17/06/2025
জীবন যখন পায়ে ঘুঙুর বেঁধে দেয়
জীবন কিছু মানুষের হাতে রাজদণ্ড তুলে দেয়, আর কিছু মানুষের পায়ে বেঁধে দেয় ঘুঙুর। রাজদণ্ডের ভার যেমন ক্ষমতার প্রতীক, তেমনি ঘুঙুরের শব্দও এক অদৃশ্য শৃঙ্খল। যারা ঘুঙুর বাঁধা পায়ে নাচতে থাকে, তারা কেবল নৃত্যশিল্পী নয়, তারা এক অবিনশ্বর আগুন, যে নিজেকে জ্বালিয়ে আলোকিত করে মঞ্চ, কিন্তু নিজের দহন কেউ টের পায় না।
নৃত্যশিল্পীদের জীবন এক অদ্ভুত সাধনা। তারা শরীরকে শিল্পে রূপ দেয়, ব্যথাকে সৌন্দর্যে রূপান্তরিত করে। প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি ভঙ্গিমা এক জীবনের গল্প বলে, একটি না বলা ইতিহাস, যেখানে আনন্দ, যন্ত্রণা, ত্যাগ এবং একাকীত্ব একসঙ্গে মিশে থাকে।
তাদের পায়ের তলায় যে ক্ষত জমে, তা কেউ দেখে না। দর্শকের চোখ শুধু নাচের সৌন্দর্যে আবদ্ধ থাকে। নাচ ভুল হলে পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে নেয়, আর নিখুঁত হলে করতালি উপহার দেয়। কিন্তু করতালি কি তাদের সেই ক্লান্তিহীন অনুশীলনের মূল্য দিতে পারে? জীবন যখন পায়ে ঘুঙুর বেঁধে দেয়, তখন নাচ আর আনন্দের বিষয় থাকে না, তা হয়ে যায় বেঁচে থাকার, টিকে থাকার, কখনোবা অস্তিত্বের শেষ চিৎকার।
নৃত্যশিল্পীরা এক অনন্ত স্রোতে ভেসে চলা আত্মা, যারা এক মুহূর্তের জন্য থামতে পারে না। কারণ থামলেই শিল্পী মরে যায়, থামলেই আলো নিভে যায়, থামলেই মঞ্চ কেবল এক ফাঁকা, বিস্মৃত জায়গা হয়ে দাঁড়ায়।
তবুও, এই শিল্পীরা নাচে। তারা ক্লান্ত হয় না, তারা পিছিয়ে আসে না। কারণ তাদের শরীর শুধু একটি বাহন, কিন্তু তাদের আত্মা সে তো চিরকালীন এক নৃত্য, যা মৃত্যু পেরিয়ে কালজয়ী হয়ে ওঠে।
তাদের প্রতি কুর্ণিশ, যাদের জীবনই এক নৃত্য, যাদের যন্ত্রণার ছন্দেই গড়ে ওঠে শিল্পের মহিমা।
(সংগৃহীত)