Jabala Action Research Organisation

Jabala Action Research Organisation Jabala is a Human Rights Organisation. Jabala is a Human Rights Organization started working from 1992 in the red light area of Bowbazar.

The history of the organisation dates back to voluntary efforts of a group of young social workers who dreamt of restoring some rights to the children of s*x worker, which they were denied of. The work later extended to other red light areas & slums in Kolkata. Jabala made efforts to evolve innovative methods to instill values and self esteem amongst children. The primary effort was to build confi

dence and gradually make them feel that they were not the children of lesser god given a chance, they were as capable as their privileged counterparts. Jabala is also working on the issue of Human Trafficking; Child Marriage; Child Labor & HIV/AIDS in different blocks of Murshidabad 24Parganas- North & South, & Nadia. Jabala has also developed a training module to sensitize Panchayat members supported by UNICEF and accepted in principle by Government of West Bengal. We are also the State Convener of CACT (Campaign against Child Trafficking) a network of NGOs working on the issues of child trafficking in line with International Network. We are also founder member of Maitree a platform of women activists. Jabala has 15 full formed Child Resource team, consisting of 12-15 members in different slums and red light areas in Kolkata. These groups reach out to other children in distress, do case follow-ups in court and take part in different child rights campaign. We have requisite experience in dealing with abused children in Kolkata and districts. Our counselors regularly counsel these children. We also have FGD (Focus Group Discussion) and one to one sessions with the children on the issues of abuse and HIV/AIDS. Jabala organizes HIV/AIDS awareness camps, STD clinic, Hepatitis vaccination camp, and Sexual Health awareness camps in different red light areas periodically. In our mainstreaming effort along with educational and health support we give behavioral change communications therapy to our children, which helps In confidence building, shedding inhibitions and children are able to face the challenges of life. We have a Children Band that performs on stage and is one of its kinds in India. We also have a theatre and mime group. In addition to our qualified and dedicated work force we have strong volunteer base ranging from Academicians, Health Professionals, Counselors, Research Workers, Lawyers, Management experts to Field level workers.

‘আমি তো সাইকেল নিয়ে সোজা থানায়। ঢুকেই পুলিশকাকুদের বললাম, ওই অসভ্য লোকটার কথা। এমন হলে তো সবার আগে থানায় যেতে হয়!’ বলছিল...
26/03/2025

‘আমি তো সাইকেল নিয়ে সোজা থানায়। ঢুকেই পুলিশকাকুদের বললাম, ওই অসভ্য লোকটার কথা। এমন হলে তো সবার আগে থানায় যেতে হয়!’

বলছিল, জ্যোতিকা। নারী দিবস উপলক্ষে মহকুমা জুড়ে চলছে জবালার গণ-স্বাক্ষর অভিযান। স্বাক্ষরপত্রে রয়েছে নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান। অনেকেই সই করে যাচ্ছেন। লিখে যাচ্ছেন দু’কলম। চারপাশে মহিলাদের ভিড়। গ্রাম থেকে শহরতলী থেকে দলে এসেছেন মহিলারা। কেউ কিশোরী, কেউ বা প্রৌঢ়া। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মেয়েকে। ভিড় থেকে সামান্য দূরে একটা গাছের নিচে জ্যোতিকার সঙ্গে কথা হচ্ছিল।

জ্যোতিকার (নাম পরিবর্তিত) বয়স বছর তেরো। প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি। বাবা দিনমজুর। মা ধাড্ডা-জরির কাজ করেন। আর আছে দুটি কচি ভাইবোন। ঘরে প্রচণ্ড অভাব থাকা সত্বেও জ্যোতিকার বাবা কিন্তু মাথা নোয়াননি। হাজার জটিলতার মধ্যেও মেয়েকে ইস্কুলে ভর্তি করেছিলেন। তাঁর অনেক আশা―মেয়ে ডাক্তার হবে। এলাকার মানুষদের চিকিৎসা করবে। জ্যোতিকা তাই রোজ সকালে-বিকেলে সাইকেলে মাইল দশেক যাতায়াত করে। গ্রাম থেকে সদরের ইস্কুলে। সাইকেলটা এক প্রতিবেশীর থেকে ধার করে এনেছেন বাবা।

