Mrittika-The Eco Warrior

Mrittika-The Eco Warrior Mrittika is a not for profit organisation,registered under W.

B Society Registration Act,1961.Mrittika is working as an ecological warrior since its inception in 2007.Our vision is to make people aware about the contamination of nature by external forces. B Society Registration Act,1961.Mrittika is working as an ecological warrior since its inception in 2007.Our vision is to make people aware about the contamination of nature by external forces.We are educating people specially the youth through implementation about ecology and its various aspects. Our main activity involves converting and supporting farmers in doing organic cultivation through training and farm consultancy,as this is the only means to secure our food supply,our health and the earth's health. There are other few aspects which we deal with namely enriched composting, organic kitchen gardening,terrace gardening,vertical gardening, rain water harvesting to attain the goal of ecological conservation and to combt the adverse effects of climate change. We organise nature study camp for youths.Our nature study camp is training programme on trees,shrubs,weeds,climbers,birds,butterflies,insects,animals. We do provide special emphasize on water literacy programme to meet the objective of water conservation.

28/09/2026

Nilanjan মিশ্র লিখেছেন

এই অভিযোগ সারা বিশ্বজুড়ে। মৌপালনে এক নাম্বার দেশ স্লোভেনিয়া। সেখানে মৌপালকরা নিজেরাই বলছেন কৃত্রিম বাক্সে পালিত Honeybee-র সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে তাতে মৌপালকরাই বিপদে পড়ে গেছে। আর দেশের বুনো একাকী মৌমাছিরা খাবার পাচ্ছে না। এ এক বিষম সমস্যা উপস্থিত হয়েছে কারণ কৃত্রিম বাক্সে মৌমাছির সংখ্যা ক্রমশ বাড়লেও ফুলের সংখ্যা অসীম নয়৷ তারা বলছেন, "আমাদের দেশের অন্যান্য মৌমাছিদের কথা ভুলে গেলে হবে না। তাদের দেখভাল করার কেউ নেই আলাদা করে। তাদের বাঁচার জন্যও ফুলের দরকার। অতিরিক্ত মৌপালন ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলছে এমনকি মৌপালকরাই বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।"

ডেভিড বেকহ্যাম লকডাউনে মৌমাছি পালন শুরু করেন এবং এখন নিজের মধু উৎপাদন করেন; কৃত্রিম বাক্সে পালিত মধুমৌমাছি কীভাবে বুনো পরাগায়নকারীদের প্রভাবিত করতে পারে, ব্যাখ্যা করলেন বিশেষজ্ঞ

​কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় মৌমাছি পালন শুরু করা ফুটবল আইকন ডেভিড বেকহ্যাম এখন কটসওয়োল্ডসে তাঁর বাড়িতে নিজস্ব মধু উৎপাদন করেন- এমনটি জানিয়েছে দ্য স্ট্যান্ডার্ড। তাঁর এই শখ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন বিশেষজ্ঞরা বুনো পরাগায়নকারীদের (wild pollinators) ওপর কৃত্রিমভাবে লালিত মৌমাছিদের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন।

​বন্যপ্রাণী চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার বার্তি গ্রেগরি পরামর্শ দিয়েছেন যে, মৌমাছিকে সাহায্য করতে চাইলে, বাক্সে ভরা মধুমৌমাছি পালন না করে প্রচুর দেশীয় বুনো ফুলের গাছ লাগানো উচিত। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে শহরগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মৌচাক থাকতে পারে, যা খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত ফুল নেই, সেখানে কৃত্রিম মৌচাক কীভাবে বুনো মৌমাছিকে প্রভাবিত করে সেই উদ্বেগকেই সামনে এনেছে তাঁর এই বক্তব্য আর বলাই বাহুল্য যে হারে দেশের অরণ্য ধ্বংস হচ্ছে তাতে ফুলের অভাব ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে। তারই মধ্যে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফুল আগে বা পরে ফোটার সমস্যা৷ যার কারণে মৌমাছিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সূক্ষ্ম আলোচনাটি প্রকাশ করে যে পরিবেশ সংরক্ষণের সদিচ্ছাপ্রসূত উদ্যোগের পেছনেও অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। তাই মৌমাছি পালন নাকি বুনো ফুল চাষ, কোনটি বেছে নেওয়া উচিত, তা নির্ধারণের আগে স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ বোঝা জরুরি।

​লকডাউনে ডেভিড বেকহ্যামের মৌমাছি পালনে আগ্রহ

​দ্য স্ট্যান্ডার্ড-এর তথ্য অনুসারে, কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় ডেভিড বেকহ্যাম মৌমাছি পালন শুরু করেন এবং কটসওয়োল্ডসের খামারে মৌপালন ক্রমশ বাড়িয়ে তোলেন, যেখানে তিনি এখন নিজেই মধু উৎপাদন করেন।

​স্টেসি সলোমন, রড স্টুয়ার্ট এবং এড শেরানের মতো অন্যান্য সেলিব্রিটিরাও মৌমাছি পালনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ মৌমাছি এবং মধু উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের মনোযোগ বৃদ্ধি করেছে।

মধু​মৌমাছি হলো সারা বিশ্বের অন্তত ২০,০০০+ প্রজাতির মৌমাছির মধ্যে একটি অংশ মাত্র। বাম্বলবি এবং নিঃসঙ্গ মৌমাছি (সলিটারি বি)-সহ বুনো মৌমাছিরা ফুলের মধ্যে পরাগরেণু স্থানান্তরের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এদের বাসা বাঁধার ধরন এবং খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা আলাদা।

​কৃত্রিম মৌচাক নিয়ে বার্টি গ্রেগরির উদ্বেগ

​Secrets of the Bees নামক অসামান্য ও খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্রের উপস্থাপক ও বর্ণনাকারী বার্টি গ্রেগরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, মৌমাছি পালন কি বুনো পরাগায়নকারীদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে সবসময় সেরা উপায়?

