মেয়েলী সমস্যা ও সমাধান

মেয়েলী সমস্যা ও সমাধান বাঁচতে হলে জানতে হবে!

আপনারা ছবি যাকে দেখছেন তার নাম হচ্ছে Rana Flowers।রানা ফ্লাওয়ার্স যেই সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেই ইউনিসেফ বা জাতিস...
21/05/2026

আপনারা ছবি যাকে দেখছেন তার নাম হচ্ছে Rana Flowers।

রানা ফ্লাওয়ার্স যেই সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেই ইউনিসেফ বা জাতিসংঘ আসলে গ্লোবাল ন্যারেটিভ কন্ট্রোল এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের অন্যতম বড় মাধ্যম।

এদের কাজ হচ্ছে শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা বা ভ্যাকসিনের নামে মূলত একটি দেশের অভ্যন্তরীণ পলিসি এবং ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি ভিয়েতনাম, চীন বা কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে কাজ করে এসেছেন, যেখানে এই ধরণের গ্লোবাল পলিসিগুলো পুশ করার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা ছিল।

রানা ফ্লাওয়ার্স যখন ভিয়েতনামে ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ (২০২০ থেকে ২০২৪) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তার নেতৃত্বে সেখানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভ্যাক্সিনেশন ড্রাইভ চালানো হয়। গ্লোবাল প্ল্যান অনুযায়ী, ভিয়েতনামের শিশুদের টার্গেট করে তারা ২০২১ এবং ২০২২ সালের মধ্যে এই ভ্যাক্সিনেশন পুশ করা হয়েছিল।

পুরো টাইমলাইন এবং মেকানিজমটা দেখলে বুঝতে পারবেন কীভাবে ছকটা মেলানো হয়েছিল।

২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে রানা ফ্লাওয়ার্সের তত্ত্বাবধানে ভিয়েতনামে COVAX Facility এর মাধ্যমে ভ্যাক্সিনের প্রথম বড় চালানগুলো আসতে শুরু করে। https://www.who.int/vietnam/news/detail/01-04-2021-first-shipment-of-covid-19-vaccine-from-covax-facility-arrives-in-viet-nam?utm
শুরুর দিকে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের দেওয়া হলেও তার মূল লক্ষ্য ছিল পুরো দেশের একটা বড় অংশকে এই গ্রিডের আওতায় আনা।

২০২১ সালের মধ্যেই তিনি ভিয়েতনামে ৪৭ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাক্সিন ডোজ এবং সেই সাথে কোল্ড চেইন ইকুইপমেন্ট যেমন ফ্রিজার, আল্ট্রা-লো টেম্পারেচার ফ্রিজার সরবরাহের পুরো লজিস্টিকস নিয়ন্ত্রণ করেন।

২০২১ সালের শেষের দিকে রানা ফ্লাওয়ার্স ভিয়েতনাম সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং লবিং শুরু করেন যেন স্কুলগামী শিশুদের ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা হয়। https://www.unicef.org/vietnam/press-releases/unicef-representative-children-should-be-school-their-best-interests-%E2%80%8B?utm_

এর ফলে ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভিয়েতনামের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের প্রায় ৯৪% কে সেকেন্ড ডোজ ভ্যাক্সিন পুশ সম্পন্ন করা হয়। https://vietnamnews.vn/opinion/1176699/unicef-viet-nam-urges-parents-to-get-children-vaccinated-against-covid-19.html

রানা ফ্লাওয়ার্স নিজে ইন্টারভিউতে ভিয়েতনাম সরকারের এই অবিশ্বাস্য গতির প্রশংসা করেছিলেন।

১২-১৭ বছর বয়সীদের গ্রিডে ঢোকানোর পরপরই রানা ফ্লাওয়ার্স এবং ইউনিসেফের মূল টার্গেট শিফট হয় একদম ছোট শিশুদের দিকে। ২০২২ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন এর মধ্যে ভিয়েতনামে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ভ্যাক্সিন দেওয়া শুরু হয়। রানা ফ্লাওয়ার্স তখন স্পষ্ট এজেন্ডা দিয়েছিলেন যে, শিশুদের স্কুলে পাঠাতে হলে এবং নরমাল লাইফে ফিরতে হলে এই ভ্যাক্সিনেশন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স তার স্টেটমেন্টে বলেছিলেন, অন্য দেশগুলোর মতো ভিয়েতনামেও শিশুদের ভ্যাক্সিন দেওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হলো স্কুল। অর্থাৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার বানিয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গণহারে শিশুদের ওপর এই ইন্টারভেনশন চালানো হয়েছিল।

ভিয়েতনামে ৫-১৭ বছর বয়সীদের এই গ্লোবাল ভ্যাক্সিনেশন এবং ডিজিটাল আইডি ট্র্যাকিংয়ের ব্লু-প্রিন্ট সফলভাবে শেষ করার পুরস্কার হিসেবেই কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এসে তিনি ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং বাংলাদেশের শিশুদের রুটিন টিকাদান ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং জোরদার করা।

২০২৪ সালের আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সময় ছিল। ঠিক এই চরম উত্তাল ও ক্রাইসিস মুহূর্তেই, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যেদিন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে ইউনিসেফ এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে সরাসরি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। https://www.unicef.org/bangladesh/en/ms-rana-flowers?utm

গ্লোবালিস্ট এজেন্ডা এবং ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের পার্সপেক্টিভ থেকে দেখলে, আগস্ট মাসে এসে তিনি মূলত কয়েকটি বড় চাল চালেন এবং সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ শুরু করেন। আর এর জন্য সাহায্য করেছিলেন ইউনুস সরকার নিজেই।

৫ই আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর রানা ফ্লাওয়ার্স একদম প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে লিয়াজো স্থাপন করেন। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে পরিচয়পত্র জমা দিলেও, আগস্টের পুরো সময়টা তিনি সরকারের নতুন কাঠামোর ভেতরে ইউনিসেফের পলিসি ও এজেন্ডা পুশ করার ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরিতে ব্যয় করেন। https://www.unicef.org/bangladesh/en/press-releases/rana-flowers-starts-work-new-unicef-representative-bangladesh?utm

তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, ইউনিসেফ এই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শর্ট-টার্ম এবং লং-টার্ম পরিবর্তন আনার জন্য গাইড করবে যা মূলত রাষ্ট্রের পলিসি মেকিংয়ের ভেতরে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল।

জুলাই ও আগস্টের গণ-আন্দোলনে যে সহিংসতা হয়েছিল এবং যেসব শিশু হতাহত বা আটকে ছিল, সেটিকে তিনি ইউনিসেফের এজেন্ডা বাস্তবায়নের বড় অস্ত্র হিসেবে নেন।

