21/05/2026
আপনারা ছবি যাকে দেখছেন তার নাম হচ্ছে Rana Flowers।
রানা ফ্লাওয়ার্স যেই সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেই ইউনিসেফ বা জাতিসংঘ আসলে গ্লোবাল ন্যারেটিভ কন্ট্রোল এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের অন্যতম বড় মাধ্যম।
এদের কাজ হচ্ছে শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা বা ভ্যাকসিনের নামে মূলত একটি দেশের অভ্যন্তরীণ পলিসি এবং ডেটাবেজে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি ভিয়েতনাম, চীন বা কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে কাজ করে এসেছেন, যেখানে এই ধরণের গ্লোবাল পলিসিগুলো পুশ করার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা ছিল।
রানা ফ্লাওয়ার্স যখন ভিয়েতনামে ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ (২০২০ থেকে ২০২৪) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন তার নেতৃত্বে সেখানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভ্যাক্সিনেশন ড্রাইভ চালানো হয়। গ্লোবাল প্ল্যান অনুযায়ী, ভিয়েতনামের শিশুদের টার্গেট করে তারা ২০২১ এবং ২০২২ সালের মধ্যে এই ভ্যাক্সিনেশন পুশ করা হয়েছিল।
পুরো টাইমলাইন এবং মেকানিজমটা দেখলে বুঝতে পারবেন কীভাবে ছকটা মেলানো হয়েছিল।
২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে রানা ফ্লাওয়ার্সের তত্ত্বাবধানে ভিয়েতনামে COVAX Facility এর মাধ্যমে ভ্যাক্সিনের প্রথম বড় চালানগুলো আসতে শুরু করে। https://www.who.int/vietnam/news/detail/01-04-2021-first-shipment-of-covid-19-vaccine-from-covax-facility-arrives-in-viet-nam?utm
শুরুর দিকে ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের দেওয়া হলেও তার মূল লক্ষ্য ছিল পুরো দেশের একটা বড় অংশকে এই গ্রিডের আওতায় আনা।
২০২১ সালের মধ্যেই তিনি ভিয়েতনামে ৪৭ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাক্সিন ডোজ এবং সেই সাথে কোল্ড চেইন ইকুইপমেন্ট যেমন ফ্রিজার, আল্ট্রা-লো টেম্পারেচার ফ্রিজার সরবরাহের পুরো লজিস্টিকস নিয়ন্ত্রণ করেন।
২০২১ সালের শেষের দিকে রানা ফ্লাওয়ার্স ভিয়েতনাম সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং লবিং শুরু করেন যেন স্কুলগামী শিশুদের ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা হয়। https://www.unicef.org/vietnam/press-releases/unicef-representative-children-should-be-school-their-best-interests-%E2%80%8B?utm_
এর ফলে ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভিয়েতনামের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের প্রায় ৯৪% কে সেকেন্ড ডোজ ভ্যাক্সিন পুশ সম্পন্ন করা হয়। https://vietnamnews.vn/opinion/1176699/unicef-viet-nam-urges-parents-to-get-children-vaccinated-against-covid-19.html
রানা ফ্লাওয়ার্স নিজে ইন্টারভিউতে ভিয়েতনাম সরকারের এই অবিশ্বাস্য গতির প্রশংসা করেছিলেন।
১২-১৭ বছর বয়সীদের গ্রিডে ঢোকানোর পরপরই রানা ফ্লাওয়ার্স এবং ইউনিসেফের মূল টার্গেট শিফট হয় একদম ছোট শিশুদের দিকে। ২০২২ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন এর মধ্যে ভিয়েতনামে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ভ্যাক্সিন দেওয়া শুরু হয়। রানা ফ্লাওয়ার্স তখন স্পষ্ট এজেন্ডা দিয়েছিলেন যে, শিশুদের স্কুলে পাঠাতে হলে এবং নরমাল লাইফে ফিরতে হলে এই ভ্যাক্সিনেশন বাধ্যতামূলক করতে হবে।
রানা ফ্লাওয়ার্স তার স্টেটমেন্টে বলেছিলেন, অন্য দেশগুলোর মতো ভিয়েতনামেও শিশুদের ভ্যাক্সিন দেওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হলো স্কুল। অর্থাৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার বানিয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গণহারে শিশুদের ওপর এই ইন্টারভেনশন চালানো হয়েছিল।