​দ্য স্ট্যান্ডার্ড-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে গ্রেগরি মানুষকে মৌমাছির কৃত্রিম বাক্স কেনার বদলে বুনো ফুলের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শহরে মৌচাকের সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি হতে পারে, যা বুনো মৌমাছিরা যে খাদ্য উৎসের ওপর নির্ভর করে, তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

​গ্রেগরি কৃত্রিম মৌমাছি কেনাকে বুনো পাখি বাঁচানোর উদ্দেশ্যে মুরগি কেনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর এই বক্তব্য সামগ্রিক মৌমাছি পালনের প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ডেভিড বেকহ্যামের মৌচাক বুনো মৌমাছির ক্ষতি করেছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি এটি নয়।

​খাদ্য নিয়ে মধুমৌমাছি ও বুনো মৌমাছির মধ্যে প্রতিযোগিতা

মধু​মৌমাছিরা তাদের দলের খাদ্যের জন্য নেকটার (মধু নির্যাস) ও পরাগ সংগ্রহ করে, অন্যদিকে বুনো মৌমাছিরাও একই প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করে। যখন একটি ছোট এলাকায় বিপুল সংখ্যক মৌমাছি খাবার খোঁজে, তখন খাবারের জন্য অন্যান্য পরাগায়নকারীদের সাথে তাদের প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

​১৯টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে এই প্রতিযোগিতার প্রমাণগুলো মিশ্র; মৌমাছির প্রজাতি, বাসস্থান এবং গবেষকদের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ফলাফল ভিন্ন হয়। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বৈচিত্র্যহীন এলাকায় মৌচাক যোগ করার ফলে বাম্বলবির সংখ্যা কমে গিয়েছিল, তবে আধা-প্রাকৃতিক ঘাসজমির বৈচিত্র্যময় অঞ্চলে এমন প্রভাব দেখা যায়নি।

​প্রতিযোগিতার মাত্রা নির্ভর করে মৌচাকের সংখ্যা, ফুলের প্রাপ্যতা এবং কাছাকাছি বসবাসকারী প্রজাতির ওপর। প্রচুর ফুল থাকা এলাকাগুলো কৃত্রিম মৌমাছি এবং বুনো মৌমাছি উভয়কেই টিকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু খাদ্যের জোগান কম হলে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়।

​২০১৬ সালে বেসিক অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ইকোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় কৃত্রিম বাক্সে পালিত মধুমৌমাছি এবং বুনো বাম্বলবির মধ্যে প্রতিযোগিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকরা দেখেন, ফুলসমৃদ্ধ বাসস্থান কম থাকা এলাকাগুলোতে কৃত্রিম বাক্সে পালিত মধুমৌমাছির কারণে বাম্বলবির ঘনত্ব কমে যেতে পারে।

​মৌচাকের ঘনত্বের প্রভাব নিয়ে গবেষণা

​জার্মানির মিউনিখে ফুল পরিদর্শনের ওপর পরিচালিত ২০২১ সালের একটি গবেষণায় (যা ইকোলজিয়া-তে প্রকাশিত) দেখা গেছে, মৌমাছির ঘনত্ব বেশি হলে ফুলে বুনো মৌমাছির চেয়ে পোষা মৌমাছির আনাগোনা বেশি দেখা যায়। একাধিক প্রজাতির ফুলের ক্ষেত্রে খাবারের তীব্র প্রতিযোগিতার প্রমাণ মিলেছে।

​২০১৮ সালে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত দক্ষিণ ফ্রান্সের ওপর আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ কৃত্রিম মৌমাছি পালন বুনো মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস এবং তাদের নেকটার সংগ্রহের সাফল্যের হার কমিয়ে দেওয়ার সাথে সম্পর্কিত। এর প্রভাব মৌচাকের আশপাশের কয়েক শত মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

​এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে নির্দিষ্ট পরিবেশে অতিরিক্ত কৃত্রিম মৌচাক বুনো মৌমাছির ক্ষতি করতে পারে। তবে তা স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

​কেন বুনো ফুল রোপণ মৌমাছিদের সাহায্য করতে পারে?

​বিভিন্ন ধরণের পরাগায়নকারীদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে গ্রেগরি বুনো ফুলের গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

​বুনো ফুল প্রচুর নেকটার এবং পরাগ তৈরি করে। বিভিন্ন ঋতুতে ফোটে এমন বৈচিত্র্যময় ফুল গাছ লাগালে সারা বছর তাদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হয়।

​তবে ফুল গাছ লাগানো পরাগায়নকারী সংরক্ষণের একটি অংশ মাত্র। মৌমাছিদের উপযুক্ত বাসস্থানেরও প্রয়োজন হয়; কীটনাশক, আবাসস্থল ধ্বংস এবং রোগবালাই বুনো মৌমাছির সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই ফুলসমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি এবং তাদের বাসস্থানের সুরক্ষা বুনো মৌমাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

​মৌমাছি সংরক্ষণ সম্পর্কে ডেভিড বেকহ্যামের শখ আমাদের কী শেখায়?