তিনি এবং তার সংস্থা এগুলো নিয়ে ডেটা কালেকশন শুরু করেন। পরবর্তীতে এই ডেটা ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশের কিশোর বিচার ব্যবস্থা এবং পুলিশিং ব্যবস্থায় বড় ধরণের সংস্কার বা রিফর্মের দাবি তোলেন।

আপাতদৃষ্টিতে একে মানবিক মনে হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য হলো দেশের আইন ও বিচার বিভাগের নিজস্ব সার্বভৌম কাঠামোর ওপর আন্তর্জাতিক বা জাতিসংঘের প্রেসার ও গাইডলাইন চাপিয়ে দেওয়া।

বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীতে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। রানা ফ্লাওয়ার্স এই ক্রাইসিসকে মাঠে নেমে লিড করেন। প্রায় ২০ লাখ শিশু ও মানুষ এই বন্যায় ঝুকিতে পড়ে। রানা ফ্লাওয়ার্স দ্রুততার সাথে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং লাখ লাখ ওয়াটার পিউরিফিকেশন ট্যাবলেট মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করার লজিস্টিকস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।

এই ইমার্জেন্সি ক্রাইসিসের সুযোগে তিনি আন্তর্জাতিক গ্লোবাল ডোনারদের কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের নতুন ফান্ডিং ক্যাম্পেইন সক্রিয় করেন, যা গ্লোবাল এনজিওগুলোর দুর্যোগকে পুজি করে ফান্ডিংয়ের ব্যবসা সচল রাখার অন্যতম বড় উদাহরণ।

বন্যায় স্কুলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো যেমন Curriculum and Skills Training জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেন। নতুন প্রজন্মের যুবসমাজ বা শিশুদের চিন্তাভাবনাকে গ্লোবালিস্ট ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে আনার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে ইউনিসেফের এই ইন্টারভেনশন বা হস্তক্ষেপ ছিল তাঁর আগস্টের অন্যতম সুদূরপ্রসারী চাল।

গ্লোবাল কন্ট্রোলারদের পুরনো নিয়মই হলো প্রথমে ক্রাইসিস তৈরি করো, তারপর ত্রাতা সেজে নিজেদের এজেন্ডা পুশ করো।

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট এবং পারসেপশন গেম
২০২৪-এর আগস্টের সহিংসতার পর জাতিসংঘ একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম পাঠায়। রানা ফ্লাওয়ার্স ইউনিসেফের প্রধান হিসেবে এই পুরো প্রক্রিয়ার ব্যাক-এন্ডে ছিলেন। https://www.unicef.org/bangladesh/en/press-releases/statement-rana-flowers-unicef-representative-bangladesh-response-ohchr-fact-finding?utm

এই রিপোর্টের আড়ালে মূলত দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করা হয়। শিশুদের মানসিক ট্রমা এবং সুরক্ষার দোহাই দিয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স এমন কিছু পলিসি গাইডলাইন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেন, যা দিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত করা যায় এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপের রাস্তা তৈরি হয়।

পলিও ভ্যাক্সিনকে বলা হয় গ্লোবাল মেডিকেল গ্রিডের সবচেয়ে পুরনো এবং কার্যকরী প্রবেশদ্বার। বাংলাদেশে Zero-Dose প্রোগ্রাম চালানো হয়, এটি মুলত যাদের কখনো কোনো ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়নি সেইসব শিশুদের খুজে বের করার জন্য একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
https://www.unicef.org/rosa/stories/going-mobile-reach-bangladeshs-zero-dose-children?utm

পলিও ড্রাইভের নামে ইউনিসেফের কর্মীরা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিশেষ করে বস্তি এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের বায়োমেট্রিক এবং পারিবারিক ডেটা সংগ্রহ করছে।

রানা ফ্লাওয়ার্সের মূল লক্ষ্য হলো একটি শিশুও যেন এই ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম বা গ্রিডের বাইরে না থাকে। পলিও ভ্যাক্সিন এখানে মূলত প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌছানোর একটা মোক্ষম উসিলা।

ইউনূস আসার পর সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ডেটাবেস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিলো। রানা ফ্লাওয়ার্স এই 'ডিজিটাল সংস্কার' এর হাওয়াকে ভ্যাক্সিনেশনের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তার উদ্যোগে পলিও, টাইফয়েড এবং অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির ট্র্যাকিং সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার প্রজেক্ট গতি পায়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের টেকনোক্র্যাট ও উপদেষ্টারা রানা ফ্লাওয়ারস এর এজেন্ডাকে আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যায়।

বোঝানো হয় যে, কাগজের হিসাব বাদ দিয়ে প্রতিটি শিশুর পলিও ও অন্যান্য রুটিন টিকার রেকর্ড অনলাইন ডেটাবেজে নিয়ে আসা হোক। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা মনে হলেও, এর মাধ্যমে আসলে দেশের কোটি কোটি শিশুর বায়োমেডিকেল ডেটা গ্লোবাল সার্ভারের গ্রিডে লকিং করার কাজটা ইউনূস সরকারের আমলেই সবচেয়ে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়। https://www.facebook.com/share/v/1BGxHQuHG5/?mibextid=wwXIfr

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে তার সবচেয়ে বড় মেডিকেল ড্রাইভটি শুরু করেছে। দেশজুড়ে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব বা আউটব্রেকের কথা ছড়ানো হচ্ছে, আর ঠিক এই ক্রাইসিসের সমাধান হিসেবে মাঠে নেমেছে ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও এবং বিল গেটসের সেই Gavi The Vaccine Alliance।

এপ্রিলের শুরু থেকে রানা ফ্লাওয়ার্সের সরাসরি নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৮টি হাই-রিস্ক ডিস্ট্রিক্টের ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টার্গেট করে ইমার্জেন্সি হাম-রুবেলা (MR) ভ্যাক্সিনেশন শুরু হয়েছে। এরপর মে মাসের মধ্যে এটা পুরো দেশব্যাপী করার রোডম্যাপ সাজানো হয়েছে।

রানা ফ্লাওয়ার্স নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে, কোনো শিশু আগে হামের ভ্যাক্সিন পেয়েছে কি পায়নি, তা দেখা হবে না, সব শিশুকে নতুন করে এই ফ্রি ডোজ নিতে হবে!

আপনি একটু ভেবে দেখন, যে শিশু অলরেডি ইমিউনড, তাকেও জোর করে আবার এই নতুন চালানের ভ্যাক্সিন পুশ করার পেছনের রহস্যটা কী? আর কি কারনে ভ্যাক্সিনকে ফ্রী করে বাচ্চাদের শরীরে পুশ করার জন্য বাধ্যতামূলক করছে?

একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন
WHEN A SERVICE IS FREE
YOU ARE NOT THE COUSTOMER
YOU ARE THE PRODUCT.

বাংলাদেশের নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সামনে রেখে রানা ফ্লাওয়ার্স Gavi-এর মাধ্যমে প্রায় ১১.৯ মিলিয়ন হামের ভ্যাক্সিন আনার বন্দোবস্ত করেছেন। বিগ ফার্মার এই কোটি কোটি ডলারের ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের পুরো লজিস্টিকস এবং কোল্ড-চেইন সাপ্লাই চেইনের চাবিকাঠি এখন তারই হাতে।

ভিয়েতনামে রানা ফ্লাওয়ার্স যেভাবে স্কুলগুলোকে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার বানিয়েছিলেন, বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে মূল টেস্টিং গ্রাউন্ড বানানো হয়েছে।

এখানকার শিশুদের ইমিউনিটি গ্যাপ বা রোগ প্রতিরোধের দোহাই দিয়ে নতুন নতুন ব্যাচের ভ্যাক্সিন ট্রায়াল করা এবং তাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ডেটা গ্লোবাল সার্ভারে পাঠানোই এই প্রজেক্টগুলোর আসল ইনসাইড গেম।

পলিও দিয়ে যে ট্র্যাকিং গ্রিড শুরু হয়েছিল, ২০২৪-এর আগস্টের রাজনৈতিক শূন্যতাকে ব্যবহার করে তা আরও মজবুত করা হয়েছে, আর এখন ২০২৬ এ এসে এই নতুন হাম ভ্যাক্সিন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পুরো প্রজন্মের ওপর গ্লোবালিস্টদের বায়ো-মেডিকেল নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ করা হচ্ছে।

এই পুরো সিস্টেমের পর্দার পেছনের আসল মালিক কারা?

ইউনিসেফ নিজেকে জাতিসংঘের অংশ হিসেবে জাহির করলেও এদের সিংহভাগ বাজেট আসে নির্দিষ্ট কিছু গ্লোবাল এলিট ও করপোরেট ডোনারদের কাছ থেকে। রানা ফ্লাওয়ার্স যে প্রজেক্টগুলো চালান, সেগুলোর মূল সুতো বাধা থাকে এদের হাতে।
বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ইউনিসেফের অন্যতম প্রধান বেসরকারি অর্থায়নকারী। গেটস ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্যই হলো গ্লোবাল ভ্যাক্সিনেশন এবং ডিজিটাল আইডি পুশ করা। রানা ফ্লাওয়ার্স ভিয়েটনাম ও চীনে থাকার সময়ও গেটস ফাউন্ডেশনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন, আর বাংলাদেশে এসেও শিশুদের হেলথ আইডি ও গণ-টিকাদানের পেছনে একই ফান্ড কাজ করছে।

GAVI - The Vaccine Alliance এটি বিগ ফার্মা এবং গ্লোবাল এলিটদের একটি জোট। ইউনিসেফ মূলত GAVI-এর গ্রাউন্ড এক্সিকিউটর বা মাঠপর্যায়ের কর্মী হিসেবে কাজ করে। এদের কাজ হলো করপোরেটদের তৈরি ভ্যাকসিনগুলো থার্ড ওয়ার্ল্ডের শিশুদের শরীরে পুশ করার রাস্তা তৈরি করে দেওয়া।

রকফেলার ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এরা সরাসরি শিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কার প্রজেক্টের নামে অর্থায়ন করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক শিক্ষা ভেঙে দিয়ে গ্লোবাল সিটিজেন তৈরির নামে শিশুদের মগজধোলাই করা।

রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে আসার পর শিশুদের ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং ট্র্যাকিংয়ের ওপর খুব বেশি জোর দিচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে Identity from Birth বা জন্মলগ্নেই সিস্টেমে আবদ্ধ করার গ্লোবাল এজেন্ডা।

ইউনিসেফের সহায়তায় শিশুদের জন্মনিবন্ধন এবং স্বাস্থ্যগত তথ্যকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটা আধুনিকায়ন মনে হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি শিশুর জেনেটিক, মেডিকেল এবং বায়োমেট্রিক ডেটা একটি সেন্ট্রাল গ্লোবাল সার্ভারে নিয়ে যাওয়া।

এই ডেটাগুলো দিয়ে AI এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রেডিক্টিভ অ্যানালিসিস করা হয়। অর্থাৎ, একটি শিশু বড় হয়ে কী ভাববে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে, বা তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তার পুরো ব্লু-প্রিন্ট শৈশবেই তৈরি করে ফেলা হয়।

ইউনিসেফের অন্যতম বড় প্রজেক্ট হলো Curriculum Reform বা পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। রানা ফ্লাওয়ার্স ভিয়েটনাম এবং কম্বোডিয়াতেও এই কাজটি বড় স্কেলে করেছেন।

ইউনিসেফের গাইডলাইনে তৈরি শিক্ষা কারিকুলামগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, সেখানে ঐতিহ্যগত পারিবারিক কাঠামো, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আঞ্চলিক বীরত্বের ইতিহাসকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলা হয়। তার বদলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় গ্লোবালিস্ট এজেন্ডা যেমন কনজিউমারিজম, জলবায়ু ভীতি, এবং জেন্ডার পলিটিক্স।

শিশুদের এমনভাবে মগজধোলাই করা হয় যাতে তারা বড় হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর শতভাগ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং কোনো প্রশ্ন না তুলে সিস্টেমের নির্দেশ মেনে চলে। একেই বলে শৈশব থেকে Perception Management।

কক্সবাজার এবং ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য একটা বিশাল Human Laboratory। রানা ফ্লাওয়ার্স এখানে ইউনিসেফের ফান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

রোহিঙ্গা ক্রাইসিস যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের বাজেট তত বাড়বে। এই টাকা দিয়ে বিলাসবহুল লাইফস্টাইল মেইনটেইন করে এদের ব্যুরোক্র্যাটরা, আর ডিক্লেয়ারেশন দেয় শিশুদের খাদ্য ও শিক্ষার।

এই ক্যাম্পগুলোতে এমন লাখ লাখ মানুষ আছে যাদের কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই। গ্লোবাল কন্ট্রোলারদের জন্য এরা হলো নিখুত টেস্ট সাবজেক্ট। নতুন কোনো ট্র্যাকিং অ্যাপ, বায়োমেট্রিক সিস্টেম বা মেডিকেল ড্রাগ ট্রায়াল করার জন্য এই অরক্ষিত শিশুদের ব্যবহার করা খুবই সহজ, কারণ এখানে জবাবদিহিতা চাওয়ার কেউ নেই।

