Voice of Deprived Children বঞ্চিত সন্তানের কণ্ঠস্বর

  • Home
  • Malaysia
  • Kuala Lumpur
  • Voice of Deprived Children বঞ্চিত সন্তানের কণ্ঠস্বর

Voice of Deprived Children বঞ্চিত সন্তানের কণ্ঠস্বর Offering a safe space and support network for individuals feeling excluded or unsupported by their families.
(1)

Remember, you're not alone; we're here for you

Best lie in the world 🤭
29/06/2026

Best lie in the world 🤭

09/11/2025
03/10/2025

Toxic Mothers Do Exist – And It’s Okay to Say It 💔

There’s a story nobody wants to talk about: the story of children who grow up with mothers who hurt instead of heal. Mothers who use guilt, shame, or control to shape their children’s lives. Mothers who love conditionally, who manipulate emotions, or who make their children feel never enough.

It’s a hard truth, but toxic mothers do exist. And speaking it doesn’t make you ungrateful. It doesn’t make you bitter. It simply acknowledges reality—and that’s the first step toward healing.

If you grew up in a home like this, I want you to hear this:

Your pain is real.

Your feelings are valid.

You are not the problem.

Toxicity doesn’t stop with one generation if we stay silent. But it can stop with you. Breaking free, setting boundaries, choosing to love yourself and your children differently—that is true courage. That is true motherhood.

Healing is messy. It takes time. Sometimes it feels impossible. But every step you take to protect your heart and your children’s hearts is worth it.

Remember: Motherhood should nurture. Motherhood should heal. Love should never leave wounds. 💛

You are allowed to speak, to heal, to break the cycle—and to redefine what it means to be a mother.
✍️parenting

27/09/2025

প্যারেন্টাল ফেভারিটিজম বলে একটা টার্ম আছে। দেখবেন যে সন্তানটা বাবা মা বলতে পাগল, পারলে বাবা মায়ের নামের তজবি বানিয়ে জপ করে, সারাক্ষণ খোঁজখবর নেয়, কী লাগবে না লাগবে জিজ্ঞাসা করে, চাওয়ার আগেই সব হাজির করে, কিছু বাবা মা সেই সন্তানকে সবচেয়ে ইগ্নোর করে বা যত রাগ, অভিমান সব তার সাথে দেখায়।

আর যে সন্তান বাবা মাকে মাসের মধ্যে একটাও কল করে না, খোঁজ নেয় না, কেয়ার করে না, বাবা মা পারলে নিজের চামড়া খুলে ওর জুতা বানিয়ে দেয়। তাদের ভালোমন্দ চিন্তায় বাবা মায়েরা রাতে ঘুমাতে পারে না।

এটা এক ধরনের প্যারেন্টাল ফেভারিটিজম। কিছু বাবা মা কেন করে এ ধরনের আচরণ?

নিজে প্যারেন্ট হওয়ার পর একটা জিনিস বুঝেছি, বাবা মায়ের যে আচরণ গুলো আমাদের bother করে, সেগুলো বেশিরভাগ আসে ওদের নিজেদের ইন্সিকিউরিটি থেকে। যেমন- আমি কোন কাজ করলে, ধরেন কাপড় ভাঁজ করছি, মা এসে দেখে বলবে "মা কাপড় গুলা ভাঁজ করে ফেলতো, আমি আর পারি না, সকাল থেকে কাজ করতে করতে টায়ার্ড..." আমার এধরণের কথাগুলো শুনলে আগে মেজাজ খারাপ হত। যে কাজ তো already করছিই, তারপরেও এমনভাবে বলবে যেন যে উনার রিকোয়েস্টে কাজটা করছি, নইলে কোন কাজ করি না! এসব কারণে কাজ করতেই ইচ্ছা করতো না।