ভিয়েতনামে ৫-১৭ বছর বয়সীদের এই গ্লোবাল ভ্যাক্সিনেশন এবং ডিজিটাল আইডি ট্র্যাকিংয়ের ব্লু-প্রিন্ট সফলভাবে শেষ করার পুরস্কার হিসেবেই কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এসে তিনি ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং বাংলাদেশের শিশুদের রুটিন টিকাদান ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং জোরদার করা।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সময় ছিল। ঠিক এই চরম উত্তাল ও ক্রাইসিস মুহূর্তেই, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যেদিন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে, রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে ইউনিসেফ এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে সরাসরি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। https://www.unicef.org/bangladesh/en/ms-rana-flowers?utm
গ্লোবালিস্ট এজেন্ডা এবং ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের পার্সপেক্টিভ থেকে দেখলে, আগস্ট মাসে এসে তিনি মূলত কয়েকটি বড় চাল চালেন এবং সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ শুরু করেন। আর এর জন্য সাহায্য করেছিলেন ইউনুস সরকার নিজেই।
৫ই আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর রানা ফ্লাওয়ার্স একদম প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকদের সাথে লিয়াজো স্থাপন করেন। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে পরিচয়পত্র জমা দিলেও, আগস্টের পুরো সময়টা তিনি সরকারের নতুন কাঠামোর ভেতরে ইউনিসেফের পলিসি ও এজেন্ডা পুশ করার ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরিতে ব্যয় করেন। https://www.unicef.org/bangladesh/en/press-releases/rana-flowers-starts-work-new-unicef-representative-bangladesh?utm
তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, ইউনিসেফ এই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শর্ট-টার্ম এবং লং-টার্ম পরিবর্তন আনার জন্য গাইড করবে যা মূলত রাষ্ট্রের পলিসি মেকিংয়ের ভেতরে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল।
জুলাই ও আগস্টের গণ-আন্দোলনে যে সহিংসতা হয়েছিল এবং যেসব শিশু হতাহত বা আটকে ছিল, সেটিকে তিনি ইউনিসেফের এজেন্ডা বাস্তবায়নের বড় অস্ত্র হিসেবে নেন।
তিনি এবং তার সংস্থা এগুলো নিয়ে ডেটা কালেকশন শুরু করেন। পরবর্তীতে এই ডেটা ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশের কিশোর বিচার ব্যবস্থা এবং পুলিশিং ব্যবস্থায় বড় ধরণের সংস্কার বা রিফর্মের দাবি তোলেন।
আপাতদৃষ্টিতে একে মানবিক মনে হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য হলো দেশের আইন ও বিচার বিভাগের নিজস্ব সার্বভৌম কাঠামোর ওপর আন্তর্জাতিক বা জাতিসংঘের প্রেসার ও গাইডলাইন চাপিয়ে দেওয়া।
বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীতে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। রানা ফ্লাওয়ার্স এই ক্রাইসিসকে মাঠে নেমে লিড করেন। প্রায় ২০ লাখ শিশু ও মানুষ এই বন্যায় ঝুকিতে পড়ে। রানা ফ্লাওয়ার্স দ্রুততার সাথে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং লাখ লাখ ওয়াটার পিউরিফিকেশন ট্যাবলেট মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করার লজিস্টিকস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।
এই ইমার্জেন্সি ক্রাইসিসের সুযোগে তিনি আন্তর্জাতিক গ্লোবাল ডোনারদের কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের নতুন ফান্ডিং ক্যাম্পেইন সক্রিয় করেন, যা গ্লোবাল এনজিওগুলোর দুর্যোগকে পুজি করে ফান্ডিংয়ের ব্যবসা সচল রাখার অন্যতম বড় উদাহরণ।
বন্যায় স্কুলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো যেমন Curriculum and Skills Training জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেন। নতুন প্রজন্মের যুবসমাজ বা শিশুদের চিন্তাভাবনাকে গ্লোবালিস্ট ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরে আনার জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে ইউনিসেফের এই ইন্টারভেনশন বা হস্তক্ষেপ ছিল তাঁর আগস্টের অন্যতম সুদূরপ্রসারী চাল।
গ্লোবাল কন্ট্রোলারদের পুরনো নিয়মই হলো প্রথমে ক্রাইসিস তৈরি করো, তারপর ত্রাতা সেজে নিজেদের এজেন্ডা পুশ করো।
জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট এবং পারসেপশন গেম
২০২৪-এর আগস্টের সহিংসতার পর জাতিসংঘ একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম পাঠায়। রানা ফ্লাওয়ার্স ইউনিসেফের প্রধান হিসেবে এই পুরো প্রক্রিয়ার ব্যাক-এন্ডে ছিলেন। https://www.unicef.org/bangladesh/en/press-releases/statement-rana-flowers-unicef-representative-bangladesh-response-ohchr-fact-finding?utm
এই রিপোর্টের আড়ালে মূলত দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করা হয়। শিশুদের মানসিক ট্রমা এবং সুরক্ষার দোহাই দিয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স এমন কিছু পলিসি গাইডলাইন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেন, যা দিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত করা যায় এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপের রাস্তা তৈরি হয়।
পলিও ভ্যাক্সিনকে বলা হয় গ্লোবাল মেডিকেল গ্রিডের সবচেয়ে পুরনো এবং কার্যকরী প্রবেশদ্বার। বাংলাদেশে Zero-Dose প্রোগ্রাম চালানো হয়, এটি মুলত যাদের কখনো কোনো ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়নি সেইসব শিশুদের খুজে বের করার জন্য একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
https://www.unicef.org/rosa/stories/going-mobile-reach-bangladeshs-zero-dose-children?utm
পলিও ড্রাইভের নামে ইউনিসেফের কর্মীরা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিশেষ করে বস্তি এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঘরে ঘরে গিয়ে শিশুদের বায়োমেট্রিক এবং পারিবারিক ডেটা সংগ্রহ করছে।
রানা ফ্লাওয়ার্সের মূল লক্ষ্য হলো একটি শিশুও যেন এই ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম বা গ্রিডের বাইরে না থাকে। পলিও ভ্যাক্সিন এখানে মূলত প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌছানোর একটা মোক্ষম উসিলা।
ইউনূস আসার পর সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ডেটাবেস তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছিলো। রানা ফ্লাওয়ার্স এই 'ডিজিটাল সংস্কার' এর হাওয়াকে ভ্যাক্সিনেশনের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তার উদ্যোগে পলিও, টাইফয়েড এবং অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির ট্র্যাকিং সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার প্রজেক্ট গতি পায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের টেকনোক্র্যাট ও উপদেষ্টারা রানা ফ্লাওয়ারস এর এজেন্ডাকে আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যায়।
বোঝানো হয় যে, কাগজের হিসাব বাদ দিয়ে প্রতিটি শিশুর পলিও ও অন্যান্য রুটিন টিকার রেকর্ড অনলাইন ডেটাবেজে নিয়ে আসা হোক। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা মনে হলেও, এর মাধ্যমে আসলে দেশের কোটি কোটি শিশুর বায়োমেডিকেল ডেটা গ্লোবাল সার্ভারের গ্রিডে লকিং করার কাজটা ইউনূস সরকারের আমলেই সবচেয়ে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়। https://www.facebook.com/share/v/1BGxHQuHG5/?mibextid=wwXIfr
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে তার সবচেয়ে বড় মেডিকেল ড্রাইভটি শুরু করেছে। দেশজুড়ে হঠাৎ করেই হামের প্রাদুর্ভাব বা আউটব্রেকের কথা ছড়ানো হচ্ছে, আর ঠিক এই ক্রাইসিসের সমাধান হিসেবে মাঠে নেমেছে ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও এবং বিল গেটসের সেই Gavi The Vaccine Alliance।
এপ্রিলের শুরু থেকে রানা ফ্লাওয়ার্সের সরাসরি নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৮টি হাই-রিস্ক ডিস্ট্রিক্টের ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টার্গেট করে ইমার্জেন্সি হাম-রুবেলা (MR) ভ্যাক্সিনেশন শুরু হয়েছে। এরপর মে মাসের মধ্যে এটা পুরো দেশব্যাপী করার রোডম্যাপ সাজানো হয়েছে।
রানা ফ্লাওয়ার্স নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে, কোনো শিশু আগে হামের ভ্যাক্সিন পেয়েছে কি পায়নি, তা দেখা হবে না, সব শিশুকে নতুন করে এই ফ্রি ডোজ নিতে হবে!