‘স্কুল থেকে বেরিয়ে সাইকেলের লক খুলছি, এমন সময় কে গায়ে হাত দিল। তাকিয়ে দেখি, একজন অচেনা লোক। বলল, নাকি আমার বাবাকে চেনে। আমরা খুব গরিব–তাও নাকি জানে। আমার কিন্তু লোকটাকে ভালো লাগেনি একদম।’ বলছিল জ্যোতিকা। আমরা, জবালার দিদিমণিরা জ্যোতিকাকে চিনি অনেকদিন থেকে। ওর পড়াশোনার বিষয়ে সামান্য সহায়তা করার সূত্রে। আমাদের বুকটা কেঁপে উঠল।

‘তারপর লোকটা বলে কিনা―আমার সঙ্গে চলো। তোমাকে বম্বে নিয়ে যাব। সেখানে ভালো কাজ আছে। বলে হাত ধরে টানতে থাকে। আমি তখন যা বোঝার বুঝে গেছি। লোকটা বদমাশ। তাই জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিয়েছি। সাইকেলে চেপে বসে চোঁ-চাঁ দৌড়।’

সাইকেল নিয়ে সোজা থানায় পৌঁছে যায় জ্যোতিকা। ওর মনে ভয়ডর নেই। বছর চারেক আগে অবশ্য ছবিটা অন্যরকম ছিল। গ্রামের মহিলারা থানায় যেতে ভয় পেতেন। থানায় গেলেই নাকি গুজব রটবে। চরিত্র নিয়ে। কেউ দেখতে পেলেই নাকি রটবে খবর, শুরু হয়ে যাবে ফিসফাস। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেটা ধামাচাপা পড়ে যেত খুব তাড়াতাড়ি। আমরা বুঝেছিলাম, অপরাধ চক্রকে আটকাতে হলে পুলিশের সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরু হল, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো। মায়েদের বোঝানো। মেয়েদের বোঝানো। চলেছে নানা প্রশিক্ষণ। এক্সপোজার ভিজিট। থানা শুধুমাত্র অপরাধীদের জায়গা নয়, অভিযোগ জানাতেও যে অবাধে থানায় পৌঁছনো যায়―এই ভাবনাটুকুই ওঁদের মধ্যে বুনে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। অনেক ঢাল উপুড়ের পর খেলা ঘুরছে। গ্রামের মহিলারা এখন থানায় অনেক সহজ। অনেকটাই অকপট। আইনরক্ষকদের থেকে সহযোগিতা না পেলে অবশ্য এটা সম্ভব হতো না।

জ্যোতিকার কথা শুনতেই শুনতেই দেখলাম, পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন একজন পুলিশকর্মী। মেয়েটার চোখ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। ‘এই তো আমাদের পুলিশকাকু’। তাঁর কাছে জানতে পারলাম, জ্যোতিকার কথা শুনে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। ফলে একটা বিরাট অপরাধ চক্রকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এরপর পুলিশকর্মীটি এগিয়ে যান স্বাক্ষরপত্রের কাছে। অল্প কিছু লিখে একটা সই করলেন। কৌতুহূলী হয়ে এগিয়ে যাই আমরা। দেখলাম, লেখা আছে দুটো শব্দ―পাশে আছি। সামান্য দুটো শব্দ অনেকখানি জোর বাড়িয়ে দিল আমাদের। জ্যোতিকারও।