এখন বুঝি ওদের এমন আচরণের কারণ, সে নিজেকে এবং আমাকে বিশ্বাস করাতে চায়, দিনশেষে সব কাজ সেই করে। আসলেও সেই করে, জোর করে করে, আমাদের কাজ করতে দেবে না কিন্তু কথা শোনাবে। এটাকেই তারা এচিভমেন্ট মনে করে। এমনটা করে কারণ তার মধ্যে একটা কম্পিটিটিভ মনোভাব কাজ করে যেটা এসেছে তার প্যারেন্টস এর কাছ থেকে। আমাদের দাদী নানীরা আমাদের বাবা মায়েদের ছোট করে কথা বলতো, feel করাতো you're not worthy enough, you're never perfect. ফলে ওরা এটা বিশ্বাস করে বড় হয়েছে যে, বাবা মায়ের ভালোবাসা কন্ডিশনাল। বাবা মায়ের ভালোবাসা পেতে হলে আমাকে কিছু করে, কিছু হয়ে দেখাতে হবে। এটা মূলত বড় সন্তানগুলোর (মেঝো, সেঝ এরাও) ভেতর বেশি দেখা যায়। ফলে দেখবেন বড়গুলো সাধারণত বাবা মাকে প্রাউড ফিল করানোর জন্য জীবন দিয়ে দেয়।

এদিকে ছোটগুলো বড়দেরকে দেখে বুঝে যায় এটা একটা ট্র‍্যাপ, ওরা এই ট্র‍্যাপের মধ্যে পড়ে না। এবং বাবা মায়ের অতি আদরে ওরা অনেক সময় স্পয়েল্ড, উশৃংখল হয়। ওরা কেয়ার করে না খুব একটা কিন্তু বাবা মায়েরা তাদেরকেই বেশি ফেভার করে। কেন? কারণ সিম্পল, তারা ইমম্যাচিওর প্যারেন্টস। ওরা জানে লক্ষী, রেস্পন্সিবল সন্তানকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করা যায়, তাই ওরা করে, এটা তাদের টক্সিক ট্রেইট!

"মা মরে গেলে বুঝবি।" "মাথার ওপর বাবার ছায়া না থাকলে বুঝবি।" "মরে যাব তবু তোর কাছে কখনো হাত পাতবো না।" এসব ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং বড়গুলোর ওপর কাজ করলেও ছোটগুলোর ওপর আর করে না। এবং এই ইমম্যাচিওর প্যারেন্টরা ছোটগুলোকেই আজীবন প্যারেন্ট করার, সেবা করার, পারলে ওদের দাসত্ব করার চেষ্টা করে। সোজা বাংলায় বলতে গেলে তারা শক্তের ভক্ত নরমের যম।

অনেকেই হয়তো রিলেট করতে পারছেন অলরেডি নিজের বা অন্য কারো সাথে। এখন বলি এ ধরনের প্যারেন্টদের কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়?

Two words: Detachment Practice. ওদের এপ্রুভাল, এপ্রেসিয়েশন পাওয়ার ইচ্ছে/আকাঙ্খা বন্ধ করুন। এগুলো ওদের থেকে যত বেশি এক্সপেক্ট করবেন, তত নিজের মেন্টাল এনার্জি নষ্ট করবেন, হতাশ হবেন। ওদেরকে শিশুর মতো করে দেখুন, কারণ ওরা আসলেই বড় হয়নি, ইমম্যাচিওর। কিন্তু নিজের সন্তানের মত না আবার, আপনার দাদা-দাদী, নানা-নানীর বাচ্চা হিসেবে দেখুন, এক্সপেকটেশন কমানো সহজ হবে। এবং ইমোশনাল এটাচমেন্ট ছাড়া ওদের প্রতি দায়িত্ব পালন করুন, যতটুকু প্রয়োজন। ইমোশনালি দূরত্ব বজায় রাখুন। "মা/বাবা আমাকে এটা কীভাবে বলতে পারলো?" চিন্তা না করে ভাবার প্র্যাক্টিস করুন, ওদের কাছ থেকে এটাই এক্সপেক্টেড, ওরা প্রপার প্যারেন্টিং পায় নাই। ওরা ইমম্যাচিওর। আমি এসব কথা গায়ে মাখবো না।

