15/07/2024
সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ ও বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম
আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, মুহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজিত মাসিক সেমিনার সিরিজ-এর ষষ্ট লেকচারে।
এবারের পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬শে জুলাই, ২০২৪ শুক্রবারে।
এবারের পর্বের আলোচ্য বিষয় হলো 'ইবনুল আরাবি ও মহব্বতে ইলাহি' তথা খোদাপ্রেম ও ইবনে আরাবির দৃষ্টিভঙ্গি।
বিষয়ের বিস্তারিত প্রথম কমেন্টে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্পিকার হিসেবে থাকছেন প্রখ্যাত কবি, চিন্তক, লেখক, দার্শনিক হাফেজ মাওলানা মুসা আল-হাফিজ।
যুক্ত হবার জুম লিংক:
https://us06web.zoom.us/j/81488880193...
Meeting ID: 814 8888 0193
Passcode: 0000
আপনারা সবাই আমন্ত্রিত।
সার-সংক্ষেপঃ
“মহব্বতে ইলাহী” বা খোদাপ্রেম ইবনে আরাবির মতে, সত্তার সমগ্রতা নিয়ে পরমে বিলুপ্তি । তাঁর মতে আল্লাহর মহব্বত হলো একটি সিফাত বা গুণ, যা একদিকে “ওহবী” বা খোদাপ্রদত্ত, অন্যদিকে “কাসাবি” বা অর্জিত। লিপ্ততা, নিমজ্জন ও খোদার দেখানো পথে আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে তা অর্জন করতে হয়। যখন খোদার স্মরণ ও উপস্থিতির অনুভূতি বান্দার হৃদয়-মনকে সারাক্ষণ ঘিরে রাখে, যখন তার সমীপে নিবেদনের আকুতি সত্তাকে শাসন করে, যখন তার ধ্যানের স্বাদ ও অনির্বচনীয় অনুভূতি সমগ্র চেতনাকে মধুময় করে রাখে, খোদার অবাধ্যতা যখন জীবনের চূড়ান্ত পতন, আতংক, অনুতাপ ও মর্মযাতনার বিষয় হয়ে ওঠে, খোদার ভালোবাসায় যখন জগত ও সমগ্র সৃষ্টিকে ভালোবাসার অনুভূতি জাগ্রত হয়, নিজের ইচ্ছা, অনুভূতি, স্বভাব, প্রকৃতি ও অভ্যাস যখন খোদার পছন্দনীয় রঙে রঙিন হতে থাকে, তখন বান্দা প্রবেশ করে “মুহব্বতে ইলাহী”র গভীর প্রেমময় জগতে ।
ইবনে আরাবির দৃষ্টিতে ভালোবাসার বন্ধন গোটা জগতকে সাধারণভাবে এক করেছে। সেই বন্ধনের মধ্যে ঈমানের নূর যুক্ত হয়ে ঈমানদারদেরকে করে দিয়েছে একই দেহ। ভাষা, সংস্কৃতি, ভূগোল, কালগত দূরত্ব ইত্যাদি এই একত্বকে ম্লান করতে পারে না। ফলে অতীতের বর্তমানের কিংবা অনাগতকালের সকল বিশ্বাসী একই দেহ। সকল দেশের, ভাষার ও বিষয়ের দূরত্ব সত্তেও সকলেই এক। এই যে নৈকট্য, তা নিছক নৈকট্য নয়, একত্ব। এই একত্ব ওয়াহদাতুল ওয়াজুদের এমন এক তাজাল্লি, যা ঈমানের বরকতে মুমীনদের কলবসমূহে প্রবেশ করে।
খোদাপ্রেম কেবল ব্যক্তিক নয়, সে নৈর্ব্যক্তিক ও সর্বমাত্রিক। তার মাধ্যমে তৈরী হয়েছে হৃদয়ের আখলাক, আচরণের আখলাক, সমাজের আখলাক, প্রকৃতির আখলাক। এই সব আখলাকের বোধগম্য দিক সমূহ আবিষ্কারের চেষ্টায় মানব সভ্যতা আজকের জায়গা অবধি এসেছে। কিন্তু সকল বোধগম্য-অবোধগম্য দিকের মূলে , শাখায় ও পাতায় পাতায় আছে প্রেমের প্রকাশ। যাকে ধারণ, অবলম্বন ও লালনের মধ্যে মানুষের পূর্ণতা, নিখিলের কল্যাণ। সেই প্রেমকে উপেক্ষা করে মানুষ কৃত্রিমতাকে ভালোবাসছে। কিন্তু ইবনে আরাবি সারা জগতকে কৃত্রিমতা থেকে সতর্ক করছেন, আসলের প্রতি আকর্ষিত করছেন, জানিয়ে দিচ্ছেন - কুল্লু হুব্বিন ইয়াজুলু লাইসা বিহুব্বিন। সব প্রেমই হারিয়ে যায় কেবলই আসল প্রেম অনন্ত, অমর।
