We & The so called Society

We & The so called Society Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from We & The so called Society, Nonprofit Organization, Hudco, KOLKATA.

"বাচ্চা হওয়ার পর একটু কোমর ব্যথা তো সবারই থাকে, এত ন্যাকামি কিসের!"—মায়ের 'পোস্টপার্টাম ডিপ্লিশন' (Postpartum Depletion)...
21/04/2026

"বাচ্চা হওয়ার পর একটু কোমর ব্যথা তো সবারই থাকে, এত ন্যাকামি কিসের!"—মায়ের 'পোস্টপার্টাম ডিপ্লিশন' (Postpartum Depletion) এবং পেলভিক ফ্লোরের ক্ষতিকে অবজ্ঞা করা.....

সন্তান জন্মের পর মা হয়তো তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। একটানা দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে গেলে কোমরে তীব্র ব্যথা হচ্ছে, চুল পড়ে যাচ্ছে, সারাক্ষণ চরম ক্লান্তি কাজ করছে। এমনকি হাঁচি বা কাশি দিলে হয়তো নিজের অজান্তেই কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব লিক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই তীব্র কষ্টের কথা পরিবারের কাউকে বলতে গেলেই অবধারিতভাবে শুনতে হয়—"বাচ্চা হলে একটু-আধটু কোমর ব্যথা তো সবারই থাকে, আমাদের কি বাচ্চা হয়নি? তোমার এত ন্যাকামি কিসের! ওঠো, কাজ করো, কাজ করলেই শরীর ঠিক হয়ে যাবে।"

আমাদের সমাজে মাতৃত্বকে অনেক মহিমান্বিত করা হলেও, একজন মায়ের শারীরিক কষ্টগুলোকে চরমভাবে অবজ্ঞা করা হয়। আমরা ধরে নিই, মা হওয়া মানেই আজীবন ব্যথা আর কষ্ট সহ্য করার চুক্তিপত্রে সই করা।

এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর মেডিকেল আর্টিকেলে আমরা জানবো, মায়ের শারীরিক কষ্টগুলোকে 'স্বাভাবিক' বলে উড়িয়ে দেওয়ার এই সামাজিক মানসিকতা কীভাবে একজন নারীকে আজীবনের জন্য 'পোস্টপার্টাম ডিপ্লিশন' (Postpartum Depletion) এবং শারীরিক পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

১. 'পোস্টপার্টাম ডিপ্লিশন' (Postpartum Depletion) এবং পুষ্টির শূন্যতা
গর্ভাবস্থার দীর্ঘ ৯ মাস এবং সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটি একজন মায়ের শরীরকে আক্ষরিক অর্থেই নিংড়ে নেয়। গর্ভস্থ শিশু তার নিজের বিকাশের জন্য মায়ের শরীর থেকে ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং জরুরি ভিটামিনগুলো শুষে নেয়।

সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীরে পুষ্টির যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকেই 'পোস্টপার্টাম ডিপ্লিশন' বলা হয়। এটি কোনো সাধারণ ক্লান্তি নয়; এটি একটি মারাত্মক মেডিকেল কন্ডিশন। ডেলিভারির পর যদি মাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক পুষ্টি দেওয়া না হয়, তবে এই শূন্যতা পূরণ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। ফলে মায়েরা চরম রক্তশূন্যতা, হাড়ের ক্ষয় (Osteoporosis), চুল পড়া এবং মারাত্মক 'পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন'-এ (Postpartum Depression) ভুগে তিলে তিলে শেষ হয়ে যান।