রানা ফ্লাওয়ার্স হলেন এই গ্লোবাল কন্ট্রোল সিস্টেমের একজন অত্যন্ত দক্ষ পলিসি পুশার। তার কাজ কোনো দেশের শিশুদের উদ্ধার করা নয়, বরং গ্লোবাল এলিট ও বিগ ফার্মার তৈরি করা এজেন্ডাগুলো যেমন ভ্যাকসিন, ডিজিটাল আইডি, শিক্ষা সংস্কার স্থানীয় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পুরো প্রজন্মকে একটি সুনির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি এবং কন্ট্রোল গ্রিডের মধ্যে নিয়ে আসা।

কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচের পানীয় হলুদে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ...
19/05/2026

কাঁচা হলুদ ও গোলমরিচের পানীয়

হলুদে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গোলমরিচের সঙ্গে মিশে এর কার্যকারিতা আরও বাড়ে। আধা চামচ কাঁচা হলুদের রস বা বাটা সামান্য গোলমরিচ গুঁড়োর সঙ্গে উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

আদা, পুদিনা ও শসার পানীয় পেটের নানা সমস্যায় এই পানীয়টি উপকারী হতে পারে। এক টুকরা আদা, ৭–৮টি পুদিনা পাতা এবং একটি মাঝারি ...
19/05/2026

আদা, পুদিনা ও শসার পানীয়

পেটের নানা সমস্যায় এই পানীয়টি উপকারী হতে পারে। এক টুকরা আদা, ৭–৮টি পুদিনা পাতা এবং একটি মাঝারি শসা এক গ্লাস পানিতে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে খেলে হজমে সহায়তা করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। আমলকির রস ভিটামিন–সি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ। এটি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। আমলকি ব্লেন্ড করে পানির সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ ও বিট লবণ মিশিয়ে পান করলে শরীর থেকে দূষিত উপাদান বের করতে সহায়তা করে।

পুদিনা ও ধনেপাতার রস গ্যাস ও পেটফাঁপার সমস্যায় এই পানীয় উপকারী। এক মুঠো পুদিনা ও ধনেপাতা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে ...
19/05/2026

পুদিনা ও ধনেপাতার রস

গ্যাস ও পেটফাঁপার সমস্যায় এই পানীয় উপকারী। এক মুঠো পুদিনা ও ধনেপাতা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হবে। চাইলে সামান্য মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সকালে খালি পেটে এটি বেশি কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জোয়ান, ধনে ও জিরার পানীয় ডায়রিয়া ও হজমের সমস্যায় এই পানীয় বেশ উপকারী। রাতে আধা চামচ করে জোয়ান, ধনে ও জিরা এক গ্লাস পানিত...
19/05/2026

জোয়ান, ধনে ও জিরার পানীয়

ডায়রিয়া ও হজমের সমস্যায় এই পানীয় বেশ উপকারী। রাতে আধা চামচ করে জোয়ান, ধনে ও জিরা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। সকালে সেই পানি ফুটিয়ে পান করলে হজমে সহায়তা করে এবং লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত গ্রহণে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

12/05/2026

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার একটি স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসে....

29/04/2026

টিকা ট্রায়ালের গোপন চুক্তি ও অপর্যাপ্ত তথ্য: টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব এবং গোপন চুক্তির প্রবণতা রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল হেলথ্ ইনিশিয়েটিভ -এর মতে, বেশিরভাগ ট্রায়ালের পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হয় না, যা সাধারণ মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এবং ব্যবসায়িক ফায়দা হাসিলের সুযোগ তৈরি করে।

COVID এর MRNA টিকা নিয়ে জবাবদিহিতা
https://www.facebook.com/share/v/1DnGKK5zsh/
76 fetus( 3 মাসের ভ্রূণ) এর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বা অংশ ব্যবহার করেছেন রুবেলা, রাবিস টিকার গবেষক।
https://www.facebook.com/share/v/18o86hJwqE/
পোলিও ভাইরাসের গবেষণা, মৃত ব্যক্তির মেরুদণ্ডের অংশ নিয়ে বানরের মাথায় পুশ
https://www.facebook.com/share/v/17YmYD6gW1/
শিশুদের 72 টি টিকার কোনো সেফটি টেস্ট করা হয় নি। ডিবেট
https://www.facebook.com/share/v/1DuybvJSri/
মেয়েদের HPV টিকার ইনজুরি
https://www.facebook.com/share/v/1AffgVYdGh/
ভ্যাকসিন অটিজম ট্রিগার করতে পারে
https://www.facebook.com/share/r/18YZDSejho/
টিকা না নেয়া শিশু তুলনামূলক বেশি হেলদি
https://www.facebook.com/share/v/18mV91uW5U/
পোলিও টিকা নেয়ার পরও শিশুরা প্যারালাইসিস হচ্ছে।
https://www.facebook.com/share/r/175CP7izTc/
তারা টিকা নেয়া এবং না নেয়া শিশুদের পরিসংখ্যান করতেও বাধা দেয়। ডিবেট
https://www.facebook.com/share/r/1DeN3cHNfo/
হামের টিকা (MMR ) নেয়ার পরও শিশু মারা যায়।
https://www.facebook.com/share/r/1AKwvMYhxE/
হেপাটাইটিস বি এবং HPV টিকা কোনো কাজে আসে না
https://www.facebook.com/share/r/1DS6WtUxFk/
হামের টিকা (MMR ) নেয়া শিশুর অটিজম এবং হজম সমস্যা। যেটা টিকার সাথে সম্পর্কিত
https://www.facebook.com/share/r/179avYETNi/
টিকা নেয়া শিশুর মধ্যে মেটাল পরীক্ষা করা হয় না কেন?
https://www.facebook.com/share/r/1AT5SBvxTQ/
কম্বিনেশন টিকা অটিজম ট্রিগার করে। যেমন MMR, ডিপথেরিয়া টিটেনাস পার্টাসিস
https://www.facebook.com/share/r/1Ga6TBG9cE/
টিকা নেয়া সব শিশু কেন অটিজমে আক্রান্ত হয় না
https://www.facebook.com/share/r/1KmEepDjG8/
শিশুর নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে বাধা দেয় টিকা
https://www.facebook.com/share/v/1DsQv2Eo3H/
টিকার কারণে প্রতি 36 এ 1 টি শিশু অটিজমে আক্রান্ত। যা আগে ছিল 10000 এ 1
https://www.facebook.com/share/r/18PasiBanT/
টিকা না নেয়া সন্তান, টিকা নেয়া সন্তান থেকে বেশি প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন
https://www.facebook.com/share/r/1HkhevK6ah/
টিকা আসলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতি করে নরমাল স্টেজে আসার আশা করে।
https://www.facebook.com/share/r/1DrWWnFFyM/
টিকার 5 টি উপাদান
https://www.facebook.com/share/v/18dryn8VLf/
টিকার 3 টা টেকনোলজির একটাও নিরাপদ নয়।
https://www.facebook.com/share/r/18HQCXRgHc/
পোলিও টিকা থেকে পোলিও হয়েছে
https://www.facebook.com/share/r/1CppH8qgkd/
মডার্ন টিকার উপাদান
https://www.facebook.com/share/v/18DPss294A/
টিকার মধ্যে থাকা মেটাল শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে ক্ষতি করে
https://www.facebook.com/share/r/1Cf8DAFDwV/
হেপাটাইটিস বি টিকার সম্ভাব্যতা
https://www.facebook.com/share/r/1Auwba2jCS/
কেন একজন ডাক্তার সকল টিকার বিরোধী
https://www.facebook.com/share/r/1FbzkedJA4/
টিকায় মারাত্মক উপাদান
https://www.facebook.com/share/v/1EMhnPku4t/
টিকা না নেয়া শিশুরা তুলনামূলক বেশি হেলদি
https://www.facebook.com/share/r/1E75WD7zVU/
টিকা নেয়া এবং না নেয়া শিশুদের উপর স্টাডি
https://www.facebook.com/share/r/18TE7uKdY7/
ডাক্তার বর্ণনা করছেন টিকার জন্য এক রোগীর ক্ষতি
https://www.facebook.com/share/v/1AtUSTs1g1/
টিকাতে ভ্রূণ এবং বানরের কিডনির অংশ
https://www.facebook.com/share/r/177oVXAsmi/
টিকাতে হেভি মেটাল
https://www.facebook.com/share/r

