , যারা ৭১ এর দুর্দান্ত পরাজয়ের পরেও তলে তলে দীর্ঘদিন থেকে চক্রান্ত করে আসতেছে তারা আজকে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে অর্থনৈতিকভাবে এবং ক্ষমতার আশেপাশে থেকে। এদের উগ্রবাদী সংগঠন ধর্মের নাম করে বইমেলার ভিতর বইয়ের স্টল ঘুরে ঘুরে দেখতে ছিল কোন বইয়ে সামান্য ধর্মের কু সংস্কৃতির সমালোচনা করা হয়েছে কিনা, ধর্মের বিপরীতে কোন কিছু বলা আছে কিনা , সামান্য কোন একটা লাইন যদি পেয়েছে সেই স্টলের সকল বই ফেলে দোকান ভাঙচুর করে দিয়ে হইচই করে মানুষ জড়ো করে প্রকাশক এবং লেখককে বইমেলার প্রান্তরে মারধর করেছে যা আজ পর্যন্ত কখনো হয়নি তা ২০২০ সালের বই মেলাতে দেখা গেছে।
হে সরকার তখন আপনার নিরাপত্তা আইন কোথায় ছিল?
এরা খুব সুকৌশলে তলে তলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিভিন্ন ধরনের ধার্মিক কঠোরতা কঠোরভাবে প্রচারণা করতেছে , কখনো বাউল শিল্পীদের বিপক্ষে, কখন এ মহান লালন সংগীত রবীন্দ্র সংগীত জাতীয় সংগীত এর বিরুদ্ধে, কখনো নারীদের স্বাধীনভাবে কর্ম করার বিপক্ষে, কখনো ধর্ষক রাজাকার সাঈদী কি মুক্তি স্বপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে! তখন কোথায় থাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন? কেউ যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দোষী হওয়া রাজাকার ধর্ষক সাঈদী কে নির্দোষ দাবি করে এবং সুপ্রিমকোর্টকে অপমান করে তখন কোথায় থাকে নিরাপত্তা আইন?
আর এদের বিপক্ষে কোন কিছু বললে গোলাম মাওলা রনি এবং আরিফ আজাদ নামক তথাকথিত আধুনিক মডারেট মুসলিম সমাজ এগিয়ে আসে তাদেরকে বাচাতে। অথচ তারা নিজেদের বই যখন প্রকাশ করেছে এবং অন্যান্য ধর্ম এবং সেকুলার মানুষের প্রতীক ঘৃণার বাণী প্রকাশ করে এই ফেসবুকে বসেই; তখন তাদের রক্ষার জন্য নিরাপত্তাহীন কোথায় থাকে?
যে কখনো ধর্ম পালন করতে চায় না এমন মানুষ দের হত্যা করার কথা মঞ্চে লাখ লাখ মুসল্লির সামনে বলে, তখন তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না?
তাহলে তোমার প্রকাশের স্বাধীনতা আছে , তাহলে মুক্তমনা নাস্তিক এবং সেকুলার মনোভাবের মানুষের কেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না?
কেন তাদেরকে এসব কাঠমোল্লা ওয়াজি মৌলবীরা বলে প্রচার করে যে, তাদেরকে যেখানে পাও সেখানেই হত্যা করার মত কথা প্রচার করে। তখন তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কখন কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
ফেসবুকের প্রতিটা পোস্টে এসব নামধারী তথাকথিত ইমানদার বান্দারা প্রতিটা মুক্তমনা নাস্তিকের ফেসবুক এবং সোসিয়াল একাউন্ট গালাগালি করে যেসব ভাষা কোন মুক্ত মত মানুষ উচ্চারণ করতে পারে না অথচ এসব ইমানদার বান্দারা খুব সহজেই উচ্চারণ করে মুক্তমনাদের কে হেনস্তা করে কখনো বোম মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে, কখনো রাস্তায় পাইলে কল্লা কেটে নিয়ে যাবে এমন হুমকি দেয়! সে ক্ষেত্রে কখনো কি এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবস্থা নিয়েছে? আমি নিশ্চিত কখনো নেয়নি।
অথচ এইসব কট্টর ধার্মিক সমাজ যদি ধর্ম না আমার নাম একটি রচনা করা ব্যক্তি এবং সেকুলার ব্যক্তি কে রাস্তায় পাই যে কথায় কথায় হয়তো কোন মোল্লার বিপরীতে একটা কথা বলে ফেলেছে; সেই ব্যক্তিকে আশেপাশের মসজিদের মুসল্লিদের হেনস্থা করতে দেখেছি!
