02/08/2026
ডবল আনন্দ ভোজ, ডবল আনন্দ দান… আগের সমস্ত চ্যালেঞ্জ ও রেকর্ডকে ছাপিয়ে দ্য টাকীয়ান্স -এর নয়া নজির
====================================================
লেখা শুরুর আগেই দ্য টাকীয়ান্স কৃতজ্ঞতা জানায় দ্য টাকীয়ান্স বেঙ্গালুরু ইউনিটের সদস্যবৃন্দ কবিতা পাল, রণন ভট্টাচার্য, সুভাষ শিকদার, শিবাজী ব্যানার্জী ও দিব্যেন্দু বর্ধনকে এবং টাকি বয়েজ স্কুলের প্রাক্তনী কলকাতা নিবাসী নীলাঞ্জন স্যান্যালকে।
আজকের দিনে ‘ডবল’ শব্দটি নানান ক্ষেত্রেই বহুল ব্যবহৃত। কিন্তু দ্য টাকীয়ান্সের ফেসবুক পেজে ‘ডবল আনন্দ ভোজ’ ও ‘ডবল আনন্দ দান’—এই দুই শব্দবন্ধ শুধু নতুনই নয়, এর অন্তরে লুকিয়ে রয়েছে দ্বিগুণ আনন্দ, দ্বিগুণ মানবিকতা এবং দ্বিগুণ দায়বদ্ধতা, দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জের এক অনন্য বার্তা।
এর আগে আনন্দ ভোজ এবং আনন্দ দান দীর্ঘদিন ধরেই একই সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে, এ কথা কারও অজানা নয়। পাশাপাশি, এই দুটি কর্মসূচি চলার সময়ই কখনও কখনও দ্য টাকীয়ান্স একই দিনে সুস্বাস্থ্য অভিযান কিংবা মগজ মন্থন-এর মতো অন্যান্য কর্মসূচিরও আয়োজন করেছে।
কিন্তু এবারের দ্য টাকীয়ান্সের ডবল আনন্দ ভোজ এবং ডবল আনন্দ দান, যা আজ অনুষ্ঠিত হলো, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিভাস রায় ও সম্রাট ঘোষের অনুপস্থিতিতে টিমের সদস্যরা আজ তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিল কয়েকগুণ একই দিনে শহরের দুইপ্রান্তে একসাথে দুটি আনন্দ ভোজ + আনন্দ দান কে রুপায়িত করে।
আসন্ন দ্য টাকীয়ান্স মেধা মহারণ বাস্তবায়নে সক্রিয় সদস্যরা এতোটাই ব্যস্ত যে সঠিক সময়ে হোমগুলির সাথে যোগাযোগ সম্পন্ন হয় নি, খানিক দেরি হয়। কাজেই হোম পাওয়া যায় নি জুলাই মাসে। ফলতঃ আনন্দ ভোজ আনন্দ দান সম্ভবও হয় নি।
অন্য দিকে আগষ্ট মাস কড়া নাড়ছে... এমতাবস্থায় আনন্দ ভোজ এবং আনন্দ দান একই দিনে একসাথে দু জায়গায় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। আর কিছুটা ইচ্ছাপূরণ বলতে পারি আমরা, কারণ যা চাই তা তো সব সময় পাওয়া যায় না, আর এবার একসাথে একদিনে দুটি নাইট শেল্টার আমরা পেয়েও গেলাম।
তারপরই জানতে পারলাম বিভাস রায় আমাদের ফর্দ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো সাহায্যই করতে পারবে না এই মহা কর্মযজ্ঞে। কাজেই চাপটা আর একটু বাড়ল বটে, পাশাপাশি মেধা মহারণের ব্যস্ততাও, আবার বাজারের দায়িত্বে থাকা সম্রাট ঘোষও কলকাতার বাইরে। কিন্তু ওই যে জেনারেল সেক্রেটারি প্রসেনজিৎ, ওর মাথায় কিছু ঢুকলে তা করেই ছাড়বে এমন একটা মানসিকতা, সঙ্গে দোসর প্রেসিডেন্ট ধ্রুব। কাজেই পিছিয়ে আসা তো দূর কি বাত। দুটো টিম তৈরি করে মুহুর্মুহু ফোনে ফোনে মিটিং সেরে বাজার হয়ে গেলো, অবশেষে ২ অগাষ্টে সকালে যাত্রা শুরু, দুটো টিম প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে বাজার সামগ্রী ভাগাভাগি করে রওনা দিল দু দিকে। আসুন জেনে নিই কোন টিমে কে কে ছিল
বিজয়গড়ের টিম মধ্যমগ্রামের টিম
জয়জিত, জয়ন্ত, ধ্রুব, প্রসেনজিৎ
শমীক ও প্রমিত প্রীতম ও মৃণাল
ও আমাদের অপর এক ডোনার বন্ধু সুব্রত ঘোষ
আনন্দ ভোজ মেনুতে ছিল (উভয় স্থানেই)
বাসমতী চালের ভাত, মুগের ভেজ ডাল, আলুভাজা (এটা কেনা), পটল চিংড়ি আলু সহযোগে, রুই মাছের কালিয়া, পেঁপের চাটনি (মধ্যমগ্রামে)/ টোমাটোর চাটনি (বিজয়গড়ে), পাঁপড় ও মিষ্টি
আনন্দ দান লিস্টে ছিল (উভয় স্থানেই)
দু প্যাকেট সর্ষের তেল, ২০০ গ্রাম হলুদ গুঁড়ো, ১০০ গ্রাম জিরে গুঁড়ো, ১০০ গ্রাম ধনে গুঁড়ো, এবং সকল আবাসিকদের জন্য টুথপেস্ট, হেয়ার অয়েল, শ্যাম্পুর পাউচ, বডি সোপ, ডিটারজেণ্ট পাউডার যা কিনা আবাসিক মা-বাবাদের নিত্য প্রয়োজনীয়।
পুনশচঃ – এটাও সকলের জানা দরকার দ্য টাকীয়ান্স টিম শুধু কর্তব্য করে না, তারা এই আনন্দ ভোজ এনজয় করে… তাই এই বিশাল চাপ ও চ্যলেঞ্জের মুখেও এনজয়মেন্ট -এ ভাঁটা পরে নি। বরং এক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার বাতাবরণ পরিলক্ষিত হল -মাঝে মাঝে দুই টিমের মধ্যে ফোনাফুনি চলছে, এক টিম আরেক টিমকে জিজ্ঞেস করছে কার কত দূর এগোলো, কার মাছ ভাজা হয়ে গেছে,কার পটল চিংড়ি রান্না হয়ে গেছে, কোন টিম আগেই চাটনি রেঁধে কাজ এগিয়ে রেখেছে এসব নিয়ে এক মজার প্রতিযোগিতা চলেছে সারা সকাল।
আর সব ভালো যার শেষ ভালো... কারণ রান্না বেশ ভালো হয়েছে, হ্যাঁ আজ একটু নিজেদের ঢাক পেটাতে ভালো লাগছে লেখার শেষ লগ্নে, কারণ আজ একদিকে যেমন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ল, এই প্রথম বোধ করি এতোবড় কর্ম কাণ্ডে আড়ালেও কোনো টিম মেম্বার একে অপরের প্রতি কোনো বিরূপ মন্তব্য করে নি, কেউ কাউকে দোষারোপ করে নি। আরও সারা দিনের রোজনামচা কেবল মধুর থেকে মধুরতর হয়েছে।