Bandhu Mahal

Call Directions Contact the organization

Bandhu Mahal Bandhu Mahal is an organization of friends and families where we organize picnics and events to introduce the new generation to our culture.

IT'S A NON-PROFIT ORGANIZATION.

মৃত্যু নিয়ে বহু বছর আগেই ভেবেছিলেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকার। আর তাই তো নিজের শেষকৃত্যের জন্য ১২ মণ কাঠও আলাদা করে রেখ...
10/08/2026

মৃত্যু নিয়ে বহু বছর আগেই ভেবেছিলেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকার। আর তাই তো নিজের শেষকৃত্যের জন্য ১২ মণ কাঠও আলাদা করে রেখেছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন, সেই কাঠ যেন শুকনো হয়; ভেজা কাঠে ধোঁয়া হয়ে উপস্থিত স্বজনদের চোখে পানি এলে যেন ভুল করে কেউ না ভাবেন, তারা তার জন্য কাঁদছেন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘দ্য ভ্যাকসিন ওয়ার’ সিনেমার প্রচারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মৃত্যু নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন নানা। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী এবং একদিন তাকে চলে যেতে হবে। তার কাছে জীবনের শেষ সম্পত্তি ছিল মাত্র ১২ মণ কাঠ।

নানা বলেছিলেন, ‘আমার ১২ মণ কাঠ লাগবে। এটাই আমার শেষ সম্পত্তি। এটা নিয়েই আমি চলে যাব।’

নিজের শেষকৃত্যের জন্য কাঠ ইতিমধ্যে আলাদা করে রাখার কথাও জানান তিনি।

তবে মৃত্যুর মতো গম্ভীর বিষয়েও নিজের স্বভাবসুলভ রসবোধ হারাননি নানা। স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তার শেষকৃত্যে যেন শুকনো কাঠ ব্যবহার করা হয়। ‘আমার ১২ মণ কাঠ রাখা আছে। সেগুলো শুকনো। ওগুলো দিয়েই আমাকে পোড়াবেন। ভেজা কাঠ ব্যবহার করবেন না’- বলেছিলেন তিনি।

এরপরই আসে তার সেই রসিকতা। ভেজা কাঠে ধোঁয়া হলে উপস্থিতদের চোখে পানি আসতে পারে। আর তখন ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন নানা।

তার ভাষায়, ‘তখন চোখ দিয়ে পানি আসবে…। এমন অবস্থায় আমি ভুল বুঝতে পারি যে, তারা আমার জন্য কাঁদছে।’ এরপরই বলেছিলেন, ‘অন্তত মরার সময় ভুল বোঝাবুঝি থাকা উচিত নয়।’

মৃত্যু নিয়ে তার ভাবনা ছিল আরও বিস্তৃত। একই সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন, একজন মানুষ মারা গেলে একসময় অন্যরা তাকে ছাড়াই জীবন এগিয়ে নেয়। তাই চিরকাল বেঁচে থাকার মতো করে সম্পদ জমিয়ে যাওয়ার খুব একটা অর্থ নেই বলেও নিজের ভাবনা তুলে ধরেছিলেন তিনি।

©️Tubelight Media

পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতার বাস্তব চরিত্র 'আসমানী বেগম' ২০০২ সালে তাঁর নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ...
10/04/2026

পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতার বাস্তব চরিত্র 'আসমানী বেগম' ২০০২ সালে তাঁর নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

জসীমউদ্দীন এর নানা সাহিত্য কর্মে কালজয়ী নানা চরিত্র যেমন রুপাই, সাজু, হাজেরা বিবি, গণি মিয়া এবং আসমানী। এসব চরিত্র পল্লীকবি এঁকেছিলেন বাস্তবের মানুষ দেখেই।

তাই তো আসমানীকে নিয়ে লিখেছিলেন আসমানী কবিতা -

"আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক-খান হাড়,
সাক্ষী দিছে অনাহারে কদিন গেছে তার।।