​ডেভিড বেকহ্যামের মধুমৌমাছি পালনের শখ মধু উৎপাদন এবং পরাগায়নকারী সংরক্ষণের মধ্যকার সম্পর্কের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মৌমাছি কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর বুনো মৌমাছি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ও উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে অপরিহার্য।

​গ্রেগরির মন্তব্য মনে করিয়ে দেয় যে কৃত্রিম বাক্সে মৌমাছি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বুনো পরাগায়নকারীদের কথাও মাথায় রাখা উচিত। স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি বুনো ফুল রোপণ করা, প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং স্থানীয় পরাগায়নকারীদের টিকিয়ে রাখাই বিভিন্ন প্রজাতির মৌমাছি সংরক্ষণের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়।

মূল রিপোর্ট: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

পোস্টার সম্পর্কে কিছু কথা: পোস্টারটা যারা বানিয়েছেন তারা সম্ভবত বেকহ্যামের পরিচিতির কথা ভেবে এমন বানিয়েছেন যাতে বেকহ্যামের নামটা দেখলে লোকে বিষয়টা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। তবে বেকহ্যাম একা এ বিষয়ে দায়ী এমন একেবারেই নয়। কাজ করলে ভুল হতে পারে। সেই ভুল শুধরে নেওয়াই আমাদের কাজ। বেকহ্যাম যে ফুটবল ছাড়ার পর মৌমাছি পালন করেন তা জেনেছি আগে, তার মৌপালন নিয়ে তথ্যচিত্র দেখে। এর একটা ভালো দিক তার অনুরাগীরা মৌমাছিদের বিষয়ে জানবেন কিন্তু সমস্যা হল মৌমাছি মানে Honeybee নয়৷ মৌমাছি অজস্র অনেক। আমরা এই করে আমাদের হাজার হাজার ধান গম সবজি তৈলবীজ মিলেট এর জাত হারিয়েছি৷ এখন হারাতে বসেছি দেশিয় মৌমাছিদের নানা জাত। আমরা যদি একটু হুজুগ গিমিক চটক থেকে বেরিয়ে এসে ঠান্ডামাথায় ভাবি কী কী করা উচিত তাতেই সবার মঙ্গল৷ পোলট্রির মুরগি পুষলে যেমন পাখি সংরক্ষণ হয় না, মানুষের বানানো কৃত্রিম বাক্সে মৌমাছি পুষে মৌমাছি সংরক্ষণ হয়না। ঠিক যেমন ধান চাষ আর সংরক্ষণ এক নয়। মানুষের বানানো কৃত্রিম বাক্সে মৌমাছি রাখাকে সংরক্ষণ বললে চিড়িয়াখানায় মানুষের বানানো খাঁচায় রাখা পশুপাখি দেখিয়েও তাকে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ বলা উচিত ছিল। আমরা জানি ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। মৌমাছিরা আমাদের তৈরী কৃত্রিম বাক্সে থাকবে বলে জন্মায়নি। তারা ক্রিটেসিয়াস যুগে এখানে এসেছিল যখন আমাদের কোনও চিহ্ন এ বিশ্বে ছিল না। ডায়নোসররা ছিলো!

শুধু মৌমাছি তো নয় আরও লক্ষ কোটি প্রাণী উদ্ভিদ ভালো নেই। হুজুগ সামলে চলতে হবে!

25/09/2026

নীলাঞ্জন মিশ্র লিখেছেন
ভোজ্য তেলের দাম কমবে? কিন্তু এই সস্তা তেলের বোতলের আড়ালে যে গল্প আছে তা ক’জন খতিয়ে দেখছি? উৎসবের মরশুমে ভারত সরকার আমদানিকৃত তেলে শুল্ক ছাড় দিচ্ছে। তেল বলতে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পাম এবং সোয়াবিন তেল। প্রশ্ন হচ্ছে,

​ভারতের মাটি কি এতটাই বন্ধ্যা যে আমাদের ভোজ্য তেলের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়?

​ইতিহাস ও কৃষি-ভূগোল বলছে ঠিক উল্টো কথা। ভারত কোনো একক খাদ্যাভ্যাসের দেশ নয়। বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু অনুযায়ী এখানে আদি কৃষকরা নানা ফসল সৃষ্টি করেছেন। সেই অনুযায়ী যুগের পর যুগ ধরে বিপুল বৈচিত্রপূর্ণ খাদ্যাভাস সৃষ্টি হয়েছে। বাংলায় আর উত্তর ভারতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সর্ষের তেল, কেরালা ও উপকূলীয় ভারতে নারকেল তেল, মহারাষ্ট্র-গুজরাটে চিনাবাদাম ও তিল, কোথাও বা কুসুম (Safflower) আর তিসির (Flaxseed) তেল এর ব্যবহার হয়ে এসেছে।

​কিন্তু পুঁজিবাদী বাজার এই এত বৈচিত্র‍্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আপনি যদি ঘরে ঘরে স্থানীয় ঘানির সরিষা, তিল বা নারকেল তেল খান, তবে ওয়াল স্ট্রিট বা দাভোসে বসে থাকা মাল্টিন্যাশনাল এগ্রো-কর্পোরেট কিংবা দেশের গুটিকয়েক বড় পুঁজিপতি আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে কী করে? বৈচিত্র্য থাকলে মনোপলি তৈরি করা যায় না। তাই চাই একটিই সমসত্ত্ব বাজার, গোটা দেশকে এক জাতের তেলে বেঁধে ফেলা!

​আর সেই ফাঁদেই আজ আমাদের দেশ ভরে যাচ্ছে সস্তা পাম তেল আর লাতিন আমেরিকা থেকে আসা জিএম (Genetically Modified) সয়াবিন তেলে।

​ঘরের সমাধান ফেলে বনের সর্বনাশ:

​নীতি আয়োগের (NITI Aayog, 2024) নিজস্ব রিপোর্ট বলছে, ভারতে আমন ধান কাটার পর অন্তত ১১.৭ মিলিয়ন হেক্টর জমি (Rice Fallow) মাস চারেকের জন্য ফাঁকা পড়ে থাকে। ওই জমির মাত্র এক-তৃতীয়াংশে যদি সর্ষে চাষ করা যায়, তবে বছরে অতিরিক্ত ৩.১২ মিলিয়ন টন তেল উৎপাদন সম্ভব। জঙ্গল ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না করেই ভারতের ভোজ্য তেলের সিংহভাগ ঘাটতি মেটানো যায়!

