06/06/2024
★★★ রাজধর্ম ★★★
"আপকো স্যালুট ক্যারুঙ্গা তো দেশ কা স্যম্মান ব্যড়েগা", বলেই সেই বি এস এফ অফিসার কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে কাঁধের বন্দুকটাকে শক্ত করে ধরে ডান পায়ের বুট মাটিতে সশব্দে ঠুকে সটান স্যালুট করে ফেললেন।
গত বৃহস্পতিবার, মানে শেষ দফা লোকসভা নির্বাচনের ঠিক দু'দিন আগের কথা।
সেদিন ভোটের জন্য স্কুল বিল্ডিং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দখলে। প্রায় দুই কোম্পানি বিএসএফ জওয়ানের দিন পনেরোর অস্থায়ী সংসার। কিছুদিন আগে আরও এক কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান এখানে থেকে গেছেন। রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে তখন গরমের ছুটি চলছে। তার ওপর একদিন পরেই শেষ দফার লোকসভা ভোট। এই স্কুলেই রয়েছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। তাই সেক্টর অফিসের লোকেদের ইতিউতি আসা-যাওয়া ও তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। ওয়েবকাস্টিং এর ক্যামেরা লাগানো থেকে শুরু করে জেনারেটরের কানেকশন ঠিক আছে কিনা সব চেক করে নেওয়া, মানে যাকে বলে একেবারে লাস্ট মিনিট রিহার্সাল। স্কুল বিল্ডিংয়ের তিনতলায় বিএসএফের একটা উচ্চপর্যায়ের হাই ভোল্টেজ মিটিং চলছে। নিচে জওয়ানরা অ্যাসল্ট রাইফেল, ট্যাভর, ইনসাস ইত্যাদি হাতে নিয়ে ঠিক সীমান্ত রক্ষার ধাঁচেই কড়া প্রহরায় দাঁড়িয়ে। মাছি গলারও জো নেই। এমন সময় স্কুলের গেটে এসে দাঁড়ালেন একজন মধ্য তিরিশের ভদ্রলোক। ছ'ফুট হাইট, মাঝারি গড়ন, মাথাভর্তি অগোছালো চুল, মুখভর্তি গোঁফ-দাড়ি, চোখে চশমা, কাঁধে ব্যাগ, পরনে রাউন্ডনেক টিশার্ট আর ট্রাউজার। একশ' সত্তর কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ট্রেন থেকে নেমে গলদঘর্ম হয়ে এসেছেন তিনি। ঢোকার মুখেই পেলেন বাধা।
"কাঁহা যানা হ্যায়?", এক জওয়ানের সন্দিগ্ধ প্রশ্ন।
"ম্যায় প্যড়ানে কে লিয়ে আয়া হুঁ। হ্যর গুরুবার ইধার এক কোচিং ক্লাস হোতা হ্যায়", টলোমলো হিন্দিতে উত্তর দিলেন ওই ভদ্রলোক।
"আজ তো আপ আন্দার নেহি যা স্যকতে। ইধার মিটিং চ্যল রাহা হ্যায়। ইলেকশন কে লিয়ে পুরা বিল্ডিং হাম লে চুকে হ্যাঁয়", সটান জবাব জওয়ানের।
"লেকিন ম্যায় তো পিছলে গুরুবার ভি আয়া থা। অওর উস দিন সিআরপিএফ কা জো অফিসার থে, উনসে বাত ভি ক্যারকে গ্যয়া থা। উনহোনে হি তো বোলা থা, কে ইস গুরুবার, ইয়ানি আজ, ক্লাস ক্যরওয়ানেমে কুছ দিক্ক্যত নেহি হোগা", বলেই কেমন যেন চিন্তিত হয়ে পড়েন ভদ্রলোক।
"প্যহেলে জো সিআরপিএফ আদমি থে, উও তো চ্যলা গ্যয়া। আভি হাম বিএসএফ ওয়ালে আয়ে হ্যাঁয়। আপ আইয়ে মেরে সাথ। হামারা অফিসারজি সে বাত কিজিয়ে", ভদ্রলোককে সঙ্গে নিয়ে স্কুল বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকলেন সেই বন্দুকধারী জওয়ান।