একদিনে পাল্টায় না সবটুকু। সময় লাগে। লেগে থাকতে হয়। ধীরে ধীরে বদলায় মন আর চোখ। ভেঙে যায় অচলায়তন। আমরা কেবল স্বপ্ন দেখতে পারি। স্বপ্নের পথে একঝাঁক কিশোরীকে এগিয়ে দিতে পারি। কারণ আমাদের স্বপ্নটুকুই সম্বল।

বছরখানেকের মধ্যেই দুটো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামটিতে। একটি মেয়েকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়...
23/03/2025

বছরখানেকের মধ্যেই দুটো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামটিতে। একটি মেয়েকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়েছিল অপরাধীর দল। তাকে কোনোমতে ফেরানো হয়। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে একজন মধ্যবয়স্ক মহিলার সঙ্গে। গ্রামের কারো বাড়িতেই শৌচালয় নেই। তাই মাঠেঘাটে যেতে হয়। সেই মহিলাও কাকভোরে বেরিয়েছিলেন। তাঁকে হঠাৎ ঘিরে ধরে কয়েকজন। তারপর তাঁর সঙ্গে যা ঘটে, তা আর কহতব্য না। আশ্চর্যের বিষয়―এই দুটি ঘটনা সম্পর্কেই আইনরক্ষকরা খানিক উদাসীন।

ঝাড়খণ্ডের এই অঞ্চল জুড়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করি আমরা। গ্রামের মেয়েরা কেউ ছাগল পালন করেন, কেউ খেতি করেন। কেউ ঘর সংসার সামলান। কয়েকবছর আগেও ওঁদের মধ্যে বেশিভাগ মহিলা নিরক্ষর ছিলেন। মেয়েদের ইস্কুলে পাঠাতে চাইতেন না। তাদের অন্য সংসারে ঠেলে দেওয়াই ছিল দস্তুর। যেখানে নুন-আনতে পান্তা ফোরায়, সেখানে লেখাপড়া বিলাসিতা। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। দিনের পর দিন এই অঞ্চলে এসেছেন জবালার প্রতিনিধিরা। জমায়েত করেছেন। নানাভাবে বুঝিয়েছেন। বিস্তর ঢাল উপুড়ের পর ছবিটা পাল্টেছে।
এখন মায়েরা সবার আগে মেয়েদের ইস্কুলে পাঠান। নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রামে নানারকম সচেতনতামূলক প্রচার করেন। আমরাও যাই মাঝেসাঝে। কথাবার্তা, কুশল বিনিময় হয়। যৌথভাবে পরবর্তী কর্মসূচির ছক কষা হয়।

সেবার হচ্ছিল, নারীদিবস নিয়ে কথা। গ্রামের মায়েদের মুখ ভার। কথায় কথায় উঠল ঘটনাদুটির প্রসঙ্গ। গ্রামের মহিলারা থানায় আসতে ভয় পান। লোকলজ্জার ভয়। তাই কেউ ঐদিকে তেমন এগোতে পারেননি। অন্যদিকে পুরুষরা বহুবার তদ্বির করলেও, আইনরক্ষকরা আমল দিচ্ছেন না। অথচ দ্বিতীয় ঘটনার সঙ্গে সংযুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাকি গ্রামে বুক ফুলিয়ে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। কথায় কথা বাড়ে। গম্ভীর মুখে মায়েরা সিদ্ধান্ত নিলেন―মিছিলের সামনে থাকুক দ্রুত তদন্তের দাবি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ না। অনেক জড়তা আর ভুল ধারনার সঙ্গে যুঝতে হয়েছে তাঁদের। আমরা তাই সানন্দে সায় দিলাম।