২. পেলভিক ফ্লোর (Pelvic Floor) ড্যামেজ এবং নীরব যন্ত্রণা
গর্ভাবস্থায় বাচ্চার পুরো ওজনটা ধরে রাখে মায়ের তলপেটের পেশিগুলো, যাকে 'পেলভিক ফ্লোর' বলা হয়। নরমাল ডেলিভারি হোক বা সিজারিয়ান—উভয় ক্ষেত্রেই এই পেশিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই দুর্বল পেলভিক ফ্লোরের কারণে হাঁচি, কাশি বা হাসলে অনেক মায়ের প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় (Urinary Incontinence)। এছাড়া জরায়ু নিচে নেমে যাওয়ার (Pelvic Organ Prolapse) মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটে। কিন্তু লজ্জায় এবং 'এগুলো স্বাভাবিক' ভেবে মায়েরা এই নীরব যন্ত্রণাগুলো কাউকে বলতে পারেন না। কোনো চিকিৎসা বা ফিজিওথেরাপি না পাওয়ার কারণে একসময় তারা নিজেদের শরীরের ওপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

৩. স্মার্ট প্যারেন্টিং সল্যুশন: মায়ের যত্নই সন্তানের সুস্থতার চাবিকাঠি
একজন ভগ্নস্বাস্থ্যের ডিপ্রেসড মা কখনোই একটি সুস্থ সন্তান বড় করতে পারেন না। মায়ের যত্ন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তার অধিকার।

বিশ্রাম এবং রিকভারি নিশ্চিত করুন (Rest and Recovery):
সন্তান জন্মের পর প্রথম অন্তত ৪০ দিন মাকে ভারী কাজ (যেমন- কাপড় কাচা, ভারী বালতি তোলা বা মেঝে মোছা) থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন। তার শরীরকে হিল (Heal) বা সেরে ওঠার সময় দিন।

সাপ্লিমেন্ট চালিয়ে যান:
বাচ্চা হওয়ার সাথে সাথেই মায়ের আয়রন এবং ক্যালসিয়াম ওষুধ বন্ধ করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শে অন্তত ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত মায়ের পুষ্টি এবং সাপ্লিমেন্ট নিশ্চিত করুন।

ফিজিওথেরাপি এবং মেডিকেল সাপোর্ট নিন:
প্রস্রাব লিক হওয়া বা দীর্ঘমেয়াদী কোমর ব্যথা কোনো 'ন্যাকামি' নয়। এগুলো পেলভিক ফ্লোর ড্যামেজের লক্ষণ। এগুলো লুকিয়ে না রেখে একজন গাইনোকোলজিস্ট এবং ফিজিওথেরাপিস্টের শরণাপন্ন হোন এবং 'কেগেল এক্সারসাইজ' (Kegel Exercise)-এর মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন।

উপসংহার
মাতৃত্ব মানেই নিজেকে শেষ করে দেওয়া নয়। যে শরীরটি একটি নতুন প্রাণকে পৃথিবীতে আনার মতো মিরাকেল ঘটিয়েছে, সেই শরীরটি পরম যত্ন পাওয়ার যোগ্য। মায়ের কোমর ব্যথা বা শারীরিক কষ্টগুলোকে 'ন্যাকামি' বলে উপহাস করা বন্ধ করুন। একটি শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো তার সুস্থ এবং হাসিখুশি মা। আসুন, মায়ের নীরব কান্নাগুলোকে সম্মান করতে শিখি এবং তাকে সেরে ওঠার সুযোগ দিই।

আসুন, একসাথে সচেতনতা গড়ি:
সন্তান জন্মের পর মায়ের শারীরিক কষ্টগুলোকে 'ন্যাকামি' বলে উড়িয়ে দেওয়ার এই মানসিকতা কে ধিক্কার জানাই

শুভেচ্ছা রইল পাঠক বন্ধুদের জন্য
15/04/2026

শুভেচ্ছা রইল পাঠক বন্ধুদের জন্য

ছাপরি বা ছাপড়ি,শব্দটার হঠাৎ করে আমদানি হয়েছে,এর মানে কী জিজ্ঞেস করতে গুগল জানাল,'ছাপরি' (Chhapri) শব্দটি বর্তমানে সোশ্যা...
06/04/2026