ঠিক যেন কবিতায় যা লিখেছিলেন পল্লীকবি তাই ফুটে উঠেছে এই ছবিতে। কবিতায় লেখা প্রতিটি লাইনের বাস্তব চিত্র বহন করা এই ছবিটি ২০০২ সালে তুলেছিলেন আলোকচিত্রী সরকার মন্টু ভাই। তখন আর পল্লীকবি বেঁচে নেই কিন্তু বেঁচে ছিলেন পল্লীকবির বাস্তব চরিত্র আসমানী বেগম।

দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতায় ভুগে সবশেষে ২০১২ সালে বিদায় নেন পল্লীকবির অমর সৃষ্টি 'আসমানী' কবিতার বাস্তব চরিত্র আসমানী বেগমও।

কবিরা তাঁদের কবিতায় সমাজের নানা দৃশ্য তুলে ধরেন, অসঙ্গতি দূর করতে চান। কবিতার মাধ্যমেই দেশ থেকে অন্ধকার তাড়ানোর মশাল জ্বালান। মানুষের মাঝে সাহস যোগান। পল্লীকবিও করেছিলেন। কিন্তু আমরা দায় এড়িয়ে গিয়েছি। তাই তো আসমানীদের আর ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি!

তাঁরা আজ স্বশরীরে কেউ বেঁচে নেই তবে তাঁরা সকলেই বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া পল্লীকবির সাহিত্য কর্মে।

© গিরিধর দে/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। চারপাশ নীরব। হঠাৎ পাড়ার একটি সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়ল অদ্ভুত এক দৃশ্য।গলির শেষ মাথায় থাকা একটি প...
09/12/2026

মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে। চারপাশ নীরব। হঠাৎ পাড়ার একটি সিকিউরিটি ক্যামেরায় ধরা পড়ল অদ্ভুত এক দৃশ্য।
গলির শেষ মাথায় থাকা একটি পুরোনো বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াল একটি বেওয়ারিশ কুকুর। কিছুক্ষণ পর এল আরও একটি। তারপর আরেকটি… এভাবে দেখতে দেখতে এক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িটির সামনে জড়ো হতে শুরু করল ডজন ডজন কুকুর।
ভোর হওয়ার আগেই সেখানে শত শত কুকুরের জমায়েত!

প্রতিবেশীরা প্রথমে ভাবলেন, হয়তো কেউ তাদের খাবার দিচ্ছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সেই বাড়িতে কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি।

অবশেষে অ্যানিমাল কন্ট্রোলের লোকজন সেখানে পৌঁছালেন। তারা ভেবেছিলেন, হয়তো বড় কোনো বি'শৃঙ্খলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে দৃশ্য দেখলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সব কুকুর আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত।
তারা কেউ কারও সঙ্গে লড়াই করছে না, ছুটাছুটি করছে না। সবাই শুধু বাড়িটির প্রধান দরজার দিকে তাকিয়ে বসে আছে।

কর্মকর্তারা এরপর বাড়ির ভেতরে ঢুকে একা বসবাসকারী বৃদ্ধ লোকটির খোঁজ নিলেন।
ভেতরে গিয়ে জানা গেল, কয়েক দিন আগে হঠাৎ শারীরিক জ"টিলতায় পড়ে তিনি অ'সুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতেও পারেননি। তবে সৌভাগ্যক্রমে তখনও তিনি জীবিত ছিলেন।

কিন্তু এরপর যে বিষয়টি জানা গেল, সেটিই সবাইকে সবচেয়ে বেশি অবাক করল।
বছরের পর বছর ধরে ওই বৃদ্ধ মানুষটি শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকা বেওয়ারিশ কুকুরদের প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবার দিতেন। তাদের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার জোগাড় করতেন, যত্ন নিতেন।

অনেক কুকুরই হয়তো তাকে কয়েক মাস দেখেনি। তবুও মানুষটির প্রতি তাদের ভালোবাসা যেন একটুও কমেনি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃদ্ধের শারীরিক অবস্থার অ'বনতি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রথম কুকুরটি এসে বাড়ির সামনে বসে। এরপর একে একে অন্য কুকুরগুলোও সেখানে আসতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত সাহায্য পৌঁছানোর আগেই বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে যায় শত শত কুকুর।
হয়তো তারা কথা বলতে পারে না।
হয়তো তারা বলতে পারে না—“আপনি কোথায়?”
কিন্তু তারা তাদের ভালোবাসার মানুষটির দরজায় এসে অপেক্ষা করতে জানে। ❤️

