26/09/2026
বরুণ বিশ্বাস - জীবনী
---------------------
|| এগারো ||
রাজনীতির রঙ থাকবে না মঞ্চে, এমত সিদ্ধান্ত হলেও রাজনৈতিক নেতারা কিন্তু মঞ্চের সংস্রবে এলেন। বামপন্থীরা আসেননি, কিন্তু দক্ষিণপন্থীরা এসেছিলেন। এইখানেই হল বিপদ। নেতাদের খুঁটি বাঁধা থাকে মস্তান তোলাবাজদের কাছে। তাই নেতারা যেই দেখলেন, সুশান্তর দলের অনেক চাঁই-ই তাদের দলের সমর্থক, তারা বাগড়া দিলেন। এমনকি - বরুণের লেখা থেকে দেখছি – গাইঘাটার তৎকালীন বিধায়ক শ্রীজ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রতিবাদী মঞ্চের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচার শুরু করেন। বরুণ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন, অনেক আশা ছিল উনি আমাদের পক্ষ নেবেন, কিন্তু হতাশ করলেন তিনি। এ বাবদ খোলা চিঠি আছে তাঁর। বিলিও করা হয়েছিল তা জনসাধারণে। যাই হোক, মঞ্চের নেতারা যখন দেখলেন, রাজনীতির ছোঁয়ায় মানুষ দমে যাচ্ছে, প্রকৃত উদ্দেশ্য বিধেয় হয়ে যাচ্ছে, তাঁরা বড় কমিটি ভেঙে দিয়ে কর্মসূচী অনুযায়ী ছোটো ছোটো কটা কমিটি গড়লেন। এটা খুবই বুদ্ধির কাজ হয়েছিল, কারণ বেশী লোককে না জড়িয়ে বিশ্বস্ত মানুষকে নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব দেওয়ায় সাফল্যের পথ সুগম হয়। ঘটনা ঘটছিল খুব তাড়াতাড়ি, আর বরুণ দুহাতে কাজ করছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁর যা অবদান, সে বাবদ তাঁর মুক্তোর মতো হাতের লেখায় আমরা বেশ কিছু সনদ পাচ্ছি – চিঠি, লিফ্লেট, আমন্ত্রণপত্র, খেয়ালী রচনা, কাজের পরিকল্পনা, দানের অঙ্গীকার। এসব থেকে এটা প্রতীয়মান যে যুবকটি জনসংযোগ তৈরী করা, জনসভা করা, লিফ্লেট পোস্টার লেখা, কাজ ভাগ করা ও খতিয়ান নেওয়া, সব কাজেই পটু হয়ে উঠেছিল। আবার, গভীর রাতে বাইক নিয়ে রোঁদে বেরোতেন সাহসী মানুষটি। মুক্তিকামী মানুষ এভাবেই পেয়েছিল তাদের নেতাকে। এসব কাজে তাঁকে সঙ্গত করছিল নয়া যুবকের দল, যারা বন্যার সময় বরুণের দলে নাম লিখিয়েছিল। এটি শিক্ষার সঙ্গে অশিক্ষার লড়াই বললেও অত্যুক্তি হয় না। আর, যা বোঝা যাচ্ছে, কর্মযোগীটি আন্দোলনের পরিসরে চিন্তানায়ক হয়ে উঠেছিলেন। সনদগুলি তো কাজের সাক্ষী মাত্র, ননীবাবু জানাচ্ছেন, ভালো ভালো চিন্তার জোগান দিতেন বরুণ।
প্রশ্ন উঠল, সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সঙ্গে লড়তে গেলে কি অস্ত্রের জোগান চাই ? স্থানীয় গৃহযুদ্ধ কি অপরিহার্যই ? যে কাণ্ড নন্দীগ্রামে পরে দেখা গিয়েছিল – বলা যায়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যা ছিল অনিবার্য – সুটিয়ায় কিন্তু তা দেখলাম না আমরা। সুটিয়ায় অস্ত্রের পথে হাঁটল না মানুষ। গণের শক্তি যদি হয় সংখ্যায় প্রতিফলিত, স্বতস্ফূর্ত জনপ্লাবন দেখে অসমসাহসী খুনেদেরও পা ঠকঠক করতে শুরু করে। তাই ২০০২এর ১৬ই আগস্ট ১৮টা (মতান্তরে ২০টা) ট্রাকে করে যখন কয়েক হাজার মানুষ থানায় ডেপুটেশন দিতে যায়, তখন বদমাশদের সাইকিতে একটা ঝাঁকুনি লাগে। এর আগে অবশ্য সুশান্তর বাড়ি ভাঙচুর হয়। সে যাক, বনগাঁর এসডিও এসডিপিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে দলটি থানায় গিয়ে দেখে, ওসি থানা থেকে পলাতক। তখন অধীনস্থ মেজোবাবু ধরি-মাছ-না-ছুঁই-পানি এক প্রস্তাব দেন, ‘একটা কাগজে অভিযোগ লিখে সবাই সই করে দিন নীচে’। বরুণ তক্ষুনি রুখে ওঠেন, ‘আমরা একটা কাগজে সই করব না, প্রত্যেকের কেস আলাদা আলাদা করে স্বীকার করতে হবে’। তা-ই হয়, উপরন্তু পরদিন বিডিও ডিএম পান জনতার অশান্তির আঁচ। এবার ২৩টা গাড়ি করে গ্রামের মানুষ নিজেদের শক্তি দেখায়। বলা বাহুল্য, শক্তি প্রদর্শন এক প্রয়োজনীয় রণকৌশল। তবে এতশত অট্টনিনাদের পরও সংবাদপত্র নীরব, দূরদর্শন নির্বাক।
#বরুণ_বিশ্বাস
#বাংলার_গর্ব
#সমাজসেবক
#প্রেরণা