বক্তার বায়ো ডেটাঃ
মুসা আল হাফিজ (জন্ম :১৯৮৪) বিরলপ্রজ লেখক। তাঁর সৃষ্টি ও দৃষ্টি বহুবিহারী।তিনি আত্মপ্রকাশ করেন বিচিত্র প্রকরণে; কবিতায়, ছড়ায়, গবেষণায় , অনুবাদে, জীবনীগ্রন্থে, শিশুতোষে,কলামে, প্রবচনে। বিষয়েও তিনি বৈচিত্র্যময়। ইতিহাস, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, সাহিত্যসমালোচনা, সমাজ, রাজনীতি, সুফিবাদ, প্রাচ্যতত্ত্ব, পাশ্চাত্যবাদ , তুলনামূলক সভ্যতা ইত্যাদিতে বিচরণ তাঁর।
লেখাপড়া : পারিবারিক পরিবেশেই লেখাপড়ার হাতেখড়ি। ১৯৯৫ সালে, ১১ বছর বয়সে কুরআনুল কারিমের হিফজ সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে তাকমিল ফিল হাদীস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন। ২০০৮ সালে তাফসীরুল কুরআনে বিশেষজ্ঞ কোর্স সম্পন্ন । এবং জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ তরুণ আলিম প্রতিভা -২০০৮ এ সম্মানিত হন।
কর্মজীবন : ২০০৯ সালে কর্মজীবনের শুরু ঐতিহ্যবাহী বিশ্বনাথ জামেয়া মাদানিয়ায় শিক্ষকতা এবং মাসিক আল ফারুকের উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে। সাত বছর এখানে তাফসির, হাদিস এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যের পাঠদান করেন। ২০১৬ সালে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়াতুল খায়র আল ইসলামীয়া সিলেটে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান।
২০১৯ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামী দাওয়াহ ও গবেষণা কেন্দ্র সেন্টার ফর ইসলামিক থট এন্ড স্টাডিজ বা মা‘হাদুল ফিকরি ওয়াদদিরাসাতিল ইসলামিয়া। এখানে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, ইসলামী দর্শন , সিরাত ও ইতিহাস এবং আধুনিক দুনিয়া ও ইসলামী জীবনাদর্শের পর্যালোচনামূলক পাঠদান করেন।এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অতিথি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করে আসছেন।
সুফিচর্চা:
শুরু থেকেই আধ্যাত্মিক প্রবণতা তার মধ্যে ছিলো। এটি তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য থেকেই লাভ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের অনেকেই ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক। যাদের মধ্যে আছেন কিংবদন্তির বিখ্যাত বুজুর্গ হাজি কালা রহ. এবং তাঁর নানা আলহাজ্ব আজিজুর রহমান রহ. ।
পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নিয়মতান্ত্রিক আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য তিনি ২০০৭ সালে বায়আত গ্রহণ করেন। তার মুর্শিদ ছিলেন হযরত শায়খ তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রহ.। ২০১১ সালে তিনি স্বীয় শায়খের পক্ষ থেকে আধ্যাত্মিক সাধনায় খিলাফাত লাভ করেন।
সাহিত্যসাধনা :
ইতিমধ্যে ৬৬ টি বই লিখেছেন যার মধ্যে আছে, কবিতা (৫), গবেষণা (9) , জীবনী (৬), প্রবন্ধগ্রন্থ (৮), দর্শন-জীবনভাবনা (৮), অনুবাদ ও আলোচনাগ্রন্থ (৭), সীরাত (৩), উপন্যাস (১),
প্রকাশিতব্য (১১)