We & The so called Society

We & The so called Society Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from We & The so called Society, Nonprofit Organization, Hudco, KOLKATA.

অনেকেই বলেন, "জীবনে যদি পারফেক্ট জীবনসঙ্গী না জোটে, তাহলে জীবনটা নাকি নরক হয়ে যায়।"আচ্ছা, পারফেকশন বলতে ঠিক কী বোঝায়?...
04/08/2026

অনেকেই বলেন, "জীবনে যদি পারফেক্ট জীবনসঙ্গী না জোটে, তাহলে জীবনটা নাকি নরক হয়ে যায়।"

আচ্ছা, পারফেকশন বলতে ঠিক কী বোঝায়?

সত্যি বলতে, আমার ঠিক জানা নেই।

ছোটবেলা থেকে আমি আমার বাবা-মাকে দেখেছি, মাসি-মেসোকে দেখেছি, পিসি-পিসেমশাইকে দেখেছি। তাঁরা কেউই পারফেক্ট ছিলেন না।

বাবার রাগ ছিল, মায়ের অভিমান ছিল। ঝগড়া হয়েছে, কথা বন্ধ থেকেছে, সংসারে টানাপোড়েন এসেছে, অর্থকষ্টও ছিল। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এসব খুব কাছ থেকে দেখেই বড় হয়েছি।

কিন্তু একটা জিনিস খুব কমই দেখেছি...

রাগ হলেই সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়ার তাড়া।
অভিমান হলেই "এবার আর একসঙ্গে নয়"—এই সিদ্ধান্ত।

তাই আজ যখন শুনি, "পারফেক্ট মানুষ না পেলে সম্পর্ক টেকে না", তখন সত্যিই নিজেকে প্রশ্ন করি—

পারফেক্ট মানুষ বলে কি সত্যিই কেউ আছে?

বাস্তবটা হলো, পারফেকশন একটা কল্পনা। পৃথিবীতে এমন একজন মানুষও নেই, যার কোনো খামতি নেই। আমরা প্রত্যেকেই কিছু গুণ, কিছু সীমাবদ্ধতা, কিছু ভুল আর কিছু অসম্পূর্ণতা নিয়েই মানুষ।

তাহলে আমরা নিজেরাই যখন অসম্পূর্ণ, তখন জীবনের সঙ্গীর কাছে নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা করি কীভাবে?

আমি বলছি না, সবকিছু মেনে নিতে হবে। অসম্মান, প্রতারণা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে কখনও আপস করা উচিত নয়।

কিন্তু ছোট ছোট ভুল, অভ্যাসের অমিল, মতের পার্থক্য, রাগ-অভিমান—এসব কি একটু ধৈর্য, একটু বোঝাপড়া আর একটু ভালোবাসা দিয়ে সামলে নেওয়া যায় না?

আজ দশ বছরের ভালোবাসার সম্পর্কও বিয়ের কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে।

তাহলে খামতিটা কোথায়?

ভালোবাসায়?
নাকি আমাদের ধৈর্যে?
নাকি আমাদের প্রত্যাশায়?

নাকি আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সম্পর্কে সমস্যা এলেই মনে হয়—"মুভ অন করাই হয়তো সহজ।"

হয়তো আগের প্রজন্মের জীবন আলাদা ছিল। সুযোগ-সুবিধা কম ছিল, জীবনও ছিল অনেক কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ের মধ্যেও তাঁরা একটা জিনিস জানতেন—সম্পর্ক শুধু সুখের দিনে নয়, কঠিন দিনেও পাশে থাকার নাম।

তাই রাগ হলেও রাতে একসঙ্গে খাওয়া হতো।
অভিমান হলেও সকালে চায়ের কাপটা এগিয়ে দেওয়া হতো।
কথা বন্ধ থাকলেও অসুস্থ হলে ওষুধটা ঠিক সময়ে খাইয়ে দেওয়া হতো।

আজও কত বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখি...
বালিশের নিচে বামের কৌটো, টেবিলে ওষুধের পাতা, হাঁটুর ব্যথা, চোখে মোটা চশমা...
তবুও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করেন—

"ওষুধ খেয়েছ?"

সেখানে হয়তো রোম্যান্টিক সংলাপ নেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি নেই, প্রতিদিন "আই লাভ ইউ" বলাও নেই।

আছে শুধু একসঙ্গে কাটানো চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরের জীবন।
আছে হাজার ঝগড়ার পরেও একে অপরকে ছেড়ে না যাওয়ার অভ্যাস।
আছে এই বিশ্বাস—মানুষটা পারফেক্ট নয়, তবুও এই মানুষটাই আমার।

হয়তো ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা এটাই।

আজ আমরা সম্পর্ক শুরু করার আগে নিখুঁত মানুষ খুঁজি।
হয়তো তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া, যার সঙ্গে অসম্পূর্ণ হয়েও সারাজীবন পথ চলা যায়।

কারণ দিনের শেষে...

পারফেক্ট মানুষ বলে কেউ নেই।

আছে শুধু দুটি অসম্পূর্ণ মানুষ, যারা প্রতিদিন একটু একটু করে একে অপরকে বুঝতে শেখে, ক্ষমা করতে শেখে, সম্মান করতে শেখে, আর সম্পর্কটাকে জিতিয়ে রাখতে শেখে।

হয়তো সুখী দাম্পত্যের রহস্য পারফেকশন নয়...
একটু ধৈর্য, একটু ছাড়, আর অনেকটা "আমরা"।😊😊

✒️✒️✒️ (Collected)

একজন মহিলার পুরো হরমোনাল সিস্টেম—যা তার মুড, ঘুম, পিরিয়ড, স্ট্রেস, হজম,  আত্মবিশ্বাস, এমনকি তার কথাবার্তার কোমলতা পর্যন্...
03/08/2026

একজন মহিলার পুরো হরমোনাল সিস্টেম—যা তার মুড, ঘুম, পিরিয়ড, স্ট্রেস, হজম, আত্মবিশ্বাস, এমনকি তার কথাবার্তার কোমলতা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করে—এসবের মূল ভিত্তি হলো তার emotional safety। আর এই emotional safety সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ, অর্থাৎ তার স্বামী বা তার প্রেমিকের আচরণে। মেয়েদের শরীর প্রকৃতিগতভাবে খুব সংবেদনশীল। তাদের হরমোনগুলো minute-to-minute পরিবর্তন হয়। পুরুষদের হরমোন স্থির হয়—কিন্তু মেয়েদের estrogen, progesterone, oxytocin, cortisol সারাক্ষণ ওঠানামা করে। তাই একজন পুরুষের বা তার কাছের মানুষগুলোর একটা কথা, একটা আচরণ, একটু রূঢ়তা, কিংবা একটু মমতা তার হরমোনে অবিশ্বাস্য প্রভাব ফেলে।

যখন একজন পুরুষ গভীরভাবে সম্মান দেয়, কথা বলার সময় নরম থাকে, তার feelings–কে গুরুত্ব দেয়—তখন মেয়েদের শরীরে oxytocin দ্রুত বাড়ে। এই oxytocin শুধু bonding নয়, শরীর ও মনকে ভিতর থেকে শান্ত করে। এই শান্ত অবস্থাই estrogen–progesterone–thyroid–insulinকে সুন্দরভাবে ব্যালান্স করে রাখে। তার ফলে period regular থাকে, mood stable থাকে, anxiety কমে, ঘুম গভীর হয়, মাথা ব্যথা কমে, হজম শক্তিশালী হয়।

কিন্তু যখন সে harsh কথা শোনে, বারবার অবহেলা পায়, ভালোবাসার অভাব অনুভব করে—তার শরীর তখন সেই পরিস্থিতিকে “threat” হিসেবে নেয়। তখন cortisol বাড়ে। স্ট্রেস হরমোন cortisol বাড়লে খুব অদ্ভুত সব পরিবর্তন হয়: মনের ওঠানামা শুরু হয়, পিরিয়ড গোলমাল হয়, বুকে ভারী লাগে, ঘুম কমে যায়, শরীরে পানি ধরে, ওজন বেড়ে যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ ওজন কমে যায়। কেউ বিরক্ত হয়, কেউ চুপ হয়ে যায়, কেউ খুব emotional হয়ে পড়ে, কেউ আবার hyper-reactive হয়ে যায়।