ছাপরি বা ছাপড়ি,শব্দটার হঠাৎ করে আমদানি হয়েছে,এর মানে কী জিজ্ঞেস করতে গুগল জানাল,
'ছাপরি' (Chhapri) শব্দটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় অদ্ভুত ফ্যাশন, চুলের স্টাইল (যেমন- উজ্জ্বল রঙের চুল) এবং অশালীন বা দৃষ্টিকটু আচরণের জন্য পরিচিত তরুণ-তরুণীদের বোঝাতে ব্যবহৃত একটি ব্যঙ্গাত্মক ও অপমানজনক শব্দ। এটি মূলত নিম্ন রুচি বা লোকদেখানো স্টাইল করা ব্যক্তিদের টিপ্পনী কাটতে ব্যবহৃত হয়। কত অজানারে জানাইলে তুমি,গুগল।

কিন্তু আমি তো দেখি অধিকাংশ সময় তরুণ তরুণী নয়,শুধু মেয়েদের জন্য শব্দটা,আর সেই মেয়েদের জন্য,যারা অর্ধউলঙ্গ হয়ে রিল বানায়। দু একটা সময় দেখেছি ছেলেদের বলতে,কিন্তু সেই ছেলেদের,যারা মেয়েদের মতো সাজে। নয়তো ছাপরি/ ছাপড়ি বৌদি,ছাপরি/ছাপড়ি কাকীমা৷

আমাদের নিন্দে করার স্বভাবটা মহিলাদের দিকেই ঝুঁকে থাকে অথচ অধিকাংশ নোংরা রিলের ক্যামেরার সামনে মহিলারা থাকলে ক্যামেরার পিছনে থাকে হয় তার বর,নয় বয়ফ্রেন্ড। আড়ালে থাকে মেঘনাদ। আমরা সব নোংরামির দায় মহিলাদের দিয়ে ছেলেদের পুরো ক্লিনচিট দিচ্ছি। কিন্তু পুরুষ ছাপড়িদের দেখা যায় না, তারা আড়ালে থাকে, কারণ তাদের দেখলে কেউ উত্তেজিত হবে না। একই পার্টনারশিপ, তাই একই বিজনেস,একই কোম্পানি। তাহলে গালিটা শুধু মেয়েদের জন্য কেন? কোমর নাচানো অর্ধন*গ্ন মহিলাদের প্রোমোট করে তাদেরই সঙ্গীসাথী, যারা পুরুষ। আজকাল মহিলারা নোংরা রিল বানায়,এসব লিখে পোস্ট দেবেন না। রিল দুজনে মিলেই বানায়। পুরুষরা অর্ধউল*ঙ্গ হয়ে নাচলে আপনারা দেখবেন না,তাই মহিলারা মেন ক্যারেকটার।

আজকালকার মেয়েরা মায়ের মতো রান্না করতে পারে না কিন্তু বাপের মতো বিড়ি টানতে পারে,এমন বক্তব্য পেশ করা এক পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ দিয়ে ব্লক করলাম। ধন্যবাদ এই কারণেই দেওয়া যে এই পোস্টগুলো না দিলে আবোদাদের চেনা যায় না,আর এমন আবোদারা ঘাপটি মেরে দিনের পর দিন পড়ে থাকে বন্ধুবলয়ে। মধ্যে মধ্যে এক একটি বাক্যই জানান দেয় ব্যক্তিটির মনোভাব। তাই ধন্যবাদ তো দিতেই হয়।

রমণীর গুণ আর কর্তব্য বোঝাতে আসবেন না,তাদের গায়ে সারাক্ষণ যে স্টিগমা লাগিয়ে রাখা হয়, তার জবাবদিহি করুন আগে...

লগ্নভ্রষ্টা...পুংলিঙ্গ হয় শব্দটার? যেমন ধরুন লগ্নভ্রষ্ট? হয়, নাকি নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ? না হয় না,জানাই কথা, পুরুষের লাইফে ভ্রষ্ট বলে কিছু হয় নাকি? ভ্রষ্টা। স্ত্রীবাচক। লগ্ন ভ্রষ্ট হলে পুরুষের কোনও ক্ষতি হয়েছে অদ্যাবধি? হয়নি...