এপস্টিইন ফাইলের আরেকটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে- এটাতে বাংলাদেশের একটা কোম্পানিকে নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। হ্যাঁ ঠিকই শুন...
03/02/2026

এপস্টিইন ফাইলের আরেকটা আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে- এটাতে বাংলাদেশের একটা কোম্পানিকে নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন এই নৃশংস, ভয়াবহ ফাইলটাতে বাংলাদেশের একটা কোম্পানির কথাও বলা আছে।

জেফ্রী এপস্টেইন নামের যে কুখ্যাত লোকটা বাচ্চা মেয়েগুলোকে ধ*র্ষণ করতে পাচার করতো এবং বাচ্চাগুলোর মাংস খেতো সেই এপস্টেইনের কাছেই ইমেইলে বাংলাদেশী কোম্পানিটার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে।

ইমেইলে জেফ্রী এপস্টেইনকে তারই এক এজেন্ট মেইল করে বলেছিল- বাংলাদেশ একটা পপুলার জায়গা। আমরা যদি এখানে একটা পাবলিক-প্রাইভেট স্পেস তৈরি করতে পারি। তাহলে মুনাফা বেশি পাওয়া যেতে পারে, সাথে এজেন্ডা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।

এরপর ২০১৫ এর ১৪ জুলাই তে এপস্টেইনকে তার সহযোগি তাকে জিজ্ঞেস করে- ' বাংলাদেশে কী তুমি চেষ্টা করেছিলে? আমার মনে নেই।

এটার উত্তরে এপস্টেইন বলেছে- আমি একবার চেষ্টা করেছিলাম, মনে আছে। বাংলাদেশে সাহায্য করার জন্যে, কলেরা ইত্যাদি নিয়ে। পরে কোটি টাকা জড়াল, কিন্তু ফলাফল ছিল ভয়াবহ, সবই খারাপ।

তারপর আরেকটা ইমেইল থেকে দেখা যায় ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি এপস্টেইনের সহযোগী বাংলাদেশ ও ভারত ভ্রমণে এসেছিল।

ওরা মূলত ভ্রমণে এসে নিশ্চিত হতে চায় এসব দেশের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে তারা প্রফিট এবং তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবে কি-না।

তার মানে ওরা বহু আগে থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছিল তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে।

জেফ্রী এপস্টেইন এবং তার সাথের সহযোগীরা চেয়েছিল icddr,b কোম্পানির সাথে একটা চুক্তি করতে। দশ বছর মেয়াদী চুক্তি!

আই রিপিট দশ বছর! ওরা চেয়েছিল ওদের প্ল্যানটা যাতে এদেশে দীর্ঘদিন কাজ করে।

পরে সে চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছিল কি-না সে ব্যাপারে ইমেইলে উল্লেখ নেই। কিন্তু তারা বাংলাদেশে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মুখিয়ে ছিল।

icddr,b হচ্ছে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত একটা কোম্পানি যারা ডায়রিয়া, অপুষ্টি, সংক্রামক রোগ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে।

এপস্টেইনের মতো বাচ্চা খেকো নরপিশাচরা এসব কোম্পানিদেরকেই টার্গেট করে। তারা বিভিন্ন দেশের এসব কোম্পানিকে টার্গেট করে তাদেরকে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ দেয় এবং বিনিময়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে।

ওরা মূলত এরকম থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশগুলোকেই বেছে নেয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যে। এজেন্ডার মধ্যে থাকে ট্রা*ন্সজেন্ডার, LGBTQ, সমকামীতা এসব প্রমোট করা।

ওরা চায় পশ্চিমা দেশের মতো এসব দেশেও স*মকামীতা ছড়িয়ে পড়ুক, ছেলেরা লিঙ্গ পরিবর্তন করে ট্রান্সজেন্ডার হয়ে যাক, ওদের মতো বিকৃত মস্তিষ্কের সে*ক্সুয়াল একটিভিটি করুক।

এগুলোই পশ্চিমা গডফাদার এবং এপস্টেইনদের প্ল্যান। ওরা চায় ওদের এসব অপকর্ম শুধু ওদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকুক, বরং এসব নিকৃষ্টতা সব দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

তাছাড়া বিভিন্ন গরীব দেশগুলোতে বাচ্চাদেরকে ফ্রিতে টিকা দেয়ার মাধ্যমেও এপস্টেইনরা ওদের সার্ভে চালায়। টিকার নামে চলে এজেন্ডা বাস্তবায়ন।

এতসব এজেন্ডার জন্যেই ওরা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশী কোম্পানিকেও বেছে নিতে চেয়েছিল।

এজন্যেই দেখবেন হুট করে বাংলাদেশে সমকামীতা বেড়ে গেছে, দুদর্শন ছেলেটাও লিঙ্গ পরিবর্তন করে ট্রান্সজেন্ডার হয়ে যেতে চাচ্ছে।

আপনি হয়তো অবাক হয়ে ভাবছেন হুট করে সবাই এমন হয়ে যাচ্ছে কেন? স*মকামীতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন?