তার মানে— আপনি যেভাবে তার সাথে কথা বলেন, সে ঠিক সেই অনুযায়ী তার হরমোন behave করে।

একজন পুরুষ যদি ভাবেন, “সে কেন রেগে আছে?”, “সে কেন sensitive?”, “এত emotional কেন?”—তবে তার জানা উচিত যে একজন মহিলার emotional world আসলে তার biological world-এর সাথে সরাসরি যুক্ত। সে যেমন ভাবে, তার শরীরও ঠিক সেভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

আপনি যদি বারবার দেরি করে উত্তর দেন, তাকে উপেক্ষা করেন, রূঢ় কথা বলেন—তার শরীর সঙ্গে সঙ্গে cortisol বাড়াবে, estrogen কমাবে, progesterone disturb করবে। এর ফল—bloating, cramps, hair fall, mood swings, anxiety, oversensitivity—এসবই দেখা দেয়।

কিন্তু একজন পুরুষ যদি তার মেয়েটিকে hug করে বলে, “তুমি আছো, সেটাই আমার সুখ”—তখন তার শরীর মুহূর্তেই relax mode-এ চলে যায়। শুধু psychological নয়, biological transformation ঘটে। হৃদস্পন্দন ধীর হয়, শ্বাস গভীর হয়, nervous system শান্ত হয়, হরমোনগুলো আবার ছন্দে ফিরে আসে।

এটাই একজন মেয়ের সত্য। ভালোবাসা তার শরীরের ওষুধ।।সম্মান তার হরমোনের স্থিরতা। নরম আচরণ তার মানসিক শান্তি। আপনার একটুখানি যত্ন তার পুরো endocrine system heal করে।

একজন পুরুষ কখনোই বুঝতে পারেন না, তার একটি মিষ্টি বাক্য বা সামান্য সহায়তা কিভাবে একজন মেয়ের ব্যথা, মানসিক চাপ, hormonal imbalance—এসবকে মুহূর্তে হালকা করে দেয়।

পুরুষেরা ভালোবাসা প্রকাশে একটু পিছিয়ে থাকে, কিন্তু যখন তারা বোঝে যে তাদের আচরণ একজন নারীকে শুধু emotionally নয়, medically সুস্থ করে—তখন ভালোবাসা তাদের কাছেও দায়িত্ব হয়ে ওঠে। আর একজন পুরুষ যখন সত্যিকারের সঙ্গী হয়ে ওঠে, তখন একজন নারী শুধু relationship-এ সুখী হয় না—তার পুরো শরীর, মন, আত্মা সব সুস্থ হয়ে ওঠে।

ভালোবাসা কোনো luxury নয়—
ওটাই একজন নারীর প্রথম চাওয়া তার প্রিয় মানুষের থেকে।

সংগৃহীত

💔 "আমরা তো এসব করিনি!" — এই কথাটা কি আপনিও শুনেছেন?"আমাদের সময় এত আদিখ্যেতা ছিল না।""এত সাহায্য পেয়েও ক্লান্ত হও?""সার...
26/07/2026

💔 "আমরা তো এসব করিনি!" — এই কথাটা কি আপনিও শুনেছেন?

"আমাদের সময় এত আদিখ্যেতা ছিল না।"

"এত সাহায্য পেয়েও ক্লান্ত হও?"

"সারারাত না ঘুমিয়েও আমরা সব সামলেছি!"

এ ধরনের কথাগুলো অনেক নতুন মায়ের মনে অজান্তেই Mom Guilt তৈরি করে।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন—

অন্যের সংগ্রামকে সম্মান করা আর নিজের কষ্টকে অস্বীকার করা—এক জিনিস নয়। ❤️

আপনার মা বা শাশুড়ি হয়তো সত্যিই অনেক কষ্ট করে সন্তান বড় করেছেন। তাদের সেই ত্যাগ নিঃসন্দেহে সম্মানের।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনাকেও একই কষ্ট সহ্য করেই ভালো মা হতে হবে।

আজ আমাদের হাতে আছে—
✔️ উন্নত চিকিৎসা
✔️ নির্ভরযোগ্য তথ্য
✔️ Supportive parenting-এর ধারণা
✔️ নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার সুযোগ

এসব ব্যবহার করা দুর্বলতা নয়, বরং সচেতনতা।

🌿 এমন মন্তব্য শুনলে কী করবেন?

✅ ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।
অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বলেন। তাই সব মন্তব্য আপনার যোগ্যতার মূল্যায়ন নয়।

✅ অপ্রয়োজনীয় তর্ক এড়িয়ে চলুন।
সব কথার জবাব দিতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।

✅ ভদ্রভাবে নিজের সীমা জানান।
বলতে পারেন—
"আপনার অভিজ্ঞতাকে আমি সম্মান করি। তবে আমাদের পরিস্থিতি ও প্রয়োজন আলাদা।"

✅ মনে রাখুন—Parenting কোনো কষ্টের প্রতিযোগিতা নয়।
লক্ষ্য হলো একটি সুস্থ, নিরাপদ ও ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা শিশু এবং একজন মানসিকভাবে সুস্থ মা।

🌸 শেষ কথা

আগের প্রজন্ম তাদের সময়ে সেরাটা দিয়েছেন।
এখন আপনার দায়িত্ব হলো—আজকের জ্ঞান, সুযোগ ও বাস্তবতার আলোকে আপনার সন্তানের জন্য সেরাটা করা।

🌼 অন্যের ত্যাগকে সম্মান করুন, কিন্তু সেই ত্যাগকে নিজের জন্য বাধ্যতামূলক মানদণ্ড বানাবেন না।

💬 আপনার কাছেও কি এমন কোনো মন্তব্য এসেছে, যা শুনে Mom Guilt হয়েছে? কমেন্টে জানাতে পারেন। অন্য একজন মাও হয়তো আপনার অভিজ্ঞতা থেকে সাহস পাবেন। ❤️

এই আমাদের সময় আমরা সব ঠিক ছিলাম, আর এখন সব ভুল - এই ধারাটা আগেও ছিল, এখনো আছে। 'তুই যে বাচ্চাকে বকছিস, তুই নিজে কী করতিস...
24/07/2026

এই আমাদের সময় আমরা সব ঠিক ছিলাম, আর এখন সব ভুল - এই ধারাটা আগেও ছিল, এখনো আছে।
'তুই যে বাচ্চাকে বকছিস, তুই নিজে কী করতিস ছোটবেলায় মনে আছে?' - এটা তো বাচ্চার দাদু-দিদার কমন ডায়লগ। এই পর্যন্ত তাও ঠিক ছিল, এখন সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া 'ইনফ্লুয়েন্সার'-দের বানী। আমাদের সময় আমরা স্কুল থেকে ফিরে খেলতে যেতাম; আমাদের সময় এসি নিয়ে এত মাতামাতি ছিল না, লোডশেডিং হলে ছাদে শুয়ে থাকতাম; আমাদের সময় মাস্টারমশাই পিটিয়ে চামড়া তুলে দিতেন; আমাদের সময় এত মোবাইল ছিল না বলে ঠিকঠাক বড় হয়েছি!!