আপনি একটু ভেবে দেখন, যে শিশু অলরেডি ইমিউনড, তাকেও জোর করে আবার এই নতুন চালানের ভ্যাক্সিন পুশ করার পেছনের রহস্যটা কী? আর কি কারনে ভ্যাক্সিনকে ফ্রী করে বাচ্চাদের শরীরে পুশ করার জন্য বাধ্যতামূলক করছে?
একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন
WHEN A SERVICE IS FREE
YOU ARE NOT THE COUSTOMER
YOU ARE THE PRODUCT.
বাংলাদেশের নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সামনে রেখে রানা ফ্লাওয়ার্স Gavi-এর মাধ্যমে প্রায় ১১.৯ মিলিয়ন হামের ভ্যাক্সিন আনার বন্দোবস্ত করেছেন। বিগ ফার্মার এই কোটি কোটি ডলারের ভ্যাক্সিন বাণিজ্যের পুরো লজিস্টিকস এবং কোল্ড-চেইন সাপ্লাই চেইনের চাবিকাঠি এখন তারই হাতে।
ভিয়েতনামে রানা ফ্লাওয়ার্স যেভাবে স্কুলগুলোকে ভ্যাক্সিনেশন সেন্টার বানিয়েছিলেন, বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে মূল টেস্টিং গ্রাউন্ড বানানো হয়েছে।
এখানকার শিশুদের ইমিউনিটি গ্যাপ বা রোগ প্রতিরোধের দোহাই দিয়ে নতুন নতুন ব্যাচের ভ্যাক্সিন ট্রায়াল করা এবং তাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ডেটা গ্লোবাল সার্ভারে পাঠানোই এই প্রজেক্টগুলোর আসল ইনসাইড গেম।
পলিও দিয়ে যে ট্র্যাকিং গ্রিড শুরু হয়েছিল, ২০২৪-এর আগস্টের রাজনৈতিক শূন্যতাকে ব্যবহার করে তা আরও মজবুত করা হয়েছে, আর এখন ২০২৬ এ এসে এই নতুন হাম ভ্যাক্সিন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে পুরো প্রজন্মের ওপর গ্লোবালিস্টদের বায়ো-মেডিকেল নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ করা হচ্ছে।
এই পুরো সিস্টেমের পর্দার পেছনের আসল মালিক কারা?
ইউনিসেফ নিজেকে জাতিসংঘের অংশ হিসেবে জাহির করলেও এদের সিংহভাগ বাজেট আসে নির্দিষ্ট কিছু গ্লোবাল এলিট ও করপোরেট ডোনারদের কাছ থেকে। রানা ফ্লাওয়ার্স যে প্রজেক্টগুলো চালান, সেগুলোর মূল সুতো বাধা থাকে এদের হাতে।
বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ইউনিসেফের অন্যতম প্রধান বেসরকারি অর্থায়নকারী। গেটস ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্যই হলো গ্লোবাল ভ্যাক্সিনেশন এবং ডিজিটাল আইডি পুশ করা। রানা ফ্লাওয়ার্স ভিয়েটনাম ও চীনে থাকার সময়ও গেটস ফাউন্ডেশনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন, আর বাংলাদেশে এসেও শিশুদের হেলথ আইডি ও গণ-টিকাদানের পেছনে একই ফান্ড কাজ করছে।
GAVI - The Vaccine Alliance এটি বিগ ফার্মা এবং গ্লোবাল এলিটদের একটি জোট। ইউনিসেফ মূলত GAVI-এর গ্রাউন্ড এক্সিকিউটর বা মাঠপর্যায়ের কর্মী হিসেবে কাজ করে। এদের কাজ হলো করপোরেটদের তৈরি ভ্যাকসিনগুলো থার্ড ওয়ার্ল্ডের শিশুদের শরীরে পুশ করার রাস্তা তৈরি করে দেওয়া।
রকফেলার ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এরা সরাসরি শিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কার প্রজেক্টের নামে অর্থায়ন করে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক শিক্ষা ভেঙে দিয়ে গ্লোবাল সিটিজেন তৈরির নামে শিশুদের মগজধোলাই করা।
