Ramkrishna Maa Sarada Swami Vivekananda Pathachakra

Ramkrishna Maa Sarada Swami Vivekananda Pathachakra The Organisation is solely based on the ideals and doctrines led by Sri Ramakrishna , Maa Sarada and Swami Vivekananda

06/08/2026

অপূর্ব শিক্ষা ::: সত্য ঘটনা: পুনে রেলওয়ে স্টেশন, ২০১৮

পুনে রেলওয়ে স্টেশনের ঠিক বাইরে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান ছিল।

দোকানটির মালিক ছিলেন রমেশ আন্না—বয়স ৬২ বছর। তাঁর একটি পা দুর্ঘটনায় হারিয়েছিলেন।

প্রতিদিন ভোর ৫টায় তিনি দোকান খুলতেন এবং রাত ১১টায় বন্ধ করতেন।

এক কাপ চায়ের দাম ছিল মাত্র ৫ টাকা—আর তার সঙ্গে বিনামূল্যে মিলত একটি আন্তরিক হাসি।

মানুষ আসত, চা খেত, দশ মিনিট গল্প করত, আর অনেক হালকা মন নিয়ে ফিরে যেত।

অনেকে বলত,
"আন্না, আপনি তো একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ!"

আন্না মৃদু হেসে বলতেন,
"না বাবা, আমি শুধু একজন চা-ওয়ালা। তবে জীবনে অনেক কষ্ট দেখেছি, তাই আমার চায়ে চিনির চেয়ে ভালোবাসা বেশি থাকে।"

একদিন ২৫ বছর বয়সী এক যুবক এল। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। পরনে স্যুট, কিন্তু চোখ দুটো ফুলে ছিল—মনে হচ্ছিল সারারাত কেঁদেছে।

সে বলল,
"একটা কড়া কাটিং চা দিন।"

আন্না চা এনে দিলেন।

ছেলেটি এক নিঃশ্বাসে চা শেষ করে ১০০ টাকার একটি নোট টেবিলে রেখে বলল,

"বাকিটা আপনি রাখুন। এটাই আমার জীবনের শেষ কাপ চা।"

আন্নার হাত কেঁপে উঠল।

তিনি কাপ ধোয়া থামিয়ে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন,

"কোথায় যাচ্ছো, বাবা?"

ছেলেটি ফাঁকা হাসি হেসে বলল,

"ট্রেনের নিচে। চাকরি চলে গেছে। প্রেমিকা ছেড়ে চলে গেছে। পরিবারের মাথায় ঋণের বোঝা। বেঁচে থেকে আর কী হবে?"

আন্না তাঁর খুঁড়িয়ে চলা পা নিয়ে বাইরে এলেন। ছেলেটির হাত ধরে দোকানের পেছনে নিয়ে গেলেন।

সেখানে একটি পুরোনো, জীর্ণ ডায়েরি পড়ে ছিল।

তিনি বললেন,

"এটা পড়ো।"

ডায়েরির প্রথম পৃষ্ঠা — ১৯৮৫

"আজ একটি ট্রাকের নিচে পড়ে আমার পা চূর্ণ হয়ে গেছে। ডাক্তার বললেন, পা কেটে ফেলতে হবে।

আমার স্ত্রী তখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘরে ছিল মাত্র ২৩ টাকা।

সেদিন রাতে আমি হাসপাতালের ছাদে উঠে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। ঠিক তখনই স্ত্রী ফোন করে বলল—

'শোনো, আমাদের সন্তান পেটে লাথি মারছে। সে যেন তার বাবাকে বলছে—লড়াই করো।'

আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম। নিচে নেমে এলাম।

পরদিন আমার পা কেটে ফেলা হলো...

কিন্তু আমার সাহস কেউ কেটে নিতে পারেনি।

স্টেশনের বাইরে দুটি কেটলি আর একটি চায়ের পাত্র নিয়ে বসে চিৎকার করে বললাম—

'চা... গরম চা!'

প্রথম দিন আয় হলো মাত্র ১৭ টাকা। আমি কেঁদেছিলাম... কিন্তু বেঁচে ছিলাম।"

ডায়েরির দ্বিতীয় পৃষ্ঠা — ১৯৯৩

"আজ আমার স্ত্রী ক্যান্সারে মারা গেলেন। ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে আমি একা হয়ে গেলাম।

অনেকে বলল, ছেলেকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে দাও।

আমি বললাম—

'আমি হয়তো একটি পা হারিয়েছি, কিন্তু একজন বাবা হওয়ার অধিকার হারাইনি।'

দিন-রাত চা বিক্রি করেছি। ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানিয়েছি।

আজ সে আমেরিকায় থাকে। আমাকে বলে—

'বাবা, এখানে চলে এসো।'

আমি বলি—

'তাহলে আমার এই মানুষগুলোকে কে দেখবে? তাদের দুঃখের কথা কে শুনবে?'*

ডায়েরির শেষ পৃষ্ঠা — ২০১৮

"আজ আমার বয়স ৬২ বছর।

আমার একটি পা নেই। স্ত্রী আর বেঁচে নেই। ছেলে অনেক দূরে।

তবুও প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন মানুষ আমাকে 'আন্না' বলে ডাকে।

আমি তাদের কষ্টের কথা শুনি, চা খাওয়াই, আর বলি—

'বাঁচো বাবা, জীবনকে ভালোবাসো।'

আমি কখনও ঈশ্বরকে চোখে দেখিনি।

কিন্তু প্রতিদিন প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করি।

তাই আজও আমি বেঁচে আছি।

কারণ আজও আমার দেওয়ার মতো কিছু আছে—এক কাপ চা আর একটু সময়।"

ডায়েরি পড়ে ছেলেটি ছোট শিশুর মতো হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল।

আন্না বললেন,

"তোমার দুটি হাত আছে, দুটি পা আছে, উচ্চশিক্ষা আছে—তবুও মরতে চাইছো?

