03/06/2026
বস্তির ছেলে রামু বহুদিন যাবৎ গরমে কোল্ড ড্রিঙ্ক খায় নি। তাই অফিস ফেরতা বাবুর হাতে কোল্ড ড্রিংকের বোতল দেখে জিভটা লকলক করে উঠেছিল রামুর। কিন্তু অফিস ফেরতা বাবুটি যখন তাকে দেখেও দেখলো না, তখন বেশ আশাহত হয়েছিল সাত বছরের রামু। ওদিকে ললিতারও বহুদিন ভালোমন্দ খাওয়া হয় নি। ওর বয়সী মেয়েগুলো প্রতিদিন কি সুন্দর ইউনিফর্ম পরে গলায় বোতল ঝুলিয়ে মায়ের হাত ধরে ফেরার সময় পাশের ঝাঁ চকচকে দোকানটির ভেতরে ঢুকে কখনো কেক, কখনো চকলেটের বায়না জুড়ে। তাদের মা গুলোও আব্দার মেটায় হাসিমুখেই।
ললিতার দীর্ঘশ্বাস পড়ে নিজের অজান্তেই।
এরকম অনেক ঘটনা আকছার ঘটে চারপাশে। চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও চিত্রটা কিন্তু বাস্তব।
আজ আমাদের দিৎসা পাঁচ বছর পূর্ণ করলো। লকডাউন থেকে শুরু করেছিলাম পথচলা। ধীরে ধীরে মন্থর গতি হলেও আমরা এগোচ্ছি, আরো এগোবো।
আমাদের ছোট্ট মেয়েটির জন্মদিন। আলাদা একটি অনুভূতি। সন্তানের মতো লালন পালন করে বড় করে তুলছি আমাদের ছোট্ট মেয়েটাকে। তাই স্পেশাল একটা ফিলিংস তো কাজ করেই!
আর আজ এই জন্মদিনকে ঘিরে আমাদের স্বপ্ন ছিল অনেক বড়। বাস্তবায়িত করাটা একটু কঠিনই ছিল। বারাসাতের পাট অনেকেই চুকিয়েছে। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে সবাই। নয়ন আসতে পারে নি কাজের চাপে। সুমিত এখন কলেজের প্রফেসর। তারও সময় বড্ড কম। সুপ্রিয়ও অনেকটা দূরে যায় পড়াতে। প্রদীপ, চয়ন, শৌভিকরা সুদূর হায়দ্রাবাদে। চিন্ময় এখন ব্যবসা নিয়ে বেশ ব্যস্ত। কফি হাউসের আড্ডাটা আর বসে না বারাসাতে। তবু চেষ্টা তো থাকেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকেও আমরা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছি একে অপরের সঙ্গে।
আজকের দিনে রাজাদার সহযোগিতায় হৃদয়পুর স্টেশন লাগোয়া একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন " োপান"-এ গিয়েছিলাম বাচ্চাদের সঙ্গে খুশি ভাগ করে নিতে। ৩০ টি বাচ্চার হাতে তুলে দিয়েছি কেক, বিস্কুট, চকলেট আর ফ্রুটি। বাচ্চারা দেখলাম বেশ খুশি। ফ্রুটি আর পার্কের যুগলবন্দি তে কেক আর বিস্কুটগুলো একটু পিছিয়ে পড়ছিলো প্রতিযোগিতায়। কিন্তু উদরপূর্তির জন্য যথেষ্ট ছিল একটা প্যাকেট।
সাবনূর, জাবিউল্লাহ, সায়ন, বরুন, পীযূষ, তীর্থঙ্কররাই ছিল আজকের প্রোগ্রামের হর্তা কর্তা বিধাতা। জিনিসপত্র কেনাকাটা করা থেকে প্যাকিং করা, ডিস্ট্রিবিউশন করা-সবটাই ওরা দায়িত্ব নিয়ে সামলেছে।
আমি আর অর্ক ছিলাম নীরব দর্শক।
সন্ধ্যে তখন সাতটা। োপান থেকে বেরিয়ে এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম ধরে এগোতেই দেখা মিললো বছর সাত আটের নূরের সঙ্গে। তার রুগ্ন মা তাকে বেশ মারছে। অপরাধ কি সেটা জানা যায় নি। বেচারা নূর তো কেঁদে কেটে অস্থির। তাকে ভোলানোর জন্য ঝুলি থেকে বের করলাম মৌমিতার দেওয়া একটি জামা আর অন্বেষার দেওয়া একটি খেলনা। তারপর তো সে বেজায় খুশি। প্যাঁ পোঁ শুরু হয়ে গেল। খেলনার যত পেট টেপে, তত ঐ প্যাঁ পোঁ, তত তার হাসি। বেশ লাগলো দৃশ্যটি দেখে।
খুশি মনে বেরিয়ে এসে নিজেরা একটু সেলিব্রেশন করলাম দিৎসার জন্মদিন। কেকটা বাচ্চাদের সঙ্গেই কাটার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু অনিবার্য কারণবশত সেটা সম্ভবপর হয় নি।
সুমিত, লিখন, অর্ক, জাবিউল্লাহ, সায়ন, সাবনূর, বরুণ, পীযূষ, তীর্থঙ্কর আর আমি স্টার মলে গিয়ে সেলিব্রেশন করলাম দিৎসার জন্মদিন।
ওদিকে তিয়াসও দমদম ক্যান্টনমেন্টে এক ভিখারির দাবি মতো রুটি আর ডিম তড়কা কিনে দিয়ে এসেছে। এটাও তো কম কথা নয়!
যাই হোক, আমাদের আজকের এই কর্মকান্ডে অনেকেই এগিয়ে এসেছে সাহায্যের ডালি নিয়ে।
আমরা কৃতজ্ঞ তাঁদের প্রতি।
মহাব্রত সেনগুপ্ত, কাজি মাহমুদুল হক, সায়ুব আলি, পৌলোমী চক্রবর্তী, সত্যম সাহু, অনামিকা লৌহ, সোমা রায়, সুজাতা ঘোষ, অঙ্কন পান্ডে, সায়নদীপ সাহা, অভিজিৎ চাংদার, পল্লব কুমার মাঝি, সায়ন দন্ডপাট, মিঃ পাত্র, পার্থজিৎ চৌধুরী, শ্রয়তা জানা, বিশ্বজিৎ মোদক, সায়ন চৌধুরী, সোহন বিশ্বাস, সোহিনী সামন্ত, সৌম্যদীপ দাস, এষা বিশ্বাস, আকাশ মাইতি, অনির্বেদ ঘোষ, অনুষ্কা হাজরা, বিতান কুন্ডু, অভিষেক চক্রবর্তী, সুপ্রীতি বিশ্বাস, শান্তনু মন্ডল, আসিফ মোল্লা, সঞ্জীবন উৎপল সরকার স্যার, সেখ আব্দুল আমিন, শিল্পা ঘোষাল, বরুণ দে, সায়ন চক্রবর্তী, জাবিউল্লাহ, অরিন্দম মন্ডল, সাবনূর হোসেনরা না থাকলে আজকের কর্মসূচি হয়তো অধরা থেকে যেতো। সবাইকে পরম করুণাময় ভালো রাখুন, এই কামনা।
#জন্মদিন
#দিৎসা