৮ মার্চ এগিয়ে এল। মায়েদের উৎসাহ আর ধরে না। আমরা, জবালার প্রতিনিধিরা ছিলাম ওঁদের ছায়াসঙ্গী হয়ে। প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরী, প্রচারে সাহায্য করছিলাম যথাসম্ভব। অবশেষে মিছিল বেরোল। তার বর্ণনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই। গ্রামের সমস্ত মহিলা―আবালবৃদ্ধবনিতা―সকলে হাঁটছেন। স্লোগান উঠছে―কারেবাই মে তেজি লায়ে! দ্রুত তদন্ত হোক। মিছিল অনেকদূর গিয়ে অবশেষে এল থানার মুখে। সেখানে সকলে অবাক। মহিলারা নিজেরা থানায় আসছেন! নিজেদের কথা বলছেন! আমরা আইনরক্ষকদের বললাম, ‘এখন মায়েরা আর থানায় আসতে ভয় পাবেন না। আপনারাও দায়িত্ব নিন এবার।’ প্রত্যেকে মাথা নাড়লেন। তাঁদের দুচোখে সামান্য লজ্জা আর ভয় দেখলাম যেন!

ঝাড়খণ্ড থেকে চলে আসার পর খবর পেয়েছি, দু’জন আটক করেছে পুলিশ। নারীশক্তির জয়!

‘গৌরী একদিন হারিয়ে গেল। গ্রাম থেকেই। ছোটবেলায় আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু―গৌরী।’ মাইক হাতে বলছিল প্রিয়াঙ্কা। নারী দিবস উপলক্...
19/03/2025

‘গৌরী একদিন হারিয়ে গেল। গ্রাম থেকেই। ছোটবেলায় আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু―গৌরী।’

মাইক হাতে বলছিল প্রিয়াঙ্কা। নারী দিবস উপলক্ষে একটি প্রত্যন্ত এলাকায় জবালার অনুষ্ঠান চলছিল। জায়গাটা একেবারে অজপাড়াগাঁ। একটাই ইস্কুল। সেখানে খুব মেয়েরাই ক্লাস করে। এছাড়া নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিও মোটে নিকটে না। অনুষ্ঠান দেখার জন্য ভিড় করে বসেছিল গ্রামের মেয়েরা। তাদের গল্প বলছিল মুর্শিদাবাদের প্রিয়াঙ্কা পোড়েল (নাম পরিবর্তিত)। কীসের গল্প বলছিল প্রিয়াঙ্কা? নিজের গল্প। জীবনের গল্প। লড়াইয়ের গল্প। মেয়েরা তন্ময় হয়ে শুনছিল।

‘গৌরীরা ছিল আমাদের চেয়েও গরিব। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ওই ছিল সবচেয়ে বড়ো। তাই ওকে কাজে লেগে যেতে হল। লেখাপড়া ছাড়িয়ে দেওয়া হল। বাড়ি থেকে খানিকদূরে কাজের জায়গা। সকালে বেরিয়ে রাতে ফিরত। একদিন ফিরল না। অনেক খোঁজাখুঁজি হল। কিন্তু হদিশ মিলল না।’

গৌরীর এই হঠাৎ ‘অন্তর্ধান’ প্রিয়াঙ্কার নিজের জীবনেও তোলপাড় ফেলে দিল। তার বাড়ি থেকে বেরোন বন্ধ হল। মুহুর্মুহু আসতে লাগল অন্য সংসারে যাওয়ার চাপ। প্রিয়াঙ্কা জেদ ধরল অবশেষে। সে তো পড়তে চেয়েছিল। ঘটনাচক্রে আমাদের, জবালার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আমরা ছুটলাম ওর বাড়ি। পরিবারকে বোঝানো শুরু হল। একদিকে প্রিয়াঙ্কার জেদ, অন্যদিকে আমাদের সম্মিলিত অনুরোধ। হার মানল পরিবার। প্রিয়াঙ্কা স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছে। আমাদের সঙ্গেই কাজ করছে বর্তমানে। সেই কথাই বলছিল সে।

একটি মেয়ে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করে, ‘গৌরী আর ফেরেনি?’ প্রিয়াঙ্কা বলে, ‘ফিরেছিল। কিন্তু তাকে কি ফেরা বলা যায়?’

