06/03/2026
আগডুমXবাগডুম
ব্রিটিশ-বসুমতীর বাসুকী শ্রীমান লয়েদ জরজের মুখ দিয়ে একটা বেফাস অথবা হক কথা টক করে বেরিয়ে পড়েছে বলে ভূ-ভারত জুড়ে বেশ একটা 'নরম-গরম গোত্র মিদম' কার্য্য-নন-চাগে চাগিয়ে উঠেছে। কিন্তু এই শিয়ালের গু নিয়ে পৰ্ব্বত করার ত কোনো কারণ দেখিনে। আমাদের কাঁচা বুদ্ধিতে সোজা এই বুঝেছি, যে, এতদিনে খলিফা-খোকা লক্ষ্মী ছেলে হয়েছেন। সোজা কথা সিধে করে বলতে শিখেছেন। এতদিন এ পুং-কুটীলার হাসিও বোঝা যেত না কান্নাও বোঝা যেত না। এতদিনে যেটের বাছা দিল-খোলাসা হয়ে প্রাণের কথা খুলে বলতে পারলেন দেখে আমাদের বুকের গুস্টোনী কেটে গেল। থাক, ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে গেল। এখন আমাদের জেগে ঘুমায়-রামলাল সরকারপেয়ারাদের যে চিচিং ফাঁক হয়ে গেল, এইটেই সব চেয়ে মজার কথা। এখন এই বুড়ো-বুড়ীর দল মিলে মড়া-কান্না সুরু করে দিয়েছে, যে, "যার জন্যে চুরি করি, সেই বলে চোর? এমন করে মাঝ মাঠে হাঁড়ি ভেঙে দেওয়াটা-এ্যাঁ এ্যাঁ”-কিন্তু কেঁদে আর হবে কি। আমরা বলি কি, লয়েদ জর্জ যখন বলেছিলেন, "ভারত চিরকাল আমাদের পা চাটবে আর আমাদের ঐ গোণ্ডাকতক চুনোপুটী মিলেই তাদের চুঁটিয়ে শাসন করবে", তখন আমরা থাকলে ত একছড়া মুক্তোর মালা পরিয়ে দিতুম তাঁর গলায়, আর প্রাণপণে জয়নাদ করতুম, "জয় লয়েদ জরজের জয়!" এতদিনে ইংরেজ ইংরেজের মতন ব্যাটাছেলের মতন সোজা করে বুঝিয়ে দিলেন "কি চক্ষে তোদের দে-খে-ছি!" আমাদের রগ-ঢিলে আর 'ধেততেরি' এই দলেরই দাদাদের বলি, যে এত চটাচটী কেন? সোজা কথা বেঁকিয়ে বললেই হয় তা ভাল হ'ত যে, "তোমাদের স্বরাজ যেটা বরাবর আউড়িয়ে এসেছে আর কি! কিন্তু তাঁদের চোখে আমরা যে চিরকাল নাবালক হয়েই আছি এবং থাকবও অর্থাৎ কিনা এমন দেশের সেরা দেশ তারা কিছুতেই ছেড়ে দেবে না এ তো আমরা সকলেই জানি। যাঁরা মুখে না বলেন, তাঁরাও মনে মনে কি ভাবেন, তা আর বলে কষ্ট পাবার দরকার নেই। অতএব সে-ই চির-নূতন চির-পূরাতন "তোমারে ছেড়ে দেবো না" গান শুনে এমন বে-সামাল হয়ে পড়লে চলবে কেন। আমরা 'ডিপ্লোম্যাসি' বা চালবাজিকে ঘৃণা করি, তা কালারই হোক আর ধলারই হোক। তাই লয়েদ জজের ওপর এত দিন আমাদের যে ছোট ধারণা ছিল, তা তাঁর সেদিনকার চাঁচা-ছোলা আবৃত্তি শোনার পর থেকে এক দম উবে গেছে। আমরা বলি কি, মার, ধর, চষে ছেড়ে দাও, কিন্তু সেটা স্বীকারও কর ব্যাটা ছেলের মত, যে তোমায় মারছি ধরছি। তা না হয়ে পরাবে গল-শৃঙ্খল আর বলবে যে প্রেমহার পরাচ্ছি-এই ভণ্ডামীটাই সয় না। ওতে করে তোমরাও নীচু হয়ে পড়। আর স্বার্থের লোভে অনেক গুলো মানুষের মতন মানুষও কুকুর হয়ে পড়ে। এই 'আজলি'-পনামু ছেড়ে দিয়ে সিংহের মত গর্জন করে যে বলেছে, যে, জোর যার মুল্লুক তার, তাকে নমস্কার করি আর তা শুনে কুকুরের মতন যারা কাঁই-কই করে ক্রন্দন-চীৎকার আরম্ভ করে দিয়েছে, অভিশপ্ত হউক সে কাপুরুষ ক্লীব নারধমদের জীবন।
নিরুপদ্রব প্রতিরোধ কমিটীর আগমনে বিগত ১৩ই ও ১৪ই আগষ্ট রবি ও সোমবার কলিকাতা শহরে পর পর দু' তিন সভার আয়োজন হয়। লোক-সমাগমের অভাব হয় নি। মির্জাপুর পার্কের মিটিং-এ ত্রিশ হাজারেরও ওপর লোক জমায়েত হ'য়েছিল। বাল্লায় এখনও বক্তৃতা শুনবার লোকের অভাব হয় না।
পণ্ডিত নেহেরু, হাকিম-জী, রাজা গোপাল আচারিয়া প্রভৃতি বক্তৃতা করেন পণ্ডিতজী হিন্দু-মুসলমানের একতা ও খাদি ব্যবহার ক'রতে বলেন। ব'ললে কি হয়। খাদির ভারে মাদী-বাঙালী যে আরও কুঁজো হ'য়ে যাবে। তার ওপর খাদির যে দাম!"
রাজা গোপাল আচারিয়া বলেন, সব কথাই ফাঁকা, আসল কথা হ'চ্ছে টাকা গান্ধি পুণ্যাহে সকলেরই তিলক স্বরাজ ফণ্ডে টাকা দিতে হবে। কিন্তু দ্যায় কে?
দেখলাম শ্রীযুক্ত সুরেন মল্লিক দেশবন্ধুকে অভিনন্দন দেবার জন্যে মির্জাপুকুর পার্কে উপস্থিত ছিলেন তিনি লেজিসলেটিব কাউন্সিলের এক জন মেম্বর ও করপোরেশনের অস্থায়ী সম্পাদক
নিরুপদ্রব প্রতিরোধ কমিটিকে জাতীয় শিক্ষা সংসদ অভিনন্দন দেয়। অভ্যর্থনা হিন্দুভাবেই হয়েছিল। শিক্ষা সংসদের কর্তারা কমিটির সামনে বাংলা দেশের একটি আদর্শ নন্-ভায়োলেট বৈষ্ণবকে হাজির করেন। এঁর পরিচয়েই একটা হাসির রোল ওঠে। ইনি আন্দামান ফেরৎ বোমার যুগের উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর্কাইভ রি-পোস্টিং কমিটি
(ARC) X NAJRUL ISLAM IN CONTEMPORARY CRISIS SCENARIO.
Caricature by Ami Sankalpa
সূত্রঃ 'ধূমকেতু' ৩ সংখ্য, ১লা ভাদ্র, শুক্রবার ১৩২৯