17/04/2026
পশু-পাখিদের আলাদা কোনও “নববর্ষ” ক্যালেন্ডারে নেই, কিন্তু মানুষের অনেক নববর্ষ উৎসবেই ওদের বড় ভূমিকা থাকে। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় পশু-পাখিকে ঘিরে কিছু রীতিনীতি পালন হয়।
বাংলা নববর্ষে পশু-পাখির ভূমিকা
*পহেলা বৈশাখ*
- কৃষকেরা গরু-মহিষকে স্নান করিয়ে গায়ে হলুদ-তেল মাখায়, শিংয়ে রঙ দেয়, গলায় মালা পরায়। একে বলে “গো-পূজা” বা “গরু ডাকা”।
- বিশ্বাস: সারা বছর গরু সুস্থ থাকবে, ফসল ভালো হবে।
- অনেক জায়গায় লাঙল, মই-এরও পূজা হয় কারণ ওগুলো গরুর সাথেই জড়িত।
*নবান্ন উৎসব* – অগ্রহায়ণ মাস
নতুন ধান উঠলে প্রথম ভাত কাক-শালিককে খেতে দেওয়া হয়। কাককে “নতুনের দূত” মানা হয়। গরুকেও নতুন খড় ও পিঠা খাওয়ানো হয়।
*পৌষ সংক্রান্তি / পৌষ পার্বণ*
এই দিনে গৃহস্থরা গোয়াল ঘর লেপে আলপনা দেয়। গরুকে পিঠা-পায়েস খেতে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও “বাঘাই উৎসব” হয় — বাঘের হাত থেকে গরু রক্ষার জন্য মানত।
ভারতের অন্যান্য জায়গায় পশুদের নববর্ষ
উৎসব কোথায় কবে কী করা হয়
**মাট্টু পোঙ্গল** তামিলনাড়ু পোঙ্গল-এর ৩য় দিন, জানুয়ারি গরুকে স্নান করানো, শিং রঙ করা, গলায় ঘণ্টা-মালা। গরু দৌড় প্রতিযোগিতা হয়
**গরু বিহু** আসাম বোহাগ বিহুর প্রথম দিন, এপ্রিল গরুকে নদীতে স্নান, গায়ে হলুদ-মাষকলাই বাটা, লাউ-বেগুন খাওয়ানো
**পোলা** মহারাষ্ট্র শ্রাবণ মাস বলদকে সাজিয়ে গ্রামে শোভাযাত্রা, বিশ্রাম দেওয়া হয়
**বৈল পোলা** কর্নাটক, অন্ধ্র শ্রাবণ/ভাদ্র বলদ পূজা, শিংয়ে রঙ, গলায় ফুল
পাখিদের নিয়ে রীতি
বাংলায় সরাসরি পাখির নববর্ষ নেই, তবে অনেক উৎসবে পাখিকে খাওয়ানো শুভ মানা হয়।
- *চৈত্র সংক্রান্তি*: ছাতুর সাথে কাক-শালিককে খেতে দেওয়া হয়।
- *জামাইষষ্ঠী*: শালিক দেখা শুভ, তাই পাখির জন্য জল-ধান রাখা হয়।
- শীতকালে পরিযায়ী পাখি এলে অনেক এলাকায় “পাখি মেলা” হয় — এটাও একরকম নতুন বছরকে স্বাগত জানানো।
মজার কথা হলো, পশু-পাখির “নববর্ষ” মানে মানুষের কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন। সারা বছর যারা খাটে, ফসল ফলায়, পরিবেশ ঠিক রাখে — বছরের একটা দিন তাদের আদরযত্ন করা হয়।
তুমি কি মুর্তি নদীর পাশে কোনো গ্রামে এই রকম গরু-পূজা দেখতে চাও? এপ্রিলে গেলে পহেলা বৈশাখের আয়োজন দেখতে পাবে।
লেখা :- সংগৃহীত
ছবি :- আমাদের অর্থাৎ শান্তিপুর আলোকবর্ষর পয়লা বৈশাখে চারপেয়েদের সাথে কিছুটা সময় কাটানোর মুহূর্তের।