মানুষের দেওয়া ভালোবাসা হয়তো মানুষ ভুলে যেতে পারে, কিন্তু প্রাণীরা অনেক সময় সেই ভালোবাসা সারাজীবন মনে রাখে।

©️সংগৃহীত।

09/12/2026
Writer ✍️ Sohel R Ranaআমার স্ত্রী আমাকে কোনোদিন বলেনি যে সে আমার উপর রাগ করেছে। এই একটা ব্যাপারই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ...
09/12/2026

Writer ✍️ Sohel R Rana

আমার স্ত্রী আমাকে কোনোদিন বলেনি যে সে আমার উপর রাগ করেছে। এই একটা ব্যাপারই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। মানুষ রাগ করলে অন্তত বোঝা যায়, কোথাও একটা ভুল হয়েছে। আমার স্ত্রী রাগ করতো না। সে শুধু চুপ হয়ে যেতো।

প্রথম দিকে আমি ব্যাপারটা বুঝিনি। বিয়ের পর প্রথম বছর সে আমার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতো।
আমি অফিস থেকে ফিরলে বলতো,
"এত দেরি হলো কেন?"
আমি বলতাম,
"অফিসে কাজ ছিল।"
সে মুখ বাঁকিয়ে বলতো,
"প্রতিদিনই কাজ থাকে তোমার।"

আমি হাসতাম। সে রাগ করে ঘরে চলে যেত। সেই রাগের মধ্যে সংসার ছিল।

দ্বিতীয় বছরে দরজায় দাঁড়ানো বন্ধ হলো। আমি চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঢুকতাম। সে রান্নাঘর থেকে বলতো,
"হাত-মুখ ধুয়ে নাও। খাবার দিচ্ছি।"

তৃতীয় বছরে রান্নাঘর থেকেও আর ডাক আসতো না। টেবিলে খাবার ঢাকা থাকতো। আমি খেতাম। সে হয়তো অন্য ঘরে বসে ফোন দেখতো।
আমি মাঝে মাঝে বলতাম,
"তুমি খাবে না?"
সে বলতো,
"খেয়েছি।"

আমি জিজ্ঞেস করতাম না, সত্যিই খেয়েছে কি না। মানুষ সংসারে কিছু প্রশ্ন করতে করতে একসময় এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে প্রশ্ন করাটাই অস্বস্তিকর লাগে।

আমাদের একটা ছেলে ছিল। আরিয়ান। ছেলেটা ছোটবেলায় আমাকে ছাড়া কিছু বুঝতো না। আমি অফিস থেকে ফিরলেই দৌড়ে এসে আমার পায়ে ঝুলে পড়তো। একদিন আমার স্ত্রী বলেছিল,
"ওকে একটু সময় দাও।"
আমি বলেছিলাম,
"সারাদিন তো তোমার সঙ্গেই থাকে।"

সে কিছু বলেনি। কয়েক বছর পর আরিয়ান আমার কাছে আসা বন্ধ করে দিলো। আমি অফিস থেকে ফিরলে সে পড়ার টেবিলে বসে থাকতো।
আমি বলতাম,
"কী করছিস?"
"পড়ছি।"
"কী পড়ছিস?"
"ইংরেজি।"

তারপর আবার বইয়ে চোখ। আমি ভাবতাম, বড় হচ্ছে। বড় হলে ছেলেরা এমনই হয়।
এক রাতে আমার স্ত্রী বললো,
"কাল আমার সঙ্গে একটু বাজারে যাবে?"
আমি ল্যাপটপে কাজ করছিলাম।
বললাম,
"কাল পারবো না।"
"পরশু?"
"দেখি।"
"কবে পারবে?"
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,
"জানি না তো!"