​অথচ সরকার কী করছে? হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে উত্তর-পূর্ব ভারত ও আন্দামানের অনন্য ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট কেটে সেখানে কর্পোরেটদের সুবিধা দিতে 'অয়েল পাম' (Oil Palm) মনোকালচার তৈরী করছে।

​কৃষকের হাতে হাতকড়া:

​পাম ফল তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ কারখানায় তেল বানাবার কাজ শুরু করতে হয়। সর্ষে বা তিলের মতো কৃষক একে ঘরে রেখে দরদাম করতে পারে না, গ্রামের ঘানিতেও ভাঙাতে পারে না। ফলে আসাম বা মিজোরামের কৃষক জমি লিজ দিয়ে পাম চাষ করে নির্দিষ্ট কর্পোরেট ব্র‍্যান্ডের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। খাদ্য সার্বভৌমত্ব হারিয়ে কৃষক পরিণত হচ্ছে চুক্তিবদ্ধ দাসে।

​বিষাক্ত তেলের অবাধ প্রবেশ:

​ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা থেকে যে সয়াবিন তেল আসছে, তার ৯৫-৯৯% হলো 'রাউন্ডআপ রেডি' জিএম সয়াবিন (USDA)। এতে দেদার ছিটানো হয় গ্লাইফোসেট (Glyphosate), যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO-IARC) "সম্ভাব্য কার্সিনোজেন" বা ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ বলে ঘোষণা করেছে। সেই তেলকে উচ্চ তাপে ব্লিচ আর ডিওডোরাইজ করে আমাদের ড্রয়িংরুমে চকচকে প্যাকেটে পরিবেশন করা হচ্ছে।

​স্বাস্থ্য ধ্বংস এবং 'মেডিকেল মাফিয়া'র মুনাফা:

​পাম তেলের ৫০ শতাংশই ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট (Palmitic Acid)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO Bulletin, 2019)-এর গবেষণাপত্রে পাম তেল মাফিয়াদের তামাক ও অ্যালকোহল শিল্পের সমকক্ষ লবি বলা হয়েছে। কারণ পাম তেল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি চূড়ান্ত মাত্রায় নিয়ে যায়। এই সস্তা তেল ঢুকছে চিপস, বিস্কুট, চানাচুর, মিষ্টি ব্যবসায় আর রেস্তোরাঁয়।

​সমীকরণটা খুব নিখুঁত:

প্রথমে দেশি কাচ্চি ঘানি আর স্থানীয় তৈলবীজকে ধ্বংস করো।

তারপর সস্তা, প্রাণঘাতী পাম ও রিফাইন্ড তেল খাইয়ে গোটা প্রজন্মকে ফ্যাটি লিভার, ওবেসিটি আর হৃদরোগের দিকে ঠেলে দাও।

আর মানুষ অসুস্থ হলে? লাভ কার? তাদেরই তৈরি কোটি টাকার সুপার-স্পেশালিটি প্রাইভেট হাসপাতাল, ল্যাব আর বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির ব্যবসা জমজমাট! অসুস্থ নাগরিক মানেই তো আজীবন প্রিমিয়াম গ্রাহক!

অন্যান্য দেশ এইসব তেল এর বিরোধিতা করছে কেন ও কীভাবে?

​ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU): তেলের জন্য অরণ্যধ্বংস ঠেকাতে কঠোর আইন (EUDR) পাস করেছে; বন কেটে উৎপাদিত পাম ও সয়াবিন প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং বায়োফুয়েলে পাম তেলের ব্যবহার ধাপে ধাপে শূন্যে নামিয়ে এনে নিজেদের রেপসিড (Canola) ও সূর্যমুখী তেলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

​শ্রীলঙ্কা: দেশের অমূল্য ভূগর্ভস্থ জল ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে ২০২১ সালেই পাম তেল আমদানি ও দেশের ভেতর অয়েল পাম চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে; জোর দিয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী দেশি নারকেল তেলে।

​ইতালি, স্পেন ও গ্রিস: ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের কৃষকদের বাঁচাতে এবং জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সস্তা পাম-সয়াবিন প্রত্যাখ্যান করে খাদ্যপণ্যে স্পষ্ট অক্ষরে "Palm Oil Free" লেবেল ব্যবহারে বাধ্য করছে এবং নিজস্ব জলপাই (Olive) ও সূর্যমুখী তেলের উৎপাদন রক্ষা করছে।

​রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ: সস্তা বিদেশি তেলের ওপর বাড়তি শুল্ক ও কড়াকড়ি বসিয়ে নিজেদের সমতল ভূমির সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক স্বনির্ভরতা তৈরি করেছে এবং ভেজাল রুখতে দুগ্ধজাত পণ্যে পাম তেলের মিশ্রণ নিষিদ্ধ করেছে।

​চীন: খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বিদেশি তেল ও জিএম সয়াবিনের ওপর নির্ভরশীল না থাকতে রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণ করেছে; পশুখাদ্য ও ভোজ্য তেলে সয়াবিনের ব্যবহার বাধ্যতামূলকভাবে কমিয়ে নিজস্ব চিনাবাদাম ও রেপসিড উৎপাদনে বিপুল জোর দিচ্ছে।

