06/01/2026
ভেনেজুয়েলায় মার্কিনী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজনতার প্রতিবাদপত্র
আমরা, বিশ্ব শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্র-যুব, কৃষক, মেহনতি জনতা, চিকিৎসক , সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, আইনজীবী, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মাদক ব্যবসা রোধের অজুহাতে শুরু হওয়া এই হামলা আসলে সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের পুরনো কৌশল—তেল ও খনিজ সম্পদের দখল, সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে ধ্বংস করা, এবং ভূ-কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখা। গ্রেনেড ও মিসাইলের বর্ষণ, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গোপনে অপহরণ করে বিদেশি কারাগারে আটকে রাখা—এসবই আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন।
এই আগ্রাসন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া থেকে সিরিয়া পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধযন্ত্র বারবার প্রমাণ করেছে যে সাম্রাজ্যবাদ কেবল বন্দুকের নল নয়, অর্থনীতি, আদর্শ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বকে শাসন করতে চায়। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে এই হামলা তাই জাতীয় সার্বভৌমত্ব বনাম সাম্রাজ্যবাদের এক গভীর সংঘাতের প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- জাতিসংঘে বহু দেশ এই আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করেছে। লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলি—কিউবা, বলিভিয়া, নিকারাগুয়া—ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে।
- ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শান্তিকামী মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
- আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু রাষ্ট্রও মার্কিন হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী ঘোষণা করেছে।
প্রতিটি হামলার মতো এবারেও আমেরিকার সাধারণ জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে—
“তেলের জন্য রক্ত চাই না, খনিজ সম্পদ দখলের জন্য যুদ্ধ চাই না।”
আমেরিকার শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র আন্দোলন ও মানবাধিকার কর্মীরা স্পষ্টভাবে বলছেন—এই যুদ্ধ জনগণের নয়, এটি অস্ত্র ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট লুটেরাদের যুদ্ধ।
আমাদের দাবি
আমরা ঘোষণা করছি—
- ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
- প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে দিতে হবে।
- আন্তর্জাতিক আদালতে মার্কিন যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে হবে।
- বিশ্ব শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে, যাতে সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের প্রতিটি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়।
আমাদের অঙ্গীকার
ভেনেজুয়েলার লড়াই আমাদের লড়াই। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বজনতার ঐক্যই একমাত্র উত্তর।
আমরা মনে করি,
সাম্রাজ্যবাদী শিবিরের প্রতিটি হামলার জবাব হবে শ্রমজীবী ওদের দেশপ্রেমিক মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। যারা এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত তারা নিজের নাম যুক্ত করে শেয়ার করে দিন।
১. সুকুমার মিত্র, সাংবাদিক
২. ডা. দেবপ্রিয় মল্লিক, চিকিৎসক, নন্দীগ্রাম মঞ্চ
৩. ডা. ভবানীপ্রসাদ সাহু, চিকিৎসক ও বিজ্ঞান লেখক
৪. গৌতম দাশ, প্রকাশনা কর্মী, পিপল ইন ডিস্ট্রেস, PID
৫. শক্তিমান ঘোষ, হকার সংগ্রাম কমিটি
৬.তপোধীর ভট্টাচার্য, সম্পাদক, শতক্রতু সাহিত্য পত্রিকা
৭. দীপক চক্রবর্তী ( সম্পাদক, সারা ভারত বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংস্থা )