সে আর কিছু বলেনি। পরদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে একটা পুরোনো প্লাস্টিকের বালতি রাখা। বালতিটা ভেঙে গিয়েছিল।
আমি বললাম,
"এটা ফেলে দাও।"
সে বললো,
"এখনো তো চলে।"
আমি বললাম,
"ভাঙা জিনিস রেখে কী লাভ?"
সে বললো,
"সব ভাঙা জিনিস ফেলে দেওয়া যায় না।"

আমি তখন কথাটার মানে বুঝিনি। আমাদের সংসারে বড় কোনো ঝগড়া হয়নি। কেউ কাউকে মারেনি। কেউ অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক করেনি। কেউ বাড়ি ছেড়ে যায়নি। তবু একদিন বুঝলাম, আমরা স্বামী-স্ত্রী নই। আমরা একই বাসায় থাকা দুজন মানুষ। একজন বাজার করে। আরেকজন বিল দেয়। একজন রান্না করে। আরেকজন অফিস করে। একজন সন্তানের স্কুল দেখে। আরেকজন ফি দেয়। একজন অসুস্থ হলে অন্যজন ওষুধ এনে দেয়। কিন্তু কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করে না, “তুমি কেমন আছ?” কারণ আমরা দুজনেই ধরে নিয়েছিলাম, ও ভালো আছে।

আমার স্ত্রী একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো। সকাল থেকে মাথা ধরেছিল।
আমি বললাম,
"ডাক্তারের কাছে যাও।"
সে বললো,
"তুমি নিয়ে যাবে?"

আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। সেদিন আমার একটা মিটিং ছিল।
বললাম,
"তুমি রিকশায় চলে যাও। আমি পরে আসছি।"
সে কিছু বললো না।

দুপুরে অফিস থেকে ফোন এলো। হাসপাতাল থেকে। সে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম, সে বিছানায় শুয়ে আছে।
ডাক্তার বললেন,
"আপনার স্ত্রী অনেকদিন ধরে শারীরিকভাবে দুর্বল।'
আমি অবাক হয়ে বললাম,
"অনেকদিন ধরে?"
ডাক্তার আমার দিকে তাকালেন।
"আপনি জানতেন না?"

আমি মাথা নাড়লাম। ডাক্তার আর কিছু বলেননি। সেই নীরবতাটা আজও মনে আছে। মানুষের জীবনে কিছু নীরবতা থাকে, যেগুলো আসলে প্রশ্ন। সেদিন রাতে হাসপাতালের করিডরে বসে আমি প্রথমবার আমাদের বিয়ের দিনটার কথা মনে করার চেষ্টা করলাম-

আমি তাকে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম? মনে পড়লো না। কী বলেছিলাম? মনে পড়লো না। শুধু মনে পড়লো, সেদিন সে আমার হাত শক্ত করে ধরেছিল।
আমি বলেছিলাম,
"ভয় পাচ্ছো?"
সে বলেছিল,
"না।"
আমি বলেছিলাম,
"তাহলে?"
সে হেসে বলেছিল,
"তুমি আছো তো।"

আমি চোখ বন্ধ করলাম। কী অদ্ভুত। একটা মানুষ একসময় আমার উপর এতটা নির্ভর করতো। আর আমি এত বছর ধরে ভাবতাম, সে খুব শক্ত মেয়ে।

হাসপাতাল থেকে ফেরার পর সে বদলে গেল। আগের মতোই কাজ করতো। আগের মতোই রান্না করতো। আগের মতোই ছেলের খোঁজ নিতো। কিন্তু আমার সঙ্গে কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিল।
আমি একদিন বললাম,
"তুমি আমার উপর রাগ করেছো?"
সে বললো,
"না।"
"তাহলে কথা বলছো না কেন?"
সে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
"কথা বলার মতো কিছু আছে?"
আমি বললাম,
"অবশ্যই আছে।"
সে একটু হাসলো।
তারপর বলল,
"আছে?"
আমি উত্তর দিতে পারলাম না।