যদি রাস্তাতে তাকে কখনো পাই প্রথমে তারা সমাজের কিছু মানুষ জড়ো করে চিল্লাচিল্লি করে মাইকিং করে তার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ এনে তাকে মারধর করে, এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল ঝিনাইদহে মহেশখালীতে যার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল দেখা গেছে একজন 75 বছর বয়স্ক মানুষ কৃষিকাজ করে নামাজ কালাম পড়ে না তাকে রমজান মাসে নামাজের জন্য ডাকতেছে সে হয়তো যাই নাই সেই সমাজের অনেক ছোট ছোট বাচ্চা এবং পাশে মাদ্রাসার শিশুরা এসে তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে এবং ওই ব্যক্তির সন্তানদেরকে এলাকাছাড়া করেছে এসব উগ্রবাদী ধার্মিক সমাজ।
তার পরিবার যখন থানাতে ঐসব লোকের বিরুদ্ধে কেস করতে গেছে থানার লোকেরা কেস করে নাই। তখন নিরাপত্তা আইন কেন হয় না?
হে সরকার, এসব উগ্রবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে এখনই সময় এসেছে দ্রুত একশন নেওয়ার অন্যতা বাংলাদেশ যে সুনাম অর্জন করেছে গত ৪৯ বছরে সেই সুনাম অচিরে হারিয়ে ফেলবে ধার্মিক কঠোরতার জন্য।
সরকারকে এই বিষয়ে মন্থন করতে হবে যে এই "ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন" মানুষের সুরক্ষার জন্য তৈরী করেছে নাকি কিছু উগ্রপন্থী মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি হইছে, যেন তারা এটার ব্যবহার করে পুরোপুরি এসব জঙ্গিবাদী সংগঠন ধর্মরক্ষার নাম করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে না বসে।
সরকারের দৃষ্টি পাত্রের জন্য কিছু উদাহরণ:
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় এ ধরনের উগ্রবাদী সংগঠন এ পর্যন্ত প্রায় 13000 ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে কেস করেছে এবং তাদেরকে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে তুলেছে যাদের অধিকাংশ কে তাদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছে। এ ধরনের আইন প্রয়োগের সবথেকে বড় খারাপ দিক হচ্ছে কিছু মানুষ অন্য একটা মানুষের বা অন্য একটা ধর্মের বা অন্য একটা মতালম্বী মানুষের সাথে মনের তফাতের জন্য তার বিরুদ্ধে কেস করে ফেলতেছে;
যেমন বরিশালের নাজিরহাটে সুবোধ ঘোষ নামে একজন হিন্দু যুবকের নামে কেস করে তাকে এলাকাছাড়া করেছে। সুবোধ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত গ্রামে যাওয়ার পরে তার বন্ধু মহলের যারা ছিল কোন ইউনিভার্সিটিতে চান্স পায় নাই এজন্য এলাকার কলেজে ভর্তি হয়েছে । এই শত্রুতার জের ধরে নাটক সাজিয়ে তাকে ইসলাম ধর্মের শত্রু ঘোষণা করে দলবেঁধে তারা তার ফেসবুকে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে কোন একটা জিনিস বের করেছে যেখানে কোন রকম কমেন্ট করেছিল যে তাদের মতের সাথে যায় না। এখন সুবোধ এবং তার পরিবার বরিশাল ছাড়া।
এভাবেই ময়মনসিংহের কাঞ্চন চৌধুরী নামের একজন মেয়েকেও তারা এমন যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির স্বীকার করেছে কারণ সে নারী অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করেছিল।
চুয়াডাঙ্গার শিল্পী চৌধুরী 2019 সালের সেপ্টেম্বরে তার নামে কেস করা হয়েছে সে নাকি নবীর নামে খারাপ কথা বলেছিল অথচ পরে সব কিছু ঘেঁটে দেখা গেলো সেটা কোন ধরনের খারাপ কমেন্ট ছিল না। ভুয়া ইনফরমেশন দিয়ে তার নামে কেস করে তাকে হেনস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে; কেস করেছে ওইসব উগ্র ধার্মিক সমাজের সেইসব অকর্মণ্য মানুষ যারা সমাজের মানুষের কাছে সাপ্তাহিক খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকে।