তখন ঘড়িতে প্রায় সওয়া এগারোটা বাজে। ক্লাস শুরু হওয়ার কথা বারোটা থেকে। ছেলেমেয়েরা আর আধঘন্টার মধ্যেই আসতে শুরু করবে। এতজন ছেলেমেয়ে এসে কি আবার এই রোদের মধ্যে ফিরে যাবে! স্কুল ছুটি থাকার জন্য এখন সপ্তাহে মাত্র একটা দিনই ক্লাস হয়। সেটাও কি এই সপ্তাহে করা যাবে না! এতদূর থেকে আসাটা কি বৃথা হয়ে যাবে! এইসব হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে ভেতরে ঢোকেন ওই ভদ্রলোক। ঢুকে দেখলেন, যে ক্লাসরুমে এই কোচিং ক্লাসটা হয়, সেটাও বিএসএফের দখলে। সেখানে বিছানা, বালিশ রাখা। গামছা, জামাকাপড়ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঝুলছে দড়িতে।
ওই বিএসএফ জওয়ান পরিচয় করিয়ে দিলেন তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসারের সাথে। প্রায় সাড়ে ছ'ফুট হাইট, ফর্সা টুকটুকে কাশ্মীরী গায়ের রঙ, পেটানো চেহারা, শক্ত চোয়াল, সন্দেহ মাখা দূরদর্শী চোখ।
"হাঁ ব্যতাইয়ে", উঠে দাঁড়ালেন সেই অফিসার।
"স্যার, ইধার হ্যর গুরুবার তিন ঘ্যন্টে কে লিয়ে এক ফ্রী কোচিং ক্লাস হোতা হ্যায়। ইয়ে জো গাঁও হ্যায় না, ইধার স্কুল ড্রপআউট, চাইল্ড ম্যারেজ, চাইল্ড প্রেগন্যান্সি রেট বহত হাই হ্যায়। বাচ্চে কা ইয়া তো শাদি হো যাতে হ্যায়, নেহি তো উনকো কুছ কাম মে বাহার ভেজ দিয়া যাতা হ্যায়। গাঁওবালো কা আর্থিক স্থিতি ঠিক নেহি হ্যায়। ইসি লিয়ে হামনে সোচা হ্যায় কে, ইস বাচ্চে কো হাম প্যড়ায়েঙ্গে। ফ্রী মে প্যড়ায়েঙ্গে। যো বাচ্চে টুয়েলভথ কি এক্সাম পাস হো গ্যায়ে, উনকো হাম স্যরকারি নকরি ইয়া তো পুলিশ মে ভর্তি কে লিয়ে প্যড়ায়েঙ্গে। এক ভি বাচ্চে কো নকরি মিল জায়ে তো ইস গাঁও কা জিয়োগ্রাফি বদল জায়েগা। উনকো দেখ্ ক্যর বাকি বাচ্চে ভি ইন্সপায়ারড হোগা। আপকে জ্যায়সে ফওজি সেবা মে ভর্তি হোনে কে লিয়ে ভি হাম প্যড়াতেহেঁ। আভি কুছহি দের মে হি সব বাচ্চে আ জায়েঙ্গে", একরাশ প্রত্যাশা নিয়ে বলে গেলেন ভদ্রলোক।
বিএসএফের অফিসার অনেকক্ষণ ভাবলেন। তারপর বললেন, "স্যারজি, আপ তো বহত ব্যড়িয়া কাম কর র্যহে হ্যাঁয়। আপ ইধার ব্যঠিয়ে। হামারা জো বড়া অফিসার হ্যায়, উও উপর মিটিংমে ব্যস্ত্ হ্যায়। হাম একবার উনসে পুছকে আতে হেঁ। পারমিশন মিল জায়েগা তো আপ ক্লাস ক্যর সকতে হ্যায়।" বলেই উনি উঠে গেলেন। কাঁধে ইনসাস, মাথায় বাঁকানো ফৌজি টুপি। গট গট বুটের শব্দটা আস্তে আস্তে বারান্দা পেরিয়ে ওপরে উঠে হালকা হয়ে গেল। আগের সেই জওয়ান তখনও রুমের বাইরে ঋজু ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে।
উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার দেগঙ্গা ব্লকের একটা ছোট গ্রাম। প্রায় সত্তর শতাংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। প্রাচীন কাল থেকে এই এলাকার বুক চিরে বয়ে চলেছে বিদ্যাধরী নদীর জল। এখন যেন বয়সের ভারে স্রোত হারিয়ে নড়বড়ে হয়েছে তার চলন। খনা-মিহিরের ঢিবি, রাজা চন্দ্রকেতুর গড়, পীর গোরাচাঁদের মাজার থেকে শুরু করে তিতুমীরের আন্দোলনের ইতিহাস ইত্যাদি নিয়ে একসময়ের এক বর্ধিষ্ণু এলাকা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আর্থসামাজিক