10/09/2025
আস-সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশন
For Humanity, With Humanity
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রিয় দেশবাসী,
আজ, আস-সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভোজেরহাট থেকে সোনারপুর পর্যন্ত অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, ভবঘুরে মানসিক প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচী সম্পন্ন করেছে ।
এই কর্মসূচীতে অংশ নিতে গিয়ে মানব জীবনের কিছু করুণ বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেছে, যা হৃদয়কে বেদনা দায়ক করে এবং মানবতার স্বার্থের জন্যে আরও বেশি কিছু করার প্রেরণা জোগায়। আজ আপনাদের সামনে এমনই কয়েকটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরছি—
করুণ বাস্তবতার বিস্তৃত ঘটনা
১. এক অসহায় মা ও ভেঙে পড়া সংসার
এক মায়ের জীবনের গল্প যেন এক করুণ উপন্যাস। স্বামী অসুস্থ, জন্মের পর থেকে বড় ছেলে অন্ধ। সংসারের সমস্ত ভার ছিল তাঁর ছোট ছেলের কাঁধে। অল্প বয়সেই ছেলেটি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল। প্রতিদিনের অল্প আয়ে কোনোভাবে সংসারটা চলছিল।
কিন্তু হঠাৎ একদিন ছোট ছেলে মৃত্যুবরণ করে। মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়ে পরিবারটির একমাত্র ভরসা। আজ সেই মা নিঃস্ব—স্বামী অসুস্থ, ছোট সন্তানটিও প্রতিবন্ধী। কেউ কাজ করতে পারে না। একবেলা খাওয়া হবে কি না, সেই চিন্তাতেই কাটে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।
আজও তাঁকে দেখা যায় রাস্তার ধারে বসে থাকতে, মুখভরা কান্না নিয়ে তাকিয়ে থাকতে, “কখন রিলিফ ফান্ডের গাড়ি আসবে, আর খাবার দিয়ে যাবে।” আমরা কি ভেবে দেখতে পারি, ক্ষুধার যন্ত্রণায় কতটা অসহায় হতে পারে একটি পরিবার?
২. *অবহেলিত এক পিতা*
একজন বাবা, যিনি সারাজীবন পরিশ্রম করে গেছেন শুধু সন্তানকে ভালো মানুষ বানানোর জন্য। নিজের মুখে এক মুঠো খাবার না তুলে, সন্তানের জন্য খাবার জমিয়েছেন। ছেঁড়া কাপড় পরে থেকেছেন, কিন্তু সন্তানের হাতে নতুন জামা তুলে দিতে দ্বিধা করেননি।
তিনি ভাবতেন—“সন্তান আমার বার্ধক্যের ভরসা হবে, আমার শেষ আশ্রয় হবে।”
কিন্তু আজ সেই সন্তান তাঁকে অমানবিকভাবে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। কেউ তাঁকে খুঁজে দেখে না, কেউ তাঁকে ডাকে না।
আজ সেই বৃদ্ধ বাবা শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, কখনও ক্ষুধার্ত, কখনও অশ্রুসজল নয়নে তাকিয়ে থাকেন, “কোনো ফাউন্ডেশনের গাড়ি এলে হয়তো একটু খাবার পাব।”
বলুন তো, একটি বাবার কষ্ট কি ভাষায় প্রকাশ করা যায়? সন্তান লালনপালন করে শেষে যদি এমন পরিণতি হয়, তবে আর কী-ই বা অবশিষ্ট থাকে তাঁর জীবনে?
৩. *নির্যাতিতা এক নারী ও ছোট্ট কন্যাসন্তান*
একজন স্ত্রী, যিনি বহু বছর ধরে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেছেন। স্বামী প্রতিনিয়ত মদ্যপ, বেপরোয়া। একদিন স্বামীর নিষ্ঠুরতা এতটাই বাড়ে যে সে স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল। আজও সেই নারীর শরীরে অসংখ্য পোড়া দাগ জ্বলজ্বল করছে, যা তার জীবনের নির্মম সাক্ষী।
তিনি তাঁর ছোট্ট কন্যাকে নিয়ে কোনোরকমে এক ভাড়াবাড়িতে বাস করছেন। একদিন খাবার বিতরণের সময় চোখ ভেজা অবস্থায় বললেন—
“দাদা, আজ আমাকে বাড়িওয়ালা ঘর ছেড়ে দিতে বলেছে। কারণ কয়েক মাস ভাড়া দিতে পারিনি। কাল থেকে আমার ছোট মেয়েকে নিয়ে রাস্তার ধারে নার্সারির পাশে থাকতে হবে।”
ভাবুন তো, এক নারী, এক শিশু—তাদের কি কোনো অপরাধ ছিল? শুধুমাত্র দারিদ্র্য আর স্বামীর অত্যাচার তাদের আজ রাস্তায় ঠেলে দিয়েছে।
৪. *প্রতারিত এক মায়ের আর্তনাদ*
একজন মা, যিনি দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেছেন সন্তানকে, সারা জীবন ভালোবাসায় বড় করেছেন। মানুষের মত মানুষ বানাতে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু সেই সন্তানই একদিন প্রতারণার পথে চলে যায়। চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। যখন ধরা পড়ে তখন সে নিজের ভিটেমাটি বিক্রি করে, আর মাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
আজ সেই মা আশ্রয়হীন। তাঁর চোখের জলে শুধু একটা প্রশ্ন—“যে সন্তানকে আমি বুকের দুধ খাইয়ে মানুষ করলাম, সেই সন্তানই যদি প্রতারণা করে আমাকে ছেড়ে যায়, তবে আমার জীবনের মানে কী?”
৫. এক শারীরিক প্রতিবন্ধী গৃহহীন মা
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুর থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী। স্বামী নেই, বাবা-মাও নেই। আছে তিন সন্তান—বড় ছেলে এতিমখানায়, আর দুই সন্তান তাঁর সাথেই থাকে। নিজের থাকার মতো কোনো ঘর নেই, বর্তমানে PWD-এর খালি জায়গায় কোনোরকমে আশ্রয় নিয়েছেন। যেকোনো সময় সেখান থেকেও উঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। প্রতিদিন তিনি ক্ষুধার্ত সন্তানদের নিয়ে তাকিয়ে থাকেন—
“কবে কোনো রিলিফ ফাউন্ডেশনের গাড়ি আসবে, আর খাবার দেবে।”
“হ্যাঁ ভাই , বলুন তো আপনি আর আমি কতটা ভালো আছি । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের লক্ষ লক্ষ গুন ভালো রেখেছেন।
আসুন আমরা মানবতার স্বার্থে সমাজের কল্যাণে আস-সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করি।”
As-suffah Foundation