06/03/2026
আপনি খুব নরম মনের মানুষ তাই সহজেই সবাই কষ্ট দেয়, সুযোগে অনেক কথা শুনিয়ে ফেলে। তখন মনে হয়না যে, নাহ! অনেক হয়েছে এখন থেকে আর এত নরম হওয়া যাবেনা শক্তভাবে জবাব দিতে হবে কোনো ছাড় দেওয়া যাবেনা।
তারপর ধরেন, মানুষ একবার কষ্ট দেয়, আপনি মাফ করে দেন। আবার কষ্ট দেয়, আপনি আবার মাফ করেন। একসময় আপনিও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। 'এত মাফ করলে সবাই সস্তা মনে করে বসে' এ ভেবে কাউকেই আর মাফ করতে মন চায়না। তাইনা?
কিন্তু জানেন কি?.. হাদীসে আছে, এই সহজ-সরলতা, নরম স্বভাব আর মানুষকে মাফ করা এগুলো হলো জান্নাতী লোকদের চিহ্ন। জান্নাতী মানুষগুলো দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় তাদের বৈশিষ্ট্য হবে— তাদের অন্তর থাকবে কোমল, স্বভাব হবে নম্র, এবং তারা রাগ দমন করে ও সহজেই মানুষকে মাফ করে দেয়।
কিয়ামতের দিন একটা ঘোষণা আসবে:
কে আছেন এমন, যাদের প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দেবেন? তখন কিছু বিশেষ মানুষ সামনে এগিয়ে আসবে। তারা সেইসব মানুষ, যারা দুনিয়ায় অনেক অন্যায়-অপমান সহ্য করেছে, কিন্তু প্রতিশোধ নেয়নি। বরং মাফ করে দিয়েছে। তারা বলবে, আমরা মানুষের জুলুম মাফ করতাম, অন্যায়ের বদলা নিতাম না।
তখন আল্লাহ তাদের বলবেন: তোমরা যেহেতু আমার বান্দাদের মাফ করেছিলে, আজ আমি তোমাদের মাফ করে দিলাম। যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ৬৭৯৯)
আহা! সামান্য এই কষ্টগুলোর বিনিময়ে কতবড় প্রতিদান।
ভাবা যায়??
তাই মানুষ কষ্ট দিক, কথা শুনাক। মানুষের জন্য আপনার এই বিশেষ গুণগুলো কখনোই পরিবর্তন হতে দেবেন না। মানুষের কাছে এগুলো দূর্বলতা মনে হলেও আল্লাহর কাছে এই গুণ অনেক দামী। এবং জানেন কি? হাদীসে আছে, এই গুণগুলোর জন্যই কেয়ামতের দিন আপনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকতে পারবেন। সুবহানাল্লাহ..
ভাবুন তো! কেয়ামতের দিন আপনি রাসূল (সাঃ) এর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি দেখেই চিনে ফেললেন আপনি সেই মানুষ দুনিয়াতে যার আখলাক সুন্দর ছিলো। স্নেহ করে আপনার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। ভেতরটা আনন্দে কেঁপে উঠবেনা?
লেখা : সাদিয়া সামহা ✍️
©️Muslimah’s Duniyah