17/06/2026
দ্য গ্রেটেস্ট্ দ্বিতীয় খণ্ড থেকে --
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
ভগবানের মধ্যে ব্রহ্মবিচার এইভাবে কাটাছেঁড়া চালিয়ে যাচ্ছিল তাঁর নিজেরই মনকে । সেখান থেকে উঠে এসেছিল জ্ঞানের কিছু ঝলক ।
৯ ই আগস্ট ভগবান লিখলেন ----
' জাগ্রত অবস্থার জ্ঞানই প্রমাণ করে স্বপ্ন মিথ্যা । এবার বিচারের জ্ঞানে জানিতে পারি ---- জাগ্রত অবস্থা কারণ এবং স্বপ্ন তাহার কার্য্য । কার্য্য যদি মিথ্যা হয় , তবে জাগ্রত অবস্থাও মিথ্যা । '
জাগ্রতে আমরা যা দেখি বা ভাবি , সাধারণত স্বপ্নে তারই প্রতিফলন ঘটে । আবার জেগে উঠে বিচারে বুঝি যে স্বপ্ন স্বল্পকালীনই থাকে , তাই মিথ্যা । সুতরাং একই যুক্তিতে জাগ্রতাবস্থাও মিথ্যা কারণ জাগ্রত অবস্থাও মানুষের দিনে চব্বিশ ঘন্টা থাকে না , স্বপ্ন ও সুষুপ্তিতেও দিনের বহুক্ষণ অতিবাহিত হয় ।
তাহলে যে জ্ঞান অবস্থাত্রয়কে মিথ্যা বলে প্রমাণ করল , সেই জ্ঞান কী --- সত্য না মিথ্যা ?
এই প্রশ্নের উত্তরে ভগবান লিখছেন ----
' জ্ঞান সমস্ত কিছুকে মিথ্যা প্রমাণ করিয়াও নিজে মিথ্যা প্রমাণিত হইল না । তাই জ্ঞানই একমাত্র সত্য বস্তু এবং এই জ্ঞানই আত্মা । সবকিছুকে বুঝাইয়া দিলেন । নিজেকে বোধ করিতে দিলেন না , কিন্তু জানাইয়া দিলেন -- তিনি আছেন । '
বিচারে প্রবৃত্ত হলে দেখা গেল যে জ্ঞান তিনটি অবস্থাকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করল , সাথে তিনটি মিথ্যা অবস্থারই প্রকাশক বা সাক্ষী হিসেবে নিজের অস্তিত্বের প্রমাণ দিল । সাথে এও প্রমাণিত করল যে অবস্থাত্রয় মিথ্যা হলেও চৈতন্য বা জ্ঞানের বা সাক্ষীর কখনই অভাব হয় না বলে জ্ঞান সত্য , নিত্য ।
এভাবে বিচারে জ্ঞান জানান দিল যে সে আছে ।নিত্যরূপে তাই বিচারে আমরা পরোক্ষ জ্ঞানে উপনীত হই ।
কিন্তু অপরোক্ষ জ্ঞান বিচারে হবে না কারণ বিচারে সব সময় চিন্তা ও চিন্তক--- দুই-এর অস্তিত্ব থাকে , একে পৌঁছানো যায় না । তাই ভগবান লিখলেন --
' তাই বিচারের সাহায্যে পরোক্ষ জ্ঞান হইতে পারে কিন্তু অপরোক্ষের জন্য নির্বিকল্প সমাধি দরকার । সেখানে সকল কল্পনা নিবারিত । তাই তো পরম ভূমি , অর্থাৎ ব্রাহ্মীস্থিতি ।'
বিচারও একপ্রকার কল্পনা বই তো নয় , সেখানে মন চিন্তা করতে ব্যস্ত । চিন্তাটাও একপ্রকার কল্পনা । কিন্তু নির্বিকল্প সামাধি সকল কল্পনা , সকল দ্বন্দ্ব , সর্বদ্বৈতের অতীত , একের ভূমি , পরমভূমি ।
মন সকল বহুত্ব , জ্ঞান - জ্ঞাতা - জ্ঞেয়র নাশে একাকার হলেই তা নির্বিকল্প ভূমি।
ভগবান এদিন আরও লেখেন ----
' তাই আপাত - প্রতীয়মান জগৎ জ্ঞানের অবস্থা হইতে পারে না । যাহা মিথ্যা প্রমাণিত হইল তাহা কখনও সত্যের অবস্থা হইতে পারে না । তাই আত্মা কিংবা ব্রহ্ম কিংবা জ্ঞান নিঃসঙ্গ । ইহাই অজাতবাদ । ইহাতে মায়া ব্যবহার করিবার দরকার নাই । '
ভগবান এটাই বলে ইতি টানলেন যে মিথ্যা জগৎ সত্য জ্ঞানের কোন অবস্থা হইতে পারে না । জ্ঞান সর্বাবস্থায় এক , সাক্ষীস্বরূপ অর্থাৎ তার কোন সঙ্গী নেই । প্রয়োজনও নেই , তাই নিঃসঙ্গ , অসঙ্গ ।
এই জ্ঞান এক ও অদ্বিতীয় বলে জন্মমৃত্যুবিহীন। এই অজাত ব্রহ্মের জ্ঞানে মায়ার কোনও প্রবেশ নেই , প্রসঙ্গই নেই ।
(৩০৩ ,৩০৪ পৃষ্ঠা )
🌺🌺🌺🌺🌺🌺
" জয় ভগবান "
🙏🌹🙏🌹🙏