দেখুন, এধরণের বাবা মা ছোট থেকে আমাদের মনে ঢোকায় ওরা সব জানে, ওরা যা করে সব ঠিক, ওদের কখনো ভুল হতে পারে না। যার কারণে বড় হয়েও ওদের ভুল ধরা নিজেদের অজান্তেই পাপ মনে হয়! এটাকে আগে মন থেকে দূর করতে হবে। ওদেরও যে ভুল হয় সেটা এক্সেপ্ট করতে হবে। নইলে যত ওপরে তুলবেন, মেজাজ খারাপ হলে মনে মনে ততই নিচে নামাবেন ওদের, এবং নিজেরাই কষ্ট পাবেন। ওদের মানুষ ভাবার প্র‍্যাক্টিস করুন।

এবং আমি জানি বলা সহজ, করা না। সময় লাগবে, প্র‍্যাক্টিস করুন। আপনি নিজে এডাল্ট বা প্যারেন্ট হয়ে গেলে আর নিজের প্যারেন্টের ওপর এক্সপেকটেশন রাখার সুযোগ এমনিতেও নাই। You need to detach yourself & step out of their emotional trap if you want to safeguard your own peace and protect your family.

**ওপরের উদাহরণ অবশ্যই সবার ক্ষেত্রে/সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। যারা প্যারেন্টাল ফেভারিটিজম এর শিকার এটা শুধু তাদের জন্য।

**Parental Favoritism অনেক রকম হয়। আমি এই লেখায় একরকম উল্লেখ করেছি, এটার উল্টাটাও হয়। অনেক সময় বড়গুলো স্পয়েল্ড হয়, ছোটগুলো হয় রেস্পন্সিবল। এছাড়া বেশি টাকা ইনকাম করা বা বেটার রেজাল্ট করা সন্তানকে বেশি ফেভার করা, মেয়ের চেয়ে ছেলেকে বেশি আদর দেয়া বা vice versa, গায়ের রঙ বা সৌন্দর্যের জন্য বেশি গুরুত্ব দেয়া ইত্যাদি। সবগুলোর ক্ষেত্রেই সলিউশন একই। ওদের সাথে emotional detachment প্র‍্যাক্টিস করা এবং নিজের সন্তানদের সাথে আমরা এমনটা না করি সেদিকে খেয়াল রাখা। কারণ আপনি যদি প্যারেন্টাল ফেভারিটিজমের শিকার হন, আপনার ভেতরেও এই টক্সিক ট্রেইট থাকার সম্ভাবনা থাকে।

Fariha Rashid
Parenting page: The Cycle Breaker Mom
**This Photo is AI generated**

26/09/2025

আপনি "ভালো সন্তান" নন, আপনি আপনার পরিবারের ইমোশনাল ডাস্টবিন!

রাত বাজে দুটো। আপনার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটা দেখেই আপনার বুকের ভেতরটা ধক্ করে উঠল—"মা" বা "বাবা"। ফোনটা ধরার আগেই আপনি জানেন কী হতে চলেছে। হয়তো আপনার ভাইয়ের সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছে, নয়তো বোনের শ্বশুরবাড়িতে নতুন কোনো সমস্যা, কিংবা তাদের নিজেদের শরীর খারাপ বা আর্থিক কোনো সংকট। আপনি ফোনটা ধরেন, আর অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে একরাশ দুশ্চিন্তা, অভিযোগ আর সমস্যার স্রোত। আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে শোনেন, সমাধান দেন, সান্ত্বনা দেন, আর ফোনটা রাখার পর একরাশ ক্লান্তি আর শূন্যতা নিয়ে বিছানায় পড়ে থাকেন।

সকালে উঠে আবার ছোটেন নিজের কাজ, নিজের সংসার, নিজের জীবনের সংগ্রামে। কিন্তু আপনার মাথার ভেতরে ঘুরতে থাকে আপনার পরিবারের সমস্যাগুলো। আপনি নিজের অজান্তেই তাদের জীবনের সমস্ত আবর্জনা নিজের মাথায় বয়ে বেড়ান।

