16/08/2026
আজ সকালে হঠাৎ একটি অজানা ফোন এল।
ওপাশ থেকে ভেসে এল , আমাদের সংস্থার সেক্রেটারি র কাছে একটি বাক্য—
“আপনি যে দিদাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন… দিদা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।”
দিদার নাম ছিল, কিন্তু পরিচয় ছিল না।
ছিল না কোনো আত্মীয়-স্বজন, ছিল না এমন কেউ—যে তাঁর শেষ যাত্রার দায়িত্ব নেবে।
সেই বৃদ্ধা দিদাকে,আমাদের সংস্থা ভর্তি করেছিলেন, চিকিৎসা চলছিল।
তাই প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে এল—
“তাহলে কি তাঁর শেষকৃত্যও আমাকে সম্পূর্ণ করতে হবে?”
ওপাশ থেকে উত্তর এল—
আপনারা আগে মেডিকেল কলেজে আসুন। কিছু সিগনেচার লাগবে। যেহেতু আপনারাই বৃদ্ধা মহিলা কে ভর্তি করিয়েছিলেন, আপনিই ছাড়া তাঁর আর কেউ নেই।”
আমরা মেডিকেল কলেজে গেলাম।
মর্গে গেলাম।
পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বললাম।
মর্গের দায়িত্বে থাকা টিমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আমাদের টীম।
প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিলাম, সমস্ত ডকুমেন্টেশন সম্পূর্ণ করলাম।
মনের রঙ্গোলি স্মাইলিং সোসাইটির সেক্রেটারির নিজেস্ব আইডেন্টিটি দিয়েই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
পোস্টমর্টেমের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হলো।
অবিশ্বাস্যভাবে, প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পূর্ণ হয়ে গেল।
তারপর সামনে এল আরেকটি দায়িত্ব—শেষ যাত্রা।
আমরা ফোন করলাম মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে।
দিদার শেষকৃত্যের জন্য তাঁরা স্বল্পমূল্যে দারা শেষকৃত কাজ সম্পূর্ণ করেছে।
কথায় বলে—
কর্ম যদি পরিষ্কার থাকে, সময় এলে সেই যাত্রা কখনও লোকহীন হয় না।
কোনো না কোনোভাবে সহযাত্রী এসে দাঁড়ায়।
ঠিক তাই হলো।
আমাদের সংস্থার পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন শিলিগুড়ি ড্রিম ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট বিজয় কর্মকার।
তাঁদের সহযোগিতায় এই কার্য একত্রে সম্পূর্ণ করা হলো।
সাথে আমাদের সংস্থার সদস্য মৌ আচার্য দিদির সহায়তায় শেষকৃত্য সম্পূর্ণ করার জন্য আমাদের হাতে কিছু অর্থ তুলে দিয়েছিলো যাতে আমরা সুষ্ঠভাবে সৎকার সম্পূর্ণ করতে পারি। ধন্যবাদ দিদি 🌞🌼🙏
সেই সহযোগিতাই দিদার শেষ যাত্রাকে সম্পূর্ণ হতে সাহায্য করল।
কোনো বাধা ছাড়াই, অত্যন্ত সুন্দরভাবে, একজন পরিচয়হীন মানুষের শেষ পরিচয়টুকু আমরা সম্পূর্ণ করতে পারলাম।
হয়তো জীবনে আমাদের পরিচয় অনেক কিছু দিয়ে তৈরি হয়।
কিন্তু মৃত্যুর পর একজন মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—
কেউ যেন তাকে একা ফেলে না যায়।
আজ দিদার কোনো আত্মীয় ছিল না,
কিন্তু শেষ যাত্রায় তিনি একা ছিলেন না।
🙏🌼🌞
কৃতজ্ঞতা জানাই—
🌼 শিলিগুড়ি ড্রিম ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে—সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।
🌼 মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে—মর্গ থেকে শ্মশান পর্যন্ত শেষকৃত্যের কাজে সহযোগিতা করার জন্য।
🌼 মাটিগাড়া পুলিশ প্রশাসনকে—সমস্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য।
🌼 শিলিগুড়ি মেডিকেল কলেজ মর্গের সমস্ত টিমকে—প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে দিয়ে এবং আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য।
পরিচয়হীন মানুষের পরিচয় হয়ে দাঁড়ানো—
হয়তো এটাই আমাদের পথ।