কুলটা, অসতী, ধিঙ্গি,পটের বিবি,খান*কি, ন্যাকাচণ্ডী, পাড়াবেড়ানি,আঁটকুড়ী,বাঁ*জা,ডাই*নী,স্বৈ*রিনী, ঢঙী, ঘর কি মুরগী, গতর*খাকি, ভাতার*খাকি, অলক্ষ্মী, কা*লনাগিনী,বারো*ভাতারি ....
এবং মেয়ে*ছেলে..বেহায়া মেয়ে*ছেলে...
আর একটাও আছে,যা লিখতে বাধছে...

আর এইসব শব্দ বা শব্দবন্ধ শুধুই স্ত্রীলিঙ্গবাচক, ...
আর সবই নিন্দেজনক বিশেষণ..

আর কিছু আছে যার পুংলিঙ্গ থাকলেও অব্যবহৃত, যেমন খাণ্ডারনী,মুখরা,শ্রীমতী ভয়ঙ্করী,বিদ্যেধরী, ছিঁচকাঁদুনি,,নাচুনি...খাণ্ডার মুখর শ্রীমান ভয়ঙ্কর বিদ্যেধর ছিঁচকাঁদুনে নাচুনে... কখনো শুনেছেন?

পুরুষদের জন্যও আছে কিছু শব্দ আছে যা নিন্দের উপযোগী,যার কোনো স্ত্রীলিঙ্গ নেই..
তার মধ্যে সবার সেরা হলো গিয়ে,
স্ত্রৈণ এবং মেনীমুখো।
এক হিসেবে যেগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে স্ত্রীজাতিরই নিন্দে।

এ ছাড়াও আছে৷ প্রাণপুরুষ , পুরুষসিংহ, বংশধর,সবেধন নীলমণি..শিবরাত্তিরের সলতে...
যা প্রশংসার্হ আর আদরের।
নিন্দাজনক আছে আর একটি..
কুলাঙ্গার পুত্র...
কিন্তু নারীদের তো কুলই নেই। তাই তার অঙ্গারও নেই।

নারী পতিতা...
অথচ পতিতালয়ে যিনি যান বলেই নারী পতিতা আখ্যা পান,তিনি পতিত নন কখনোই,তাই তো?

মহিলারা ব্যক্তিত্বময়ী এবং তৎসহ প্রতিবাদী মানেই কলহপ্রিয়া।
পুরুষ ব্যক্তিত্ববান হলে তা হলো পুরুষকার।
মহিলা উচিত কথা বললেই তিনি দজ্জাল,রণচণ্ডী।
ঝগড়ুটে না হলেই আবার ন্যাকাচণ্ডী..
পুরুষ উচিত কথা বললেই, লোকটার বুকের পাটা আছে। ঝগড়াটে নন, তাই কালচার্ড।
নারী স্বল্পভাষী মানে ডাঁটিয়াল..
পুরুষ স্বল্পভাষী হলে ডিগনিফায়েড...
আর দুঃখের কথা হলো,এ সবই ব্যবহৃত হয় অধিক ক্ষেত্রে স্ত্রীজাতিরই দ্বারা...

আত্মঘাতী গোল
পরিণামে
অবধারিত পরাজয়।
ভাবি কারা এই মহিলারা, মানুষ হয়ে পুতুলনাচের পুতুল হতে এদের লজ্জা করে না?

আর মশাই আপনাদের বলি,এসবের পর রমণীর গুণ কী এবং কেন থাকা উচিত তা নিয়ে ভাষণ কীসের?
আপনার কর্তব্য আপনি নিজে ঠিক করেন যেমন,ঠিক তেমনি মেয়েদের কর্তব্য মেয়েরা নিজেরাই ঠিক করবে...
আপনি বা আপনারা নন...
ঠিকাছে?