​তথ্যসূত্র ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণপত্র (Scientific & Policy References):

​বন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: Srinivasan, U. (2014), Nature Conservation Foundation (NCF)- গবেষণায় প্রমাণিত যে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিশ্র বন ও ঝুম ল্যান্ডস্কেপে পাম মনোকালচার চাপানোর ফলে বনজ পাখির বৈচিত্র্য প্রায় ৬০–৭০% হ্রাস পায় এবং স্থানীয় প্রাইমেট ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থান পুরোপুরি ধ্বংস হয়।

​ভূগর্ভস্থ জল শোষণ ও ভূমির অবক্ষয়: IUCN Oil Palm Task Force Report (2018)- একটা পূর্ণবয়স্ক পাম গাছ দৈনিক প্রায় ২০০–২৫০ লিটার ভূগর্ভস্থ জল শোষণ করে, যা সংবেদনশীল পাহাড়ি অঞ্চলে মারাত্মক জলসংকট তৈরি করে; রাসায়নিক নির্ভরতার কারণে মাটির জৈব কার্বন (Soil Organic Carbon) হ্রাস পেয়ে জমি অনুর্বর হয়ে পড়ে।

​পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক অনুপযোগিতা: FAO & ICAR-IIOPR Agro-climatic Suitability Reports- উত্তর-পূর্বের প্রায় ৯০% পাহাড়ি ঢাল পামের শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য অনুপযুক্ত; সমতলের বদলে পাহাড়ি জমিতে এই চাষ করায় ভূমিক্ষয় ও ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

​অনাবাদী ধানজমিতে (Rice-Fallow) সরিষার বিপুল সম্ভাবনা: NITI Aayog Report (2024: 'Pathways and Strategies for Accelerating Growth in Edible Oils')- দেশে অন্তত ১১.৭ মিলিয়ন হেক্টর জমি আমন ধান কাটার পর অনাবাদী পড়ে থাকে; এই জমির মাত্র এক-তৃতীয়াংশে দেশি সরিষা চাষ করলেই বছরে ৩.১২ মিলিয়ন টন বাড়তি তেল উৎপাদন সম্ভব, যার জন্য একটিও গাছ কাটার দরকার পড়ে না।

​কৃষকের কর্পোরেট নির্ভরতা: State MoUs under NMEO-OP (Assam, Arunachal Pradesh, Mizoram)- পাম ফল কাটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্কাশন করতে হয় বলে কৃষক স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি করতে পারে না; ফলে নির্দিষ্ট কর্পোরেট সংস্থার নির্ধারিত দামে ও শর্তে ফসল বিক্রি করতে কৃষক বাধ্য থাকে।

​জিএম সয়াবিন ও গ্লাইফোসেট ঝুঁকি: USDA Foreign Agricultural Service (FAS) & IARC-WHO- আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত সয়াবিনের ৯৫–৯৯%-ই জিএম সয়াবিন (Roundup Ready); এর উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক গ্লাইফোসেটকে আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) 'সম্ভাব্য কার্সিনোজেন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

​হৃদরোগ ও ক্ষতিকর লবিং: WHO Bulletin (2019: 'The palm oil industry and ultra-processed foods')- পাম তেল শিল্পকে তামাক ও অ্যালকোহল শিল্পের সমকক্ষ লবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; এতে থাকা প্রায় ৫০% পামিটিক অ্যাসিড (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) সরাসরি রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়িয়ে করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

​দেশি তেলের খাদ্যগুণ বনাম পাম/সয়াবিন: ICMR - National Institute of Nutrition (NIN) Guidelines- দেশি ঘানির সরিষা, তিল ও চিনাবাদাম তেলে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রাকৃতিক সুষম অনুপাত থাকে; বিপরীতে প্রক্রিয়াজাত পাম ও রিফাইন্ড সয়াবিনে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে না এবং উচ্চ তাপে ক্ষতিকর উপজাত (3-MCPD ও Glycidyl esters) তৈরি হয়।

​আমাদের পূর্বপুরুষরা জানতেন মাটি যা দেয় তাই গ্রহণ করতে হয়। সেই মাটির ঘ্রাণ মুছে দিয়ে যখন জাহাজে করে বিষ এসে আমাদের রান্নাঘরে ঢোকে, তখন বুঝতে হবে লড়াইটা কেবল রান্নার তেলের নয়; লড়াইটা আমাদের বাস্তুতন্ত্র, খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং বাঁচার অধিকারের।

​এখনই সময় দেশি সরিষা, তিল, নারকেল ও অন্যান্য দেশজ তেলের কাছে ফিরে আসার। কর্পোরেট পাতে বিষ তুলে নেওয়ার আগে প্রশ্ন তুলুন আমরা কি আসলেই স্বনির্ভর হচ্ছি, নাকি স্রেফ মুনাফার শিকার?