কয়েক মাস পর আরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো। ছেলেটা অন্য শহরে চলে যাবে। আমি ভাবলাম, যাওয়ার আগে অন্তত সবাই মিলে একটা দিন কোথাও ঘুরতে যাই।
শনিবার সকালে বললাম,
"চলো, কোথাও যাই।"
আরিয়ান অবাক হয়ে বললো,
"কোথায়?"
আমি বললাম,
"যেখানে যেতে চাস।"
সে মায়ের দিকে তাকালো।
তারপর বললো,
"মা যাবে?"
আমার স্ত্রী রান্নাঘর থেকে বললো,
"তোমরা যাও।"
আমি বললাম,
"তুমিও যাবে।"
সে বললো,
"আমার কাজ আছে।"
আরিয়ান বললো,
"মায়ের কাজ সবসময় থাকে।"
তারপর নিজের ঘরে চলে গেল।

আমি স্ত্রীর দিকে তাকালাম। সে চুপচাপ সবজি কাটছিল।
আমি বললাম,
"তুমি কি সত্যিই যেতে চাও না?'
সে বললো,
"না।"

আমি বুঝলাম, সে শুধু ঘুরতে যেতে চাইছে না, তা-না, সে আমাদের সঙ্গে যেতে চাইছে না। এই পার্থক্যটা বুঝতে আমার প্রায় দশ বছর লেগে গেল।
সেদিন রাতে আমি তার পাশে বসে বললাম,
"তুমি আমাকে একটা কথা বলবে?"
সে বললো,
"বলো।"
"আমি কী করেছি?"
সে অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
"তুমি কিছু করোনি।"
আমি বললাম,
"তাহলে?"
সে ধীরে ধীরে বললো,
"তুমি কিছু করোনি।"
আমি চুপ।
সে বললো,
"এইটাই তো সমস্যা।"
আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সে বললো,
"তুমি কোনোদিন আমাকে কষ্ট দেওয়ার মতো কিছু করোনি। কিন্তু সুখী করার মতো কিছু করেছো?"
আমি উত্তর দিতে পারলাম না।
সে বললো,
"তুমি কখনো খারাপ স্বামী ছিলে না। তুমি শুধু কোনোদিন স্বামী হওয়ার সময় পাওনি।"
কথাটা খুব সহজ ছিল। কিন্তু আমার বুকের মধ্যে কোথায় যেন গিয়ে লাগলো।
আমি বললাম,
"আমি তো সংসারের জন্য এত কিছু করেছি।"
সে বললো,
"জানি।"
"তাহলে?"
"সংসার চালিয়েছ।"
তারপর একটু থেমে বললো,
"আমাকে চালাওনি।"
আমি মাথা নিচু করলাম।
সে বললো,
"তুমি আমাকে কখনো মারোনি। গালি দাওনি। খেতে দাওনি এমনও হয়নি। আমার প্রয়োজনের জিনিস কিনে দিয়েছ। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখিয়েছ।"
তারপর সে খুব শান্ত গলায় বললো,
"কিন্তু তুমি কোনোদিন খেয়াল করোনি, আমি কোন জিনিসটা কিনতে গিয়ে দোকানে দাঁড়িয়ে আবার রেখে দিয়েছি।''
আমি তাকালাম।
সে বললো,
- কোন শাড়িটা আমার পছন্দ হয়েছে, তুমি জানো না।
- কোন গান শুনলে আমার মন ভালো হয়, জানো না।
- কোন কথায় আমি কষ্ট পাই, জানো না।
- আর সবচেয়ে বড় কথা...
সে থেমে গেল।
আমি বললাম,
"কী?"
সে বললো,
"তুমি জানো না, আমি তোমাকে কতবার ডাকতে চেয়েছি।"
আমার গলা শুকিয়ে গেল।

পরদিন সকালে আমি অফিসে ফোন করে ছুটি নিলাম। আমার স্ত্রী অবাক হয়ে বললো,
"কেন?"
আমি বললাম,
"আজ তোমার সঙ্গে মার্কেটে যাবো।
সে বললো,
"কী দরকার?"
আমি বললাম,
"কিছু কিনবো।"
"কী?"
আমি বললাম,
"জানি না।"
সে মৃদু হেসে বললো,
"তুমি তো কখনো জানো না।"