আমার কী ছিল? মাত্র ২৩ টাকা আর একটি কাটা পা।

যা হারিয়েছি, তা নিয়ে বসে থাকিনি। যা ছিল, তা দিয়েই নতুন জীবন গড়েছি।

চাকরি গেছে? আবার পাবে।

ভালোবাসার মানুষ চলে গেছে? সময়ের সঙ্গে আরও ভালো মানুষ জীবনে আসবে।

কিন্তু একবার জীবন চলে গেলে, তা আর কোনোদিন ফিরে আসে না।"

এরপর আন্না ছেলেটির ১০০ টাকার নোট ফিরিয়ে দিয়ে আরেক কাপ চা হাতে দিয়ে বললেন,

"এই নাও—এটা জীবনের চা।

এক নিঃশ্বাসে শেষ কোরো না। ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে উপভোগ করো।"

আজ সেই যুবক বেঙ্গালুরুর একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার।

প্রতি মাসে সে আন্নাকে ফোন করে।

আর যখনই পুনেতে যায়, প্রথমেই আন্নার দোকানে যায়।

দুই কাপ চা অর্ডার করে—

এক কাপ নিজের জন্য, আর এক কাপ আন্নার জন্য।

তারপর হেসে বলে—

"আন্না, আপনার ৫ টাকার এক কাপ চা আমার ৫ মিলিয়ন টাকার জীবনের মূল্য ফিরিয়ে দিয়েছিল।"

এই গল্প থেকে শেখার ৫টি অমূল্য শিক্ষা

১. প্রত্যেক মানুষের জীবনেই সমস্যা আসে। পার্থক্য গড়ে দেয় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

আন্না একটি পা হারিয়েছিলেন, কিন্তু স্বপ্ন হারাননি।

আপনি হয়তো চাকরি হারিয়েছেন, কিন্তু জীবন তো হারাননি।

যা হারিয়েছেন তা নয়—যা এখনও আছে, সেটাকেই কাজে লাগান।

২. আত্মহত্যার কথা ভাবা মানুষ দুর্বল নয়—সে ভীষণ একা।

সেই যুবকের শুধু একজন শ্রোতার দরকার ছিল।

আন্না তাকে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিয়েছিলেন—

আর সেই ১০ মিনিট তাকে আরও বহু বছরের জীবন উপহার দিয়েছিল।

তাই মানুষের কথা মন দিয়ে শুনুন।

৩. ঈশ্বর অনেক সময় মানুষের রূপেই আমাদের সামনে আসেন।

তিনি একজন চা-ওয়ালা হতে পারেন, একজন অটোচালক, একজন ডাকপিয়ন কিংবা যে-কোনো সাধারণ মানুষ।

মন্দিরে ঈশ্বরকে খোঁজার আগে মানুষের মধ্যে ঈশ্বরকে চিনতে শিখুন।

৪. যে মানুষ দিতে জানে, সে কখনও প্রকৃত অর্থে দরিদ্র নয়।

আন্নার একটি পা ছিল না, তবুও প্রতিদিন তিনি শত শত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেন।

সম্পদ মানিব্যাগে নয়—সম্পদ লুকিয়ে থাকে আমাদের ব্যবহার, সহানুভূতি ও উদারতায়।

৫. জীবনে "শেষ কাপ চা" বলে কিছু নেই।

আপনি যাকে সমাপ্তি ভাবছেন, ঈশ্বর হয়তো তাকে শুধু একটি বিরতি হিসেবে লিখেছেন।

যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ নতুনভাবে শুরু করার সুযোগও আছে।

আন্নার শেষ বার্তা

"আমার সন্তানরা, জীবনটা ঠিক এক কাপ কাটিং চায়ের মতো।

কখনও তেতো লাগবে, কখনও মিষ্টি।

তাই কষ্ট পেয়ে সেটাকে ফেলে দিও না।

ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে উপভোগ করো।

কারণ শেষ চুমুকটাই সবচেয়ে মধুর—

তার নাম 'অভিজ্ঞতা'।"