20/09/2026

TO BEE OR NOT TO BEE

"এঞ্জেলিনা জোলি গারল্যাঁর (Guerlain) জন্য মৌমাছি পালনকারীর পোশাক পরে কাজ করেছেন এবং ডেভিড বেকহ্যাম গর্বের সঙ্গে অক্সফোর্ডশায়ারে নিজের মৌচাক থেকে উৎপাদিত মধুর একটি পাত্র রাজাকে উপহার দিয়েছেন। ভালো কিছু করতে চাওয়া এত মানুষেরা এখন নিজেদের বাগানে বা ছাদের উপর মৌচাক বসাচ্ছেন যে মৌমাছি এখন টেকসই জীবনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। অবশ্যই, মৌমাছি পালন সুস্বাদু মধু পাওয়ার এক দারুণ উপায়, কিন্তু এর এক অপ্রত্যাশিত দিকও আছে,-মৌচাক বসানো মৌমাছি বুনো পরাগবাহীদের কোনো সহায়তা করে না। “মৌমাছিকে বাঁচাও” প্রচারাভিযানগুলো জনমনে গভীর সাড়া ফেলেছে, কিন্তু গৃহপালিত মৌমাছিদের বাঁচানোর প্রয়োজন নেই, কারণ তারা সংকটে নেই । মৌচাক বসানো, যেন বুনো পাখিদের বাঁচানোর নামে মুরগি পালনেরই মতো। এদিকে প্রায় ২৭০ প্রজাতির একাকী মৌমাছি এবং ২৫ প্রজাতির ভম্বর মৌমাছিসহ এক বিশাল পরিসরের পরাগবাহীরা প্রকৃত সংকটে রয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে তাদের সহায়তা প্রয়োজন। এই বিপন্ন প্রজাতিগুলোর অনেকগুলোই প্রতি বছর আরও বিরল হয়ে যাচ্ছে।"

লেখিকা Phoebe Weston, The Guardian থেকে।

11/09/2026

শিবেশ দাস লিখেছেন
একটা সময় কৃষক সমাজের আচার আচরণ, খাদ্যাভ্যাসেই আস্থা ছিল গোটা মানব সমাজের। তখন বহু শারীরিক সমস্যা, আজ যা জীবনচর্য্যা জনিত রোগভোগ হিসাবে বিবেচিত হয়, তার দেখা মিলতো কালেভদ্রে, এখন তো তা ঘরে ঘরে। এমন সমস্যার কথা তখন কৃষি নির্ভর সমাজ জানতোনা তা নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের পথও তারা জানতো। জানতো খাদ্যাখাদ্যকে নিয়ন্ত্রণের পথও। এতে সহায়ক ছিল খাদ্য হিসেবে গৃহীত উদ্ভিদ ও ফসলের বৈচিত্র্য। জানানেই কতহাজার বছর ধরে কৃষি নির্ভর এই সভ্যতা ফসল দানার মিশ্রণ (Grain Mix) কে পুষ্টির এক অমোঘ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পশ্চিম সমুদ্রতট বরাবর মালাবারের "নবধান্যম" এরই এক উদাহরণ I নবধান্যম আয়ুর্বেদ অনুসারে এক অমোঘ স্বাস্থ্য সুবিধা যা শরীরকে নীরোগ ভবিষ্যৎ প্রদান করে। প্রধান ভক্ষ্য শস্য , ডাল এবং তেলবীজের এক অনন্য মিশ্রণ, নবধান্যম ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, চর্বি এবং শর্করাগুলির একটি সমৃদ্ধ উৎসের সমাহার। যা স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়তা করে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চাল, গম, অড়হর, ছোলা, মুগ, বরবটিকলাই, তিল, কলাই, কুলথি এই নটি দানার সংমিশ্রণ নবধান্যম I

08/09/2026

শিবেশ দাস লিখেছেন
ঐতিহাসিক ভাবেই পদার্থ , রসায়ন বা সমগোত্রীয় বিজ্ঞান চর্চার ধারক মূলত: ভদ্রবিত্ত জন। আর উল্টোদিকে কৃষিবিজ্ঞানের ধারক মূলত গ্রামীণ চাষাভুষো মানুষ। স্বাভাবিক ভাবেই ঐতিহাসিক কাল থেকেই কোনটা কুলীন, কোনটা নয় তা সভ্যতা ভাবেনি তাতো নয়। আর শাসনতান্ত্রিক কারণে কাদের বা কোন বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সঠিক সামাজিক স্বীকৃতি না দিয়ে অন্ধকারে রাখতে হবে সে শিক্ষা তো রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিলই। তাই কৃষি "বিজ্ঞান'' নয়, তার পরিচয় ''সংস্কৃতি''। এই বঞ্চনার পিছনে অনেকগুলি সুদূর প্রসারী চিন্তা ভাবনা কাজ করেছে।

07/09/2026

ফসল বাঁচাতে যে রাসায়নিক মাঠে ছড়ানো হয়, সেই কীটনাশকের বিষে বিশ্বে বছরে প্রায় ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। গবেষকদের হিসাব, এই মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশই ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ভারতে বছরে প্রায় ১৬ কোটি ৯০ লক্ষ কৃষক ও কৃষিশ্রমিক তীব্র কীটনাশক বিষক্রিয়ার শিকার হতে পারেন। এমনটাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

২ সেপ্টেম্বর Frontiers in Public Health-এ প্রকাশিত গবেষণায় ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৩৯টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হিসাব বলছে, বিশ্বজুড়ে বছরে ৪০ কোটি ২০ লক্ষ থেকে ৪৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ অনিচ্ছাকৃত তীব্র কীটনাশক বিষক্রিয়ার শিকার হতে পারেন। অর্থাৎ কৃষিকাজে যুক্ত মানুষের প্রায় ৪৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খতিয়ান মিলছে দক্ষিণ এশিয়ায়। আর ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি প্রায় ১৬ কোটি ৯০ লক্ষ। তবে এটি সরাসরি গোনা রোগীর সংখ্যা নয়। ভারতের ১১টি গবেষণায় পাওয়া বিষক্রিয়ার গড় হার—প্রায় ৭৩.৬ শতাংশ—দেশের প্রায় ২৩ কোটি কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সংখ্যার উপর প্রয়োগ করে এই অনুমান করা হয়েছে।