যশোরের ঝিকরগাছা তে সুলতানা সুমি নামের একটা মেয়ে বোরখা পড়ে নাই সাইকেল চালায়া গ্রামে হাঁটাচলা করে এটা গ্রামের কিছু মোল্লাদের সহ্য হয় না। তার বান্ধবীদের সাথে একটা পর্যায়ে তাদের মতের মিল হয় না তার মুমিনা বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ডের বলে তাকে শায়েস্তা করতে, এক্ষেত্রেও সেই উগ্রবাদী মানুষজন ছিল অতি বকধার্মিক যারা ধর্মকে ব্যবহার করে একটা মেয়ের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে মমিনা মেয়েরাই এইসব প্রগতিশীল মেয়েদের পথের প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল যারা কৌশলে তাদের বয়ফ্রেন্ড দ্বারা একযোগে মসজিদে গিয়ে ঘোষণা করে দেয় সুলতানা সুমি বলেছেন নবীর স্ত্রীরা বেপর্দা চলাফেরা করত এ কথা বলার জন্য তার নামে ডিজিটাল আইনে কেস করে তাকে দেশ ছাড়া করা হয়েছে অথচ মেয়েটা বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছিল ।
এভাবে হাজারটা উদাহরণ দেওয়া যাবে যেগুলাতে কেস করেছে সমাজের এই সব অলস ব্যক্তি সমাজ যারা নিজেরা কোন কর্ম করে না কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে নিজের জীবন ধারণ করে।
সরকারকে এই বিষয়ে আরো ক্লিয়ারেন্স দেওয়া দরকার, সরকার হয় এদেশকে একেবারে একটা ধর্মীয় মতবাদের অনুসারী করুক অথবা আমাদের সংবিধানে যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়টাকে খারিজ করে দিক সোজাসুজি।
যাতে আমরা অন্তত এখানে থেকে বুঝতে পারি যে, যেটা অন্যায় সেটা বলা যাবে না এবং প্রতিটা মানুষ ধর্মীয় কুসংস্কার ভেতরে লিপ্ত হয়ে যাক।
একটা বিষয় বলতে চাই ধর্মীয় এসব দালালরা যখন নিজেদের ভিতর গালাগালি শুরু করে কেউ কাউকে এই বাটপার চিটার এই নাস্তিক বলে দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশন নেওয়া হয় না কেন?
তারা কি সমাজের নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে না নাকি তারা এইসব ডিজিটাল আইনের ঊর্ধ্বে?
ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চে প্রত্যক্ষভাবে এসব বক্তারা কখনো নারীদের বিরুদ্ধে কথা বলতেছে তাদের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশন নাই কেন? যখন অন্য ধর্মের দেবদেবী তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে কোন অ্যাকশন নাই কেন? যে ধর্মকর্ম পালন করে না মুক্তমনা নাস্তিক তাদেরকে দেখামাত্র হত্যা করার আদেশ দিচ্ছে মঞ্চে বসে ; অথচ সরকার এইসব বিষয়ে কখনো এসব নাস্তিকদের কে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা চিন্তা করে নাই?
তাহলে কি আমরা ভেবে নিব ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু এসব কাঠমোল্লাদের কথাতেই চলে?
হে সরকার শুনে রাখুন,
মুক্তচিন্তার ব্যক্তি সমাজ সেইসব বিষয়গুলোকে তুলে ধরে তথ্য প্রমান সহকারে যেগুলা হাদিস কুরআনে স্পষ্ট ভাবে বলা আছে। সেগুলো ই তো নাস্তিকরা সবার সম্মুখে তুলে ধরে অথচ আমাদের দেশের মানুষ এতোটাই ধর্মান্ধ যারা নিজেরা কখনো হাদিস কোরান ছুঁয়েও দেখেনাই নিজেরা ধর্মকর্ম পালন করে না।
আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবো বাংলাদেশের মুসলিম সমাজের 90 পারসেন্ট মানুষ কখনো সূরা ফাতিহা সূরা ইখলাস এবং কিছু ছোট ছোট সূরা ছাড়া আর কখনো সূরা জীবনে পরেও দেখে নাই। তারা হাদিস পড়বে কখন জানবে কখন কিন্তু হাদিসের ভেতরেও কত কথা বলা আছে যেগুলা কখনো নারীদের বিরুদ্ধে কখনো আমাদের বর্তমান সংবিধানে যেসব বিষয় সংরক্ষিত আছে তার বিরুদ্ধে যাই। যেগুলা বিভিন্ন মোল্লা সমাজ বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আয়োজন করে বলে এবং সারা বাংলাদেশে শুধুমাত্র ইসলাম কায়েম করতে চায়? সরকার আপনি কি লক্ষ্য করেন নাই কিছুদিন আগেই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রস্তাবনা দেওয়াতেই এসব উগ্রবাদী সংগঠন কিভাবে লাঠি তরবারি নিয়ে শাহরিয়ার স্যার কে হত্যা করতে চেয়েছিল?