মানে এগুলো কেন? একবার ভেবে দেখুন তো, কুড়ি তিরিশ বছরে সময় কতটা এগিয়েছে। আপনার সময় যা করতেন, এখন সেটা সম্ভব না। আপনি গাছের ডাল থেকে পুকুরে ঝাঁপ দিতেন, এখন আপনার বাচ্চাকে ঝাঁপানোর জন্য একটা পুকুর খুঁজে দিন দেখি। যদিও বা খুঁজে পান, তাতে এত এত নোংরার প্যাকেট ফেলা(হয়ত আপনিও দু'একটা ফেলেছেন), যে বাচ্চা জল থেকে উঠলেই গায়ে ৱ্যাশ বেরোনো অবধারিত। আপনি খেলতে যেতেন, কারণ আপনার সময় স্কুল-টাইমের ডিউরেশন হয়ত কম ছিল। এখন বেশিরভাগ বাচ্চার বাবা-মা চাকরি করে বলে তারা ডে-বোর্ডিং স্কুলে পড়ে। স্কুলেই তাদের এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি করানো হয়। এবার সে ন'ঘন্টা স্কুল করে এসে বিকেলবেলা একটু বিশ্রাম নেবে সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সেখানেও সেই কথা - কেন খেলতে যাচ্ছে না!
কটা মাঠ আছে, আর সেখানে কটা বাচ্চা আছে এখন খেলার জন্য?

বাচ্চার কথা ছেড়ে দিলাম, তারা নয় অতটা বোঝে না বা গায়ে মাখে না, এই বানীগুলো বাচ্চার বাবা-মাকে কতটা আঘাত করে ভেবে দেখেছেন? একে প্রথমবার যারা বাবা-মা হন, তারা সবসময় ভয়ে ভয়েই থাকেন যে কিছু ভুল হচ্ছে না তো? বাচ্চাকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে বড় করতে পারছেন তো? এখন চাকরির ধারা বদলেছে, বেশিরভাগ বাচ্চা বাবা-মাকে সকালে টাটা করে স্কুল যায়, আর রাতে ঘুমোনোর আগে তাদের দেখা পায়। তার সারাদিন কাটে দাদু-দিদা বা আয়া মাসির কাছে। সেখানে আপনি বলছেন 'আজকাল বাবা-মায়েদের এই কেরিয়ার কেরিয়ার করে বাচ্চারা একা হয়ে গেল'!

আপনি জানলেনই না যে শুধু বাচ্চার জন্য বাবা-মায়ের কতটা কেরিয়ার স্যাক্রিফাইস আছে। এ শহরে কাজের সুযোগ তেমন নেই জেনেও শুধু ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে কোনোরকমে টিকে থাকার একটা চেষ্টা আছে, কারণ এখানে হয়ত সে তার দাদু-দিদাকে পাচ্ছে, বাইরে গেলে সেটাও পাবে না । বাচ্চাকে সঠিকভাবে বড় করার জন্য দু'জনের চাকরিটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে দরকার, দরকার বাবা-মায়েদের নিজেদের পড়াশোনার মূল্যায়নের জন্যও। কিন্তু সেই অপরাধবোধ নিয়ে অফিস যাওয়া আর ফেরার সময়টুকু আপনাদের চোখে পড়ে, মাঝের খাটুনিটা জানতে পারেন না। আপনারা ভাবেন বাবা-মা বাচ্চাকে স্কুলে পাঠিয়ে অফিসে এসি-তে বসে কফিতে চুমুক দিয়ে পা দোলায়!

এখন এসিটা প্রয়োজনের জায়গায় গেছে। আপনার ছোটবেলায় গরমটা এত অস্বস্তিকর ছিল না। তাই এসি দরকার হচ্ছে।

খুব বিরক্তি থেকে লিখলাম কথাগুলো। হয়ত আমার সঙ্গে অনেকে একমত হবেন, অনেকে হবেন না। তাও বললাম, কারণ একটু অন্যদিকের কথা শোনানোর দরকার ছিল। বাবা-মায়েরা সন্তানের খারাপ চায় না। প্রতিটা সময়, যুগ, পরিস্থিতি আলাদা। সেটা মানতে বা বুঝতে শিখুন। আপনার আলটপকা মন্তব্য কারোর দুঃখের কারণ করবেন না প্লিজ 🙏
(Collected)

পুত্রসন্তানের বিয়ের পর একজন মা-বাবার কী কী সতর্কতা মানা উচিত?অনেকেই শিরোনাম দেখে হয়তো ভাববেন, মা-বাবা আবার কেন সতর্ক থ...
17/07/2026

পুত্রসন্তানের বিয়ের পর একজন মা-বাবার কী কী সতর্কতা মানা উচিত?

অনেকেই শিরোনাম দেখে হয়তো ভাববেন, মা-বাবা আবার কেন সতর্ক থাকবে?
কারণ, বিয়ের পর শুধু ছেলের জীবনই বদলায় না, বদলে যায় একজন মা-বাবার ভূমিকাও। আর সেই পরিবর্তনটা যদি সময়মতো বুঝে নেওয়া যায়, তাহলে অনেক অকারণ অশান্তি, অভিমান আর দূরত্ব এড়ানো সম্ভব।
প্রথম সতর্কতা— ছেলের সংসারকে নিজের সংসারের সম্প্রসারণ ভাববেন না।
ওটা এখন ওদের দু'জনের সংসার। আপনার আশীর্বাদ থাকবে, অভিজ্ঞতা থাকবে, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্তে আপনার মতামত বাধ্যতামূলক হবে— এমন ভাবনা ছেড়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয় সতর্কতা— তুলনা করবেন না।
আমাদের সময় এভাবে হতো..., আমি তো এমন করিনি... অমুকের বউ তো...— এই কথাগুলো অজান্তেই সম্পর্কের মধ্যে দেয়াল তুলে দেয়। প্রতিটি মানুষ আলাদা, প্রতিটি সংসারের নিয়মও আলাদা।
তৃতীয় সতর্কতা— ছেলেকে মাঝখানে দাঁড় করাবেন না।
একদিকে মা, অন্যদিকে স্ত্রী— এই টানাপোড়েন কোনো ছেলের কাছেই সহজ নয়। তাকে বিচারক বানালে সে জিতলেও হারবে, হারলেও হারবে।
চতুর্থ সতর্কতা— বউমাকে পরীক্ষা নয়, সময় দিন।
একটি মেয়ে নিজের বাড়ি, নিজের মানুষ, নিজের অভ্যাস ছেড়ে নতুন পরিবেশে আসে। তাকে নিজের মতো করে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। সম্পর্ক জোর করে তৈরি হয় না, সময় আর ব্যবহারে তৈরি হয়।
পঞ্চম সতর্কতা— ছেলের ভালোবাসা ভাগ হয়ে যায় না।
এটা মনে রাখুন। একজন ছেলে ভালো স্বামী হলেই সে খারাপ ছেলে হয়ে যায় না। আর ভালো ছেলে হতে গিয়ে যদি ভালো স্বামী হতে না পারে, তাহলে তার সংসারই ভেঙে পড়তে পারে।
সবশেষে একটা কথা...
মা-বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো— কখন সামনে দাঁড়াতে হয়, আর কখন এক পা পিছিয়ে থেকে আশীর্বাদ করতে হয়, সেটা বুঝে নেওয়া।
আপনার ছেলেকে এতদিন মানুষ করেছেন নিজের হাতে। এবার তার সংসারটাকেও মানুষ হতে দিন। প্রয়োজন হলে পাশে থাকুন, কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে সামনে নয়।
কারণ, স্নেহ যখন স্বাধীনতার জায়গা দেয়, তখনই সম্পর্ক সবচেয়ে সুন্দর থাকে।🙏
✒️ (Collected)

একটি মেয়ে একটা মজার রিল্স বানিয়েছে "ছেলের মায়েদের" হ্যাটা করে। কেন রে ভাই! "ছেলের মা" হওয়া কি বিশাল অপরাধের ব্যাপার?...
27/06/2026

