01/21/2026
গত ১১ বছর ফাউন্ডেশন নিয়ে চন্দ্রনাথের সাথে কাজ করছি। শত শত ঘন্টা গিয়েছে ফোনে, আলোচনা করে, কি করা হবে, কেন করা হবে, এই কেস নেয়া হবে কি হবেনা এসব করে। ফাউন্ডেশনের সেই প্রথম দিককার (২০১৪) কথা মনে পড়ে যখন সমস্ত প্রজেক্ট এর যাবতীয় ইন্টার্ভিউ আমি আর ও মিলে নিতাম। দুজনের প্রশ্ন করা এক হচ্ছেনা কিনা, বাছাই এর ক্রাইটেরিয়া এক হচ্ছে কিনে সেটা মিলানোর প্রাণান্ত চেষ্টা। সেই ১ জন ছাত্রী (ফাল্গুনি সাহা) দিয়ে শুরু করা ফাউন্ডেশন আজ এক মহীরুহ। আজকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০০০ জন ছাত্র ছাত্রী উপকৃত হচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয়/রাজনৈতিক অবস্থানটা দুই মেরুতে হলেও, ফাউন্ডেশনের কাজে কোনদিন আমাদের ঐক্যমতে পৌঁছাতে ৫ মিনিটের বেশী লাগেনি কারণ আমরা কখনই আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ বা বায়াসনেস কে ফাউন্ডেশনের মধ্যে টেনে আনিনি। ওর সাথে সেই প্রথম মিটিং এর কথা মনে পড়ে যেদিন দুজনে মিলে ২ টা অপরিবর্তনীয় নিয়ম ঠিক করেছিলামঃ ১। স্বচ্ছতার প্রশ্নে যেকোন প্রশ্ন যেকেউ করতে পারবে আর আমরা তার উত্তর দিতে বাধ্য। ২। আমরা কখনো ফাউন্ডেশন থেকে ১ পয়সা নিবনা যেন টাকা পয়সা নিয়ে আমাদের কেউ কোনদিন বলতে না পারে। সেই নিয়ম আমরা আজও ধরে রেখেছি। চন্দ্র এককভাবে ফাউন্ডেশনের জন্য যা করেছে সেটা বলে বোঝান যাবেনা। ও বেশ কিছু দিন সার্জারির কারণে থাকবেনা বিধায় ওর বেশ কিছু কাজ গত কয়েক দিন ধরে বুঝে নিচ্ছিলাম বিশেষ করে ফিনান্সিয়াল ব্যাপারগুলো (ফিনান্স, ট্যাক্স এই ব্যাপারগুলো ও দেখে)। সেগুলো দেখতে গিয়ে মনে হল এটা ১/২ জন মানুষের ফুল টাইম কাজের লোড। ৫ ভিন্ন সোর্স থেকে টাকা আসে, ১২-১৪ টা ভিন্ন প্রোজেক্ট এ যায়। কারো ট্যাক্স রিসিপ্ট, কারো প্রশ্ন, কোন টাকা কোন খাতে, অতিরিক্ত/ অব্যবহৃত টাকা আবার সিমিলার প্রজেক্টে, ওর অমুক তারিখ থেকে শুরু হয়েছে অমুক তারিখে শেষ হবে, বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রোজেক্টে ভিন্ন ভিন্ন ভলান্টিয়ার কে টাকা পাঠান, সেগুলোর আপডেট নেয়া এরকম শত শত জিনিষ। আমি আসলেই জানিনা ও কিভাবে এগুলো সামলাত। বহু স্টুডেন্ট এর মেসেজ ফাউন্ডেশনের ইনবক্সে-ইমেইলে, আমার ইনবক্সে, যে দাদা আমার ব্যাপারটার কি হবে। বেশ কিছু জিনিষকে বাধ্য হয়ে পজ রাখা হচ্ছে ২/১ মাসের জন্য। ইমার্জেন্সি ব্যাপারগুলো ও গতকাল হাসপাতাল এ যাওয়ার আগ পর্যন্ত শেষ করার চেষ্টা করেছে। যখন এই স্ট্যাটাস লিখছি তখন ওর ব্রেইন সার্জারি চলছে। সবার কাছে ওর হয়ে দোয়া চাচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন, প্রার্থনা করবেন ও যেন সুস্থ হয়ে আবার এই হাল ধরতে পারে।
চন্দ্র, দোস্ত ফিরে আসলে আবার আগের মত ওটা কেন লিখলি আর ওই পোস্ট কেন দিলি আর তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে এসব নিয়ে আমাদের ঝগড়া কন্টিনিউ হবে ইনশাল্লাহ। ভাল ভাবে ফিরে আয় এই দোয়া করি।