তখন আপনার নিরাপত্তা আইনের দোহাই কখন ছিল?
কিন্তু হাদিসের সেসব গোজামিল যদি কেউ তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে কেস করা হবে এটা কোন ধরনের যুক্তি কথা।
শেখ হাসিনা সরকার নিজেকে অসম্প্রদায়িক দাবি করে অথচ তার আশপাশে যেভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠন আষ্টেপৃষ্ঠে দিনদিন গজিয়ে উঠেছে , তাদেরকে দ্রুত ক্লিন ওয়াশ করা দরকার অন্যথা বাংলাদেশ একসময় ধর্মীয় উগ্রবাদী সম্প্রদায়ের আস্থানা হিসাবে পরিচিত হয়ে যাবে। তখন এদেশ বহির্বিশ্বের কাছে দ্বিতীয় আরেকটি আফগানিস্থান হয়ে যাবে!
তখন মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞান শিল্প-সাহিত্য এসব দিকে মনোযোগ না দিয়ে খিলাফত কায়েম করতে চাবে। বুকে বোমা বেঁধে স্কুল কলেজে গিয়ে হত্যা করবে যেসব জায়গাতে অন্য ধর্মের মানুষ বিরাজ করেন অথবা মুক্তমনা সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবীদেরকে যেখানে পাবে সেখানে হত্যা করবে!
হে সর্কার মনে রাখবেন এই দেশের নিজের একটা সংস্কৃতি আছে সেই সংস্কৃতি দিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এখনই মনোযোগ দিতে হবে অন্যথায় অনেক দেরি হয়ে যাবে।
এখন সরকারের কাছে আরেকটা প্রশ্ন
আপনি যদি নাস্তিকতাকে নিধন করার স্বার্থে এসব ধার্মিকতা বাহিনীর সাথে থাকেন তাহলে স্মরণ রাখবেন ৫০ বছর পরে বাংলাদেশের চেহারা অন্যরকম হবে।
স্মরণ করে দেই আজকে যেসব কাঠমোল্লা টাইপের মানুষ একটা (মাহবুব আলম) মানুষের মানসম্মান এবং তাকে হত্যা করা তাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য রাস্তায় আন্দোলন করতেছে তাদের উদ্দেশ্যে বলি তারা নাস্তিকদের কে হত্যা করতে পারবে তাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে পারলেও তার ভাষা অনুসারে আরো দশজন আজন্ম হবে, সত্য কখনো দমিয়ে রাখা যায়না।
মুক্তচিন্তক মাহবুব আলমের নাস্তিকতা যদি সমাজের জন্য অভিশাপ হয় তাহলে এসব মোল্লাদেরকে বলতে চাই ফেসবুকের জনক মার্ক জুকারবাগ নিজেও একজন নাস্তিক আপনি এসব নাস্তিক প্লাটফর্মে কেন নিজেকে ঢুকিয়েছেন?
পৃথিবীর বুকে আনাচে-কানাচে আপনি চোখ মেলে চেয়ে দেখুন এসব মুক্তচিন্তক মানুষদের জয়গান রয়েছে, বরিশালের আরজ আলী মাতব্বরের কথা চিন্তা করুন ,
সেই সমাজের মোল্লা মৌলবীরা তাকে নাস্তিক হিসেবে সমাজে এক ঘরে করে রেখেছিল কিন্তু তার লেখনীর জোর তার কথাকে থামাতে পারে নাই আজকে প্রতিবছর তার জন্মদিন পালন করা হয়। তার লেখা বরিশালের নদ নদী প্রান্তর পার হয়ে ঢাকা পেরিয়ে বিশ্বদরবারে কাছে পৌঁছে গেছে?