একটি মেয়ে একটা মজার রিল্স বানিয়েছে "ছেলের মায়েদের" হ্যাটা করে। কেন রে ভাই! "ছেলের মা" হওয়া কি বিশাল অপরাধের ব্যাপার?
বিষয়: একটা ভিডিওতে ছেলের বিয়ের সময়ে তার মা কাঁদছে কেন? কেউ কেউ বলছে ছেলে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে কিনা সেই ভয়ে। কেউ বলছে সংসার বৌমা কব্জা করে নেবে সেই ভয়ে। মানে প্রথম থেকেই শাশুড়ি চরিত্রটিকে বিকৃত করে দেওয়া হচ্ছে। কারা করছে? অবশ্যই মেয়েরা। কারণ লক্ষ্য করে দেখেছি ছেলেরা কখনোই এসব বিষয়ে ভিডিও বা মিমস্ বানায় না আর কমেন্টও করতে আসে না। একজন মেয়ে হয়েই বলছি এই কূটকচালীগুলো মেয়েদেরই স্বভাব।
অন্য একজনের পোস্টের কমেন্ট বক্সে গিয়ে জনে জনে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয় তাই এখানে পরিষ্কার করে কিছু কথা বলতে চাই।
আচ্ছা ছেলের মায়েরা কি মা নয়? তারা কি রোবট? তাদের কি মন থাকতে নেই? সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে হোক যুগ যুগান্তর ধরে মা তার যথা সর্বস্ব দিয়ে সন্তানকে মানুষ করে। সন্তান প্রতিপালনে মায়ের ত্যাগ সব থেকে বেশি হয়। আমি একজন ৮৫ বছর বয়সী মাকেও দেখেছি যে তার ৬৫ বছর বয়সী সন্তানকে বকা দেয় ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়ার জন্য। অর্থাৎ মা তো মা হয়। ছেলের মা মেয়ের মা আলাদা কিছু হয় কি?
তাহলে জিজ্ঞাসা করি মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সময় মেয়ের মায়েরা অত কাঁদে কেন? অতই যদি কষ্ট হচ্ছে তাহলে মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছে কেন? অন্যের বাড়ি পাঠাতেই হবে কেউতো মাথার দিব্যি দেয়নি। সত্যিই কি মেয়েরা বিয়ের পরে পর হয়ে যায়? আর যদি পর হয়ে যায় তাহলে সেখানে সন্তানের শিক্ষা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকে যায়।
আসলে সন্তান মায়ের কাছে একটা আবেগ। সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার ৯ মাস আগে তার মা প্রথম অনুভব করে সেই সন্তানকে নিজের জঠরে। সেই তখন থেকে মায়ের চিন্তা শুধু সন্তানকে ঘিরে। সন্তান নড়াচড়া করছে তো? সন্তান পুষ্টি পাচ্ছে তো? আজকে লাথি মারলো না কেন? এখন পেটের কোন দিকে আছে ডানদিকে না বাঁদিকে? কতটা বড় হলো কে জানে? ...
এগুলোকি শুধুই দায়িত্ব? আবেগ নয় ?
লক্ষ্য করলে দেখবেন একজন বাবা সন্তানের বড় হওয়া, তার ক্যারিয়ার, পড়াশোনা , সফলতার দিকে নজর দেয় বেশি যেখানে একজন মা সারাদিন শুধু এটাই ভাবে ঠিকঠাক পুষ্টি পাচ্ছে কিনা? শরীর খারাপ হলো কিনা? আসলে এটাই নাড়ির টান। সেই জাইগোট অবস্থা থেকেই মায়ের শরীরে সন্তানকে ঘিরে একটা ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যায়। অনেক কষ্ট করে একটা চারা গাছকে বড় করে তোলে। তারপর কখন সেই গাছটা স্বাবলম্বী হয়ে যায় এবং সে নিজেই একটা সংসার পাতার জন্য প্রস্তুত হয়। তখন পুরনো শিকড়গুলো অবশ্যই আলগা হয় আর সেটা সবার আগে টের পায় সেই জননী। এটা "অধিকার হারানোর ভয়" নয় এটা একটা অধ্যায় ও অভ্যাস বদলে যাওয়ার অনুভূতি। মেয়ের মাও যেমন জানে মেয়ের নতুন সংসার পাতার পর আর ঘন ঘন মাকে কল করবে না, নতুন লোকজন পরিবার, নতুন সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে ঠিক তেমনি ছেলের মাও জানে ছেলে তার পরিবার থেকে বেরিয়ে এবার নিজের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু মায়ের মন তো তখনও তার সন্তানকেই ঘিরে থাকবে। হয়তো বেশি বহিঃপ্রকাশ করতে পারবে না সংসারের শান্তির জন্য। একজন সুস্থ মা চান তার সন্তান সুখী হোক। কিন্তু সেই সুখের মধ্যেও কিছুটা আবেগ, কিছুটা শূন্যতা, কিছুটা অনিশ্চয়তা এবং অনেক স্মৃতি মিশে থাকে। এটাই মানুষের স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব।

তাই যে কারণে একজন মেয়ের মা কাঁদে সেই কারণেই ছেলের মা কাঁদে। একটা চরিত্রকে গ্লোরিফাই করতে গিয়ে অন্যটিকে পাঁকে পুঁতে দিতে হবে কেন? অন্যকে হিউমিলিয়েট করে memes reels না বানিয়ে ওই সময় একটু হিউমান সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করো, শুধু চোখ দিয়ে না দেখে মনের আর মাথারও একটু ব্যবহার করো তাহলেই সবটা জলের মতো পরিষ্কার।

#সংগৃহীত

"মা বকেছে,মা পচা!""মাকে মেরে দেব!""মায়ের সাথে কথা বলবে না!"এই কথাগুলো যারা বলেন, তারা হয়তো ভাবেন খুব আদর করছেন- বাচ্চা...
25/06/2026

"মা বকেছে,মা পচা!"
"মাকে মেরে দেব!"
"মায়ের সাথে কথা বলবে না!"
এই কথাগুলো যারা বলেন, তারা হয়তো ভাবেন খুব আদর করছেন- বাচ্চার চোখে একদম হিরো হয়ে উঠেছেন 😒

আসলে তারা অজান্তেই একটি শিশুর মনে তার সবচেয়ে নিরাপদ মানুষটাকেই ছোট করে দিচ্ছেন।

একটা কথা মনে রাখবেন...
যে মা সারাদিন খাওয়ায়,স্নান করায়, রাত জেগে থাকে, ওষুধ খাওয়ায়, বিপদ থেকে বাঁচায়, দরকার হলে বকেও...
তার সম্মান, মর্যাদা, বাচ্চার মনে ও জীবনে সেই মায়ের সর্বোচ্চ স্থান নষ্ট করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?‼️😡

বাচ্চা একটু কাঁদলেই—
"মা খারাপ!"
"এসো, চকলেট দিই।"
"এই নাও মোবাইল, কার্টুন দেখো।"
এটা ভালোবাসা নয়।

এটা মাকে ভিলেন বানিয়ে নিজের জন্য বাহবা কুড়ানোর চেষ্টা।

যে মানুষটা সারাদিন নিয়ম শেখায়, আপনি এক মিনিটে তাকে খারাপ বানিয়ে দিলেন!

তারপর আবার বড় হয়ে যদি বাচ্চা কারও কথা না শোনে, মোবাইল ছাড়া না থাকে, জাঙ্ক ফুড ছাড়া না খায়—ত!খন সেই মাকেই দোষ দেবেন? ঠিক তো

মনে রাখবেন, শিশুর সামনে মা-বাবাকে ছোট করা কোনো মজা নয়। এটা খুবই দায়িত্বহীন আচরণ।

ভালোবাসতে চাইলে বলুন—
"মা তোমার ভালোর জন্যই বকেছে। এসো, আমরা মায়ের কাছে যাই।"
এতেই শিশুও শান্ত হবে, মায়ের মর্যাদাও অটুট থাকবে।

একটা শিশুকে ভালোবাসতে গিয়ে, তার মাকে ছোট করবেন না।
কারণ, যে সন্তান তার মাকে সম্মান করতে শেখে না, সে বড় হয়ে কাউকেই সত্যিকারের সম্মান করতে শেখে না।

👩‍❤️‍💋‍👨সন্তান বনাম 💼 চাকরি — নারী হিসেবে আসলে আমাদের জন্য কোনটা আগে?মা হওয়া মানে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তৈরি হওয়া।আর একজন...
24/06/2026

👩‍❤️‍💋‍👨সন্তান বনাম 💼 চাকরি — নারী হিসেবে আসলে আমাদের জন্য কোনটা আগে?

