06/09/2023
#বিশ্ব_হিন্দু_পরিষদ
আজ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ৫৯তম প্রতিষ্ঠা তিথি : ১৯৬৪ সালের ২৯শে আগস্ট, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক পরমপূজনীয় শ্রী মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকরের নেতৃত্বে স্বামী চিন্ময়ানন্দ, শ্রী শিবরাম শঙ্কর আপ্তে প্রমুখের সহায়তায় "হিন্দু সমাজকে সংগঠিত ও সঙ্ঘবদ্ধ করতে এবং হিন্দু ধর্মের সেবা ও রক্ষা" করার ব্রত নিয়ে পথ চলা শুরু এই সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনটির।
সন্দীপনী আশ্রম ও চিন্ময় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী চিন্ময়ানন্দ ছিলেন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ও শ্রী শিবরাম শঙ্কর আপ্তেজী ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।
প্রয়াগ ধর্ম সম্মেলন :
১৯৬৬ সালে প্রয়াগ মহাকুম্ভের সময় পথ চলা শুরু পরিষদের - প্রয়াগে আয়োজিত হয় প্রথম বিশ্ব ধর্মসম্মেলন।
পরিষদের মূলমন্ত্র : ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ ( অর্থাৎ, যে ধর্মরক্ষা করে, ধর্ম তাকে রক্ষা করে )।
পরিষদের চিহ্ন : বটবৃক্ষ।
পরিষদ বিশ্বাস করে বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ ধর্মাবলম্বীগণ বৃহত্তর হিন্দু সমাজের অঙ্গীভূত এবং এইসকল মতাদর্শ "ভারতীয় সন্ত সমাজ" কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও প্রসারিত।
উদুপী সন্ত সম্মেলন :
১৯৬৯ সালে দাক্ষিণাত্যে কর্ণাটকের উদুপীতে এক সুবিশাল সন্ত সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ - যার মুখ্য পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উদুপীর সুমহান পেজাবর মঠের প্রধান শ্রী বিশ্বেষতীর্থ স্বামীজী মহারাজ।
হিন্দু সমাজে চলে আসা কুপ্রথা : জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সারা ভারতবর্ষ আগত থেকে সকল সন্ত সমাজ উদুপী ধর্ম সম্মেলন থেকে একত্রে উদ্ঘোষ করেন জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে : বলেন সকল হিন্দু সহোদর - কোনো হিন্দু পতিত নয়, হিন্দু রক্ষা আমার দীক্ষা, আমার মন্ত্র সমানতা।
" হিন্দবঃ সোদরাঃ সর্বে
ন হিন্দুঃ পতিতো ভবেৎ।
মম দীক্ষা হিন্দুরক্ষা
মম মন্ত্র সমানতা।।"
গত ৫৮ বছর ধরে হিন্দু সমাজের জন্য কাজ করে চলেছে পরিষদ - জাতিভেদ প্রথা নিরসনে, গোহত্যা বিরোধী আন্দোলনে, ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে : সাফল্য এসেছে, সমালোচনাও হয়েছে - কিন্তু, নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে "চরৈবেতি" মন্ত্রকে সম্বল করে এগিয়ে যাচ্ছে পরিষদ।
অযোধ্যায় রাম মন্দির আন্দোলনের মুখ্য সূত্রধর হলো বিশ্ব হিন্দু পরিষদ - ১৯৮৪ সালে উদুপীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধর্ম সংসদে যে দেশব্যাপী জন আন্দোলনের সূচনা - তা সাফল্যমণ্ডিত পরিণতি লাভ করে বিগত ৫ই আগস্ট, ২০২০।
বজরং দল ও দুর্গাবাহিনী :
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব বাহিনীর নাম বজরং দল : যাতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার যুবক ধর্ম ও সমাজ রক্ষার কাজে নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।
১৯৯১ সালে সাধ্বী ঋতম্ভরাজীর নেতৃত্বে ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহযোগিতায় পথ চলা শুরু পরিষদের মাতৃকাশক্তি : দুর্গাবাহিনীর - যারা "লাভ জিহাদ" বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সক্রিয় অংশীদার।
গত ৫৮ বছরে পরিষদ ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে : পরিষদের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাতিথিতে সকল সনাতনী সমাজকে প্রণাম।