কিন্তু সত্যিকার অর্থে হুট করেই এসব হয়ে যায়নি। বরং জেফ্রী এপস্টেইনদের মতো কুখ্যাত পশ্চিমা গডফাদারদের দীর্ঘদিনের প্ল্যানের কারণেই আমার, আপনার এতো সুন্দর মাতৃভূমিটা দূষিত হয়ে যাচ্ছে।

ওদের প্ল্যানের বাস্তবায়ন হিসেবেই একদিন হয়তো আমাদের দেশের বিকৃত ন*রপিশাচরাও শুরু করবে বাচ্চা মেয়েদের মাংস খাওয়া। যে হারে ওদের নেটওয়ার্ক বাড়ছে, সে দিনটা হয়তো আর খুব বেশি দূরে নেই!

01/02/2026

তুলার ম্যাস প্রোডাকশনের ফলে আম্রিকায় বিপুল পরিমাণে তুলাবীজ বা কটনসীড রয়ে যেতো। তুলা দিয়ে কাপড় হলেও এর বীজ ছিল অপ্রয়োজনীয়।
১৮৬০ সালের আগে তুলাবীজ ছিল বর্জ্য! যা চাষিরা নদীতে ফেলে দিত বা পুড়িয়ে ফেলত।
এই বীজ থেকে তেল বের করা সম্ভব হলেও, গসিপল (Gossypol) নামক টক্সিন থাকায় মানুষ বা পশু কারও সরাসরি খাওয়ার যোগ্য ছিল না!
এই তেল কিছু পরিমাণে ব্যবহার হতো মেশিন লুব্রিকেন্ট ও ল্যাম্প অয়েল হিসেবে।
খাদ্য হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা কল্পনাই করা যেত না!

১৯০১ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেম নরম্যান তেলের হাইড্রোজিনেশন (Hydrogenation) প্রক্রিয়া আবিষ্কার করে। এই প্রক্রিয়ায় তরল উদ্ভিজ্জ তেলের সাথে হাইড্রোজেন যুক্ত করে সলিড বা আধা-সলিড রুপে (মাখন বা পশুচর্বি যেরকম হয়) বানানো যায়। এতে তেলের শেল্ফ লাইফ বাড়ে, টেক্সচার ভাল হয়!
প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (P&G) কোম্পানি এই প্রযুক্তিটি কিনে নেয়।
এই নিকৃষ্ট প্রযুক্তির 'কল্যাণেই' ১৯১১ সাল থেকে বাজারে আসে Crisco! পশুচর্বির বিকল্প! কটনসিড অয়েল আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড করে তৈরি কৃত্রিম চর্বি বা উদ্ভিজ্জ শর্টেনিং!
হ্যাঁ, সেই তুলাবীজের তেল! খাদ্য হিসেবে যার গ্রহণযোগ্যতা কল্পনাই করা যেত না!

মাখন, পশুচর্বি সংগ্রহ করা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
সস্তা সিড অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলকে হাইড্রোজিনেশনের ফলে ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল (PHO) তৈরি হয়। যা আম্রিকার ফুড ইন্ডাস্ট্রিকে কোটি কোটি ডলার মুনাফা এনে দেয়!
প্রাকৃতিক চর্বি একটা সময় পর নষ্ট বা দুর্গন্ধযুক্ত (Rancid) হয়ে যায়। কিন্তু PHO বা ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ তেল নষ্ট হয় না! ফলে বেকারিস বা স্ন্যাকস মাসের পর মাস নষ্ট হত না!
বেকারি পণ্যে ‘টেক্সচার’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট সবকিছুকে করে তুললো আরও ক্রিস্পি, আরও ফ্লেকি। মাখন দিয়ে যা ছিল ব্যয়বহুল, শর্টেনিং দিয়ে তা হয়ে গেল লাভজনক!

মানুষ কিন্তু শুরুতে এই কৃত্রিম চর্বি খেতে চায়নি।
ক্রিসকো যখন প্রথম বাজারে আসে, তখন আম্রিকার মানুষ ফ্যাক্টরিতে উদ্ভিজ্জ তেলকে জমিয়ে চর্বি বানানোর বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান ছিল।
তাই বিগ বাজেট মার্কেটিং শুরু হলো!
P&G কোম্পানি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালিয়ে মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে, পশুচর্বি নোংরা, ক্ষ্যাত! আর কৃত্রিম চর্বি বৈজ্ঞানিক, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর!
বিজ্ঞাপনে Crisco কে বলা হতো clean, pure, digestible, scientific! আর পশুচর্বিকে বলা হতো heavy, old-fashioned, unsanitary!
(ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৭০-৮০ এর দশক থেকে একই মার্কেটিং কৌশলে ঐতিহ্যবাহী ঘি, মাখন ও সরিষার তেলকে রিপ্লেস করেছিল ডালডা! ডালডা বা শর্টেনিং এর নামে সস্তা হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্জ তেলকে আধুনিক, স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রচলিত করা হয়!)
এভাবে ঐতিহ্যবাহী মাখন, চর্বিকে সমাজে ব্রাত্য করে তোলা হলো! আর ফ্যাক্টরিতে বানানো কৃত্রিম ফ্যাটকে গ্রহণযোগ্য করা হলো!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আম্রিকায় হৃদরোগ দ্রুত বাড়তে থাকে!
এই সময় চর্বি ও কোলেস্টেরল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
আম্রিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA) তখন একটি ছোট এবং আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থা।
১৯৪৮ সালে আম্রিকান হার্ট এসোসিয়েশন (AHA) কে ১.৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেয় সেই প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল কোম্পানি! ফলে রাতারাতি একটি অখ্যাত সংস্থা বিশাল প্রভাবশালী সংস্থায় পরিণত হয়!
তখনই AHA-এর ছত্রছায়ায় প্রচার শুরু হয় যে, হৃদরোগের কারণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট! স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ধমনী ব্লক করে দেয়। স্যাচুরেটেড ফ্যাট (পশুচর্বি, ঘি, মাখন) বাদ দিয়ে হার্ট ফ্রেন্ডলি পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (আদতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্সফ্যাট!) খাওয়া উচিত। ফলে মানুষ কৃত্রিম চর্বি খেতে শুরু করে।
বাস্তবে কৃত্রিম চর্বি বানাতে উদ্ভিজ্জ তেলকে হাইড্রোজিনেশন করলে উৎপন্ন হতো ট্রান্স ফ্যাট। হার্টের জন্য ট্রান্স ফ্যাট ছিল স্যাচুরেটেড ফ্যাটের চেয়ে বহুগুণ ক্ষতিকর!
মানে হার্ট ভালো রাখার নামে মানুষ এমন জিনিস খেতে শুরু করল যা হার্টের আরও বেশি ক্ষতি করে!