মা হওয়া মানে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে তৈরি হওয়া।
আর একজন কর্মজীবী নারী হওয়া মানে—নিজেকে ধরে রাখা, নিজের পরিচয়টাকে সময়ের সঙ্গে গড়ে তোলা।

কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমাদের সামনে এই দুইটা অপশন একসাথে আসে না।
আসে একটা কঠিন প্রশ্ন নিয়ে—
“সন্তান নাকি চাকরি?”

তবে একটা কথা সবসময় মনে রাখার মতো:

চাকরি মানে শুধু টাকা নয়। চাকরি মানে নিরাপত্তা, সম্মান, নিজের অস্তিত্ব।
আর সেই নিরাপত্তা একদিন আপনার সন্তানকেও আগলে রাখবে।

অনেক নারীই মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন—কারণ সামাজিক চাপ, অপরাধবোধ বা সময় মেলাতে না পারা।
কিন্তু আপনি যদি পারেন—চেষ্টা করুন চাকরি ধরে রাখতে।

না, আপনি খারাপ মা হবেন না।
আপনি দায়িত্বহীনও নন।

বরং আপনি এমন একজন মা হবেন,
যে নিজের পরিচয় ধরে রেখেও সন্তানের জন্য ভালো উদাহরণ হয়ে উঠবেন।

একদিন আপনার সন্তান আপনাকে দেখে বুঝবে—
“আমার মা শুধু আমাকে বড় করেনি, নিজেকেও গড়েছে।”

🎈🎈 আপনার চাকরি আপনাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন রাখে।
🔹🎈 আপনাকে কারো উপর নির্ভরশীল হতে হয় না।
🔹🎈 নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন।
🔹🎈 দাম্পত্য সম্পর্কেও থাকে এক ধরনের ভারসাম্য ও সম্মান।

হ্যাঁ, সবসময় সহজ হবে না।
ক্লান্ত লাগবে, মাঝে মাঝে হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত—আপনার সেই ছোট্ট ডেস্কটা, ছোট্ট পরিচয় কার্ডটা, মাস শেষে আপনার অর্জিত সেই বেতনটাই আপনার আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলবে।

আপনার সন্তান আপনার ভালোবাসা পাবে,
আর আপনার চাকরি আপনার শক্তি হয়ে পাশে থাকবে।

সন্তান আর চাকরি—এই দুইয়ের মাঝে যুদ্ধ নয়, দরকার বোঝাপড়া।

একজন মা হিসেবে আপনি সর্বোচ্চটা দেন।
একজন নারী হিসেবে, নিজের স্বপ্নটাও আপনার প্রাপ্য।

আপনি পিছিয়ে নেই।
আপনি একা নন।

চেষ্টা করুন—নিজের পথটা নিজেই গড়ে তুলতে।
আর কখনোই নিজের চাকরি বা স্বপ্নটাকে “বিকল্প” ভাববেন না।

কারণ আপনি শুধু কারো মা নন—আপনি নিজেও একজন “পুরো মানুষ”।

আর আজকের এই আধুনিক যুগে চাকরি মানে শুধু অফিসে গিয়ে ৯টা-৫টা করা নয়।

🎈🔹 আপনি চাইলে রিমোট জব করতে পারেন—ঘরে বসেই সময় মতো কাজ করে ও সন্তানকে সময় দিয়েও নিজের পরিচয় বজায় রাখা সম্ভব।

🎈🔹 আবার কেউ চাইলে অনলাইন বিজনেস শুরু করতে পারেন—নিজের শখ, দক্ষতা বা আগ্রহকে পেশায় রূপ দিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ।

🎈🎈প্রযুক্তি এখন নারীদের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে। আপনাকে শুধু নিজের জায়গাটা খুঁজে নিতে হবে। আর আপনার সন্তান ঠিকই এক সময় বড় হয়ে যাবে, তার আলাদা জগৎ তৈরি হবে।
তখন যদি আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে আপনার ভেতরের খালি জায়গাটা আপনি নিজেও পূরণ করতে পারবেন না।

প্রাচীন ভারতীয় মূল্যবোধ বনাম পশ্চিমী অনুকরণ:হর্নিট স্কুল হোক বা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ — বিলাসবহুল ঘর থেকে টাকার বান্ডিল আর ক...
12/06/2026

প্রাচীন ভারতীয় মূল্যবোধ বনাম পশ্চিমী অনুকরণ:

হর্নিট স্কুল হোক বা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ — বিলাসবহুল ঘর থেকে টাকার বান্ডিল আর কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধার হওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এটা একটা প্যাটার্ন। একটা সংক্রমণ। যার উৎস হল তথাকথিত ‘যাদবপুর কালচার’। হ্যাঁ, যাদবপুর। নামটা নিতেই একদল রে রে করে উঠবে। বলবে ‘জেনারালাইজ করবেন না’। কিন্তু তেতো সত্যিটা হল, গত দুই দশকে এই একটা ক্যাম্পাস থেকেই ‘মদ খাও, গাঁজা টানো, অবাধ যৌনতাই স্বাধীনতা’ — এই বিষবৃক্ষের চারা গোটা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়েছে। এটা আর ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ নেই, এটা এখন ‘ক্যাম্পাস পলিটিক্স’। ছাত্র ইউনিয়নের নির্বাচন জিততে হলে আপনাকে ‘প্রগতিশীল’ হতে হবে, আর ‘প্রগতিশীল’ হওয়ার শর্টকাট হল নেশা আর যৌনতাকে ‘বিপ্লব’ বলে চালানো।

এই কালচারের সবচেয়ে বড় শিকার কারা? জেন-জি। গ্রাম থেকে উঠে আসা প্রথম জেনারেশনের কলেজ পড়ুয়া। যে ছেলেটা বাবার ঘাম-রক্তের টাকায় শহরে পড়তে এসেছে, তাকে প্রথম দিনেই বোঝানো হয় — ‘ব্রো, সেকেলে মানসিকতা ছাড়। বিয়ে, পরিবার, সংযম — এগুলো RSS-এর প্রোপাগান্ডা। আসল মজা হল লিভ-ইন, হুক-আপ, পলিএমরি’। ফল কী হচ্ছে? বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে প্রথম বর্ষেই বহু ছাত্র ড্রপ-আউট হচ্ছে ড্রাগ, ডিপ্রেশন আর সম্পর্কের জটিলতায়। NCRB-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ১৮-৩০ বছর বয়সী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর দায় কে নেবে? যে অধ্যাপকরা ক্লাসে ‘ব্রেক দ্য ট্যাবু’ পড়ান, তারা? যে ছাত্রনেতারা ফ্রেশার্সে বিয়ারের ক্যান তুলে দেন, তারা?