রানা ফ্লাওয়ার্স বাংলাদেশে আসার পর শিশুদের ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং ট্র্যাকিংয়ের ওপর খুব বেশি জোর দিচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে Identity from Birth বা জন্মলগ্নেই সিস্টেমে আবদ্ধ করার গ্লোবাল এজেন্ডা।
ইউনিসেফের সহায়তায় শিশুদের জন্মনিবন্ধন এবং স্বাস্থ্যগত তথ্যকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটা আধুনিকায়ন মনে হলেও, এর আসল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি শিশুর জেনেটিক, মেডিকেল এবং বায়োমেট্রিক ডেটা একটি সেন্ট্রাল গ্লোবাল সার্ভারে নিয়ে যাওয়া।
এই ডেটাগুলো দিয়ে AI এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রেডিক্টিভ অ্যানালিসিস করা হয়। অর্থাৎ, একটি শিশু বড় হয়ে কী ভাববে, তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে, বা তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তার পুরো ব্লু-প্রিন্ট শৈশবেই তৈরি করে ফেলা হয়।
ইউনিসেফের অন্যতম বড় প্রজেক্ট হলো Curriculum Reform বা পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। রানা ফ্লাওয়ার্স ভিয়েটনাম এবং কম্বোডিয়াতেও এই কাজটি বড় স্কেলে করেছেন।
ইউনিসেফের গাইডলাইনে তৈরি শিক্ষা কারিকুলামগুলোর দিকে তাকালে দেখবেন, সেখানে ঐতিহ্যগত পারিবারিক কাঠামো, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আঞ্চলিক বীরত্বের ইতিহাসকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলা হয়। তার বদলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় গ্লোবালিস্ট এজেন্ডা যেমন কনজিউমারিজম, জলবায়ু ভীতি, এবং জেন্ডার পলিটিক্স।
শিশুদের এমনভাবে মগজধোলাই করা হয় যাতে তারা বড় হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর শতভাগ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং কোনো প্রশ্ন না তুলে সিস্টেমের নির্দেশ মেনে চলে। একেই বলে শৈশব থেকে Perception Management।
কক্সবাজার এবং ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য একটা বিশাল Human Laboratory। রানা ফ্লাওয়ার্স এখানে ইউনিসেফের ফান্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
রোহিঙ্গা ক্রাইসিস যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের বাজেট তত বাড়বে। এই টাকা দিয়ে বিলাসবহুল লাইফস্টাইল মেইনটেইন করে এদের ব্যুরোক্র্যাটরা, আর ডিক্লেয়ারেশন দেয় শিশুদের খাদ্য ও শিক্ষার।
এই ক্যাম্পগুলোতে এমন লাখ লাখ মানুষ আছে যাদের কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই। গ্লোবাল কন্ট্রোলারদের জন্য এরা হলো নিখুত টেস্ট সাবজেক্ট। নতুন কোনো ট্র্যাকিং অ্যাপ, বায়োমেট্রিক সিস্টেম বা মেডিকেল ড্রাগ ট্রায়াল করার জন্য এই অরক্ষিত শিশুদের ব্যবহার করা খুবই সহজ, কারণ এখানে জবাবদিহিতা চাওয়ার কেউ নেই।
রানা ফ্লাওয়ার্স হলেন এই গ্লোবাল কন্ট্রোল সিস্টেমের একজন অত্যন্ত দক্ষ পলিসি পুশার। তার কাজ কোনো দেশের শিশুদের উদ্ধার করা নয়, বরং গ্লোবাল এলিট ও বিগ ফার্মার তৈরি করা এজেন্ডাগুলো যেমন ভ্যাকসিন, ডিজিটাল আইডি, শিক্ষা সংস্কার স্থানীয় সরকারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পুরো প্রজন্মকে একটি সুনির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি এবং কন্ট্রোল গ্রিডের মধ্যে নিয়ে আসা।