বিড়ি টানা সর্বজনীনভাবে বন্ধ হোক,কারণ বিড়ি মানুষের প্রাণহানিকারক। বিড়ির জ্বালায় সারাজীবন অনেকেই প্যাসিভ স্মোকার হয়ে থেকে ফুসফুসের রোগ বাধাতে বাধ্য হন। বিড়ি না টানলেও তাঁদের কোনও লাভ হয় না। যেমন আমি সিগারেট খাই না, কিন্তু আমি একজন প্যাসিভ স্মোকার। কোনোভাবেই তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় নেই৷ ছোটবেলা থেকে বিড়ি ফুঁকে এমনই অভ্যেস যে লোকজন তা ছাড়তেও পারেন না। হঠাৎ বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিলে বিপদও হয়। তাই জোর জবরদস্তি করা মুশকিল। কিন্তু ছেলেরা বিড়ি ফুঁকলে স্বাস্থ্য খারাপ হয় আর মেয়েরা ফুঁকলে চরিত্র? এই ন্যারেটিভ কিছু কুচুটে মহিলারাই সেট করেন।

কানাডায় গিয়ে দেখেছি,সেখানে বিড়ি খাওয়া অপরাধ। প্রকাশ্যে স্মোকিং মানেই আপনার জেল অথবা জরিমানা৷ তা আপনি মা হন কি বাবা,কিচ্ছু যায় আসে না৷ অথচ আমরা বিড়ির মতো ক্ষতিকর জিনিস prohibited বলে আজও পাবলিক প্লেসে লিখে দিতে পারিনি।

স্বাস্থ্যবিধি হলে তা সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত। বিড়ি ফোঁকার প্রতিবাদ করুন কিন্তু তার মধ্যে লিঙ্গ বিভাজন কোনোভাবেই টানবেন না।
শুধু মহিলাদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন না।

মেয়েরা রান্না করবে কি করবে না তা তারা ঠিক করবে,তাদের সিদ্ধান্ত তারাই নেবে,একসঙ্গে হাজবেন্ড ওয়াইফ মিলে নেবে৷ যে রান্না করতে ভালোবাসে,সেই রান্না করবে। ইদানীং ছেলেমেয়েরা সেটাই করে। সেভাবেই চলে। তারা আপনাদের গার্জেনগিরি শোনে না।
গাঁয়ে মানে না,আপনি মোড়ল।
স্বাস্থ্য নিয়ে লোকের কত চিন্তা তা তো বোঝাই যায়৷ স্বাস্থবিধি নিয়ে মাথাব্যথাই নেই। আসল চিন্তা মেয়েদের কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়,তা নিয়ে৷ আর সেই বিধিনিষেধে সিগারেট হলো নাম্বার ওয়ান। সিগারেট ফুঁকলে মেয়েদের প্রাণ যাবে বলে এদের এত ভাবনা,তা মনে করার কোনও কারণ নেই৷ এদের একটাই কথা,তুই মেয়ে হয়ে কেন ছেলেদের মতো বিড়ি ফুঁকবি?

মিসোজিনিকে রক্তের মধ্যে,মজ্জায় মজ্জায় মিশিয়ে দেওয়ার কাজটা বেশ ভালোই রপ্ত করেছে এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজ৷ চারদিক শুধু স্লাটশেমারে ভর্তি৷ মেয়েদের কেন ছোট ড্রেস? শুধু মেয়েদের হাতেই কেন বিড়ি? মেয়েরা কেন এত ভোকাল? মেয়েরা কেন রাঁধবে না? কেন ঘুঁটে দেবে না? এরা এটাই শুধু বোঝে না যে মেয়েদের ডিজিটাল আর সোশ্যাল বাপ হবার জন্য কোনও পুরস্কার থাকে না।

মেয়েদের স্বঘোষিত বাপ হতে যাবেন না,
কে রান্না করবে,
কে বিড়ি টানবে,
That's none of your business...