অবস্থার অবনয়ন হয়েছে গুণোত্তর প্রগতিতে। হাড়োয়া রোড স্টেশন থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে এই হাইস্কুল। এখানে অধিকাংশই ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার। এই এলাকায় বেশিরভাগ মেয়ের নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায় আর ছেলেরা ছোট থেকেই কাজ শুরু করে দেয় কোনো গ্যারেজ কিংবা কোনো আলমারি কারখানা অথবা জিন্স কারখানায়। নাহলে কাজের খোঁজে পাড়ি দেয় ভিন শহর বা ভিন রাজ্যে। ক্লাস সিক্সে পড়া মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়ে পরের বছর সন্তান জন্ম দেওয়ারও রেকর্ড আছে বছর দুয়েক আগে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে পঞ্চায়েত, কেউ চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখে না। কিন্তু সচেতনতাটা যেন কোনো ভাবেই বিঁধতে পারছে না আর্থসামাজিকভাবে শুকিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর বিবেক কে।
মিনিট দশেক পরে সেই অফিসার নেমে এলেন। সাথে আরও জনা দশেক জওয়ান। সকলেই অস্ত্রশস্ত্রসজ্জিত। বললেন, "স্যারজি, পারমিশন মিল গ্যয়া। আপ প্যড়াইয়ে।" বলেই চলে গেলেন বিল্ডিংয়ের বাইরে। প্রহরারত জওয়ানদের নির্দেশ দিলেন, যাতে কোনো স্টুডেন্টকে আটকানো না হয়। আবার ফিরে এলেন। এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আপ কাঁহা প্যড়ায়েঙ্গে? স্যব ঘর তো হাম লে চুকে হ্যায়। এক কাম কিজিয়ে, আপ উও জো রুম হ্যায় না, যাঁহা ইলেকশন কা বুথ হোগা, উধার ক্লাস ক্যরওয়াইয়ে।"
"লেকিন স্যার, উধার তো ক্যামরা লাগা হুয়া হ্যায়। বেঞ্চ ভি তো নেহি হ্যায়", অসহায় ভাবে বললেন সেই ভদ্রলোক।
"ক্যামরা সে কুছ নেহি হোগা। হাম স্যব সামহাল লেঙ্গে। অওর বেঞ্চ কি ইন্তেজাম হাম ক্যর দেতে হ্যায়", বলেই বাকি জওয়ানদের নিয়ে বাইরে থেকে বেঞ্চগুলো ওই রুমের ভেতরে ঢোকাতে শুরু করলেন নিজেই। ভদ্রলোক সাহায্য করতে গেলেও ওনাকে হাতও লাগাতে দিলেন না।
এদিকে ঘড়িতে বারোটা ছুঁইছুঁই। ছেলেমেয়েরাও আসতে শুরু করেছে একে একে। আস্তে আস্তে ভরে উঠলো বেঞ্চগুলো। শুরু হলো ক্লাস। রিজনিং আর অঙ্কের ক্লাস হওয়ার কথা ছিল। হলও তাই। ক্লাসরুমের বাইরে তখন সশস্ত্র পাহারায় চারজন জওয়ান।
কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ একটা হট্টগোল কানে এল ভদ্রলোকের। নির্বাচনের স্থানীয় সেক্টর অফিসার সহ কয়েকজন এসেছেন। ওনারা ওই ক্লাসরুমে ঢুকতে চাইছেন, কিন্তু বাধা দিচ্ছেন পাহারারত ওই জওয়ানরা। সেক্টর অফিসার নিজের পরিচয় দিলেও এবং বুথ পরিদর্শনের কারণ দেখালেও ক্লাসরুমে ঢোকার অনুমতি মিললো না। জওয়ানদের একটাই উত্তর, "আন্দার এক ক্লাস চ্যলরাহা হ্যায়। জো কাম ক্যরনা হ্যায়, তিন বাজে কে বাদ আকে কিজিয়ে।" সেক্টর অফিসারের অনেক নরম-গরম কথাতেও চিড়ে ভিজলো না। ক্লাস চলতে থাকলো নির্বিঘ্নেই।
মিনিট পনেরো পরে সেই বিএসএফ অফিসার আবার এলেন ক্লাসরুমের সামনে। "স্যারজি, সব ঠিক হ্যায় না?"