মৃত্যুর হিসাবটা আরও ভয়াবহ। গবেষণায় বিশ্বজুড়ে বছরে কীটনাশকের প্রভাবে আনুমানিক ১১,৪০০ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০২১ সালে ভারতে কীটনাশক বা কীটনাশকজাত রাসায়নিক দুর্ঘটনাবশত গ্রহণের ঘটনায় ৭,৮০৫ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছিল। গবেষণাপত্রে এই সংখ্যাটিকেই ওই বছরের ভারতের সর্বোচ্চ নথিভুক্ত সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমস্যা হল, এই বিষক্রিয়ার বড় অংশের হিসাবই হয়তো সরকারি নথিতে নেই। গবেষকদের মতে, বহু দেশে বিষক্রিয়ার নজরদারি দুর্বল এবং চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছনোর সুযোগও সীমিত। ফলে বাস্তব ঘটনা ও নথিভুক্ত ঘটনার মধ্যে বড় ফারাক থাকতে পারে।

পাশাপাশি কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহারও বাড়ছে। ২০২৩ সালে বিশ্ব কৃষিতে প্রায় ৩৮ লক্ষ টন কীটনাশক ব্যবহার হয়েছে—১৯৯০ সালের প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার যত বেড়েছে, তার সঙ্গে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

একদিকে কৃষি উৎপাদনে রাসায়নিকের উপর নির্ভরতা বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের বিষক্রিয়া, মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যক্ষতির প্রকৃত হিসাবই এখনও অসম্পূর্ণ।

তাহলে ফসল বাঁচানোর জন্য যে বিষ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই বিষে কৃষকের মৃত্যু ও অসুস্থতার দায় নেবে কে? কৃষকের জীবন কি ফসলের দামের চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ?

তথ্যসূত্র: Frontiers in Public Health, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬; Boedeker et al., “Worldwide unintentional acute pesticide poisonings: reassessing the occupational and non-occupational burden”; WHO Mortality Database; NCRB, Accidental Deaths & Suicides in India 2021; FAO/FAOSTAT; The Guardian।

07/09/2026

India’s strength in agriculture firmly lies in its ability to promote natural farming and climate resilient farming based on agro-ecology, soil and water conservation and seeds sovereignty, in line with the country’s rich heritage of seeds and biodiversity. This is where India should strive to e...

24/08/2026

শিবেশ দাস লিখেছেন
যখন পশ্চিম থেকে এলোপ্যাথি ঔষধ ও চিকিৎসার সূত্রপাত হলো , তার দ্রুত নিদান ক্রিয়া আমাদের নিজস্ব সহজলভ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রায় বিনামূল্যে উপলব্ধ ভেষজ ভিত্তিক ঔষধি কে তুচ্ছ জ্ঞান করতে শুরু করলো। আমরা আমাদের বিপুল সর্বজন উপলব্ধ জ্ঞানভাণ্ডার প্রায় হারিয়ে ফেললাম। আমরা এলোপ্যাথি ঔষধের দ্রুত কার্যকারিতার নেশায় মগ্ন হয়ে গেলাম , তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর তার প্রভাব কে বিবেচনায়ই রাখলাম না। আমাদের অর্থ ও সামর্থের কোনো বাধাবন্ধনই রইলো না। যে কোনো মূল্যে ঔষধ থেকে প্রসাধনী কিনতে কোনো তোয়াক্কাই আমরা করলাম না। অথচ আমাদের নিজের ঘরেই বহু প্রয়োজনীয়ের উপস্থিতি নজরেই এলোনা। যেমন দারুচিনির একটি লোকায়তিক ব্যবহার, যা বিস্মিত করে। আসুন আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য মশায়ের শব্দেই তা শুনি,

"বর্ণের ঔজ্বল্য হীনতায় - খাওয়া-নাওয়ার ত্রুটি নেই ; এর সঙ্গে স্নো ক্রিম দিনরাত ঘষা চলছে, তবুও বর্ণের ঔজ্বল্যও রক্ষে হচ্ছেনা I এ ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যে রসবহঃ স্রোতের আশ্রিত পিত্তটা তাপ হারাচ্ছে I সে ক্ষেত্রে দারুচিনি এক বা দেড় গ্রাম দিয়ে ভালো ভাবে থেঁতো করে এক কাপ গরম জলে রাত্রিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে সেটাকে ছেঁকে কিছু খাওয়ার পর সেটাকে খেতে হবে I এ ছাড়া এক মুঠো দূর্বো ঘাস (দূর্বা ঘাস-Cynodon dactylon), এক গাঁট কাঁচা হলুদ (৫ গ্রাম আন্দাজ ) ও দুই গ্রাম দারুচিনি এক সঙ্গে বেটে স্নানের ঘন্টা খানেক পূর্বে লোকে যেমন তেল হলুদ মাখে , তেমনি মাখতে হবে I " (চিরঞ্জীব বনৌষধি , আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, তৃতীয় খন্ড , ৬৯-৭০পৃ:)

24/08/2026

অনুপম পাল লিখেছেন
ডক্টর রাধেলাল হরেলাল রিচারিয়া। ‌
এই মহান কৃষি বিজ্ঞানের কথা কোন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় না। কৃষির মূল ধারায় তিনি ব্রাত্য থেকে গেলেন।
১৯৩০ এর দশকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি। ‌ ধানের ক্লোনিং নিয়ে নেচারে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৬২ সালে|
তিনি চেয়েছিলেন কটকের ধান গবেষণা কেন্দ্রটাই পৃথিবীর এক নম্বর ধান গবেষণা কেন্দ্র হোক ইরি নয়।
কটকের ধান গবেষণা কেন্দ্রের তিনি অধিকর্তা ছিলেন ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত।
তাঁকে জোর করে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়
তিনি ফিলিপাইনসের ইরিকে আমাদের দেশের ধান-সম্পদ হস্তান্তর করতে চাননি।

