14/02/2026
যুগান্তর স্বেচ্ছাসেবক এর উদ্যোগে ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা কান্ডে নিহত শহীদ জাওয়ান দের প্রতি শ্রদ্ধা ও জ্ঞাপন
ভালোবাসা কখনোই খারাপ নয়। ভালোবাসা মানে হৃদয়ের বন্ধন, মানবতার আলো, সম্পর্কের উষ্ণতা।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন ভালোবাসা বড়? কেবল দু’জন মানুষের মধ্যে আবদ্ধ ভালোবাসা, নাকি সেই ভালোবাসা যা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েও দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষা করে?
আমাদের জওয়ানরা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা নিঃস্বার্থ, পবিত্র এবং চিরন্তন। তারা তাঁদের পরিবার, সন্তান, স্বপ্ন—সবকিছু পিছনে রেখে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। এটাই তো সর্বোচ্চ ভালোবাসা।
আজ যখন চারদিকে লাল গোলাপের রঙ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার বার্তা, তখন আমাদের মনে পড়ে যায় সেই শহীদ পরিবারগুলোর কথা—যাদের কাছে ১৪ই ফেব্রুয়ারি মানেই অশ্রুসিক্ত স্মৃতি। কোনো সন্তানের কাছে বাবা আর ফিরবেন না, কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামী আর দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকবেন না, কোনো মায়ের কোল আর ভরবে না। তাদের কাছে এই দিনটি উৎসব নয়, গভীর শোকের দিন।
আমরা ভারতবাসী হিসেবে কি এই দিনটিকে শুধুই “Valentine’s Day” হিসেবে উদযাপন করব? নাকি মাথা নত করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে “Black Day” হিসেবে স্মরণ করব? আমার কাছে আজকের দিনটির সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—দেশপ্রেম। কারণ যে মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা ভালোবাসার কথা বলি, সেই মাটিকে রক্ষা করার জন্যই তো আমাদের বীর সন্তানরা প্রাণ দিয়েছেন।
আজকের দিনটা আমাদের কাছে আত্মসমালোচনারও দিন। আমরা কি যথেষ্ট কৃতজ্ঞ? আমরা কি তাদের ত্যাগকে সম্মান দিই? যদি সত্যিই ভালোবাসা উদযাপন করতে চাই, তবে আসুন সেই ভালোবাসা দেশমাতৃকার জন্য উৎসর্গ করি। একটি মোমবাতি জ্বালাই শহীদদের স্মরণে, একটি প্রার্থনা করি তাদের আত্মার শান্তির জন্য, এবং একটি অঙ্গীকার করি—দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আমরা কখনো ভুলব না।
ভ্যালেন্টাইন্স ডে হয়তো ব্যক্তিগত অনুভূতির দিন, কিন্তু ১৪ই ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে জাতীয় বেদনার দিনও। তাই আমার কাছে আজকের দিনটি “ভালোবাসার দিন” নয়, বরং “বীরদের স্মরণে কালো দিন”। কারণ দেশের জন্য আত্মত্যাগই সর্বোচ্চ ভালোবাসা।
জয় হিন্দ 🇮🇳