29/06/2026
গতকাল, ২৮ জুন এই বছরের 'মেধা' প্রথম পর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়ে গেল । রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের মেঘনাদ সাহা প্রেক্ষাগৃহে এই অনুষ্ঠানে এসো কিছু পরিবারে যুক্ত হল নতুন ২০ জন পড়ুয়া।
রীতি মেনে অনুষ্ঠান শুরু হল 'আগুনের পরশমণি' গান দিয়ে। এরপর 'এসো কিছু করি'র সভাপতি তিলক গুপ্ত তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে এসো কিছু করির মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরেন। এর পর গত এক বছরে এসো কিছু করির কাজ নিয়ে চমৎকার একটি অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন দেন এসো কিছু করি'র স্বেচ্ছাসেবক অনুরাধা দাস।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এদিন উপস্থিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ডক্টর পারঙ্গমা সেন। এসো কিছু করির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথির হাতে গাছ তুলে দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন শ্রীপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায়।
ডক্টর সেন তাঁর বক্তৃতায় ছাত্রছাত্রীদের সাফল্য কামনা করে বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দেন। উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁর আহ্বান, এসো কিছু করির পাশাপাশি এসো বই পড়ি।
বক্তৃতা শেষে ডক্টর সেন নতুন ছাত্রছাত্রীদের হাতে সার্টিফিকেট ও নতুন স্কুল ব্যাগ তুলে দেন। প্রতিটি নতুন ছাত্রছাত্রীর পরিচয় অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
সকলকে চমকে দিয়ে মেধা প্রকল্পের নতুন ছাত্র অতনু কুমার প্রামাণিক ছবি এঁকে এনে এসো কিছু করিকে উপহার দিয়েছে।
এর পর মেধা প্রকল্পের চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ পাওয়ার পালা। এসো কিছু করি'র শুভানুধ্যায়ীরা এই স্কলারশিপ তাঁদের প্রিয়জনের স্মরণে দিয়ে থাকেন। এর সঙ্গে এসো কিছু করি'র শুভাকাঙ্খী সুজিত ঝা প্রতিটি পড়ুয়াকে উপহার দেন অক্সফোর্ড ডিকশনারি।
এই বছর থেকে সব থেকে মনোযোগী পড়ুয়াকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া শুরু হল। পড়াশোনায় মনোযোগের পাশাপাশি এসো কিছু করি'র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, এসো কিছু করির পক্ষ থেকে দেওয়া পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে বোঝা - সব দিক দিয়ে এবার এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়েছে ববিতা বর্মণ।
শেষ পর্বে ছিল মেধা প্রকল্পের নতুন ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্যুইজ প্রতিযোগিতা। এসো কিছু করি'র সদস্য ইন্দ্রাণী বর্ধনের পরিচালনায় প্রতিযোগিতা খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। ইন্দ্রাণীর সঙ্গে ছিলেন সংস্থার সভাপতি তিলক গুপ্ত, সম্পাদক সৌরভ বিশ্বাস এবং সদস্য অনির্বাণ হালদার, দীপন বিশ্বাস ও উৎসব দে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষে প্রথম হল দীপান্বিতা বাগলী , দ্বিতীয় রোহন বর্মণ এবং তৃতীয় অপরাজিতা সামন্ত। এই তিনজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কৃষ্ণা মহাজন, রঞ্জন সরকার এবং সুনন্দ ঘোষ।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মধুমিতা দত্ত বারবার পড়ুয়াদের মনে করিয়ে দেয়, এই অনুষ্ঠান নিছকই বই বিতরণ নয়, এ এক সম্পর্কের সূচনা। গত ২০ বছরে যে সব পড়ুয়া এসো কিছু করি'র সংস্পর্শে এসেছে তারাই এই পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছে। সামনের দিনগুলিতে নতুন পড়ুয়াদের সঙ্গে থাকবে নিয়মিত যোগাযোগ। স্টাডি ট্যুরে যাওয়া হবে তাদের বাড়িতে।
অনুষ্ঠান শেষে সংস্থার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সম্পাদক সৌরভ। এর পর রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের ক্যান্টিনে সকলের মধ্যাহ্ন ভোজ সারার পালা।
শেষে ছিল এসো কিছু করির ডেস্ক, যেখানে দীপন, শ্রীপর্ণা, বৈশালী, সৌরভ মণ্ডল, সৌভিক দে, কল্যাণ, ইন্দ্রাণী, শিল্পী, সায়নদীপ, উৎসব, অরুণাভ, তিলক, সৌরভ বিশ্বাস এবং অনির্বাণ—সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও আন্তরিকভাবে ২০ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের বই, খাতা, স্টেশনারি, বায়োলজি বক্স, ক্যালকুলেটরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচও দেওয়া হয়। এর পর সকলেই রওয়না দিল বাড়ির উদ্দেশে।
আবার সকলের সঙ্গে দেখা হবে - সেই আশা নিয়ে এসো কিছু করিও অপেক্ষা করে থাকবে।