19/04/2025
ভূস্বর্গ কাশ্মীরের দুঃখ কে না জানে! ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র এক জাতিসত্তার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এই জনপদের মানুষগুলো ত্রিমুখী পরধীনতার শেকলে বন্দি। তাদের বোবা কান্না প্রতিনিয়ত পির পাঞ্জালের বরফগলা পানি হয়ে ঝিলমের স্রোতে মিশে যায়। অধিকার হরণের সর্বপ্লাবী যে বুলডোজার অবিরত তাদের মাটিচাপা দিচ্ছে, তাতে ক্ষীণ হয়ে আসছে মুক্তির শেষ আহ্বানও । এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কাশ্মীরি জাতিসত্তার কথা-বলা বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরগুলোর একে একে হারিয়ে যাওয়ার দুঃখ । সেই মিছিলে সর্বশেষ যুক্ত হলেন কাশ্মীরি জাতীয়তাবাদের শক্তিমান কবি ফারুক নাজকি । তিনিই ছিলেন সাতচল্লিশ-পূর্ব কাশ্মীর দেখা সর্বশেষ প্রভাবশালী কবি ও চিন্তক।
১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া ফারুক নাজকি ৮৩ বছরের জীবনে নিজেকে বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে সক্ষম হন । সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কবির হাত ধরেই কাশ্মীরের উর্দু, কাশ্মীরি ও হিন্দি সাহিত্য পৌঁছে অনন্য উচ্চতায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর কবিতাই যে তাঁকে অমর করে রাখবে-তা বেশ জোর দিয়ে বলা যায় । এই লেখার প্রতিপাদ্যও ফারুক নাজকির কবিতাই । এর মাধ্যমে আমরা, বাংলা ভাষার পাঠকরা যদি হতভাগা কাশ্মীরিদের একটু দুঃখ ভাগাভাগি করতে পারি-তাতে মন্দ কী!