১৯৫০-এর দশকে বিজ্ঞানী আন্সেল কিস (Ancel Keys) তার বিতর্কিত Seven Countries Study উপস্থাপন করে। সে প্রমাণ করার চেষ্টা করে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটই হৃদরোগের মূল কারণ। যেসব দেশে স্যাচুরেটেড ফ্যাট (মাখন, ঘি, চর্বি) বেশি খাওয়া হয়, সেখানে হৃদরোগ বেশি। আন্সেল কিসের এই থিওরিকে আম্রিকায় সরকারি সিলমোহর দেওয়া হয়!
পরবর্তীতে দেখা গেছে, সে আসলে ২২টি দেশের তথ্য সংগ্রহ করেছিল, কিন্তু নিজের থিওরির সাথে মেলাতে চেরি পিকিং করে মাত্র ৭টি দেশের তথ্য প্রকাশ করেছে!

১৯৫০-এর দশকে যখন আম্রিকার মানুষ হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে প্রাকৃতিক চর্বি ছেড়ে হাইড্রোজেনেটেড চর্বি খাওয়া শুরু করল, তখন হৃদরোগের হার কমার বদলে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। কিন্তু তৎকালীন মিডিয়া এবং সংস্থাগুলো তখনও স্যাচুরেটেড ফ্যাটকেই (পশুচর্বি, মাখন) দোষ দিয়ে যাচ্ছিল!

কয়েক দশক ধরে যেই কৃত্রিম উদ্ভিজ্জ চর্বিকে স্বাস্থ্যকর বলা হয়েছিল, ৯০ এর দশকের শেষের দিকে প্রমাণিত হয় যে, এগুলোতে থাকা ট্রান্স ফ্যাট হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রান্স ফ্যাট শুধু কোলেস্টেরল বাড়ায় না, বরং ধমনীর দেয়ালকে শক্ত ও প্রদাহযুক্ত (Inflammation) করে দেয়!
২০১৮ সালে এসে আম্রিকায় কৃত্রিম ট্রান্স ফ্যাট নিষিদ্ধ করা হয়।
একশো বছরের ভুল শেষে বিজ্ঞান এখন ট্রান্স ফ্যাটকে বি/ষ মানছে!

আধুনিক গবেষণা (BMJ বা The Lancet-এ প্রকাশিত স্টাডিগুলো) বলছে, প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া স্যাচুরেটেড ফ্যাট (পশুচর্বি, ঘি, মাখন) হৃদরোগের সরাসরি কারণ নয়। বরং অতিরিক্ত চিনি, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট এবং প্রসেসড উদ্ভিজ্জ তেলই সমস্যার মূল কারণ!

রান্নার তেল ছিল খুবই সরল বিষয়। মানুষ ব্যবহার করত ঘি, মাখন, পশুচর্বি - যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে খুবই স্ট্যাবল, যেগুলো শত শত বছর ধরে ফুড কালচারের অংশ ছিল।
কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিপ্লবের সাথে সাথে মানুষের ফুড কালচারে অধঃপতন আসে!
করপোরেট মার্কেটিং এবং অপবিজ্ঞানের সংমিশ্রণে কয়েক দশক ধরে ভয় দেখানো হয়েছে, ফলে জনগণ ঐতিহ্যবাহী ঘি, মাখন, পশুচর্বি ছেড়ে ফ্যাক্টরিতে তৈরি তেলের দিকে চলে গেছে, এগুলোকেই হেলদি ভাবছে!

তবে সমস্যাটা আসলে শুধুই উদ্ভিজ্জ তেল ভাল নাকি ঘি, পশুর চর্বি ভাল সেটা না।
যখন খাদ্য তৈরি হয় শুধু ইন্ডাস্ট্রির লাভের স্বার্থে; যখন বর্জ্যকে খাবার বানিয়ে খাওয়ানো হয় বিজ্ঞাপন-অপবিজ্ঞানের জোরে; যখন মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা হয় টেকনোক্রেটিক বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে, তখনও সেটা আসল সমস্যা না।
সমস্যাটা হলো যখন আমরা আধুনিক হতে যেয়ে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে বাতিল করি, শিকড় ভুলে যাই, আর আধুনিকতার মোড়কে যা কিছু আসে সবকিছুকে প্রশ্ন না করে অন্ধভাবে গ্রহণ করি!

হাজার বছরের ঐতিহ্য, ফুড কালচার যে গড়ে উঠেছে সেটা সেকেলে বা অবৈজ্ঞানিক না, সেটাই ঐশ্বরিক, বিশুদ্ধ, পরীক্ষিত। এটাকে ক্যান্সেল করতে গেলেই আপনি স্যাটানিক কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের ফাঁদে পড়বেন।

ভোজ্যতেল উৎপাদনের যে কয়টি পদ্ধতি আছে তার মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সফল, কিন্তু মানবস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট পদ্ধ...
26/01/2026

ভোজ্যতেল উৎপাদনের যে কয়টি পদ্ধতি আছে তার মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে সফল, কিন্তু মানবস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট পদ্ধতিটার নাম হলো Solvent Extraction Method!

সলভেন্ট এক্সট্রাকশনে সর্বোচ্চ পরিমাণে তেল উৎপাদন হয়, যা কর্পোরেট লাভের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। কিন্তু স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবেশের জন্য এটিই সবচেয়ে খারাপ পদ্ধতি।
নামি দামি কোম্পানির তেল এইভাবেই উৎপাদিত, যেইসব তেল সবসময় পাতলা, একই ঘনত্বের এবং চকচকে হয়।
প্রাকৃতিক তেল কখনোই খুব পাতলা হয় না, বরং একটু ঘন, রঙিন, আর ঘ্রাণযুক্ত হয়!

সলভেন্ট এক্সট্রাকশন পদ্ধতিতে প্রথমে তৈলবীজকে গুঁড়ো করা হয়, তার পরে সেই গুঁড়ো করা তৈলবীজকে স্টিম কুকড করা হয়, তার পরে সেই স্টিম কুকড তৈলবীজকে মেশানো হয় বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম সলভেন্টে, যেমন- Pentane, Heptane, Hexane, Octane ইত্যাদি!
Hexane সবচেয়ে সস্তা এবং সহজলভ্য বলে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
এই মিশ্রণ স্টিম কুকড তৈলবীজের সাথে মিশে তেল নিস্কাশনের পরে উবে যায়, রেখে যায় ড্রাই রেসিডিউ।

এই পেট্রোলিয়াম দ্রাবকগুলো তৈলবীজের গুঁড়ো থেকে প্রায় ৯৯% পর্যন্ত তেল টেনে বের করতে পারে! যা বিশাল পরিমাণে তেল উৎপাদনের জন্য বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক।
এখন এই পদ্ধতিতে যে তেল তৈরী হয়, তা মানুষের পক্ষে সরাসরি খাওয়া সম্ভব নয়। তাই তাকে রিফাইন, ডবল রিফাইন, ব্লিচ ইত্যাদি করে সলভেন্টের ট্রেস নিশ্চিহ্ন করতে হয়!