©কাজরী বসু🖊

01/04/2026
ধরুন, আপনি চা খাচ্ছেন। আপনার সন্তান দেখে চা খেতেচাইলো। কিন্তু আপনি দিলেন না।কিন্তু সে দাদি বা নানির কাছে গিয়ে কান্না করল...
31/03/2026

ধরুন, আপনি চা খাচ্ছেন। আপনার সন্তান দেখে চা খেতে
চাইলো। কিন্তু আপনি দিলেন না।

কিন্তু সে দাদি বা নানির কাছে গিয়ে কান্না করলে –আর ও আদর করে তাকে চা খাইয়ে দেওয়া হলো।

আবার ধরুন,
আপনার বাচ্চা আপনার কাছে কিছু চাইলো। আপনি না বললেন।
কিন্তু বাচ্চার বাবা বা বাচ্চার দাদা দেখতে না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেটাই দিয়ে দিলো।

ঠিক এই মুহূর্ত থেকেই বাচ্চার জেদ তৈরি হওয়া শুরু হয়।
বাচ্চা মনে করতে শেখে—

“মা না দিলেও সমস্যা নেই, একটু কান্না করলেই অন্য কেউ দিয়ে দেবে!”

এভাবেই ধীরে ধীরে—
মায়ের কথার গুরুত্ব কমে
আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নষ্ট হয়
জেদ স্বভাবের অংশ হয়ে যায়
একটা সময় এসে সেই জেদ আর ঠিক করা যায় না।

তখন বাচ্চা মায়ের কথাও শুনতে চায় না,
কিন্তু দোষ গিয়ে পড়ে শুধু মায়ের ওপর।
সমাধান একটাই
বাচ্চার ব্যাপারে মায়ের সিদ্ধান্তটাই ফাইনাল হতে হবে।

বাচ্চা কী খাবে?
কোথায় যাবে?
কী কিনে দেওয়া হবে
সব ক্ষেত্রে মায়ের “হ্যাঁ” বা “না”—এটাই শেষ কথা হওয়া জরুরি।
যখন পরিবারের সবাই মায়ের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে,
তখনই বাচ্চা শিখে— নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে,
না মেনে নিতে,
এবং সুস্থ মানসিকতায় বড় হতে

Collected

একজন মায়ের “না” কথাটাও সম্মান পাওয়ার মতো…“ওকে মিষ্টি দিও না।”“আমি এখনো ওকে চিনি খাওয়াতে চাই না।”“এত দেরি করে ঘুম পাড়িও ন...
27/03/2026

একজন মায়ের “না” কথাটাও সম্মান পাওয়ার মতো…
“ওকে মিষ্টি দিও না।”
“আমি এখনো ওকে চিনি খাওয়াতে চাই না।”
“এত দেরি করে ঘুম পাড়িও না।”
“ঘুমিয়ে থাকলে বিরক্ত করো না।”
“মুখে চুমু দিও না।”
“আমি না জানলে কোনো খাবার দিও না।”
তবুও অনেক সময় পরিবার থেকে শোনা যায়—
“দাও না, কিছু হবে না।”
“একটু দিলে সমস্যা কী?”
“আমরাও তো এভাবেই বড় করেছি।”
কিন্তু অনেকেই একটা বিষয় ভুলে যায়—
একজন মা যখন “না” বলে,
সে কোনো বাড়াবাড়ি করে না,
বা অযথা কঠোর হতে চায় না।
সে “না” বলে কারণ,
সে তার সন্তানকে যত্ন করছে।
একজন মা এমন কিছু অনুভব করতে শেখে,
যা অন্য কেউ বুঝতে পারে না—
তার মনের ভিতরের অনুভূতি, তার মাতৃত্বের টান।
এই অনুভূতির জন্য
কারও অনুমতি লাগে না,
কারও সমর্থন লাগে না,
তর্কেরও দরকার নেই—
শুধু দরকার
একটু সম্মান।