04/08/2026

।।প্রেম পত্র।।
।।Love later।।

একবার পুরীর এক পান্ডা জয়পুরের মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে গেল।
রাজা ও রানী মহাপ্রসাদ পেয়ে খুব খুশী।
এদিকে রাজকন্যা বিষ্ণুপ্রিয়া তার মহলে মহানন্দে জগন্নাথ দেবের জন্য একটি চিঠি লিখলেন ও পান্ডা টি বিদায় নেওয়ার সময় একটি রত্ন পেটিকা দিয়ে বললেন এটি যেন সে পুরী ফিরে গিয়ে জগন্নাথ দেব কে অর্পন করে এবং বিদায়ের সময় কিছু স্বর্নমুদ্রা পারিতোষিক হিসেবে দেওয়া হল।
আনন্দিত মনে পান্ডা পুরী ফেরার পথে ভাবল নিশ্চয়ই ওই পেটিকাতে বেশ কিছু রত্নরাজি আছে যা রাজকুমারী তাকে দিয়েছেন জগন্নাথ দেব কে দেওয়ার জন্য এবং সেই মুহূর্তে তাকে লোভ গ্রাস করল এবং ওর মনে হল যদি ও এই রত্ন নিজের কাছে রেখে দেয় তাহলে কেউ জানতে পারবে না কারন কেউ প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই।
যা ভাবা তাই কাজ। পান্ডা পেটিকা খুলে দেখল সেখানে একটুকরো কাগজ রাখা আছে!
ক্রুদ্ধ পান্ডা তখন ভাবল সে বোকামি করেছে এতদূর পথ এই পেটিকাটিকে শুধু শুধু বয়ে নিয়ে আসতে, তাই কাগজের টুকরোখানা সে ছিঁড়ে ফেলল। সেই রাতেই জগন্নাথদেব দর্শন দিয়ে তাকে বললেন, "মূর্খ, তুই তোর পারিশ্রমিক পেয়েছিলি, তবে যে কাজ করবি বলে স্বীকৃত হয়ে এসেছিল, সে কাজ করিসনি কেন? আমার জন্য যে চিঠি তুই পথের মাঝে ছিঁড়ে ফেলেছিস তার চেয়ে মূল্যবান সম্পদ আমার রত্নভান্ডারে নেই।
কাল সকালে মন্দিরে গিয়ে দেখিস আমি সেই পত্র কে কোথায় স্থান দিয়েছি!"
পরেরদিন সকালে পান্ডাটি মন্দিরে গিয়ে দেখল ছেঁড়া চিঠি মোড়া হয়ে জগন্নাথের বুকের হারের পদকের সঙ্গে আটকানো রয়েছে।
উপস্থিত অন্যান্য পান্ডারা কেউই যখন এর রহস্য বুঝতে পারছিল না তখন দোষী পান্ডাটি সব কথা স্বীকার করে ভগবানের কাছে বারংবার ক্ষমা চাইতে লাগল।
সেবকরা চিঠিটি খুলে দেখল রাজকুমারী একটি অপূর্ব শ্লোক লিখেছেন।
লেখা আছে-
"রত্নাকরস্তব গৃহং গৃহিনী চ লক্ষ্মী
কিং দেয়মস্তি ভগবতে পুরুষোত্তমায়।
আভীরগোপললনাহৃতমানসায়
দত্তং মনস্তদনু মে কৃপয়া গৃহাণ।"

শ্লোকটির অর্থ হল "শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে সকলেই তোমাকে কিছু না কিছু দেয়।
আমিও ভেবেছি আমার ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে তোমাকে কিছু না কিছু দেওয়া উচিত।কিন্তু তোমাকে কি দেব সেটাই ঠিক করতে পারছিলাম না। তুমি রত্নাকরে শয়ন কর,তাই রত্নের কোন অভাব নেই তোমার।
তাই সে জিনিষ তোমায় দেওয়া যাবে না।
স্বয়ং লক্ষ্মী তোমার গৃহিনী তাই কোনও ধনের প্রয়োজন তোমার নেই।তাহলে তোমাকে কি দিতে পারি? অনেক ভেবে দেখলাম তুমি যখন বৃন্দাবন থেকে মথুরা চলে গেলে তখন গোপীরা তোমার মনটি চুরি করে নিয়েছিল।
ঐ একটি জিনিষের তোমার অভাব আছে।
সেই অভাব পূরণ করার জন্য আমার মন আমি তোমায় দিলাম,কৃপা করে গ্রহন করো।

এই ভাবেই সকল ভক্ত হৃদয়ের ঐকান্তিকী কামনা ফুটে উঠেছিল রাজকুমারী বিষ্ণুপ্রিয়ার চিঠিতে আর তিনিও সদা সর্বদা হয়ে রইলেন ভক্তের ভগবান। তাঁর দুটি প্রসারিত বাহু ভক্তকে চির আলিঙ্গনে বাঁধতে চায়।
আমরা সাক্ষী হলাম এক অমর প্রেমকাহিনীর।

28/07/2026

আগামীকাল গুরুপূর্ণিমা 🌷🙏🌸 গুরু পূর্ণিমা, জানেন এই উৎসবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ? 🌷🙏🌸

গুরু পূর্ণিমাকে কেন ব্যাস পূর্ণিমা বলে ?
গুরু পূর্ণিমা (Guru Purnima) হল একটি বৈদিক প্রথা, যার মধ্য দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে থাকেন। আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় গুরু পূর্ণিমা। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে গুরু পূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই তিথিতেই মুণি পরাশর ও সত্যবতীর ঘরে মহাভারতের রচয়িতা মহর্ষি বেদব্যাস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই এই দিনে মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম জয়ন্তীও পালন করা হয়। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, তিনিই চারটি বেদের ব্যাখ্যা করেছেন। বেদ বিভাজনের কৃতিত্ব তাঁকেই দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর নাম বেদব্যাস। ১৮টি পুরাণ ছাড়াও তিনি রচনা করেন মহাভারত (Mahabharat) ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা (Bhagwat Geeta)। এই কারণে গুরু পূর্ণিমাকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়।