বছর চারেক পরে নাকি গ্রামে দেখা গিয়েছিল গৌরীকে। চেহারায় আশ্চর্য্য বদল। কথা বলা বন্ধ। নিজেদের ঝুপড়ি বাড়িখানার একটা কোটরে পড়ে থাকে। গ্রামের বাতাসে নানা উড়ো খবর ভাসে। নানা লোকে না কথা বলে। টিটকিরি দেয়। শোনা যায়, গৌরীকে নাকি নতুন চাকরির অছিলায় ভুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিহার। তারপর তাকে ‘বাজে কাজে’ লাগানো হয়। অবশেষে পুলিশ রেডের পরে ফিরতে পারে সে। প্রিয়াঙ্কা দু-একটি কথা বলতে পেরেছিল, প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে। কিন্তু গৌরী একদম গুটিয়ে গিয়েছিল। সবসময় যেন পালাতে চাইত। একদিন পালালও। নিজেই বেছে নিল পৃথিবীকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর পথ।

গল্প শুনতে শুনতে মেয়েদের চোখ জলে ভরে ওঠে। সেদিকে তাকিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলে, ‘গৌরী দোষ করে নি। আমিও করিনি। গৌরীও আমার মতো পড়তে চেয়েছিল। ওর অনেক স্বপ্ন ছিল। সেইসময় জবালার দিদিদের সঙ্গে পরিচয় হলে ওরও জীবনটা অন্যরকম হতো।’

সব লড়াই আমরা জিততে পারি না। যেমন গৌরীর ক্ষেত্রে পারিনি। প্রত্যেকটা হার আমাদের আরো সুদৃঢ় করে। আরো অঙ্গীকারবদ্ধ করে তোলে। গৌরীর স্বপ্ন এখন বয়ে নিয়ে চলেছে প্রিয়াঙ্কা। ওর পাশে সবরকম ভাবে রয়েছি আমরা। আমরা চাই, কারো যেন গৌরীর মতো পরিণতি না হয়। সমাজে থিকথিক করছে যে অসুখ, সেই অসুখ যেন নির্মূল হয় একদিন। প্রিয়াঙ্কাদেরই যেন জয় হয়। কারণ ওরা না জিতলে, ওর মতো মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস পাবে কোথা থেকে? প্রিয়াঙ্কারা এগিয়ে যাক স্বপ্নের পথে। ওদের পিঠে থাক আমাদের হাত।

পড়ালেখা মানেই অপচয়। টাকা তো বটেই, সময়েরও অপচয়।শুনলাম, ওদের বাড়ি থেকে নাকি বলে দেওয়া হয়েছে  ‘পড়াশোনার আর দরকার নেই। এখন ত...
16/03/2025

পড়ালেখা মানেই অপচয়। টাকা তো বটেই, সময়েরও অপচয়।শুনলাম, ওদের বাড়ি থেকে নাকি বলে দেওয়া হয়েছে ‘পড়াশোনার আর দরকার নেই। এখন তৈরি হওয়ার বয়স।’ কিসের এত প্রস্তুতি? মা-হওয়ার প্রস্তুতি। মেয়েগুলোর বয়স তেরো থেকে আঠারোর মধ্যে। কিন্তু ইস্কুলে যাচ্ছে না অনেকেই। আর নুন-আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে, পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো প্রায় আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখার সামিল। বরং আজ বাদে কাল পরের সংসার ঠেলবে মেয়ে। বছরখানেক পরে কোল আলো করে আসবে সন্তান। সন্তান আর সংসার সামলানো। এটাই তো মেয়েদের প্রধান কাজ। এখনো দেশের নানা প্রত্যন্ত এলাকায় বাস্তবতাটা এমনই। মেয়েদের যেখানে গলগ্রহ হিসাবেই দেখা হয়।