আমি প্রথমবার তার পাশে দাঁড়িয়ে মার্কেটে গেলাম। সে একটা শাড়ির দোকানের সামনে থামলো। একটা নীল শাড়ি হাতে নিল। তারপর দাম দেখে রেখে দিল। আমি বললাম,
"নাও।"
সে বললো,
"দরকার নেই।"
আমি বললাম,
"তোমার ভালো লেগেছে।'
সে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বললো,
"তুমি বুঝলে কীভাবে?"
আমি বললাম,
"শিখছি।"

সে আর কিছু বললো না। শাড়িটা নিল। বাড়ি ফেরার পথে সে হঠাৎ বললো,
"জানো, তোমার সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি ঝগড়া হয়েছে কোন বিষয় নিয়ে?"
আমি বললাম,
"কোনটা?"
সে বললো,
"তুমি সবসময় বলেছ, সময় নেই।”
আমি মাথা নিচু করলাম।

অনেকক্ষণ পর সে আমার হাতের উপর নিজের হাত রাখলো। খুব স্বাভাবিকভাবে। যেন বহু বছর আগে যেখানে আমাদের হাত দুটো ছিল, সেখানে ফিরে এসেছে। আমি হাতটা সরালাম না।

আরিয়ান চলে যাওয়ার দিন স্টেশনে আমরা তিনজন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ট্রেন ছাড়ার আগে আরিয়ান আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
"বাবা, একটা কথা বলবো?"
"বল।"
"মাকে একা রেখো না।"
আমি হেসে বললাম,
"রাখবো না।"
আরিয়ান মায়ের দিকে তাকালো।
তারপর বলল,
"মা, বাবাকে একটু সময় দিও।"
আমার স্ত্রী হেসে ফেললো।

ট্রেন চলে গেল। আমরা দুজন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রইলাম।
ফেরার সময় আমি বললাম,
"চলো, আজ বাইরে খাই।"
সে বলল,
"কোথায়?"
আমি বললাম,
"তুমি ঠিক করো।"
সে বললো,
"তুমি কি সত্যিই আমার পছন্দের জায়গায় যাবে?"
আমি বললাম,
"হ্যাঁ।"
সে একটু হেসে বললো,
"তাহলে একটা পুরোনো রেস্টুরেন্ট আছে। বিয়ের আগে একবার গিয়েছিলাম।"
আমি বললাম,
"আমার মনে নেই।"
সে বললো,
"জানি।"
তারপর আমার হাত ধরলো।

সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে আমি ঘড়িটা খুলে টেবিলে রেখে দিলাম। পরদিনও।
তার পরদিনও। আমি সময় দেখা বন্ধ করে দিলাম।

কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা ভয়ংকর সত্য বুঝেছি, মানুষ একদিনে সংসার ভাঙে না। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখে, সংসারটা অনেক বছর আগেই ভেঙে গেছে।

আমাদের সংসারটা সেদিন বেঁচে গিয়েছিল কি না, আমি জানি না। কিন্তু এখন অন্তত প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে আমি আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করি,
“আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?”
প্রশ্নটা খুব সাধারণ।
কিন্তু কখনো কখনো একটা সংসার বাঁচানোর জন্য
অসাধারণ কিছু করার দরকার হয় না।
শুধু যার পাশে সারাজীবন থাকার কথা,
তার দিকে তাকিয়ে একদিন সত্যি করে জিজ্ঞেস করতে হয়,
“তুমি কেমন আছো?”

©️Sohel R Rana ( Writer)✍️

08/29/2026

যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে হবে প্রকম্পিত, আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।

— সূরা আল-ওয়াকিয়া : ৪-৬

#সীরাহ

08/29/2026

খুব জরুরি 🚨
পরিবর্তন হোন!😌
আর কত???‼️

সর্বোত্তম রিজিক أفضل الرزق 🌾🌾রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না উভয়কে দুনিয়ার ...
08/28/2026

সর্বোত্তম রিজিক أفضل الرزق 🌾🌾

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন এবং যাকে ভালোবাসেন না উভয়কে দুনিয়ার সম্পদ দান করেন। আর ঈমান কেবল তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন।” (সিলসিলা সহীহা ২৭১৪)