বৌদ্ধদের মধ্যে গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব
বলা হয়, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে গুরু পূর্ণিমার গুরুত্ব অসীম। কথিত আছে, বোধিজ্ঞান লাভের পর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায় প্রথম সকলকে উপদেশ দেন গৌতম বুদ্ধ। সেই কারণে এই দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছে। হিন্দু পুরাণে বলা আছে, এই তিথিতেই গুরু হিসাবে শিষ্যদের মহাজ্ঞান প্রদান করেন দেবাদিদেব মহাদেব। আদিযোগী শিব এই তিথিতেই আদিগুরুতে রূপান্তরিত হন। অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ, মরীচি, ক্রতু এই সাতজন ঋষি ছিলেন মহাদেবের প্রথম শিষ্য। তাঁদেরই জ্ঞান প্রদান করেন আদিগুরু মহাদেব।

গুরু-শিষ্য সম্পর্ক
প্রাচীন সমাজে অত্যন্ত গুরুত্ব পেত গুরু-শিষ্য সম্পর্ক। সেই কারণে একটা দিন গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদন করত শিষ্য। সংস্কৃতে 'গু' শব্দের অর্থ অন্ধকার। 'রু' শব্দের অর্থ অন্ধকার দূরীকরণ। গুরু শব্দের অর্থ, যিনি শিষ্যদের অন্ধকার বা অজ্ঞতা থেকে আলোর দিশা দেখান সেই ব্যক্তি।

28/07/2026

পিতামাতা সাধারণত প্রথম গুরু হিসেবে বিবেচিত হন, কারণ তাঁরাই সন্তানের প্রথম শিক্ষক এবং তাঁদের কাছ থেকেই শিশুরা প্রথম শিক্ষা ও মূল্যবোধ গ্রহণ করে। এরপর শিক্ষক এবং দীক্ষা গুরু আসেন, যাঁরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও পথপ্রদর্শন করেন।
আসুন, এই বিষয়গুলো একটু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক:
পিতামাতা (প্রথম গুরু):
শিশুরা পৃথিবীতে আসার পর, তাদের প্রথম শিক্ষক হন তাদের পিতামাতা। পিতামাতা তাদের জন্ম থেকে লালন-পালন করেন, তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করেন, এবং তাদের জীবনের প্রথম শিক্ষা ও মূল্যবোধ দেন। এই কারণে পিতামাতাকে "প্রথম গুরু" হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিক্ষক:
শিক্ষকরা হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করেন। তাঁরা ক্লাসরুমে বিভিন্ন বিষয় শেখান, এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করেন। শিক্ষকরা তাদের ছাত্রদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেন, তাই তারা "দ্বিতীয় গুরু" বা শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেন।
দীক্ষা গুরু:
দীক্ষা গুরু হলেন একজন আধ্যাত্মিক শিক্ষক। তিনি শিষ্যকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান দান করেন এবং তাদের মোক্ষ লাভের পথে পরিচালিত করেন। দীক্ষা গুরু সাধারণত মন্ত্র দেন এবং শিষ্যের আধ্যাত্মিক যাত্রায় পথপ্রদর্শক হন।
সুতরাং, পিতামাতা, শিক্ষক এবং দীক্ষা গুরু, এই তিনজনই জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিতামাতা প্রথম গুরু, শিক্ষক দ্বিতীয় গুরু এবং দীক্ষা গুরু আধ্যাত্মিক পথের পথপ্রদর্শক।