এখনই সময় এই ‘যাদবপুর মডেল’-কে ‘ছাত্র কালচার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া রুখে দেওয়ার। কারণ এটা সংস্কৃতি না, এটা অপসংস্কৃতি। এটা স্বাধীনতা না, এটা স্বেচ্ছাচারিতা। সংস্কৃতি মানে নালন্দা, যেখানে রাত দুটো পর্যন্ত মোমের আলোয় শাস্ত্রচর্চা হত। সংস্কৃতি মানে তক্ষশীলা, যেখানে চাণক্য অর্থশাস্ত্র লিখতেন আর চন্দ্রগুপ্ত যুদ্ধবিদ্যা শিখতেন। সংস্কৃতি মানে কাশী, যেখানে ঘাটে বসে ব্যাকরণ আর জ্যোতিষের তর্ক চলত। আমাদের অনুকরণ করতে হবে সেই সংস্কৃতিকে। আমাদের আইকন হবে শঙ্করাচার্য, যিনি ৮ বছর বয়সে বেদ মুখস্থ করেছিলেন, ১৬ বছরে ভাষ্য লিখেছিলেন। আমাদের আইকন হবে নিবেদিতা, যিনি ভোগের জীবন ছেড়ে ভারতের সেবায় প্রাণ দিলেন। মদ-গাঁজা-যৌনতা খেয়ে বিপ্লব হয় না, বিপ্লব হয় ত্যাগে, তপস্যায়, চরিত্রে।

আমাদের বলা হয়, ‘সনাতন ধর্ম আঁকড়ে থাকলেই আমরা পিছিয়ে যাব’। এই মিথ্যাটা এবার ভাঙতে হবে। কারণ ইতিহাস বলছে ঠিক উল্টো কথা। বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়? তক্ষশীলা, নালন্দা, বিক্রমশীলা, ওদন্তপুরী, বল্লভী, নাদিয়া — সব ভারতে। খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ সাল থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গোটা এশিয়ার ছাত্ররা ভারতে পড়তে আসত। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং লিখেছেন, নালন্দায় ১০,০০০ ছাত্র আর ১,৫১০-এর বেশি আচার্য ছিলেন। লক্ষাধিক পুঁথির লাইব্রেরি ছিল ‘ধর্মগঞ্জ’ নামে, যা তিনটি বহুতলে ভাগ করা ছিল — রত্নসাগর, রত্নদধি, রত্নরঞ্জক। বিষয় কী পড়ানো হত? বেদ, হেতুবিদ্যা, শব্দবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, যোগশাস্ত্র, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, রাজনীতি, যুদ্ধবিদ্যা। এই ছিল ‘সনাতনী’ শিক্ষাব্যবস্থা। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ তখন জন্মায়নি।

কিন্তু আমরা পিছোলাম কখন? বখতিয়ার খিলজি নালন্দা পোড়ানোর পরেও না। আসল সর্বনাশ শুরু হল ১৮৩৫ সালে, টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলের হাত ধরে। ২রা ফেব্রুয়ারি, ১৮৩৫ — ম্যাকলে মিনিট। সেখানে স্পষ্ট লেখা হল — ‘We must do our best to form a class who may be interpreters between us and the millions whom we govern; a class of persons, Indian in blood and colour, but English in taste, in opinions, in morals, and in intellect’। অর্থাৎ এমন একটা ভারতীয় শ্রেণি তৈরি করতে হবে যারা গায়ের রঙে ভারতীয়, কিন্তু রুচি, মতামত, নীতি, বুদ্ধিতে পুরো সাহেব। তার আগে ধরমপাল-এর "The Beautiful Tree" বইয়ে ব্রিটিশ কালেক্টরদের সার্ভে রিপোর্ট বলছে, ১৮০০ সালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে গ্রামে গ্রামে গুরুকুল ছিল, সাক্ষরতার হার ছিল ৯৭%। শূদ্ররাও সংস্কৃত, জ্যোতিষ, আয়ুর্বেদ পড়ত। ম্যাকলে সেই সিস্টেমটাকে ‘সেকেলে’ বলে গলা টিপে মারল। চালু করল কেরানি তৈরির কারখানা। ইতিহাস বইয়ে পড়ানো হল — ‘আর্যরা বাইরে থেকে এসেছিল’, ‘ভারত চিরকাল কুসংস্কারাচ্ছন্ন’। নিজের ভাষা, নিজের বিজ্ঞান, নিজের চিকিৎসা — সব ‘সিউডো সায়েন্স’। ফলে আমরা নিজেরাই নিজেদের ঘৃণা করতে শিখলাম। আজকের ‘যাদবপুর কালচার’, আজকের ‘লিভ-ইনই আধুনিকতা’ — এগুলো সেই ম্যাকলে প্রজেক্টেরই ফসল। ২০০ বছর ধরে আমাদের মগজ ধোলাই করে বোঝানো হয়েছে — পশ্চিমী যা কিছু, তাই উন্নত। আর ভারতীয় যা কিছু, তাই গোঁড়ামি।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা বলবেন? সুশ্রুত সংহিতা দেখুন। ২৬০০ বছর আগে সুশ্রুত ৩০০ রকম অস্ত্রোপচার পদ্ধতি লিখে গেছেন। প্লাস্টিক সার্জারি, ছানি কাটানো, সিজারিয়ান, কিডনি স্টোন বের করা, প্রস্থেটিক লিম্ব বানানো — সব আছে। তাঁর শিষ্যদের আগে লাউ, কুমড়ো, মৃত পশুর ওপর হাত পাকাতে হত। চরক সংহিতায় ১০,০০০ হার্বাল ফর্মুলা আছে। ‘চরক শপথ’ আজও বিশ্বের মেডিকেল এথিক্সের ভিত্তি। হিপোক্রেটিক ওথ তার অনেক পরে এসেছে। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য — ‘দিনচর্যা’, ‘ঋতুচর্যা’, ‘আহার-বিহার’ — ছিল মূল কথা। রোগ হওয়ার আগেই আটকাও। আর আজ আমরা কী করছি? পিৎজা-বার্গার খেয়ে ডায়াবেটিস বাঁধিয়ে তারপর ইনসুলিন নিচ্ছি। এটাই কি আধুনিকতা?

এবার আসি খাজুরাহো প্রসঙ্গে। ‘প্রগতিশীল’ মহল খাজুরাহোকে ব্যবহার করে বলে — ‘দেখো, প্রাচীন ভারতে কত মুক্ত যৌনতা ছিল’। ডাহা মিথ্যা। খাজুরাহো কোনো ‘সেক্স মন্দির’ না। ১০০০ বছর আগে চান্দেল রাজারা ৮৫টি মন্দির বানিয়েছিলেন, তার মধ্যে মাত্র ২৫টি টিকে আছে। এই মন্দিরের দেওয়ালের ১০%-এরও কম ভাস্কর্য মৈথুনরত। বাকি ৯০%? দেব-দেবী, যুদ্ধ, নৃত্য, সংগীত, গার্হস্থ্য জীবন, রাজসভা। তাহলে ১০% দেখিয়ে গোটা সভ্যতাকে ‘কামুক’ বলা কোন ধরনের অসততা? আসল দর্শনটা কী? মন্দিরের বাইরের দেওয়ালে কাম আছে, ভেতরে গর্ভগৃহে ঈশ্বর। অর্থাৎ কাম হল জীবনের প্রথম ধাপ। তাকে অস্বীকার কোরো না, কিন্তু তাতেই আটকে থেকো না। কাম থেকে প্রেম, প্রেম থেকে ভক্তি, ভক্তি থেকে মোক্ষ — এটাই যাত্রা। খাজুরাহো আমাদের শেখায় ‘সেক্স’ না, শেখায় ‘সাবলিমেশন’। ভোগকে কীভাবে যোগে রূপান্তরিত করতে হয়। আজকের ‘হুক-আপ কালচার’ কি সেটা শেখায়? না। ওরা শেখায় ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’।

আমাদের পূর্বপুরুষরা কত আধুনিক ছিলেন, তার প্রমাণ খাজুরাহোর নগর পরিকল্পনায়। মন্দিরগুলো বাস্তুশাস্ত্র মেনে তৈরি। সূর্যের প্রথম আলো গর্ভগৃহে পড়ে। পাথরে পাথরে জোড়া লাগানো, কোনো সিমেন্ট নেই, তবু ১০০০ বছর দাঁড়িয়ে আছে ভূমিকম্প, বন্যা সহ্য করে। ভাস্কর্যের ডিটেইলিং দেখো — নারীর চুলের বেণী, গয়নার নকশা, কাপড়ের ভাঁজ — যেন জীবন্ত। এরোপ্লেন আবিষ্কারের হাজার বছর আগে মন্দিরের গায়ে ‘বিমান’ খোদাই করা আছে। এটা কি পিছিয়ে থাকা সভ্যতার লক্ষণ? যারা খাজুরাহো বানাতে পারে, তারা ‘অসভ্য’? নাকি যারা সেই ঐতিহ্য ভুলে পাবে মদ খেয়ে মাতলামি করাকে ‘কালচার’ বলছে, তারা অসভ্য?