জবালার ‘নারী-দিবস’ উদযাপন চলছে প্রত্যন্ত এলাকায়। গোল হয়ে বসে সেই মেয়েরা। ওদের বোঝাচ্ছিল সীমা (নাম পরিবর্তিত)। সীমার বয়স এখন বাইশ। যখন ওর ১৬ বছর বয়স, তখন থেকে আমাদের সঙ্গে ওর পরিচয়। সীমারা আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা। বাবা চা-শ্রমিক। ঘরে থইথই অভাব। ফলে সীমারও হয়তো ঠাঁই হতো অন্যকারো সংসারে। শেষপর্যন্ত হয়নি। এর পেছনে ছিল সীমার অদম্য জেদ। পড়তে চেয়েছিল ও। আমরাও জুড়ে যাই ওর সঙ্গে। ওর বাড়ি, পরিবারকে যথাসম্ভব বোঝাই। প্রয়োজনীয় টুকিটাকি এগিয়ে দিই। দেখতে দেখতে ইস্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে, সীমা এখন আমাদেরই একজন। জবালার দিদিমণি। সীমা তাই বলছিল নিজের কথা। নিজের লড়াই-এর কথা। বলছিল,‘আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তারপর সংসার। সন্তান।’ চোখ বড়বড় করে শুনছিল মেয়েরা। এসব কথা তো তাদের আগে কেউ বলেনি!

সীমার বলা শেষ হল। তারপর ‘নারী দিবস’ উপলক্ষে ছিল কিছু মজার খেলা। তার মধ্যে একটা ‘নিজের হাতে আঁকো’। সীমার দেখাদেখি মেয়েরাও তুলে নিল জল-রঙ আর তুলি। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, ওরা হাতে লিখছে একটাই শব্দ। ‘জবালা।’ সীমার কথায় নাকি সাহস পেয়েছে ওরা। ‘দিদি পারলে আমরাও পারব’ বলল একজন। একটি বছর তেরোর মেয়ে বলল, ‘আমরাও জবালার দিদি হবো। এভাবেই সবাইকে বোঝাব।’ জবালা শব্দটা যেন ওদের কাছে আশ্রয়। ভরসা।

আমরা চাই, এভাবেই হাজার হাজার সীমারা মাথা উঁচু করে শ্বাস নিক মুক্ত বাতাসে। আমরা যেন তাদের শক্তি হয়ে উঠতে পারি।

‘বুরা না মানো! হোলি হ্যায়!’যে কথাটা দোলের দিন প্রায়শই শুনতে পাওয়া যায়। যার অর্থ ‘কিছু মনে কোরো না। দোলের দিন এমনটা হয়েই ...
13/03/2025

‘বুরা না মানো! হোলি হ্যায়!’

যে কথাটা দোলের দিন প্রায়শই শুনতে পাওয়া যায়। যার অর্থ ‘কিছু মনে কোরো না। দোলের দিন এমনটা হয়েই থাকে।’ কিন্তু দোলের দিন ‘বুরা মানার’ মতো কী হয়? এই প্রশ্নটাই উঠেছিল, নারী দিবস উদযাপনের সময়। প্রত্যন্ত এলাকায় অনুষ্ঠান। আশেপাশের গ্রাম থেকে এসেছে কিশোরীরা। যাদের গড় বয়স ১২ থেকে ১৩-র মধ্যে। সামনেই দোল। তাই আমরা, ‘জবালা’-র পক্ষ থেকে প্রশ্নটা করেই ফেললাম। প্রশ্ন শুনে ফিসফাস। চাপা গুঞ্জন। এর আগে সেই কিশোরীদের অনেকেই জানিয়েছিল তাদের রঙ খেলতে ভালো লাগে না। হোলির দিন অনেকেই ঘরেই সেঁধিয়ে থাকে। রাস্তায় বেরোয় না। কিন্তু কেন?

