01/07/2026
দশ বছর: যা ভেবেছিলাম, যা হয়েছে, যা হয়নি
২০১৬ সালের ১৫ই আগস্ট। চারজন মানুষ। মধুবাটি দু'নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘর। ৪২ জন বাচ্চা, হাতে রঙ পেন্সিল।
সেদিন কোনো বড় vision ছিল না। ছিল একটা সহজ অস্বস্তি — স্বাধীনতা দিবস মানে কি শুধু পতাকা তুলে বিস্কুট খেয়ে বাড়ি ফেরা? রিয়া আর আমি চাইছিলাম আশেপাশের স্কুলগুলির বাচ্চাদের কাছে ওই দিনটা একটু অন্যরকম হোক। সেটুকুই ছিল শুরুর কথা।
রিয়া দাস আজ আর নেই। কিন্তু ভোরের আলো আছে। এটা লিখতে গিয়ে বারবার মনে হচ্ছে — সে যদি দেখতে পেত যে সেই চারজন থেকে আজ পঞ্চাশের উপরে মানুষ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, ১৫টা স্কুল — সে কী বলত?
একটা জিনিস বিশেষভাবে বলতে চাই। প্রথম বছরে যে ৪২ জন বাচ্চা রঙ পেন্সিল হাতে বসেছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন আজ ভোরের আলোর সদস্য। এটা কোনো পরিকল্পনা করে হয়নি — এটা হয়েছে। এই একটা তথ্যই আমার কাছে দশ বছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দশ বছর পরে দাঁড়িয়ে সততার সাথে বলতে হয়: আমরা যা ভেবেছিলাম তার অনেকটাই করতে পারিনি। Library হয়নি। Scholarship fund দাঁড়ায়নি। ২০১৮-তে মধুবাটি সুরবালা বিদ্যামন্দিরে একটা exhibition করেছিলাম — সেটা ভালো হয়নি, audience আনতে পারিনি। দুটো বছর করোনায় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, সেই শূন্যতাটা এখনও একটু বাজে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা আজও আছে — অনেক পরিকল্পনা কাগজেই থেকে গেছে।
কিন্তু যা হয়েছে সেটাও কম না। প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট রঙ পেন্সিল হাতে যে বাচ্চাগুলো বসে, তাদের মুখের দিকে তাকালে বোঝা যায় — এই ছোট জিনিসটার একটা মানে আছে। কল্যাণ স্যার যেদিন প্রথম স্কুলের দরজা খুলে দিয়েছিলেন, সেই বিশ্বাসটা আমরা রাখতে পেরেছি।
দশ বছর মানে এই নয় যে আমরা সফল। দশ বছর মানে হলো — আমরা থেমে যাইনি।
এগারোতম বছরে পা দিচ্ছি। কী হবে জানি না। কিন্তু ১লা জুলাই ভোরের আলোর জন্মদিন — আর এই দিনটা আমার কাছে একটা হিসেব নেওয়ার দিন, শুধু উৎসবের নয়।
- অনিরুদ্ধ দাস
সভাপতি, ভোরের আলো
১লা জুলাই ২০২৬