সমাজ আপনাকে দেখে বলে, "ছেলে/মেয়ে বটে একখান! বাবা-মায়ের কী ভাগ্য!" আপনি নিজেও হয়তো এই তকমাটা নিয়ে গর্ববোধ করেন। কিন্তু আজ আমি আপনার এই গর্বের মুখোশটা ছিঁড়ে ফেলব। এই সত্যটা শুনুন এবং হজম করার চেষ্টা করুন: আপনি "ভালো সন্তান" নন। আপনি আপনার পরিবারের জন্য একটি চলমান ইমোশনাল ডাস্টবিন, যেখানে তারা তাদের যাবতীয় মানসিক বর্জ্য, দুশ্চিন্তা আর ব্যর্থতা নিক্ষেপ করে নিজেদের হালকা রাখে, আর বিনিময়ে আপনি ভেতরে ভেতরে নিঃশেষ হয়ে যান।

এই লেখাটি কোনো প্রশংসা-পত্র নয়। এটি একটি নির্মম ব্যবচ্ছেদ—যেখানে আমরা দেখব, কীভাবে "দায়িত্ব" এবং "কর্তব্য"-এর নামে আপনাকে এক ভয়ংকর মানসিক দাসে পরিণত করা হয়েছে এবং কীভাবে আপনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে অন্যের জীবনের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার এক অন্তহীন ঠিকাদারি নিয়েছেন।

কোনো শিশু ইমোশনাল ডাস্টবিন হয়ে জন্মায় না। তাকে তৈরি করা হয়। এই নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয় আপনার শৈশবে, খুব সূক্ষ্ম এবং পরিকল্পিতভাবে।

আপনি হয়তো পরিবারের বড় সন্তান, অথবা স্বভাবগতভাবেই অন্যদের চেয়ে একটু বেশি সংবেদনশীল এবং শান্ত। ছোটবেলা থেকেই আপনি দেখেছেন, আপনার অন্য ভাই-বোনেরা হয়তো জেদি, চঞ্চল বা আত্মকেন্দ্রিক। আর আপনি তাদের চেয়ে আলাদা। আপনি বাবা-মায়ের কষ্ট বোঝেন, সংসারের অভাব-অনটন অনুভব করেন।

আপনার এই সংবেদনশীলতাই আপনার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। আপনার বাবা-মা আপনার এই গুণটিকে আবিষ্কার করেন এবং নিজেদের অজান্তেই এর সুযোগ নিতে শুরু করেন। যখনই সংসারে কোনো অশান্তি হয়, তারা আপনার কাছেই তাদের দুঃখের কথা বলেন। "তোর বাবাকে দেখছিস? কোনো দায়িত্বজ্ঞান নেই," কিংবা "তোর মা-কে তো কিছুই বোঝানো যায় না।" আপনি, ছোট্ট শিশু, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাঝখানে এক অসহায় মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠেন। আপনি তাদের কষ্ট দেখে কষ্ট পান এবং তাদের খুশি করার জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেন।

আপনাকে প্রশংসা করা হয়। "আমার এই ছেলে/মেয়েটাই আমার দুঃখটা বোঝে," "ও না থাকলে আমাদের কী যে হতো!"—এই প্রশংসাগুলো আপনার জন্য হয়ে ওঠে মাদকের মতো। আপনি শিখতে শুরু করেন যে, অন্যের সমস্যার সমাধান করলেই, অন্যের ভার বহন করলেই ভালোবাসা আর স্বীকৃতি পাওয়া যায়। আপনার নিজের চাওয়া-পাওয়া, আপনার নিজের কষ্ট—এগুলো অপ্রয়োজনীয়। আপনার মূল্য আপনার উপযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। আপনি পরিবারের জন্য কতটা করতে পারছেন, তার ওপরই আপনার আত্মসম্মান নির্ভর করে।

