28/05/2026
ভারতের আইনে কাউকে গ্রেফতার করা মানেই তাকে অপরাধী ঘোষণা করা নয়। সংবিধান ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মূল নীতি হলো — “দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত নির্দোষ”। তাই বিচার শুরুর আগেই কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো নিয়ে গুরুতর আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন ওঠে।
এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে:
ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করে। পুলিশি হেফাজতে অপমানজনক বা অমানবিক আচরণ আদালত বহুবার মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন রায়ে বলেছে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাতকড়া বা দড়ি ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে — যেমন অভিযুক্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক, পালানোর প্রবল সম্ভাবনা আছে, বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে — তখন যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে সীমিতভাবে এমন ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, Prem Shankar Shukla vs Delhi Administration মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে, রুটিনভাবে হাতকড়া পরানো বা অপমানজনকভাবে প্রদর্শন করা সাংবিধানিক মর্যাদার পরিপন্থী।
আবার DK Basu vs State of West Bengal মামলায় গ্রেফতার ও হেফাজতে মানবাধিকার রক্ষার জন্য কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল।
তাই আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টা দাঁড়ায় এভাবে:
অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
কিন্তু বিচারপূর্ব অবস্থায় প্রকাশ্যে অপমান, “শাস্তি প্রদর্শন”, বা জনসমক্ষে দড়ি বেঁধে ঘোরানো — এগুলো আদালতের চোখে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
যদি পুলিশ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখায়, তাহলেও সেটার যুক্তিসঙ্গততা আদালতে খতিয়ে দেখা যায়।
আপনার বক্তব্যের শেষ অংশ — “স্বৈরাচারের ইঙ্গিত” — এটা মূলত রাজনৈতিক ও নৈতিক মূল্যায়ন। তবে আইনি দৃষ্টিতে বলা যায়, রাষ্ট্র যদি বিচারব্যবস্থার আগে “পাবলিক শেমিং” শুরু করে, তাহলে তা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের নীতির সঙ্গে সংঘর্ষে যেতে পারে।