তিনি মধ্যপ্রদেশে ১৭ হাজার দেশী ধান নিয়ে কাজ করেছিলেন।

তিনি চাননি প্ল্যান্ট কোয়ারেনটাইন ছাড়া এদেশে জাপানিকা ভ্যারাইটির অনুপ্রবেশের কারণে ওই সমস্ত ধানের রোগ পোকা যেমন খোলাপোঁচা, খোলা ধসা, বাদামী শোষক পোকা ও টুংরো রোগ এদেশে ছড়িয়ে পড়ুক। কিন্তু এখন ওই সব রোগ পোকা আছে।‌

তিনি এক হাজারটা দেশি ধান‌ নির্বাচন করেছিলেন যেগুলো পেকে যায় ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে।

তিনি ৪৪ টা দেশী উচ্চ ফলনশীলের জাত নির্বাচন করেছিলেন যেগুলোর ফলন ৩ টন থেকে ৭ টন প্রতি হেক্টারে।

সেই ধানের জাত গুলো কিছুতেই কৃষকের কাছে নিয়ে আসা হয়নি। তাহলে কৃষকের লাভ। ‌ কৃষকের লাভ বোধহয় কেউ সহ্য করতে পারেন না।

তাই তিনি কৃষির মূল ধারায় ব্রাত্য ।

আমরা তাকে নিয়ে একটা ছোট পুস্তিকাও তৈরি করেছি।

আকাশবাণীর ডক্টর মানস প্রতিম দাসের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ ।
তিনি আমাকে ওনার বিষয়ে কথিকাটি বলার সুযোগ করে দিয়েছেন ।
আগামী সাতাশে অগাস্ট, ২০২৬এ আকাশবাণীর গীতাঞ্জলি চ্যানেলে রাত সাড়ে আটটায় এই নিয়ে কথিকা প্রচার করবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা মোবাইলেও শুনতে পারেন।

Open Chrome on your Android phone.
Go to the official Akashvani Live Radio⁠�.
Scroll to West Bengal.
Tap Akashvani Kolkata Geetanjali.
Tap ▶ Play.

19/08/2026

শিবেশ দাস লিখেছেন
হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের দেশীয় কৃষক সমাজ নানান কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে তাদের প্রবৃত্তির ভিতর যে বিজ্ঞানকে ধারণ করেছেন তা প্রকৃতির আর দু দশটা অত্যাশ্চর্য বিষয়ের চাইতে কম কিছু নয় I
একজন কৃষক যেমন চাষের জমির মাটির রং ,তার উপর জন্মানো ঘাসপালা দেখে তার রাসায়নিক অবস্থা মুহূর্তে বিশ্লেষণ করে নেন তা অকৃষক কারো পক্ষে এত সহজে সম্ভব নয় I চাষের জমির মাটির রাসায়নিক ভারসাম্যের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মাটিতে উপলব্ধ পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য সম্পর্কে জ্ঞান যেমন। মূলত জৈব পদার্থের বিষয়বস্তু এবং হিউমাসের উপস্থিতির শতাংশ দ্বারা নির্ধারিত এই ভারসাম্য মাটিকে সঞ্চয় করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়ের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে I কৃষক সমাজ এবং তাদের পূর্বসূরিরা তার সাথে থেকে তা পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং প্রবৃত্তির ভিতর নিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতাকেI
এটা আমরা প্রায়শই দেখি অকৃষকরা যখন কৃষি চর্চা কেন্দ্রিক সভা সমিতি বা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদানের পদ্ধতি ভিত্তিক কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করেন তা অনেকাংশেই কৃষকদের উপর তেমন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনা I কেননা তাদের জ্ঞান সংগ্রহের পদ্ধতি মূলত কর্মকেন্দ্রিক, অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ভিত্তিক, শ্রেণীকক্ষ ভিত্তিক নয়I
এই অভিজ্ঞতার বাইরে গিয়ে অধিক ফলনের লোভে রাসায়নিক সার প্রয়োগের পর মাটির এই ভারসাম্যের অবস্থা কোন পর্যায়ে গেছে তা কমবেশি সকলেরই জানা I একই সঙ্গে নেশাসক্ত জমির সার ক্ষুধা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে তাও সকলের গোচরেই আছেI কৃষক সমাজ মাটির এই বাড়তি ক্ষুধার নিদানে কোনো পথ পাচ্ছেন না (কেউ কেউ তো আত্মহননের মতো পথ বেছে নিচ্ছেন )I সিদ্ধান্তের প্রশ্নে তার অবস্থা এখন দোলাচলে - এই কৃষি আর অতীতের প্রকৃতি নির্ভর কৃষি, এই দুইয়ের মাঝখানে তার অবস্থানI কৃষি সাক্ষাৎ বিজ্ঞান, আগডুম বাগডুম নয় !


আগডুম বাগডুম

এই দোলাচলের সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছেন অনেকেই !
ইতিমধ্যে অনেকেই এক নতুন উদ্ভাবন ফেরি করতে শুরু করেছেন I গোবর ইত্যাদি দিয়ে সংশোধন করে নিয়ে রাসায়নিক সার ব্যবহার করার পদ্ধতি I তারা বলছেন এতে ক্ষতিকারক আর কিছুই থাকছেনাI এর পর আর কিছু বলা উচিত কি ?

সাতকান্ড রামায়ণ পড়ার পর তা হলে সীতা রামের কে হলেন ?

Address

Kolkata
700041

Telephone

+919477236962

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mrittika-The Eco Warrior posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Mrittika-The Eco Warrior:

Shortcuts

Share