05/03/2026
প্রভাতফেরি থেকে ভূরিভোজ: আবির-আলোয়, সুরে-ছন্দে বসন্তবরণ
বসন্তের সকালগুলোতে এক ধরনের আলাদা মেজাজ থাকে। হালকা শীতের শেষ টান,নরম রোদ, বাতাসে মিশে থাকে ফুলের গন্ধ। সেই রকমই এক সকালে শুরু হল আমাদের BF Block দোল উৎসব ২০২৬ - সকালের প্রভাতফেরি। এ বছর আমাদের ড্রেস কোড...ছেলেদের সাদা পাঞ্জাবি, আর মহিলাদের হলুদ শাড়ি। সাদা-হলুদের এই মেলবন্ধনে যেন মুহূর্তে উৎসবের আবহ সাজিয়ে দিল।
মানুষজন জড়ো হতে শুরু হতেই শুরু হয়ে গেল হাসি-আড্ডা, ছবি তোলার হিড়িক। কেউ গ্রুপ ছবি তুলছেন, কেউ আবার নিজস্বী। কমিটির পক্ষ থেকে সবার মধ্যে আবির বিতরণ করা হলো। ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকল হাসির আওয়াজ এবং গল্পের রেশ। বসন্তের সে সকাল যেন ক্রমশ আরও রঙিন হয়ে উঠছিল।
রবীঠাকুরের গানের তালে তালে আমরা এগিয়ে চললাম পাড়ার গলি থেকে গলিতে। কোথাও আবিরের রঙ, কোথাও রবীঠাকুরের গানের তালে একটু নাচ, আবার কোথাও কেউ কেউ সেই রবীঠাকুরের সুরে একসঙ্গে গলা মেলালেন। তখন শুধু চারিদিকে হাসিমুখ, অনেক গল্প আর আনন্দ।
সেসব গল্প করতে করতেই আমরা এসে পৌঁছালাম আমাদের পুজো প্রাঙ্গণে, যেখানে অপেক্ষা করছিল চা আর বিস্কুট। বাংলার যেকোনো আড্ডার মতোই এখানেও কথার চেয়ে চায়ের কাপেই যেন পরিবেশটা একটু বেশি উষ্ণ হয়ে উঠল।
চায়ের চুমুক নেওয়ার পরেই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জলখাবারের ব্যবস্থাও ছিল। তাতে ছিল রাধাবল্লভী, সঙ্গে আলুর দম আর শেষে কালোজাম। এই চা আর প্রাতরাশের মাঝেই আবার একটু আবির খেলা। আর সেই খেলার উচ্ছ্বাসের ফাঁকেই ভেসে উঠল গান….আমাদের পাড়ার কাকিমা ও দিদিদের কণ্ঠে। কোনো বড় আড়ম্বর ছিল না ঠিকই, কিন্তু গান থেকে গল্প, হাসি থেকে উৎসাহ… সবকিছুই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।
দোল উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হল ৪ঠা মার্চের সন্ধ্যায়। পাড়ার ছোট্ট, আড়ম্বরহীন মঞ্চ..কিন্তু উৎসাহে কোনো খামতি নেই। গান, কবিতা আবৃত্তি আর নাচে জমে উঠেছিল ছোট্ট এক সাংস্কৃতিক আসর। কোথাও সিলেটি ভাষার গান, কোথাও পাড়ার ছেলেটির হাতে গিটারের মনমুগ্ধকর সুর, আবার এক ছোট্ট মেয়ের নাচে মঞ্চ যেন প্রাণ ফিরে পেল।
এই পুরো অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় স্বপন জেঠু (স্বপন ঘোষ)। তাঁর স্বভাবসিদ্ধ সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় তিনি অনুষ্ঠানটি এমনভাবে পরিচালনা করছিলেন , যে মনে হচ্ছিল, পুরো সন্ধ্যাটা যেন একটানা একটি সুন্দর গল্পের মতো এগিয়ে চলেছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হতেই শুরু হল রাতের ভূরিভোজ। মেনুতে ছিল পোলাও, কষা মুরগির মাংস, চাটনি, পাঁপড় এবং রাজভোগ। আর সেই রাজভোগ সত্যিই ছিল রাজভোগ.. যেমন তার আকার, তেমন তার স্বাদ। কানাঘুষো শোনা গেল, ভেতরে নাকি ক্ষীরও লুকিয়ে ছিল। এক কথায়…জমে ক্ষীর!
সব শেষে মোটের ওপর আমাদের বসন্ত উৎসব বেশ ভালোই কাটল… সবার সঙ্গে, সবার পাশে, একে অপরের আনন্দে, সুরে আর ছন্দে।