শায়খ আস-সা‘দী (রহ.) বলেন:
“দুনিয়াবী রিজিক মুমিন ও কাফির উভয়েই লাভ করে। কিন্তু অন্তরের রিজিক—যেমন ইলম (জ্ঞান), ঈমান, আল্লাহর ভালোবাসা, তাঁর ভয় এবং তাঁর প্রতি আশা এসব শুধু তারাই লাভ করে, যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন। সুতরাং তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকেই এসব দান করেন।”
সূত্র: তাইসীরুল কারীমির রহমান (১/৯৫)

সুবহানাল্লাহ🤲🤍

হারামকে হারাম মনে না করা এবং কেউ হারামের বিপক্ষে কথা বললে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে যাওয়া– এটি আজকের সমাজের এক ভয়ংকর বাস্তবতা।...
08/26/2026

হারামকে হারাম মনে না করা এবং কেউ হারামের বিপক্ষে কথা বললে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে যাওয়া– এটি আজকের সমাজের এক ভয়ংকর বাস্তবতা। ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর থেকে “হালাল-হারাম” এর পার্থক্য মুছে যাচ্ছে, আর তার জায়গায় তৈরি হচ্ছে নিজের ইচ্ছা ও অভ্যাসকে বৈধতা দেওয়ার মানসিকতা।

দুঃখজনকভাবে আজ অনেক নামধারী মুসলমান এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে– তারা হারাম কাজ করছে, অথচ সেটাকে স্বাভাবিক মনে করছে। আর যখন কেউ কুরআন-হাদিসের আলোকে তাদের ভুল ধরিয়ে দেয় বা সতর্ক করে, তখন তার প্রতি বিরক্তি, বিদ্বেষ এবং আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। যেন সত্য বলা ব্যক্তিটিই অপরাধী, আর গুনাহে আপত্তি করাটাই অন্যায়!

এটাই অন্তরের পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক– যখন গুনাহ স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং হক কথা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন মানুষ আর নিজেকে যাচাই করে না; বরং নিজের ভুলকেই যুক্তি দিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, “যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা অনুসরণ কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে– না, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের পথেই চলব।” (সূরা আল-বাকারাহ : ১৭০)

একজন মুসলমানের বৈশিষ্ট্য হলো– সে সত্যকে গ্রহণ করে, এমনকি তা নিজের বিরুদ্ধে গেলেও। কিন্তু যখন সত্যের প্রতি ঘৃণা জন্ম নেয়, তখন বুঝতে হবে– অন্তর ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তাই সময় থাকতে নিজের অবস্থাকে যাচাই করা জরুরি– আমি কি সত্যকে ভালোবাসি, নাকি শুধু নিজের ইচ্ছাকেই? কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা!

© মাহমুদুল হাছান

ওহি-Ohee

আমরা অনেক সময় জানি– কোনটা ভুল, কোনটা গুনাহ, কোনটা হারাম; তবুও নিজের পছন্দের জায়গায় এসে সত্যটাকে এড়িয়ে যাই, এবং সে গুনাহট...
08/17/2026

আমরা অনেক সময় জানি– কোনটা ভুল, কোনটা গুনাহ, কোনটা হারাম; তবুও নিজের পছন্দের জায়গায় এসে সত্যটাকে এড়িয়ে যাই, এবং সে গুনাহটি ত্যাগ করি না। নফস যখন কোনো গুনাহকে ভালোবাসতে শুরু করে, তখন মানুষ যুক্তি খুঁজে সেই গুনাহটাকেই নিজের কাছে স্বাভাবিক করে তোলে। ব্যক্তির এমন অবস্থাই তার আখিরাত ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট!

লেখা : মাহমুদুল হাছান

©️সীরাহ ✍️

Address

70-35 Broadway
Jackson Heights, NY
11372

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm
Sunday 9am - 5pm

Telephone

+13476653239

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bandhu Mahal posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bandhu Mahal:

Shortcuts

Share