02/06/2026
মনুষ্যত্বের মতোই আত্মা অবিভাজ্য। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ - সকল মানুষের মধ্যেই একই আত্মার প্রকাশ। আত্মার কোনো ভেদবুদ্ধি নেই, কারণ সে নিরুপাধিক, অনন্ত, সর্বব্যাপী। ভেদ যা কিছু, তা নাম-রূপ, সংস্কার ও বাহ্য পরিচয়ের স্তরে; আত্মার স্তরে নয়। কিন্তু এই সত্য কেবল তর্কে উপলব্ধ হয় না—অন্তর্যাত্রার সাধনা, শিক্ষা ও আত্মবিকাশের মধ্য দিয়েই তা প্রত্যক্ষ জ্ঞানে পরিণত হয়। যে সেই পথে অগ্রসর হবে, তার কাছেই অভেদের সত্য প্রতিভাত হবে; যে হবে না, সে ভেদের প্রাচীর নির্মাণ করেই যাবে।
অভেদ ফাউন্ডেশন এই চিরন্তন সত্যকে সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত করার সংকল্প গ্রহণ করেছে। সে ফলিত বেদান্তপথের যাত্রী। স্বামী বিবেকানন্দ যে ‘মানুষ-তৈরির’ শিক্ষার কথা বলেছিলেন, সেই শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল আত্মশক্তির জাগরণ, চরিত্রগঠন এবং মানবমৈত্রীর বিকাশ। অতএব, শিক্ষা শিক্ষা শিক্ষা! সত্যিকারের শিক্ষা চাই। শিক্ষিত, দক্ষ, চিন্তাশীল ও চরিত্রবান মানুষই স্বাধীন বিচার করতে পারে। জ্ঞানের আলোয় তার মন থেকে সংকীর্ণতা, কুসংস্কার ও ভেদবুদ্ধি দূরীভূত হয়। তখন সে মানুষের মধ্যে ধর্ম নয়, মানুষকে দেখে; সম্প্রদায় নয়, চেতনাকে দেখে; বিভাজন নয়, ঐক্যকে অনুভব করে।
এই অভেদদৃষ্টি কেবল একটি দার্শনিক মতবাদ নয় - এ মানবসমাজের শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত অগ্রগতির ভিত্তি। অভেদ ফাউন্ডেশনের বিশ্বাস, মানুষ-তৈরির এই আন্দোলনের মাধ্যমেই এমন এক সমাজ গড়ে উঠতে পারে, যেখানে বৈচিত্র্য থাকবে, কিন্তু বিভেদ থাকবে না; ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু বৈরিতা থাকবে না; এবং সকলের অন্তরে একই মানবাত্মার দীপ্তি স্বীকৃতি পাবে।