21/01/2026
#আন্দোলনের_জয়:
কলকাতায় গিগ শ্রমিকেরা আরো একটি স্ট্রাইক করলেন গত কদিন ধরে। এবার তারাতলায় ফ্লিপকার্ট মিনিটস এর হাব । গত ১৭ তারিখ থেকে সেই হাব এর ৮৯ জন ডেলিভারি কর্মী , অনেক গুলি দাবি নিয়ে ম্যানেজমেন্ট এর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিলেন । ১৭ তারিখ ভোর বেলায় আমাদের ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাথে যোগাযোগ করেন তারা , এবং আমরাও প্রায় তখনই উপস্থিত হয়ে যাই সেই হাবে। গিয়ে ওয়ার্কার দের সাথে কথা বলে বোঝা যায় যে এখানে সমস্যাটা ঠিক পে আউট নিয়ে নয়। এই হাব এর যে কর্মক্ষেত্র তাকে হঠাৎ করে ছোট করে দেওয়া হয়।তার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত নিযুক্তির কারণে , বর্তমান শ্রমিকদের অর্ডার প্রায় ৪০% কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এছাড়াও বহু শ্রমিক যাদের ৩৫ দিনে জয়েনিং বোনাস পাওয়ার কথা ছিল , ৭,৮,৯ মাস কাজ হয়ে যাওয়া সত্বেও তাদের সেই টাকা ম্যানেজমেন্ট দিয়ে উঠতে পারে নি। ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব প্রাপ্ত আধিকারিকদের দুর্ব্যবহার ও একটা বিরাট অভিযোগের ক্ষেত্র এই হাব টি তে । বারংবার বলা সত্ত্বেও , কোনো সুরাহা না পেয়ে কার্যত বাধ্য হয়ে স্ট্রাইক করেন কর্মীরা। স্ট্রাইক চলা কালীন ৫ জন শ্রমিক এর আইডি টারমিনেট করে দেয় ম্যানেজমেন্ট। আইডি খোলানোর দাবি , লড়াই এর প্রধান এজেন্ডা হয়ে ওঠে। ১৯ তারিখ এ ম্যানেজমেন্ট জানায় তারা কোনো দাবি মানবে না,বিশেষ করে আইডি গুলি তারা কিছুতেই খুলবে না।এই শ্রমিক দের নামে নাকি পুরোনো অভিযোগ আছে(খতিয়ে দেখা গেছে যা সর্বৈব মিথ্যা, ম্যানেজমেন্ট আমাদের সামনেই স্বীকার করেছে)। আমরা জানতে পারি , ফ্লিপকার্ট এর নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী , কোনো কর্মী কে টার্মিনেট করতে গেলে তার আগে দুবার তাকে ডিসিপ্লিনারি নোটিশ পাঠাতে হয়। আমরা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যখন এই নোটিশ দেখতে চাই , ম্যানেজমেন্ট স্বীকার করে যে তারা কোনো ধরনের পদ্ধতি পালন করে নি। তা সত্ত্বেও ম্যানেজমেন্ট কিছুতেই রাজি হয় না এদের কাজে পুনর্বহাল করতে। এই ম্যানেজমেন্ট অনৈতিক, অমানবিক এবং সম্পূর্ণ রূপে বেআইনি।
আমরা ২০ তারিখ রাজ্যের শ্রমদপ্তরে যাই এবং শ্রম আধিকারিকদের ডেপুটেশন দিয়ে আসি এই ঘটনা জানিয়ে , এই ৫ জনের অবিলম্বে ওই তারাতলা হাবেই পুনর্বহাল এর দাবি জানিয়ে। আমরা এও জানিয়েছি যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপিউট এক্ট ১৯৪৭ অনুযায়ী , স্ট্রাইক এর মতন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপিউট চলা কালীন কারোর বিরুদ্ধে কোনো পুরোনো অভিযোগ কে হাতিয়ার করা যায় না।শ্রম দপ্তর ৭ দিনের সময় চেয়েছেন, ম্যানেজমেন্ট কে ডেকে ত্রিপাক্ষিক মিটিং করে , এই দাবি রিসলভ করবেন। আমরা হাবে যাই, পুনরায় ম্যানেজমেন্ট এর সাথে মিটিং এ বসি এবং অবশেষে তারা ৩ টি দাবি মানতে রাজি হন। তারা স্ট্রাইক এর চাপে , নতুন অপ্রয়োজনীয় নিয়োগ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেন, বকেয়া বোনাস দেওয়ার কাজ চালু করে দিয়েছেন , এবং ডেলিভারি শ্রমিক দের অভিযোগ শোনবার জন্য , কোম্পানির এরিয়া হেড প্রতি সপ্তাহে একবার এই হাব আসবেন এই কথা দেন। ৮৪ জন শ্রমিক তারা কাজে যুক্ত হন , কিন্তু এই বারে ভারাক্রান্ত মন নিয়ে, নিজেদের ৫ জন কমরেড এর কাজ চালু করতে না পারার দুঃখ নিয়ে। তবে এই প্রত্যয় আছে , ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ শ্রমিক ইউনিয়ন এই ৫ জনের পুনর্বহাল এর দাবি নিয়ে শেষতক লড়বে, সাথে থাকবেন সমস্ত শ্রমিকেরা । আসতে আসতে তারা বুঝতে শুরু করেছেন, গিগ অর্থনীতির এই ভয়ঙ্কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে , শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। গত এক মাসে কলকাতায় ৩ টি হাবে স্ট্রাইক হয়েছে । আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ শ্রমিক ইউনিয়ন এর সংগঠক রাও অভিজ্ঞ হচ্ছি, শ্রমিকেরাও সংঘবদ্ধ হচ্ছেন , সামনে জোর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, গিগ শ্রমিক দের স্বার্থে আইন তৈরি করতে হবে, তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এই দাবি গুলিও আমরা লড়াই করে ছিনিয়ে আনতে পারব, ছিনিয়ে আনতেই হবে।