তাই ন্যারেটিভটা পরিষ্কার করতে হবে। প্রথমত, যাদবপুরের একটা অংশের উচ্ছৃঙ্খলতা গোটা বাংলার ছাত্রসমাজের পরিচয় না। IIT খড়গপুরের ছাত্ররা রকেট বানাচ্ছে, প্রেসিডেন্সির ছাত্ররা UPSC তে ভালো ফল করছে, মেডিকেলের ছেলেমেয়েরা গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্য শিবির করছে।প্রকৃত বাংলা একেই বলা হয়। এদের সামনে আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রগতি মানে পশ্চিমের নকল না। প্রগতি মানে নিজের শিকড়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বজয় করা। ইসরায়েল যেমন হিব্রু আর তোরাহ ছাড়েনি, জাপান যেমন কিমোনো আর সামুরাই স্পিরিট ছাড়েনি, আমাদেরও তেমনি গীতা আর গায়ত্রী ছাড়লে চলবে না। তৃতীয়ত, যৌনতা ট্যাবু না, কিন্তু লাগামছাড়া ভোগও না। কাম, অর্থ, ধর্ম, মোক্ষ — চারটে একসাথে চলবে। বিবাহ প্রথা, যৌথ পরিবার, গুরু-শিষ্য পরম্পরা — এগুলোই আমাদের ‘সোশ্যাল ইমিউনিটি’।শেষ কথা, আমাদের নতুন প্রজন্মকে বেছে নিতে হবে — তারা কি ‘বিয়ার বং’ হতে চায়, নাকি ‘ভারতীয়’ হতে চায়? তারা কি ‘হুক-আপ’ জেনারেশন হবে, নাকি ‘স্টার্ট-আপ’ জেনারেশন হবে? তারা কি ডিপ্রেশনের ওষুধ খাবে, নাকি গীতার শ্লোক আওড়াবে? উত্তরটা যদি ‘ভারতীয়’ হয়, তাহলে এখনই লড়াই শুরু করতে হবে। ক্লাসরুমে, ক্যান্টিনে, সোশ্যাল মিডিয়ায় — সর্বত্র। চিৎকার করে বলতে হবে — ‘আমাদের আদর্শ সুশ্রুত, চরক, আর্যভট্ট, চাণক্য, বিবেকানন্দ। আমাদের আদর্শ কোনো নেশাখোর, চরিত্রহীন তথাকথিত বিপ্লবী না’। কারণ সভ্যতা বাঁচে আদর্শে, ভোগে না। আর ভারতীয় সভ্যতা ৫০০০ বছর ধরে বেঁচে আছে, আগামী ৫০০০ বছরও বাঁচবে — যদি আমরা জেগে উঠি।

যাদবপুর মানে শুধু মিছিল, মদ আর অবাধ যৌনতা না — এই অর্ধসত্যটাই সবচেয়ে বড় মিথ্যা। মিডিয়ার ক্যামেরা আর রাজনীতির মাইক সবসময় ক্যাম্পাসের ওই ৫% ছেলেমেয়ের দিকে ঘোরে যারা ‘আজাদি’ স্লোগানকে ‘উচ্ছৃঙ্খলতা’র লাইসেন্স বানিয়েছে। অথচ যাদবপুরের ল্যাবে রাত ৩টে পর্যন্ত যে মেয়েটা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর কোড লিখছে, যে ছেলেটা ISRO-র জন্য লো-কস্ট স্যাটেলাইট মডেল বানিয়ে NASA-র কনফারেন্সে পেপার প্রেজেন্ট করছে, যে টিমটা গ্রামের জন্য আর্সেনিক ফিল্টার আবিষ্কার করে পেটেন্ট পাচ্ছে — তাদের খবর কাগজের ভিতরের পাতাতেও জায়গা পায় না। NIRF র‍্যাঙ্কিং-এ যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং-এ টানা ৫ বছর প্রথম ১০-এ। সিভিল সার্ভিস, GATE, CAT — সব পরীক্ষায় যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা প্রথম সারিতে। কিন্তু ‘প্রগতিশীল’ তকমা বেচতে সুবিধা হয় কাদের দিয়ে? তাদের দিয়ে, যারা ক্যাম্পাসকে ‘ফ্রি সেক্স জোন’ বানানোর স্বপ্ন দেখে। ফলে মেধা চাপা পড়ে যায়, আর ‘ভোগই বিপ্লব’ — এই ন্যারেটিভটা হেডলাইন হয়। এটা পরিকল্পিত। কারণ মেধাবী, দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ জেগে উঠলে অনেকের রাজনীতির দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।

এই ন্যারেটিভ-সন্ত্রাসের আসল উদ্দেশ্য হল পরিবার প্রথাটাকে ধ্বংস করা। কারণ পরিবারই হল ভারতীয় সভ্যতার শেষ বাঙ্কার। পরিবার ভাঙতে পারলেই ব্যক্তি রাষ্ট্র আর বাজারের দাসে পরিণত হবে। আর পরিবার ভাঙার সবচেয়ে মসৃণ অস্ত্র হল ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপ’। শুনতে খুব আধুনিক, খুব ‘চয়েস’। বলা হয় — ‘দুটো অ্যাডাল্ট মানুষ নিজেদের ইচ্ছায় থাকবে, ক্ষতি কী?’ ক্ষতিটা বোঝা যায় যখন সম্পর্ক ভাঙে। বিবাহ একটা সামাজিক, ধর্মীয় ও আইনি চুক্তি। সেখানে স্ত্রীর ভরণপোষণ, সন্তানের অধিকার, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বৃদ্ধ বয়সের দায়িত্ব — সব আইন দিয়ে বাঁধা। Hindu Marriage Act, 1955 থেকে Domestic Violence Act, 2005 — মেয়েদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু লিভ-ইন? সুপ্রিম কোর্ট ‘ইন্দ্রা শর্মা বনাম ভি কে ভি শর্মা’ মামলায় স্পষ্ট বলেছে — লিভ-ইন মানেই বিবাহের সমান অধিকার না। ‘পার্টনার’ হঠাৎ একদিন ‘আমি তোমাকে চিনি না’ বলে বেরিয়ে গেলে মেয়েটির কাছে কোনো আইনি রক্ষাকবচ নেই। ‘ভরণপোষণ’ চাইতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে সম্পর্কটা ‘নেচার অফ ম্যারেজ’-এর মতো ছিল। কত বছর, কতটা নির্ভরশীলতা, সামাজিক স্বীকৃতি — এইসব জটিল শর্ত।

তার চেয়েও ভয়ঙ্কর হল সন্তানের ভবিষ্যৎ। লিভ-ইন থেকে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় নিয়ে মামলা লড়তে লড়তে জীবন কেটে যায়। DNA টেস্ট, আদালত, উকিল — শিশুটা বড় হয় ‘অবৈধ’ তকমা নিয়ে। UNICEF-এর ‘State of the World’s Children’ রিপোর্ট বলছে, সিঙ্গেল প্যারেন্টের ঘরে বড় হওয়া শিশুদের অপুষ্টি, স্কুলছুট, শিশুশ্রম, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেশি। আমেরিকার স্বাস্থ্য দফতরের সমীক্ষা অনুযায়ী, পিতৃহীন ঘরের মেয়েদের টিনএজ প্রেগন্যান্সি আর ছেলেদের ক্রাইমে জড়ানোর হার কয়েক গুণ বেশি। এটা কি ‘প্রগতি’? নাকি একটা গোটা প্রজন্মকে মানসিক ও সামাজিক অনাথ বানানোর প্রজেক্ট? বিবাহ প্রথা হাজার বছরের সামাজিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একটা ইনস্টিটিউশন। তার বিকল্প হিসেবে ‘লিভ-ইন’ নামক যে খেলনা বাজারে ছাড়া হয়েছে, সেটা টেকে না। ভেঙে যায়। আর ভাঙার শব্দটা সবচেয়ে জোরে বাজে মেয়েদের জীবনেই।

