12/10/2023
কাপ্তাই থানা অন্তগত বুদ্ধের শাসনের জন্য ওয়াগগা সংঘের এবং দায়ক-দায়িকা মিলেমিশের ও একতা থাকার মানসের গতকাল মুরালী পাড়ার ধর্ম রক্ষিত বৌদ্ধ বিহারের Dhamma Sukha Foundation এর স্পন্সর ও উদ্যোগে দুপুরের আহার বা ছোয়াইং দানের মাধ্যমে সারাদ জ্ঞানাওয়াংসা আহ্বানের ওয়াগগা ইউনিয়নের সংঘরাজ সারাদ ক্ষেমিনদা সভাপতিত্বে,সারাদ পুইংজ্ঞা ওয়াইংসা প্রধান অতিথিতে এবং সারাদ বিসারাদা, বগা আশ্রমে ভান্তে বরসম্বোধি ও ওয়াগগা হেডম্যান পাড়া ভান্তে খেমালনকার বিশেষ অতিথিতে, স্ব -স্ব গ্রামে ভিক্ষু, বিহার অধ্যক্ষ, কার্বারি ও বিহার পরিচালনা কমিটিদের নিয়ে এক মত বিনিময় সভা সম্পন্ন হল !!!!!!
সভা মূল লক্ষ্য ছিলোরঃ-
১, পরিশুদ্ধ বুদ্ধের শাসনের জন্য ভিক্ষু ও দায়ক-দায়িকা একত্রের কাজ করার।
২, প্রত্যেক বিহারের ভবিষৎ প্রজন্মের শাসন স্ব-ধর্মের বহন করার জন্য শ্রমন রাখা এবং তাদের সঠিক শিক্ষার দান করার। সেই লক্ষ্যের শুধুমাত্র শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য দেশের প্রত্যেক এলাকা থেকে তাদের স্বাগতম জানানো এবং তাদের নিজস্ব ভাষার, প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয় শিক্ষা দানের ফলের তাদের নৈতিক চরিত্র দিকে লক্ষ্য রাখা।
৩, প্রত্যেক সমাজ বা গ্রামের শিক্ষাথীদের পড়ালেখার যেনো ক্ষতি নাহয় সেদিকে নজর রাখার এবং দুস্থ মেধাবী শিক্ষাথীদের উঁচ্চ শিক্ষার জন্য সহযোগিতা করার ।
৪, কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ধর্ম আচার-আচরন বাদের কোন হৈচ্য না করার ।
৫, ভিক্ষু হোকবা দায়ক বা দায়িকা কোন চিকিৎসার জন্য সাধ্যমত সাহায্য হাত বাড়ানো এবং আগত অতিথি ভিক্ষু- শ্রমনদের বিহারে রাতযাপন বা থাকার তা স্ব -স্ব বিহারে বিহার অধ্যক্ষ (অপরিচিতদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা স্বার্থের তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র চেক করে) রাখার না রাখার তা পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে ( তবে পরিচিত ও কল্যাণ মিত্রদের জন্য যতদিন মন চায় থাকার ও আসা-যাওয়ার করার যাবে)।
৬, শাসন পরিশুদ্ধ লক্ষ্যের ভিক্ষু শ্রমনদের ধর্ম বিনয় মেনে চলার এবং কোন ভিক্ষু শ্রমন বিনার কারনে দোকানপাট, খেলামাঠের তথা ছকা, তাস, দাবা ও প্রকাশের ধুমপান না করার এবং সন্ধ্যা পরে বিনার নিমন্ত্রণে গৃহস্থ ঘরের না যাওয়া এবং গৃহস্থ ঘরের না ঘুমানো তথা ধর্ম বিনয় নীতি লঙ্ঘন করে দায়ক-দায়িকাদের শ্রদ্ধা হানি হয় এমন কোন কাজ না করার। যদি করেন তা সামাজিক আইন অনুযায়িক সমাজে যে সিদ্ধান্ত নিবে তা মেনে নিতে বাধ্য থাকিবে এমনকি তাকে রং কাপড়ও ছাড়তে বলার হয়ে যেতে পারে । সংঘের এই দায়বার নিবেনা ।
দায়ক-দায়িকা ক্ষেত্রে, স্ব -স্ব বিহারে দায়ক-দায়িকা অন্তত মাসের একবার হলেও উপোসথ দিবসে বিহারে এসে শীল পালন করার এবং কোন দায়ক-দায়িকা মদ তথা নেশা জাতীয় সেবন করে বিহার বা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙনের প্রবেশ না করার ।
৭, ওয়াগগা ইউনিয়নের যেকোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সেচ্ছায় ও স্ব-ইচ্ছা সহযোগিতা মানসের প্রত্যেক বিহারের দায়ক-দায়িকারা কুশল ও ভালো চেতনা নিয়ে যোগদান করার ।