এভাবেই আপনার মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় এক অদৃশ্য শহীদের মুকুট। যে মুকুটের ভারে আপনার নিজের সত্তা, আপনার শৈশব, আপনার স্বপ্ন ধীরে ধীরে পিষ্ট হতে শুরু করে। আপনি হয়ে ওঠেন একজন "ক্ষুদ্র প্রাপ্তবয়স্ক", যার কাঁধে তার বয়সের চেয়ে অনেক বেশি ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বড় হওয়ার সাথে সাথে এই ভূমিকাটি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। আপনার পরিবার, বিশেষ করে আপনার বাবা-মা, হয়ে ওঠেন "মানসিক রক্তচোষা" বা Emotional Vampire। তারা নিজেরা তাদের মানসিক পরিপক্কতার অভাবে নিজেদের জীবনের সমস্যা বা দাম্পত্য কলহের সমাধান করতে পারেন না। তাই তারা সবচেয়ে সহজ রাস্তাটি বেছে নেন—আপনার ওপর তাদের সমস্ত নেতিবাচকতা নিক্ষেপ করা।

তারা আপনাকে ফোন করে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে একই অভিযোগ, একই সমস্যার কথা বলতে থাকেন। তারা কোনো সমাধান চান না, তারা শুধু তাদের ভেতরের বিষটা উগরে দেওয়ার জন্য একটি পাত্র চান। আর আপনি, সেই স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, সেই পাত্রটি হয়ে ওঠেন। আপনি তাদের সমস্ত বিষাক্ততা নিজের ভেতরে শুষে নেন।

এই চক্রের কিছু ভয়ংকর লক্ষণ হলো:
একতরফা কথপোকথন: তাদের ফোন কলগুলো খেয়াল করুন। ৯০% কথাই হয় তাদের সমস্যা নিয়ে। তারা খুব কমই জানতে চায়, "তোর দিন কেমন কাটল?" বা "তোর কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?" আপনার জীবন তাদের কাছে গৌণ, তাদের সমস্যাই মুখ্য।
দায়িত্বের সীমানা লঙ্ঘন: আপনার ভাই-বোনেরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তাদের জীবনের দায়ভারও আপনার কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়। "তোর ভাইকে একটু বোঝা না," "তোর বোনের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে একটু কথা বল।" আপনি হয়ে ওঠেন পুরো পরিবারের অঘোষিত অভিভাবক।
আর্থিক শোষণ: আপনি পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে সফল বা দায়িত্বশীল হওয়ায় সমস্ত আর্থিক চাপ আপনার ওপর এসে পড়ে। অন্য ভাই-বোনেরা হয়তো নিজেদের আয় নিজেদের মতো খরচ করে, কিন্তু পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে আপনার দিকেই সবাই তাকিয়ে থাকে। আপনি 'না' বলতে পারেন না, কারণ 'না' বলাটা আপনার "ভালো সন্তান"-এর ইমেজের সাথে খাপ খায় না।
আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ: আপনার বিয়ে, আপনার ক্যারিয়ার, আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই তারা তাদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ তারা আপনাকে একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখে না, তারা আপনাকে তাদের বর্ধিত অংশ বা তাদের জীবনের একটি প্রজেক্ট হিসেবে দেখে।

আপনি এই রক্তক্ষরণ নীরবে সহ্য করে যান। কারণ আপনাকে শেখানো হয়েছে, এটাই "কর্তব্য"। এটাই "ভালোবাসা"। কিন্তু এটা ভালোবাসা নয়। এটা এক ধরনের শোষণ। যে সম্পর্কে আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নেওয়া হয়, যেখানে আপনার সীমানাকে সম্মান করা হয় না, সেটা ভালোবাসা হতে পারে না।

এই "ভালো সন্তান"-এর ভূমিকা পালন করার জন্য আপনাকে যে মূল্য দিতে হয়, তা অকল্পনীয়। আপনার ব্যক্তিগত জীবন ধীরে ধীরে একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

আপনি আপনার নিজের দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কে কখনো শতভাগ দিতে পারেন না। কারণ আপনার মানসিক শক্তির একটা বড় অংশ আপনার পৈতৃক পরিবার শুষে নেয়। আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী যখন আপনার মনোযোগ চায়, তখন আপনি শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং অনুপস্থিত থাকেন। আপনার সঙ্গী ধীরে ধীরে অনুভব করে যে, আপনার জীবনে সে সবসময় দ্বিতীয়। আপনার কাছে আপনার বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের সমস্যাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই বহু "ভালো সন্তান"-এর নিজের সংসারটা টিকে থাকে না। তারা পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের সঙ্গীকে হারিয়ে ফেলে।