লিভ-ইনের আড়ালে চলছে বিশাল ‘লিগ্যাল-এক্সপ্লয়টেশন ইন্ডাস্ট্রি’। ডিভোর্স উকিল, কাউন্সেলর, মেন্টাল হেলথ ক্লিনিক, ডেটিং অ্যাপ — সবাই জানে সম্পর্ক ভাঙলেই ব্যবসা বাড়বে। তাই ‘কমিটমেন্ট ইজ ওভাররেটেড’, ‘ইউ অনলি লিভ ওয়ান্স’ — এই ডোপামিন-ডোজগুলো সারাদিন গেলানো হয়। আপনাকে বলা হয় না যে ব্রেক-আপের পর অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টের স্ক্রিপশন অনেক বেড়ে যায়। আপনাকে বলা হয় না যে ক্যাজুয়াল সেক্সের পর ‘পোস্ট-কয়টাল ডিসফোরিয়া’ নামক হতাশা একটা মেডিকেল টার্ম। আপনাকে শুধু বলা হয় ‘এনজয়’। কারণ আপনার দুঃখ, আপনার একাকিত্ব, আপনার শূন্যতা — এগুলোই হল মডার্ন ক্যাপিটালিজমের কাঁচামাল। পরিবার থাকলে আপনি কম খরচ করেন, কম ওষুধ খান, কম থেরাপিতে যান। তাই পরিবার শত্রু।

অথচ আমাদের শাস্ত্র, আমাদের বিজ্ঞান, আমাদের সমাজ — সবাই একসাথে বলছে যে পরিবার মানেই শক্তি। চরক সংহিতায় ‘গর্ভসংস্কার’-এর কথা আছে — মানে সন্তান পেটে আসার আগে থেকেই মা-বাবার মানসিক প্রস্তুতি, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস ঠিক করতে হবে। কারণ শিশু শুধু জিন নেয় না, সংস্কারও নেয়। যৌথ পরিবারে শিশু শুধু মা-বাবাকে দেখে না, ঠাকুমার গল্প, দাদুর নীতিকথা, পিসির স্নেহ, কাকার শাসন — সব পায়। হার্ভার্ড গ্র্যান্ট স্টাডি ৮০ বছর ধরে মানুষকে ফলো করে দেখিয়েছে — জীবনের শেষে সুখী তারাই, যাদের ‘ওয়ার্ম রিলেশনশিপ’ ছিল। টাকা, খ্যাতি, আইকিউ না — সম্পর্কই আসল। আর সেই সম্পর্কের প্রথম পাঠশালা হল পরিবার। লিভ-ইন সেই পাঠশালা ভেঙে দিয়ে ‘কোচিং সেন্টার’ বানাতে চায় — যেখানে আজ আছি, কাল নেই।

আর এই যে বলা হচ্ছে ‘পরিবার তন্ত্র ধ্বংস না করলে প্রগতি হবে না’ — এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধাপ্পা। তথ্য দেখুন। UN-এর World Happiness Report টানা ৭ বছর ধরে বলছে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড। তারপর ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে। এদের কমন কী? শক্তিশালী পরিবার ও কমিউনিটি বন্ডিং। ফিনল্যান্ডে ৭০%-এর বেশি শিশু মা-বাবা দুজনের সাথেই থাকে। ‘নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি’ আছে, কিন্তু ‘ভাঙা পরিবার’ নেই। ওদের কাছে ‘ফ্যামিলি ডিনার’ একটা রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি। ডেনমার্কে ‘হুগা’ নামে একটা কনসেপ্ট আছে — মানে পরিবারের সাথে সময় কাটানো, একসাথে রান্না করা, গল্প করা। এটাই ওদের সুখের চাবিকাঠি। ইসরায়েলকে দেখুন। চারদিকে যুদ্ধ, মরুভূমি, জল নেই। তবু স্টার্ট-আপ নেশনে বিশ্বে এক নম্বর। কেন? কারণ ওদের ‘শাব্বাত’ আছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা — গোটা দেশের ফোন সাইলেন্ট, দোকান বন্ধ, পরিবারের সবাই এক টেবিলে। তোরাহ বলছে ‘Honour thy father and thy mother’। ওরা সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। জাপানকে দেখে শিখুন । টেকনোলজিতে বিশ্বগুরু। আবার সবচেয়ে কম ডিভোর্স রেট। কেন? কারণ ওখানে ‘Ie’ সিস্টেম — পরিবারই সমাজের মূল একক। দাদু-ঠাকুমা, বাবা-মা, সন্তান — তিন পুরুষ এক ছাদের নিচে। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া — যারা ৫০ বছরে গরিব থেকে ধনী হয়েছে — তাদের সরকারি পলিসিই হল ‘ফ্যামিলি ফার্স্ট’। HDB ফ্ল্যাটে বিবাহিতরা অগ্রাধিকার পায়, বয়স্ক বাবা-মাকে সাথে রাখলে ট্যাক্সে ছাড়। আর আমেরিকা? যেখানে ১৯৬০ সাল থেকে ‘সেক্সুয়াল রেভোলিউশন’-এর নামে পরিবার ভাঙা শুরু হল, সেখানে আজ কী অবস্থা? ৪০% শিশু বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জন্মায়। ওপিওয়েড মহামারীতে বছরে ৮০,০০০ মানুষ মরে। ‘মিনিস্ট্রি অফ লোনলিনেস’ খুলতে হয়েছে। এটাই কি প্রগতি? তথ্য চিৎকার করে বলছে — পরিবার ভাঙলে দেশ ভাঙে। পরিবার টিকলে দেশ টেকে। তাই ‘পরিবার তন্ত্র ধ্বংস করো’ — এটা প্রগতির ফর্মুলা না, এটা সভ্যতা ধ্বংসের ব্লু-প্রিন্ট। পশ্চিমের যে দেশগুলো আজও টিকে আছে, সুখী আছে, শক্তিশালী আছে — তারা পরিবার ছাড়েনি। আর যারা ছেড়েছে, তারা ডেমোগ্রাফিক ও আধ্যাত্মিক আত্মহত্যার দিকে এগোচ্ছে। আমাদের বেছে নিতে হবে — আমরা ফিনল্যান্ড-ইসরায়েল-জাপানের রাস্তায় হাঁটব, নাকি ভাঙা আমেরিকার নকল করব?

তাই লড়াইটা স্পষ্ট। একদিকে নালন্দার ভারত, চরক-সুশ্রুতের ভারত, যৌথ পরিবারের ভারত, যেখানে মেধা আর মূল্যবোধ একসাথে হাঁটে। অন্যদিকে একটা আমদানি করা, কৃত্রিম, ভোগবাদী খাঁচা, যেখানে ‘স্বাধীনতা’র নামে আপনাকে ক্রেতা বানানো হয়, আর ‘আধুনিকতা’র নামে আপনার শিকড় কাটা হয়। যাদবপুরের যে মেধাবী ছাত্ররা সিলিকন ভ্যালি কাঁপাচ্ছে, তাদের সামনে আনতে হবে। আর যারা ক্যাম্পাসকে নেশা আর যৌনতার আখড়া বানাতে চায়, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। কারণ সংস্কৃতি মানে মদ খেয়ে বিপ্লব না, সংস্কৃতি মানে সরস্বতী পুজোর আগের রাতে টানা জেগে আলপনা দেওয়া। এটাই প্রগতি। বাকিটা প্রোপাগান্ডা।

সন্দীপ মুখোপাধ্যায় ।

Address

Hudco
Kolkata
700054

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when We & The so called Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share