৮, প্রাকৃতিক দূর্যোগ তথা ওয়াগগা ইউনিয়নের প্রাকৃতিকভাবে হোকবা ধর্মীয়ভাবে বাহ্যিক কোন সমস্যা দেখা দিলের তা একত্রে প্রতিহত বা মোকাবেলার করার এবং গ্রাম, সমাজ ও এলাকা শান্তি শৃঙ্খলা নিরাপত্তা বজায় রাখতে সঠিক পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসা।
৯, প্রতি বছর বৈশাখ বা সাংগ্রাই বা নতুন বছরের নিজস্ব বিহারে ছোয়াইং ও শীল নেওয়ার পরের মা-বাবা, গুরুজনদের নতশীরের ক্ষমা প্রাথনা করে তারপরে ওয়াগগা ইউনিয়নের সংঘরাজে বিহারে পরিদর্শন করার ।
১০,ঐতিহ্যবাহী পবিত্র চিংমরম বৌদ্ধ বিহার সর্বদা আমাদের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র ছিলো, আছে এবং থাকবে এবং এরই ব্যক্তিত কাপ্তাই থানাতে তথা ওয়াগগা ইউনিয়নের বগু জেডি/সীমা হোকবা অন্য কোন বানিজ্যিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানীয়দের তুচ্ছ -তাছিল্য হীন মনে করে একেবারে দ্বিতীয় কোন কিছু করার যাবেনা তবে জাতি শিক্ষার জন্য শিক্ষা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকলকে স্বাগতম। কাজেই, চিংমরম বৌদ্ধ বিহারটি পবিত্র,ঐতিহ্য ও মান সম্মান হানি না হয় সেটি ওয়াগগা ইউনিয়ন সংঘের এবং দায়ক-দায়িকা এগিয়ে আসার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তাই চিংমরম পূজনীয় সংঘরাজ সারাদ বর্তমান ও অ-বর্তমান ওনার লিখিত বা রেকর্ড অনুমতি ব্যক্তিত এবং ওয়াগগা ইউনিয়নের সংঘের লিখিত বা রেকর্ড অনুমতি ব্যক্তিত তথা কোন দায়ক- দায়িকা জোর পূর্বক রাজনীতি ও অর্থনীতি ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকা ভিক্ষু-শ্রমন, দায়ক- দায়িকাদের তুচ্ছ -তাছিল্য, হীন মনের অবজ্ঞা,অসম্মান ও অশ্রদ্ধা ভেদাভেদ অশান্তি সৃষ্টি করে ওয়াগগা ইউনিয়নের অধীনের একই এলাকা বা গ্রামে বা সমাজে বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠান বা বিহার থাকার পরও সমাজ বিভাজন করে নতুন করে কোন বিহার, পেগোডা বা জেডি করার যাবেনা অর্থাৎ দায়ক - দায়িকা হিসেবে রাজনীতিভাবে, অর্থনীতিভাবে বা ধর্মীয়ভাবে আপনি যত বড় বৌদধ নেতা হোকনা কেনো সংঘের চতুর পাচায়ো দানের বাদের তাদের বা ভিক্ষু-শ্রমনদের সমতুল্য বসার এবং একই টেবিলে বসে খাওয়ার যাবেনা এবং তাদের শিক্ষার শাসনে কাজের বাধা বা হস্তক্ষেপ করার যাবেনা।
তবে বিহার, পেগোডা বা জেডি / সীমা করার ক্ষেত্রে একই বিহার বা গ্রামে সমাজে বিহারে অধীনে হলে স্ব -স্ব বিহারে বিহার নামের নামকরনের পরিচালনা কমিটি সিধান্তের মোতাবেক প্রথমে বিবেচনার করে তা করার গ্রহনযোগ্য বলে গণ্য হবে অর্থাৎ ব্যক্তিগত স্বার্থের সমাজে দায়ক- দায়িকাদের তোওয়াকা না করে পুরানো নামটি মুছে নতুন নামকরন নিজের, পরিবারের কারো সদস্য নাম বা অন্যকোন নাম ব্যাবহার করার যাবেনা । এমনকি একই বিহারে সমাজে অধীনে কুশল চেতনায় বিহারের যেটা নির্মাণ করুক তা ধর্মের ন্যায় দাতা হিসেবে নাম ব্যাবহার করার যাবে কোন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয় এবং নৈতিক শিক্ষার বা চরিত্র বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক হোক বা ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রের সামাজিক এবং রাষ্টীয় আইন মেনে করলে তা পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।
এবং সবশেষে
বিবিধ ।
“জগতে সকল প্রাণীর সুখী হোক এবং পরিশুদ্ধ বুদ্ধের শাসন চিরস্থায়ী হোক”
সাধু ! সাধু ! সাধু !