26/07/2026

।দক্ষিণেশ্বরের রানী রাসমণির রুপোর রথ।।🌺
কলকাতা জানবাজার জমিদার বাড়ির তখন বাংলা জোড়া নাম- যশ- খ্যাতি। বাংলার প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে ছিল তাদের জমিদারী। রানী রাসমণির স্বামী রাজচন্দ্র যা করতেন নিঃশব্দে, কোন হম্বিতম্বি ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর এইসব বিরাট বিষয়-আশয় সমস্ত কিছু এসে পড়ল রাসমনির হাতে। স্বামী যতদিন ছিলেন, ততদিন তিনি ঘোমটা টানা আদুরে একটি গৃহবধূ হয়েছিলেন। স্বামীর সুযোগ্য সহধর্মিনী ছিলেন তিনি।
রানী রাসমনির মধ্যে সত্য আর রজোগুণের অদ্ভুত এক মিশ্রণ ঘটেছিল। খুবই আচারপরায়ণ ছিলেন। ব্রহ্মচারিণীর মতো জীবন যাপন, আহারাদিতে কঠোরতা, সামান্যতম ভোগ বিলাসিতা ছিল না তার মধ্যে। আবার যখন তেজস্বিনী তখন তার সামনে মাথা তুলে দাঁড়াবার ক্ষমতা ছিল না কারো। এমনকি ফিরিঙ্গিদের ও নয়। তাঁর রাজসিকতার প্রকাশ ঘটতো বড় বড় উৎসবে। খুব ঘটা করে পুজো উৎসবাদি করতেন। শহরের মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে যেত। রানীর কথা ছিল, যা হবে কখনো ছোট খাটো হবে না। সকলকে নিয়েই উৎসব। আর উৎসব উপলক্ষে যতটা পারা যায় মানুষের সেবা করার প্রবণতা। "আমি এক রানি সদাই তোমাদের পাশে আছি"।
একদিন পুজোয় বসে রাণী মা স্বয়ং রঘুবীরের আদেশ পান। রঘুবীর তাঁকে জানান যে তিনি রথে আহরণ করতে চান। তাঁকে যেন রথে আহরণ করিয়ে ভ্রমণ করানো হয়। রঘুবীরের এই আদেশ পাওয়ার পর রানী মা সিদ্ধান্ত নেন তিনি ঐ বছর রথ বার করবেন। সেই অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
একদিন রানী মা তার প্রিয় জামাতা মথুরামোহন কে ডেকে বলেন, "মথুর, আমার ইচ্ছে হয়েছে রুপোর রথে আহরণ করিয়ে রঘুবীর কে কলকাতার রাজপথে ভ্রমণ করাবো, "চকচকে রুপোর রথ" ।মথুরামোহন বললেন, ঠিক আছে আমি আজই বিখ্যাত সাহেব হ্যামিলটন কোম্পানিতে বায়না দিয়ে দিচ্ছি"। রানিমা মৃদু হেসে মিষ্টি গলায় বললেন, দেশি কারিগর থাকতে বিদেশি কারিগরের কাছে যাবে কেন??
মথুরা মোহন কলকাতার উদয়মাণ বড়লোক ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি রানী মার কথায় একটু চমকে গেলেন। বললেন, 'বেশ তাই হোক' দেশি কারিগর ডাকা হোক। ঠিক সময়ে রথ প্রস্তুত হয়ে গেল। প্রভূত আড়ম্বরে স্নানযাত্রার পূণ‍্য দিনে রথ
প্রতিষ্ঠা করা হলো। রথ তৈরি করতে যা খরচ হয়েছিল তা সেকালের হিসেবে মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো। এক লক্ষ বাইশ হাজার একশো পণেরো টাকা। রথের দিন রাণীমা সুসজ্জিত রথ সাজিয়ে তাতে তাঁর ইষ্ট দেব রঘুবীর কে চাপিয়ে এক বিশাল শোভাযাত্রা আয়োজন করেন। তার জামাইরা খালি পায়ে রথ এর আগে চলছেন। রানীর নাতি-নাতনিরা বিভিন্ন রকমের গাড়ি চড়ে রথের পেছনে, এরপর বিরাট শোভাযাত্রা। গোটা কলকাতার মানুষ একটা সমরোহ দেখলে বটে।
রানী রাসমণি প্রচলিত সেই রথ 7উৎসব আজো পালিত হয়ে আসছে মহাসমারোহে দক্ষিণেশ্বরে।
সেই প্রাচীন রুপোর রথ তাতে অধিষ্ঠান করেন জগন্নাথ। তারপর গোটা দক্ষিণেশ্বর ভ্রমণ করেন।।
যেখানে মায়ের নাম সেখানে আনন্দধাম। জয় ঠাকুর। জয় জগন্নাথ।

রথ টানার আক্ষরিক অর্থ কী*            রথ মানে শরীর,             সারথি মানে মন,             রশি মানে ভক্তি,আর যাত্রা মানে ...
24/07/2026

রথ টানার আক্ষরিক অর্থ কী*

রথ মানে শরীর,
সারথি মানে মন,
রশি মানে ভক্তি,

আর যাত্রা মানে আত্মার ঈশ্বরের দিকে এগিয়ে চলা। তাই যখন কেউ রথ টানে – সে আসলে নিজের মন আর ভক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে নিজের জীবনে টানে। পুরীর রথযাত্রায় বিশ্বাস করা হয়- এই একমাত্র দিন, যখন ঈশ্বর স্বয়ং জনগণের কাছে আসেন, আর আপনি তাঁকে নিজের হাতে 'টেনে এনে' নিজের আত্মায় স্থাপন করতে পারেন। যে রথের রশিতে একবার হাত রাখে, তার জন্ম জন্মান্তরের পাপ ক্ষয় হয়।

আজ রামকৃষ্ণ -মা সারদা - স্বামী বিবেকানন্দ পাঠচক্র পক্ষ থেকে জানাই যে স্বামী বেদ স্বরুপানন্দ জী মহারাজের অপূর্ব, অসাধারন ...
19/07/2026

আজ রামকৃষ্ণ -মা সারদা - স্বামী বিবেকানন্দ পাঠচক্র পক্ষ থেকে জানাই যে স্বামী বেদ স্বরুপানন্দ জী মহারাজের অপূর্ব, অসাধারন বক্তব্য আমাদের মন্ত্র মুগ্ধ করে রেখেছিল। আমরা অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। মহারাজের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। শ্রী শ্রী ঠাকুর এর কাছে প্রার্থনা করি যে মহারাজ যেনো সুস্থ ভালো থাকেন। জয় ঠাকুর।। জয় মা।।জয় স্বামীজী 🙏🙏🙏

18/07/2026

জগন্নাথের লীলা !!
অনেক পুরান কথা, এক শেঠের কাছে এক ব্যক্তি কাজ করত।
শেঠজী ঐ ব্যক্তিকে খুব বিশ্বাস করত।
শেঠের যা জরুরী কাজ থাকত সব ঐ ব্যক্তি করত।
ঐ ব্যক্তি পরম ভক্ত ছিল।
সেই ব্যক্তি সদা ভগবানের চিন্তা, ভজন, কীর্তন, স্মরণ, সৎসঙ্গ করত।