কুষ্টিয়ার লালন এর কথা চিন্তা করুন সেই সময়ের ধার্মিক মৌলবাদী জমিদার এবং মসজিদ-মাদরাসার কমিটির সদস্যরা লালনের গান লেখার জন্য লালনকে বনবাসে পাঠিয়েছিল পদ্মা নদীর পাশে ।
আজকে সেইসব মোল্লাদের কথা মনে রাখেনি কেউ, রেখেছে লালন কে ,আজকে বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বের একজন অন্যতম দার্শনিক এবং সংগীতস্রষ্টা। প্রতিবছর ধুমধাম করে তার জন্মদিন পালন করা হয় যার প্রতিটা গান প্রতিটা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তার উদ্রেক করেছে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা হিসেবে পালন করেছে। লালনের এক অনুসারী দ্বারাই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রচিত হয়েছে।
সালমান রুশদির কথা চিন্তা করেন তার একটা বই ইরানের উগ্রবাদী রাজার মাথা খারাপ করে দিলেও বিশ্বদরবারে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে ভারতের রত্ন হিসাবে গণ্য হয়েছে, কালক্রমে এই ব্যক্তি হয়ে যাবে মুসলিম রত্ন হইতো তার মৃত্যুর পরে এবং মুসলিম সমাজ তাকে নিজেদের করে টানবে।
কারণ যুগ যুগ ধরে এমনটাই ঘটেছে!
এছাড়া আব্দুস সালাম পাকিস্তানের পদার্থ বিজ্ঞানী তার সাথে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল মৌলবাদী সমাজ তার ঘর ঘেরাও করে পুড়িয়ে দিয়েছিল তাকে পাকিস্তান ছাড়া করা হয়েছিল অথচ আজকের মৌলবাদী সমাজ তার নাম কে বিক্রি করে খাই। ইবনে সিনা জাবির ইবনে হাইয়ান আল রাজি আলিমুদ্দিন রশিদ, খারিজমী এপিজে আবদুল কালাম আজাদ এরা কেউ ধার্মিক ছিল না সবাই মুক্তচিন্তক ছিল। তাই ইতিহাসের পাতায় ভাস্বর হয়ে আছে তারা তাদের জীবদ্দশায় কেমন ছোটখাটো অনেক বিষয়ই বিরোধিতা করে সেই সময়ের মৌলবাদী সমাজের ঘৃণার পাত্র হয়ে ছিল তার ইতিহাস আছে। আজকে হলিউডে প্রফেসর আব্দুস সালামকে নিয়ে মুভি তৈরি হয়অথচ পাকিস্তান এবং তার মৌলবাদী সমাজ সংস্থা সালামকে হত্যা করার জন্য একদল বাহিনী পাঠিয়েছিল মনের দুঃখে সে পাকিস্তান ত্যাগ করেছিল।
বাংলাদেশের তারেক মাসুদ নাস্তিক পরিচালক, তার মুভি ধর্মের দেওয়াল ভেদ করে চিন্তার উদয় ঘটিয়েছে সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রয়েছে এজন্য মৌলবাদীদের ঘৃণার পাত্র হয়ে ছিল বারবার, কিন্তু সেসব মৌলবাদীদের নাম-নিশানা মুছে গেছে অথচ তারেক মাসুদের নাম রয়ে গেছে।
হুমায়ূন আহমেদ কোন ধর্মের ধারে নাই অথচ বাংলা সাহিত্যে বাংলাদেশের তিন দশক ধরে বাংলা সাহিত্যকে শাসন করার মতো সাহিত্যিক আর কেউ জন্মেছে বলে দেখা যায় না। হুমায়ূন আহমেদের অনেক লেখাতে ৯০ সাল থেকে ২০১০ সালের ভিতর হুমায়ূন আহমেদের বিরুদ্ধে কতবার আন্দোলন করা হয়েছে ঢাকার বুকেই। কিন্তু সেই সময় তাদেরকে রক্ষার জন্য আলাদা একটা প্রগতিশীল চিন্তাধারার সরকারের ভিতরে দেখেছিলাম কিন্তু আজকের মৌলবাদী উত্থান এতটাই তীব্র আকার ধারণ করেছে যে সরকার এখানে মনে হচ্ছে অসহায় হয়ে যাচ্ছে।
পরিশেষে বলব মাহবুব আলম তাকে তার বন্ধু সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে তার পরিবারকে যেভাবে লাঞ্ছনার শিকার করতেছে সেখানে দ্রুত আইনের সহায়তা জরুরী অন্যতা অনেক দেরি হয়ে যাবে এসব উগ্রবাদী সংগঠন তার বাসা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এমন আবেদন।
পরিবেশে এক দাবি
মাহবুব কে মুক্তি দিন নয়তো সংবিধানে তালা দিন।।।
মাহবুব কে মুক্তি দিন নয়তো বাংলাদেশ কে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিন।
#আলো_আসবেই
#জয়_বাংলা
#বাংলাদেশ_ফোর্স_১৯৭১
#ধর্মান্ধতার_দেয়াল_গুড়িয়ে_দাও_বাংলাদেশ
#ভবঘুরে