"জি স্যার, আপনে জো কিয়া, ম্যায় জিন্দেগি ভ্যর ক্যাভি নেহি ভুলুঙ্গা", ভদ্রলোক বিনয়ের সাথে উত্তর দিলেন।
"আপ ইতনা ম্যহান কাম ক্যর র্যহে হ্যাঁয়, আপকো থোড়া ম্যদত করনে কা মওকা মিলরাহা হ্যায়, ইয়েহি তো স্যবসে ব্যড়া বাত হ্যায়", হেসে বললেন সেই অফিসার।
"নেহি স্যার, আপ তো দেশ কে লিয়ে কাম ক্যর র্যাহে হ্যাঁয়। আপ মুল্ক, ঘ্যরওয়ালে স্যব কো ছোড় কে দেশ কো প্রোটেক্ট ক্যরতেহেঁ। ইসসে ব্যড়া কাম কুছ নেহি হো স্যকতা হ্যায়", জবাব ভদ্রলোকের।
এর পরের ঘটনার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলেন না সেই ভদ্রলোক।
"স্যারজি, আপ প্যড়ায়েঙ্গে, ত্যবহি তো ফওজিমে হাম জ্যায়সা আদমি আয়েগা। আপ এক কো প্যড়ায়েঙ্গে অওর নকরি মিলনে কে বাদ পুরা এক প্যরিবার কা রোটি কাপড়া কা ইন্তেজাম হো জায়েগা। আপহি তো দেশ ব্যনা র্যাহে হ্যায়। আপকো স্যালুট ক্যারুঙ্গা তো দেশ কা স্যম্মান ব্যড়েগা", বলেই সেই অফিসার কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে কাঁধের বন্দুকটাকে শক্ত করে ধরে পা দু'টো জড়ো করে, মাথার টুপিটাকে একবার ঠিকঠাক করে নিয়ে বামহাতটা বন্দুকের পাশে শক্ত করে মুঠো করে রেখে ডানহাতের তালু টানটান করে নিচ থেকে সোজা কপালে তুলে ডান পায়ের বুট মাটিতে সশব্দে ঠুকে সটান স্যালুট করে ফেললেন।
এই ঘটনার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলেন না ভদ্রলোক। ঘটনাচক্রে কেমন যেন হকচকিয়ে গেলেন। আনন্দে, শ্রদ্ধায় গলার কাছে দলা পাকিয়ে এল কান্না, দু'চোখ বেয়ে গড়িয়ে এলো জল। এটা কি কান্না নাকি আনন্দাশ্রু! নিজের সদ্যপ্রয়াত বাবার মুখটা হাজার ওয়াট বাল্বের আলোর ঝলকানির মতো ভেসে ওঠে হঠাৎ। হাত দুটো ধরে নিলেন অফিসারের। হাত জড়ো করে নমস্কার করে চোখ মুছলেন তিনি। জীবনে এর থেকে বড় কোনো সম্মান কি পেয়েছেন কখনও! সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ অফিসারের স্যালুটের মতো এত বড় সম্মান কি তাঁর পাওয়ার যোগ্যতা আছে! মনে মনে এই সম্মান উৎসর্গ করলেন নিজের বাবাকে। মিনিট দুয়েকের মধ্যে নিজেকে ধাতস্থ করে আবার ক্লাসরুমে ঢুকে শুরু করলেন অ্যানালাইটিক্যাল রিজনিং। কষতে লাগলেন, স্রোতের বিপরীতে যাওয়া নৌকোর আপেক্ষিক গতিবেগ। গড়তে লাগলেন ভবিষ্যতের আধিকারিক।
মানবিক সংস্থান ও আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় এবং একটি রাজ্যসরকার পোষিত উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বদান্যতায় নিজের বাবার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শুরু করেছেন সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য এই ফ্রী কোচিং সেন্টার। যেখানে পড়ানো হবে সেইসব এলাকার ছেলেমেয়েদের, যাদের মেধা থাকলেও আর্থসামাজিক পরিস্থিতির জন্য ভেঙেচুরে যায় স্বপ্ন, অথবা পারিবারিক পরিস্থিতিতে স্বপ্ন দেখার অভ্যেস তৈরি হওয়ার আগেই বিয়ের সানাই বেজে যায় বা কাঁধে উঠে যায় অর্থ উপার্জনের দায়বদ্ধতা। তাদেরকে নিয়ে সাফল্য ও স্বনির্ভরতার খোঁজে এক অসম লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন এই ভদ্রলোক। কোচিং সেন্টারের নাম রেখেছেন এস.কে.এস. কেরিয়ার গাইডেন্স সেন্টার। শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পড়ানো নয়, বরং বিভিন্ন পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে নানান কোর্সে ভর্তির খোঁজখবর, এক কথায় সার্থক কেরিয়ার গাইডেন্স। উদ্দেশ্যহীন ভাবে পড়াশোনা করার পর অন্ধকারে ডুবে থাকা ছেলেমেয়েগুলোর সরকারি চাকরির স্বপ্ন সফল হোক, আর না হোক, ভদ্রলোক চাইছেন, তাদের মধ্যে আলোর দিকে যাওয়ার ফটোন্যাস্টিক চলন সৃষ্টি করে স্বপ্ন দেখার অভ্যেস, আর সরকারি চাকরির ক্ষিদেটা তৈরি করে দিতে।
ও হ্যাঁ, বিএসএফ এর ওই অফিসারের অনুরোধে সেদিন এক কাপ চা খেয়ে তবেই ফিরতে পেরেছিলেন সেই ভদ্রলোক।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~