28/12/2025
ক্বুরআনের বিরুদ্ধে অবমাননা ও মিথ্যাচারের জবাব ও প্রতিবাদ।
বি জে পি বিধায়ক অসীম সরকার যেভাবে ক্বুরআন সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন,তা ভারতীয় সংবিধান বিরোধী। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এবিষয়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তাঁকে তাঁর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে! নচেত তাকে ডিবেটে বসতে হবে। আর না হলে মুসলিম জাতি এর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেবে। ইন্ শা আল্লাহ্।
বি জে পি বিধায়ক অসীম সরকার- পুলিশ প্রহরায় মিডিয়ার সামনে সচেতনভাবে বা অজ্ঞতাবশত ক্বুরআন ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বলেছেন—
📖 “আদি ক্বুরআন বদর যুদ্ধে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমান ক্বুরআন ২৭ জন শয়তানের লেখা। এই ক্বুরআনে বলা হয়েছে অমুসলিমদের যেখানে পাইবে তাদেরকে বন্দি করিবে এবং তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করিবে। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে সেই ক্বুরআন আছে, আমি চ্যালেঞ্জ করছি। সেই ধর্মগ্রন্থে আমি প্রস্রাব করি, আমি যখন তখন পুড়িয়ে ফেলতে পারি! মানবতা বিরোধী এই ধর্মগ্রন্থ!”
তিনি এইভাবে সংবিধান বিরোধী অফেনসিভ কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
জবাব:-
📖 ক্বুরআন কি হিংসার নির্দেশ দেয়? নাকি সত্য গোপন করা হচ্ছে? এটি চরম মিথ্যা ও প্রসঙ্গচ্যুত অপব্যাখ্যা! এটা আসলে অজ্ঞতার পরিচয়! রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার আড়ালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে দাঙ্গা লাগানোর কুকৌশল মাত্র!
আসুন ক্বুরআন থেকেই সত্য রহস্য দেখে নিই।
🎙️বদর যুদ্ধে না কি ক্বুরআন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে! এটা বলা একদম অজ্ঞতার পরিচয়!
বদর যুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ ক্বুরআন অবতীর্ণই হয়নি। তাহলে পুড়ে ছাই হলো কিভাবে?
📖 সূরাহ্ আততাওবার আয়াত নং-৫ এর অপব্যাখ্যা পেশ করা হয়েছে! মহান আল্লাহ বলেনঃ
فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ ۚ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
বাংলা অনুবাদঃ-
অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদেরকে যেখানে পাবে হত্যা কর, তাদেরকে পাকড়াও কর, অবরোধ কর এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে থাক; কিন্তু যদি তারা তাওবাহ করে, স্বলাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয় তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও; নিশ্চয় আল্লাহ্ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ্ আত-তাওবাহ আয়াত: ৫)
উক্ত আয়াত অবতীর্ণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ-
এই আয়াতটি মক্কা বিজয়ের পর (৮ম হিজরীতে) নাযিল হয়েছে। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কুরাইশরা এবং তাদের মিত্র বনু বকর মুসলিমদের মিত্র বনু খুযাআহ গোত্রের উপর আক্রমণ করে সন্ধি ভঙ্গ করে। ফলে রসূলুল্লাহ্ স্বল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয় করেন। এরপর আরবের বিভিন্ন মুশরিক গোত্রের সাথে যেসব সন্ধি ছিল, সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলে বা ভঙ্গ হলে তাদেরকে ৪ মাসের অবকাশ দেওয়া হয়। এই ৪ মাসকে "আশহুরুল হুরুম" অর্থাৎ নিষিদ্ধ মাস বলা হয়েছে,যে মাসগুলোতে যুদ্ধ বিগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এই চার মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর যারা সন্ধি ভঙ্গ করেছে বা শত্রুতা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটি নির্দেশ ছিল নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সন্ধি ভঙ্গকারী আরবের মুশরিকদের জন্য। হত্যা, বন্দী করা, অবরোধ করা এবং ওঁত পাতা। এটি শুধুমাত্র যুদ্ধরত বা শত্রুতাপূর্ণ মুশরিকদের জন্য, সাধারণ শান্তিপ্রিয় নাগরিক, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের জন্য নয়।
মহান আল্লাহ্ পূর্ববর্তী আয়াতে বলেছেন:
إِلَّا ٱلَّذِینَ عَـٰهَدتُّم مِّنَ ٱلۡمُشۡرِكِینَ ثُمَّ لَمۡ یَنقُصُوكُمۡ شَیۡـࣰٔا وَلَمۡ یُظَـٰهِرُوا۟ عَلَیۡكُمۡ أَحَدࣰا فَأَتِمُّوۤا۟ إِلَیۡهِمۡ عَهۡدَهُمۡ إِلَىٰ مُدَّتِهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ یُحِبُّ ٱلۡمُتَّقِینَ
অর্থাৎ— তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন সন্ধি ভঙ্গ করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন। (আত্ তাওবাহ্ আয়াত:৪) যারা সন্ধি রক্ষা করেছে তাদের সাথে চুক্তি পূর্ণ করতে হবে। তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হবে না।
ঐ সূরার ৬ এবং ৭ নং আয়াতে বলেন:
وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ ٱلْمُشْرِكِينَ ٱسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّىٰ يَسْمَعَ كَلَٰمَ ٱللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ۥ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْلَمُونَ
অর্থাৎ — আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।
كَيْفَ يَكُونُ لِلْمُشْرِكِينَ عَهْدٌ عِندَ ٱللَّهِ وَعِندَ رَسُولِهِ ۦٓ إِلَّا ٱلَّذِينَ عَٰهَدتُّمْ عِندَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۖ فَمَا ٱسْتَقَٰمُوا لَكُمْ فَٱسْتَقِيمُوا لَهُمْ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلْمُتَّقِينَ
অর্থাৎ— মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট, তারা যতদিন তোমাদের জন্যে চুক্তিতে আবদ্ধ থাকবে, তোমরাও তাদের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।(অর্থাৎ, চুক্তি বজায় রাখা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ)
নোটঃ— অনেকে এই আয়াতের প্রেক্ষাপট ছাড়াই উদ্ধৃত করে ইসলামকে হিংস্র বলে প্রচার করে, কিন্তু আগে পিছে আয়াত গুলো অধ্যায়ন করলে বোঝা যায় এটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত।
Mokhtar Hossain.