একদিন সেই ব্যক্তি শেঠজীর কাছে, শ্রীজগন্নাথ ধাম যাত্রার জন্য ছুটি চাই।

শেঠজী ছুটি দিল আর সেই ব্যক্তিকে
বলল, "ভাই আমি তো সংসারী মানুষ, সবসময়ই ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি তার কারণে কখনো তীর্থযাত্রার সুযোগ হয় না।

তুমি তো যাচ্ছো এই ১০০ টাকা আমার নামে প্রভু জগন্নাথের চরণে সেবায় সমর্পিত করে দিও।"

সেই ব্যক্তি টাকাটা নিয়ে জগন্নাথ দর্শনে যাত্রা শুরু করল। অনেকদিন পায়ে হেঁটে যাত্রা করে সে জগন্নাথ পুরী পৌঁছাল।
মন্দিরে যাওয়ার সময় সে রাস্তায় দেখল অনেক সাধুসন্ত,ভক্তজন, বৈষ্ণবজন, হরিনাম সংকীর্তনে খুব আনন্দ করছিল।

কীর্তনের আনন্দে তাদের চোখ
থেকেঅশ্রুধারা পড়ছিল।
জোরে জোরে তারা হরিবোল হরিবোল বলছিল। সংকীর্তনে খুব আনন্দ হচ্ছিল। চারিদিকের সকল ভক্তরা এসে ওখানে
দাঁড়িয়ে হরিনাম সংকীর্তনের আনন্দ নিচ্ছিল।সেই ব্যক্তি দেখছিল সংকীর্তনরত সব ভক্ত জনদের।
সে দেখল সংকীর্তন করতে করতে তাদের ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে তারা খুব ক্ষুধার্ত। সে এই ক্ষুধার্ত ভক্তদের দেখে চিন্তা করল, "শেঠজী আমাকে যে টাকা দিল তার থেকে ভক্তদের ভোজনের ব্যবস্থা করি।"

সে ব্যক্তি ঐ ১০০ টাকা থেকে ভোজনের ব্যবস্থা করল। সবাইকে ৯৮ টাকা দিয়ে ভোজন করালেন। সকলে খুব তৃপ্ত হলেন।

তার কাছে শুধু দুই টাকা আছে, সে ভাবল "এই দুইটাই আমি জগন্নাথের চরণে শেঠজীর নামে সমর্পণ করব।
যখন আমি শেঠের কাছে পৌছাব।

তখন আমি বলব শেঠজীকে আমি টাকা সমর্পন করেছি। শেঠজী তো জিজ্ঞাসা করবে না যে ১০০টাকা আমি জগন্নাথের চরণের সমর্থন করেছি কিনা। শেঠজী বলবে টাকা সমর্পণ করলে। আমি হ্যাঁ বললে ওটা তো মিথ্যা বলা হবে না এবং কাজও হয়ে যাবে।"

ভক্ত সেই ব্যক্তি আকুল মনে জগন্নাথজীর দর্শন করল মন্দিরে প্রবেশ করল। শ্রীজগন্নাথদেবের এমন অপূর্ব রূপ নয়ন ভরে দর্শন করে নিজে হৃদয়ে তার রূপ মাধুরী বিরাজমান করল।

শেষে সে শেঠজীর দেয়া দুই টাকা জগন্নাথজীর চরণে দিয়ে বলল, এই দুইটাকা আমার শেঠজী দিয়েছে।

ঐ রাতে শেঠজী রাতে স্বপ্ন দেখল শ্রীজগন্নাথজীকে। জগন্নাথ জীবনে স্বপ্নে এসে বলল শেঠজীকে, "তোমার ৯৮
টাকা আমি পেয়েছি। " এই বলে শ্রী জগন্নাথজী অন্তর্ধান হয়ে গেলেন।
শেঠজী জেগে গেল আর ভাবতে লাগল, "আমার কাজের লোক তো খুব সৎ, ভক্ত ও তো খূব বিশ্বাসী। হঠাৎ কি এমন হল
কি এমন দরকার পরল আমার দেয়া টাকার থেকে দুই টাকা ভগবানকে কম দিল? সে দুই টাকা কিসে খরচ করল? কি এমন প্রয়োজন পরল?" এসব কথা শেঠজী বিচার করতে লাগল।
অনেক দিন যাওয়ার পর ভক্ত সেই ব্যক্তি ফিরে আসল আর শেঠজীর কাছে আসল। শেঠজী তখন তাকে জিজ্ঞাসা করল "আমার টাকা জগন্নাথজীকে সমর্পন করেছ তো?"