আপনি কে? আপনার কী ভালো লাগে? আপনার স্বপ্ন কী?—এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর আপনার কাছে থাকে না। কারণ আপনি সারাজীবন অন্যের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত ছিলেন। আপনি নিজের জন্য কখনো বাঁচেনইনি। আপনার পরিচয় হয়ে গেছে "অমুকের ছেলে/মেয়ে" বা "অমুকের ভাই/বোন"। এর বাইরে আপনার নিজস্ব কোনো সত্তাই তৈরি হয়নি।

যে সময় এবং মানসিক শক্তি আপনার নিজের ক্যারিয়ার বা পেশাগত উন্নতিতে দেওয়ার কথা ছিল, তার পুরোটাই আপনি ব্যয় করেছেন পারিবারিক কলহ মেটাতে। ফলে, আপনি আপনার সম্ভাবনার শিখরে পৌঁছাতে পারেন না। আপনি একধরনের অতৃপ্তি এবং হতাশা নিয়ে বেঁচে থাকেন।
ক্রমাগত অন্যের দুশ্চিন্তা বহন করার ফলে আপনার শরীরে বাসা বাঁধে দীর্ঘস্থায়ী অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন এবং বার্নআউট। আপনার ঘুম নষ্ট হয়ে যায়, হজমের সমস্যা দেখা দেয়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। আপনার শরীর আপনার মনের এই unbearable ভার আর বহন করতে পারে না। আপনি অল্প বয়সেই বুড়িয়ে যান।

আপনি আসলে আপনার পরিবারের জন্য জীবন দিচ্ছেন না, আপনি তাদের অকর্মণ্যতা এবং অপরিপক্কতার জন্য ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করছেন।

এই নাটকের সবচেয়ে দুঃখজনক চরিত্রটি হলো আপনার অন্য ভাই-বোনেরা। তারা আপনার এই ত্যাগকে সম্মান করার পরিবর্তে এর পুরো সুযোগ নেয়।

তারা জানে, পরিবারের যেকোনো সমস্যায় আপনিই ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তাই তারা দায়িত্ব নিতে শেখে না। তারা নিজেদের জীবন নিয়ে, নিজেদের শখ-আহ্লাদ নিয়ে কুল থাকে। বাবা-মায়ের প্রতি তাদের যে দায়িত্ব, সেটাও তারা আপনার কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকে।

তারা আপনাকে দেখে একদিকে ঈর্ষা করে (কারণ বাবা-মা আপনার ওপর বেশি নির্ভরশীল), আবার অন্যদিকে আপনাকে মনে মনে "বোকা" ভাবে। তারা জানে, আপনি আছেন বলেই তাদের কোনো চিন্তা করতে হয় না। আপনি হলেন সেই সেফটি নেট, যা তাদের সমস্ত পতন থেকে বাঁচিয়ে নেয়।

যখন সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারার সময় আসে, তখন হঠাৎ করেই তাদের "অধিকারবোধ" জেগে ওঠে। যে সন্তানটি সারাজীবন বাবা-মায়ের মানসিক ও আর্থিক ভার বহন করল, তাকে তখন সমানে সমান ভাগ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাকে বঞ্চিতও করা হয়। এটাই হলো আপনার এত বছরের ত্যাগের পুরস্কার। আপনি শুধু তাদের ডাস্টবিনই ছিলেন না, আপনি তাদের সিঁড়িও ছিলেন, যা বেয়ে তারা আরামে ওপরে উঠেছে।

আপনি হয়তো এতক্ষণে আপনার জীবনের বাস্তবতার সাথে এই কথাগুলো মেলাতে পারছেন। আপনি হয়তো ভাবছেন, "আমি আর এই ভার বইতে পারছি না। আমার এবার নিজের জন্য বাঁচা উচিত।"

কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনি নিজের জন্য একটু ভাবতে শুরু করবেন, নিজের সীমানা তৈরি করার চেষ্টা করবেন, তখনই আপনার ওপর প্রয়োগ করা হবে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রাচীনতম অস্ত্রটি—অপরাধবোধ (Guilt)।

আপনাকে বলা হবে:
"তুই তো এখন অনেক বদলে গেছিস।"
"বিয়ে করে/টাকা-পয়সা কামিয়ে আমাদের ভুলেই গেলি।"
"আমাদের বুড়ো বয়সে দেখার কেউ রইল না।"
"তোর জন্য এতকিছু করলাম, আর আজ তুই আমাদের পর করে দিচ্ছিস?"

এই কথাগুলো বিষাক্ত তীরের মতো আপনার হৃদয়ে এসে বিঁধবে। আপনি ভেতরে ভেতরে ছটফট করবেন। আপনার মনে হবে, আপনি একজন স্বার্থপর, অকৃতজ্ঞ এবং "খারাপ" সন্তান। এই অপরাধবোধের কারাগারে আপনি আবার বন্দী হয়ে যাবেন। আপনি আবার ফিরে যাবেন সেই পুরনো ভূমিকায়, সেই ইমোশনাল ডাস্টবিনের জীবনে। কারণ "খারাপ সন্তান" হওয়ার ভয়, সমাজের চোখে নিন্দিত হওয়ার ভয় আপনার কাছে নিজের মানসিক শান্তির চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায়।

আমি আপনাকে কোনো সমাধান দিতে আসিনি। কারণ এর কোনো সহজ সমাধান নেই। আমি শুধু আপনার হাতে একটি জ্বলন্ত মশাল তুলে দিতে এসেছি, যা দিয়ে আপনি আপনার কারাগারের দেওয়ালগুলো স্পষ্ট দেখতে পাবেন। এবার নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করার সাহস সঞ্চয় করুন।

আপনার পরিবারের সদস্যরা কি আপনার জন্য শক্তির উৎস, নাকি আপনার মানসিক শক্তি নিঃশেষ করার কারণ? আপনি যখন তাদের ফোন ধরেন, আপনার কি আনন্দ হয়, নাকি অজানা আতঙ্ক হয়?

কল্পনা করুন, আপনার নিজের সন্তানও যদি আপনার মতোই একজন "ভালো সন্তান" হয়ে ওঠে এবং নিজের জীবনকে আপনার জন্য ধ্বংস করে দেয়, আপনি কি সেটা মেনে নিতে পারবেন? যদি না পারেন, তবে আপনি নিজে কেন এই জীবনযাপন করছেন?

যে ভাই-বোনেরা আপনার ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের সুখী জীবনযাপন করছে, তারা কি সত্যিই আপনার আপনজন, নাকি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় পরজীবী?

আপনি কি ভালোবাসা এবং কর্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করতে ভুলে গেছেন? যে "কর্তব্য" আপনাকে ভেতর থেকে মেরে ফেলে, সেটা কি পালন করাটা মহত্ত্ব, নাকি চরম বোকামি?

আর সবশেষে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক "ভালো সন্তান"-এর জন্য একটাই অন্তিম, হাড় কাঁপানো প্রশ্ন, যা আজ রাতে আপনাকে ঘুমাতে দেবে না: একদিন যখন আপনার বাবা-মা থাকবেন না, যখন আপনার কাঁধ থেকে এই তথাকথিত "দায়িত্ব" নেমে যাবে, সেদিন পিছনে তাকিয়ে আপনি কী দেখবেন? একটি পরিপূর্ণ, নিজের যাপন করা জীবন? নাকি অন্যের আবর্জনা পরিষ্কার করতে করতে নষ্ট হয়ে যাওয়া এক জীবনের ধ্বংসাবশেষ? সেদিন আপনার এই ত্যাগের জন্য কে আপনাকে মনে রাখবে?

©️ফারহানা

Address

Kuala Lumpur, Malaysia
Kuala Lumpur
47830

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Voice of Deprived Children বঞ্চিত সন্তানের কণ্ঠস্বর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Featured

Share