আস্তে আস্তে রহস্যের পরত খুলতে থাকে। মেয়েদের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে বলে ওঠে―গালে রঙ মাখানোর সময় এমনকিছু ঘটে, যেটা তার পছন্দ না। দোলের দিন নাকি গ্রামের অনেকে ছেলেদের সামান্য টলতে দেখা যায়। তাদের স্পর্শ যেন ঠিক স্নেহস্পর্শ নয়। প্রতিবাদ করলে, বা হাত সরিয়ে দিলে শুনতে হয়―‘বুরা না মানো…’ অনেকে মনে করেন, এই প্রতিবাদ নাকি আদতে অসভ্যতার সামিল। দোলের দিন তো সবকিছুই ঘটতে পারে। আনন্দ উদযাপনটাই তো বড় কথা, তাই না! দোলের স্পর্শ নাকি পবিত্র। নিখাদ। যেসব মেয়েরা এই উৎসবের পবিত্রতাকে অপছন্দ করে, তাদের নাকি ঘরে থাকাই উচিত!

আমরা ওদের পিঠে হাত রাখি। ঠিক পথে হাঁটছে ওরা। না বলতে শিখছে। সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করার অভ্যাস থেকে একটু একটু করে বেরিয়ে আসছে ওরা। এই কিশোরীরা দোলকে খারাপ বলেনি এতটুকুও। বলেছে দোলের সঙ্গে লেপ্টে থাকা না-পসন্দ স্পর্শের স্মৃতিকে। যেকোনো উৎসবেই সুষ্ঠু স্বাভাবিকভাবে অংশ নেওয়া যায়। কারো ওপর জোর না করেও উৎসবে অংশ নেওয়া যায়। সেখানে আলাদা করে ‘বুরা মানা’র কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

আমাদের মেয়েরা আরো ‘বুরা মানতে’ শিখুক। এভাবেই ‘না’-বলতে শিখুক। আমরা ‘জবালা’-র দিদিমণিরা ওদের পিঠে হাত রাখতে পারি। ভরসা জোগাতে পারি। প্রশ্নগুলো উস্কে দিতে পারি। আমরা চাই, হোলি হয়ে উঠুক সকলের উৎসব।

সবাইকে নিরাপদ দোলের শুভেচ্ছা।

#দোল #হোলি

A newly-built shelter home for women was inaugurated recently in Murshidabad with the support of Jabala in association w...
11/03/2025

A newly-built shelter home for women was inaugurated recently in Murshidabad with the support of Jabala in association with the Murshidabad District Administration, marking a significant step towards safety, care and empowerment.

The event was graced by ADM D Chirantan Pramanik, DSWO Nilanjan Biswas, Sahkaari Sabhapati Subir Kumar Mondal, OC AHTU Kakali Mishra, DCPO Arjun Dutta & Mistu Mandal, Home Superintendent Radha Muradi, Child Line Coordinator Debika, Home Management Committee members Anuttama Roy, Prosanta Kumar Saha, Jhuma Chokroborty, and Local Panchayat Member Rathikanta Mondal.

Here are a few glimpses from the inauguration.

Jabala girls and peer leaders came together across West Bengal and Jharkhand to celebrate International Women's Day with...
10/03/2025

Jabala girls and peer leaders came together across West Bengal and Jharkhand to celebrate International Women's Day with strength and solidarity. From Alipurduar to Murshidabad, Kolkata to Dumka, and beyond, they led marches, organised seminars, conducted workshops, and engaged in public campaigns to amplify the voices of women and girls. Through discussions and collective action, they reaffirmed their commitment to fight for equality, empowerment, and a bright future for all.

International Women’s Day is a reminder that progress is possible when voices unite, challenges are addressed, and every woman and girl is given the opportunity to thrive.

Address

14A Jamir Lane
Kolkata
700019

Opening Hours

Monday 10am - 6pm
Tuesday 10am - 6pm
Wednesday 10am - 6pm
Thursday 10am - 6pm
Friday 10am - 6pm
Saturday 10am - 6pm

Telephone

+913324602229

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jabala Action Research Organisation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Jabala Action Research Organisation:

Share