ভক্ত বলল, " হে শেঠজী টাকা আমি সমর্পণ করেছি।" শেঠজী বলল, "কিন্তু তুমি তো ৯৮ টাকা কেন দিলে, দুই
টাকা কি কাজে খরচ করলে? "
তখন ভক্ত চিন্তা করলছিল শেঠজী কিভাবে জানল, ভক্ত তখন সকল কথা খুলে বলল শেঠজীকে। বলল," সে ৯৮ টাকা দিয়ে ভক্ত সাধুসন্তদের সেবা করল। আর দুই টাকা শুধু প্রভু
জগন্নাথের চরণের সমর্পন করল।"

শেঠজী সকল কথা শুনে বড় খুশি হল এবং ভক্ত ব্যক্তির চরণে এসে পড়ল। আর বলল , " তুমি ধন্য তোমার জন্য আমি শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন ঘরে বসে পেলাম।"

ভগবানের আসলে তোমাদের ধনের কোন দরকার নেই। ভগবান ঐ ৯৮ টাকা স্বীকার করল কারণ ওটা যে ভক্তের সেবাতে লেগেছে। কারণ, ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের বাস।
যে দুইটা চরণের দিল ঐ টাকাটা কোন মূল্য নেই প্রভুর কাছে। 'জগন্নাথ সবাইকে দর্শন দিতে যাত্রা করবে কিছুদিন পরে, রথযাত্রা সবাই জগন্নাথেকে ভক্তি সহকারে দর্শন করবেন ও কৃপা লাভ করবেন।
তথ্য বেলুড় মঠের সাধু মহারাজ।

17/07/2026

আমরা রামকৃষ্ণ- মা সারদা - স্বামীজী পাঠচক্র র তরফ থেকে এই পাঠচক্র পরিবারের সকল সদস্য/সদস্যাগন দের যে আগামী ১৯ য়ে জুলাই, ২০২৬। ( রবিবার) পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক ভাবে
পাঠ করছেন স্বামী বেদস্বরূপানন্দজী মহারাজ । রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার।গোল পার্ক।।বিষয়:" " ভক্তি প্রসঙ্গ " প্রতি মাসে একদিন এক টি করে ভক্তিসূত্রের শ্লোকের উপর আলোচনা করবেন। এই অনুষ্ঠানের পর বেলানগর রামকৃষ্ণ আশ্রমের শ্রী অরবিন্দ শী মহাশয় শ্রী শ্রী মায়ের প্রসঙ্গে বলবেন। প্রবেশের জন্য নিম্নের ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন। সময় : সন্ধ্যে ৫.৩০
স্থান - কলকাতার অবনীন্দ্র সভাঘর (Abanindra Sabhaghar) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের অধীনে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।ঠিকানা:১/১, আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড,কলকাতা - ৭০০ ০৭১(রবীন্দ্র সদন এবং তথ্য কেন্দ্র চত্বরে অবস্থিত) (বাস স্টপ Excide/ রবীন্দ্র সদন More) দয়া করে নির্দিষ্ট সময় আসন গ্রহণ করুন।
বিঃ দ্রঃ--- আমাদের পাঠচক্র হতে শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীমা ও স্বামীজী মহারাজের এর কিছু ছবি তৈরী করা হয়েছে। ঐ গুলি আপনারা কিনলে পাঠচক্রে তার অনুদান হিসাবে জমা হবে। যেমন বিন্দু বিন্দু জলকনা হতে সিন্ধু হয় তেমনি ভাবে শ্রী ঠাকুর, শ্রী মা ও স্বামীজীর আশীর্বাদ মস্তকে ধারণ করে আমাদের ধীরে ধীরে পথ চলার প্রয়াস। উপরোক্ত বই সঙ্গে নোট বুক ও পেন✏️ বা পেন্সিল সঙ্গে করে হলে নিয়ে আসবেন। আপনাদের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে এই আশা করি।
জয় ঠাকুর 🙏জয় মা🙏জয় ঠাকুর🙏 .......আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে ববিতা নাথের ফোন নাম্বারে :: 91 98316 33014 যোগাযোগ করতে পারেন।

জগন্নাথের স্নানযাত্রার পর মন্দির পনরো দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জগন্নাথের জ্বর হয়। পনরো দিন পর মন্দির খোলা হয়। নয়নকল উৎসবে ...
16/07/2026

