26/01/2026
ভারতের ৭৭-তম প্রজাতন্ত্র দিবস এবং গত ২৩ জানুয়ারি দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯-তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল সারগাছি, মুর্শিদাবাদের বিশিষ্ট সমাজ ও সংস্কৃতি চিন্তক গোষ্ঠী ‘পরিবর্তন’। জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সমগ্র অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
দিবসটির গাম্ভীর্য বজায় রেখে অনুষ্ঠানের শুরুতেই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদানের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। উদ্বোধনী সংগীত হিসেবে শিল্পী দেবরাজ মন্ডল পরিবেশন করেন কালজয়ী দেশাত্মবোধক গান “এ ওয়াতান”। তাঁর উদাত্ত কণ্ঠের সুর মূর্ছনায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক দেশপ্রেমের আবহ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবন্ধু শ্রদ্ধেয় নুরুল আলম মহাশয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও সামাজিক চেতনার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এরপর শুরু হয় বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পর্ব। সন্দ্বীপ সরকারের কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গানের সুর দর্শকদের মোহিত করে। আবির রহমান ও নাজিয়া ওজমার বলিষ্ঠ আবৃত্তি অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাখি মণ্ডল ও ‘নাচের আলো’ গোষ্ঠীর সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। তাঁদের শৈল্পিক মুদ্রায় ফুটে ওঠে তারুণ্যের শক্তি ও সংস্কৃতিপ্রীতি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় নির্ধারিত আলোচনা সভা। আজকের দিনে ‘নেতাজি চর্চার তাৎপর্য’ শীর্ষক বিষয়ে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রদ্ধেয় আরিফ খোন্দকার মহাশয়। তিনি বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে সুভাষচন্দ্রের আদর্শ, নির্ভীকতা এবং ঐক্যবদ্ধ ভারতের স্বপ্নকে পাথেয় করে চলার আহ্বান জানান
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। সভার শেষলগ্নে সভাপতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও বিশেষ বক্তব্য রাখেন ক্লাব সম্পাদক প্রভাত সরকার মহাশয়।
সংগঠনের এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন সাথী মন্ডল, আশিক রহমান, মোস্তফা খান, সুস্মিতা মন্ডল, সামিমা সারমিন, অরুপ মন্ডল, আফতাবুদ্দীন মোল্লা ও হুমায়ূন কবির-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
স্থানীয় ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ অনুষ্ঠানটিকে পূর্ণতা দান করে।
।