24/10/2025
পার্কসার্কাস স্টেশনে যাতায়াত করলে এই নিয়মগুলো মনে রাখুন, এখানে এক মুহূর্তের অসতর্কতা বড় বিপ/দের কারণ হতে পারে।
১️. ট্রেন ছাড়ার সময় থেকেই সতর্ক থাকুন:-
বালিগঞ্জ বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাবধান হোন।
ছিন/তাইকারীরা আপনার গলার চেন, ব্যাগ বা মোবাইল কে/ড়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকেই নে/মে যেতে পারে। তারা “রানিং ট্রেন”-থেকে লা/ফ দিতে ভয় পায় না
২️. জানালার পাশে মোবাইল ব্যবহার নয়:-
জানালার পাশে বসে ফোন টিপবেন না, ব্লুটুথ ইয়ারফোন কানে দেবেন না।
স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ছিন/তাইবা/জরা মুহূর্তে হাত ঢু/কিয়ে আপনার জিনিস উধাও করে দিতে পারে।
৩️. যত দ্রুত সম্ভব স্টেশন ছাড়ুন :-
কোনো প্রয়োজনে এলে, কাজ শেষ করে দ্রুত বেরিয়ে যান।
অযথা ঘোরাঘুরি বা দাঁড়িয়ে থাকা বিপ/জ্জনক। “পাতাখো/র” নামে কিছু লোক মাঝেমাঝে অচেনা বিপদ ডেকে আনে।
৪️. ওভারব্রিজ বা দোকানের আড়ালে দাঁড়াবেন না :-
ওভারব্রিজের ওপরে প্রায়ই নে/শাগ্রস্তদের আড্ডা থাকে।
তাদের সঙ্গে ঝামেলায় না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫️. ট্রেনে ওঠার সময় মানিব্যাগ ও ফোন হাতে রাখুন :-
পকেটে রাখলে শেষ দেখা হওয়ার সম্ভাবনাই নেই।
অনেকেরই এই স্টেশনে প্রিয় ফোনের শেষ বিদায় হয়েছে!
৬️. দোকানের খাবার-দাবারে সতর্ক থাকুন :
খাবার খারাপ মনে হলে শান্তভাবে দাম মিটিয়ে চলে যান, অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে।
৭️. একা বাথরুমে যাবেন না :-
টিকিট কাউন্টারের পেছনের বাথরুমে একা যাওয়া বিপজ্জ/নক।
আমার এক বন্ধুকে একবার ওখানেই খু/র দেখিয়ে পকেট খালি করেছিল এক পা/তা/খোর।
৮️. ছবি বা ভিডিও তুলবেন না :-
এই স্টেশনে মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিও করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, না জেনে করলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন।
আমার অভিজ্ঞতা: একটি রাতের পাকসার্কাস :-
কয়েকদিন আগে রাত সাড়ে দশটায় পাকসার্কাস স্টেশনে দাঁড়াতে হয়েছিল।
স্টেশন তখন প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে, শুধু দু-একটা দোকান খোলা। দিনের ব্যাস্ত স্টেশন তখন শান্ত হয়ে উঠেছে। অসম্ভব সুন্দর এক পরিবেশ। আমি মোবাইল বার করে রাতের দৃশ্যের ছবি তুলছিলাম।
ঠিক তখনই দুই ছেলে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল — একজনে ইচ্ছাকৃত আমার গায়ে ধা/ক্কা মে/রে মুহূর্তে আমার ফোনটা কেড়ে নেয়
আমি অনুরোধ করতে থাকি ফোন ফেরত দিতে, কিন্তু তারা টিকিট কাউন্টারের দিকে হাঁটতে থাকে।
চারপাশের কয়েকজন মানুষ তাকিয়ে থাকে, কেউ কিছু বলে না।
আমি ওদের পিছু নিতে নিতে এক দোকানের কাছে যাই, দোকানদার এক ভদ্রমহিলা ঝা/প ফেলছিলেন।
আমি তাকে দ্রুত ঘটনা বলি।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ডাক দেন, ছেলেদুটোকে দাঁড় করিয়ে আমার ফোনটা উদ্ধার করে দেন
সেদিন বুঝলাম —
পুলিশ বা নিরাপত্তা যতই অনুপস্থিত থাকুক, স্টেশনের হকার ও দোকানদাররাই এখানে আমাদের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।
ওরা না থাকলে রাতের পাকসার্কাস হয়তো আরও ভয়ঙ্কর হত।
একবার ভাবুন —
রাত সাড়ে দশটায় আপনি একা দাঁড়িয়ে, চারপাশে হালকা অন্ধকার, কোনো দোকান খোলা নেই...
দুটো ছেলে এগিয়ে এসে আপনার মোবাইল কে/ড়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে
তখন কে বাঁচাবে আপনাকে?
সংগৃহীত