জগন্নাথের স্নানযাত্রার পর মন্দির পনরো দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। জগন্নাথের জ্বর হয়। পনরো দিন পর মন্দির খোলা হয়। নয়নকল উৎসবে নয়ন খুলবে। জগন্নাথকে সাজানো হয়। জগন্নাথের স্নান, জগন্নাথের জ্বর, এছাড়া অনেক কথা আছে। আমি কিছুটা জানি তা লিখছি।
শ্রীক্ষেত্র পুরী হল মর্ত্যের বৈকুন্ঠ, দ্বারকা। পুরী মন্দিরের চারটা দরজা। অশ্ব,হস্তি, ব্যাঘ্র, সিংহ। অশ্ব-অর্থ, হস্তি-মোক্ষ,ব্যাঘ্র-কাম, সিংহ-ধর্ম। জগন্নাথ সিংহ দরজা দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে। মহাপ্রভুও এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেন জগন্নাথ দর্শনে। হস্তি দরজা দিয়ে জগন্নাথ বের হয় সমাধিতে যাওয়ার জন্য। দরজা বন্ধ থাকে সবসময়। শুধু জগন্নাথ সমাধিতে যায় এই দরজা দিয়ে।
স্নান যাত্রার মূল তত্ত্ব লিখছি। একবার দেবকী, বাসুদেবের বাসনা হল তীর্থ স্নান করবে। বলরাম কৃষ্ণ বললেন দেবকী বাসুদেবকে। কুরুক্ষেত্রে অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণের স্নান করলে মোক্ষ লাভ হয়। কুরুক্ষেত্রে একুশবার ক্ষত্রিয়দের বিনাশ করেছিল। তাদের রক্ত থেকে এই সরোবর। আবার পরশুরাম ওখানে তর্পন করে ঐ ক্ষত্রিয়দের। ঐ সরোবর পূর্ণ তীর্থে পরিণত হয়।
ঐ খানে সবাইকে নিয়ে আসেছেন দ্বারকাদীশ শ্রীকৃষ্ণ। মা দেবকী, বাসুদেব, সঙ্গে সুভদ্রা মাতা, কৃষ্ণের আট জন মহাপটরানী, সঙ্গে বলরাম তার সাথে বারূণী, রেবতী যাচ্ছেন। অনেক সৈন্য, অনেক বাদ্যযন্ত্র বাজছে।
নারদজী ভাবছেন, শ্রীকৃষ্ণ আসেছেন কুরুক্ষেত্রে এই কথা ব্রজবাসীদের বলতে হবে। নারদজী বীনায় কৃষ্ণ নাম করতে করতে চললেন ব্রজে। একমাসের বেশীসময় কৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রে থাকবে এই খবর দিতে চললেন নারদজী ব্রজে। ব্রজে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অঙ্গে জ্বলতে লাগল। যোগ ধ্যানে বসলেন নারদজী কেন তার অঙ্গ জ্বলছে। বিরহ তাপে অঙ্গ জ্বলছে ব্রজধামের, যমুনার,স্থাবর-জঙ্গম, গোবৎস, গাভী, গোপ গোপী,মা যশোদা নন্দবাবা। কৃষ্ণবিরহে সবাই কাঁদছে। নারদজী দেখলেন ব্রজে নন্দালয়ে যশোদা ননী নিয়ে গোপাল গোপাল করে কাঁদছে। শ্রীদাম পটে আঁকা কৃষ্ণের ছবি দেখে কেঁদে কেঁদে বলছে, কানাইয়া দেখ মিষ্টি ফল এনেছি। এটো ফল দিই নি রে। এটো ফল দিলাম বলে তুই আমাকে ছেড়ে চলে গেলি এই বলে কাঁদতে লাগল।
এদিকে রাধা কাঁদে সখীদের গলা ধরে। নারদজী বললেন তোমাদের নয়নাভিরাম কুরুক্ষেত্রে। চল তোমরা দর্শন করবে তোমাদের প্রাণ গোবিন্দকে। রাধাকে বলল ললিতা চল সখী তোকে সাজিয়ে দিই।
রাধারাণী বলল আমি সেজে বসে আছি। নয়ন সেজেছে শ্যামের রূপ দর্শনে, হাত সেজেছে শ্যামের পদসেবনে,কানের ভূষ্ণ আমার শ্যামের নাম শ্রবণ।
সবাই চল কুরুক্ষেত্রে। বিরহিনী গোপীরা এক কুঞ্জে শ্যাম আছে শুনে দর্শনে ব্যাকুলতা নিয়ে গেল। দেখল যে বনমালী, যে গোপালকে ওরা ভালবাসত সে কৃষ্ণ নয়। কোথায় বনমালা কোথায় চুড়া। এ রাজার বেশে কৃষ্ণকে ভালবাসে না ওরা। দেখা না করে চলল রাধা। যোগমায়া দেখলেন রাধারানী কৃষ্ণ দর্শন না করে চলে যাচ্ছেন। কৃষ্ণকে বলল রাধারানী চলে গেছে শুনে শ্যামের মনে বিরহ হল রাধা বিরহ। এদিকে যোগমায়া অপূর্ব কুঞ্জ রচনা করলেন রাধা আর প্রিয় সখীদের জন্য। কৃষ্ণ আসবেন রাধার সেই অপূর্ব কুঞ্জে। কিন্তু এর জন্য রুক্মণীকে মানে লক্ষীকে রাজি করাতে হবে। রুক্মনী তো রাজি হয় না কিছু তো। কিছুতে যেতে দেবে না তাকে। এই নিয়ে দুইজনের রাগ। তাইতো রাগ করে লক্ষী রান্না করে না। তখন কৃষ্ণ বলে আমার দাদা বলরাম কি দোষ করল,ও কেন না খেয়ে থাকবে। তাই শুধু পাচন রান্না করেন।
কুরুক্ষেত্রে এই স্নান এল জগন্নাথের স্নান যাত্রা। এই যোগমায়ার কুঞ্জ হল গন্ডিচা মন্দির। যা যোগমায়া তৈরি করলেন।জগন্নাথের জ্বর হল রাধার বিরহ জ্বর হল। জগন্নাথ যাবে রথে করে ভক্ত দর্শনে। রাধার কুঞ্জে গন্ডিচা মন্দিরে যাবে রথে করে। কিন্তু লক্ষী যেতে দেবে না। জগন্নাথের সাথে বলরাম সঙ্গে সুভ্দ্রা তাতে রাজি হলেন মা লক্ষী। তাই রথে আগে বলরাম, পরে সুভদ্রা তারপর জগন্নাথ।

Address

28D Harish Mukherjee Road
Kolkata
700025

Telephone

+917003901299

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ramkrishna Maa Sarada Swami Vivekananda Pathachakra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Ramkrishna Maa Sarada Swami Vivekananda Pathachakra:

Shortcuts

Share