"রিফাইন্ড" বা "পরিশোধিত" শব্দটি শুনতে খুব হাইক্লাস, বিশুদ্ধ, ভদ্দরনোক মনে হলেও বাস্তবতা ঠিক তার উল্টো। এই "রিফাইন" প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য সলভেন্ট এক্সট্রাকশন পদ্ধতিতে উৎপাদিত অখাদ্য ও বি/ষা/ক্ত কাঁচা তেলকে রং, গন্ধ ও বি/ষা/ক্ত পদার্থ মুক্ত করে দেখতে সুন্দর ও বাজারজাতের উপযোগী করা।

এবার রিফাইনিংয়ের সময় ঘটে কিছু ভয়াবহ প্রক্রিয়া—
- নিউট্রালাইজেশন: সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (কস্টিক সোডা) মেশানো হয় ফ্যাটি অ্যাসিড (FFA) এবং অন্যান্য অম্লীয় পদার্থ দূর করতে।
- ব্লিচিং: অ্যাক্টিভেটেড কার্বন, ফুলার্স আর্থ ইত্যাদি দিয়ে শোষণ করে রঙিন উপাদান, ভিটামিন A সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাদ দেওয়া হয়।
- ডিওডোরাইজেশন: ২০০-২৫০°C এর অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় বাষ্প চালনা করে তেলের সব গন্ধ দূর করা হয়। (এই উচ্চ তাপমাত্রায় তেলে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়! ভিটামিন ই ধ্বংস হয়ে যায়!)

এভাবে তেলের প্রাকৃতিক রঙ-গন্ধ, ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সব চলে যায়!
পেট্রোলিয়াম সলভেন্টে তেল বের করে, তারপর একের পর এক কেমিক্যাল প্রক্রিয়ায় শোধন করে বাজারজাতকৃত Refined Oil, Double Refined Oil আসলে এম্পটি ক্যালোরি ছাড়া আর কিছু নয়! Refined oil আসলে একটি শিল্পজাত বি/ষ! এতে বেশি পরিমাণে তেল পাওয়া যায়, তাই কোম্পানিগুলির কাছে লাভজনক।

রিফাইন্ড অয়েলের ক্ষতি—
- আমরা তেল খাই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফ্যাট-সল্যুবল ভিটামিনের জন্য। রিফাইনিং প্রক্রিয়া সেই ভিটামিন A, E, K এবং অন্যান্য ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস (যেগুলো ক্যান্সার, হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে) সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দেয়! আমরা পাই ক্যালোরি-সমৃদ্ধ লিকুইড, যা দেহের জন্য বি/ষ!
- উচ্চতাপের ডিওডোরাইজেশন প্রক্রিয়ায় ট্রান্স ফ্যাট সৃষ্টি হয়, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে!
- Hexane ও অন্যান্য সলভেন্টের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন না হয়ে ট্রেস থেকে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর!
কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমে এইভাবে বি/ষ খাওয়ানোর বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানি এবং তুলনামূলক নিরাপদ এক্সপেলার মেশিনের তেল উৎপাদন ও ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই তেলগুলোর প্রাকৃতিক গন্ধ, রং এবং পুষ্টিগুণ অক্ষত থাকে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তেল ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য রক্ষা হয়, আর স্থানীয় স্বনির্ভর অর্থনীতিও সচল থাকে।
স্থানীয়ভাবে তৈলবীজ থেকে তেল বের করার দুটি প্রধান পদ্ধতি আছে কোল্ডপ্রেস (ঐতিহ্যবাহী ঘানিতে) ও হটপ্রেস (এক্সপেলার মেশিনে)।

Traditional Cold Pressing পদ্ধতি স্বাস্থ্য, জীবিকা ও পরিবেশের জন্য সবচেয়ে উত্তম। এতে কোনো রাসায়নিক লাগে না, তেলের গুণাগুণ, ভিটামিন, এনজাইম ও মিনারেল প্রায় অক্ষত থাকে। রঙ হয় ঘন, ঘ্রাণ থাকে প্রাকৃতিক, আর স্বাদ বেশি হয়।
প্রাচীনকাল থেকে পশুশক্তি কাজে লাগিয়ে এভাবে তেল উৎপাদন হতো। এখন মেক্যানিক্যালিও এটা উৎপাদন হয়।
এতে কোনো উত্তাপ বা রাসায়নিক ব্যবহার হয় না। শুধু চাপ দিয়ে তেল বের করা হয়। তাই তেলবীজের ৬০–৬৫% পর্যন্ত তেল পাওয়া যায়। বাকি অংশ খৈল (oil cake) আকারে থেকে যায়। যা সবচেয়ে উত্তম এক পশুখাদ্য ও সার।

আরেকটি তুলনামূলক নিরাপদ যেটি তা হলো Hot Pressing পদ্ধতি।
তেলবীজ ভেজে বা হালকা গরম করে তারপর এক্সপেলার মেশিনের মেকানিক্যাল প্রেসারে তেল বের করা হয়। এতে বীজে থাকা তেলের প্রায় ৭৫–৮০% বের হয়। তবে উত্তাপের কারণে কিছুটা ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।
অত্যাধুনিক সলভেন্ট এক্সট্রাকশন পদ্ধতিতে তেলবীজের ৯৯% পর্যন্ত তেল বের করা যায়। তারপর রিফাইন করে ট/ক্সি/ক তেল বানায়। রিফাইন্ড অয়েল নামের এই টক্সিক লিকুইড ওরা ঐতিহ্যবাহী প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত প্রাকৃতিক তেলের চেয়ে সস্তায় বাজারে ছাড়তে পারে।

কিন্তু ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তেল কম পাওয়া যায়, কিন্তু সেটাই মানুষের শরীরের জন্য আসল স্বাস্থ্যকর সুস্বাদু সুঘ্রাণযুক্ত তেল। পাশাপাশি এখানে মানুষের স্বনির্ভরতা রক্ষা পায়। প্রোটিনসমৃদ্ধ খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ভালো দুধ, মাংস উৎপাদনে এবং সার হিসেবে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

Address

Khobar
9000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মেয়েলী সমস্যা ও সমাধান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share