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যারা চেষ্টা করেও সন্তান নিতে পারেননি, তাদের নীরবতা বা একাকীত্ব ...
20/03/2026

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং যারা চেষ্টা করেও সন্তান নিতে পারেননি, তাদের নীরবতা বা একাকীত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। কিন্তু পৃথিবী এই দুই ধরনের মানুষকে একই চোখে দেখে, যা তাদের জন্য আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।

​সমাজ মনে করে সব সন্তানহীন নারীই বোধহয় একই রকম মানসিক অবস্থায় আছেন। কিন্তু আসলে এই দুই দলের মানুষের মনের অবস্থা আলাদা। তাদের বেদনার ধরন আলাদা এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথও আলাদা। অথচ পারিবারিক অনুষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রে তাদের একই রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

​একটি প্রশ্ন যা দুই ভাগ করে দেয়:
যখন কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়, "আপনার কি বাচ্চা আছে?" এবং উত্তর যখন আসে "না", তখন পরবর্তী প্রশ্নটি হয়— "এটা কি আপনাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত (By Choice)?"

​যারা স্বেচ্ছায় নেননি: তাদের কাছে এই প্রশ্নটি ক্লান্তিকর। কারণ "নিজেদের সিদ্ধান্ত" বললে সমাজ হাজারটা কৈফিয়ত চায়— কেন নেননি? পরে আফসোস হবে না তো? ইত্যাদি।

​যারা চেষ্টা করেও পারেননি: তাদের জন্য এই প্রশ্নটি একটি ধারালো ছুরির মতো। কারণ এর উত্তর দিতে গেলে তাদের নিজেদের চিকিৎসার ইতিহাস, ব্যক্তিগত দুঃখ বা ভাঙাচোরা মনের গল্প একজন অচেনা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হয়।

​মৃত্যুহীন শোক:
যাঁরা বন্ধ্যাত্বের মধ্য দিয়ে যান, তাদের কষ্টটা অনেকটা প্রিয়জন হারানোর মতো। কিন্তু তফাত হলো, এখানে কোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয় না বা কেউ সান্ত্বনা দিতে আসে না। তারা এমন এক সন্তানের জন্য শোক করেন যার কোনো অস্তিত্বই নেই। তারা অন্যের খুশিতে হাসিমুখে সামিল হলেও ভেতরে ভেতরে এক গভীর শূন্যতা বয়ে বেড়ান।

​সিদ্ধান্তের নীরবতা:
অন্যদিকে যারা স্বেচ্ছায় সন্তান নেননি, তাদের সারাক্ষণ প্রমাণ করতে হয় যে তারা সুখী। সমাজ মনে করে সন্তান না থাকা মানেই জীবনে কোনো বড় অভাব থাকা। কিন্তু তাদের কাছে এই 'অভাব'টাই আসলে এক ধরনের স্বাধীনতা বা তাদের বেছে নেওয়া জীবন। তাদের সবসময় আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকতে হয়, কারণ সামান্যতম দ্বিধা দেখালেই সমাজ বলবে— "দেখলে তো, সিদ্ধান্ত ভুল ছিল!"

​সমাজ যখন দুটোকে এক করে ফেলে:
যখন সমাজ এই দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতাকে একসাথে গুলিয়ে ফেলে, তখন দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
​যিনি মা হতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেননি, তার নির্দিষ্ট দুঃখটা হারিয়ে যায়।
​আর যিনি মা হতে চাননি, তার মনের শান্তি বা তৃপ্তিটাকে সমাজ 'একাকীত্ব' বা 'অস্বীকার' বলে ভুল ব্যাখ্যা করে।
​•
পৃথিবীটা মূলত মা-বাবা এবং সন্তানদের কেন্দ্র করে সাজানো। সন্তানহীন নারীরা যেভাবেই এই পথে আসুক না কেন, তাদের এই ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিতে হয়।
নীরবতা কেবল বাইরে থেকেই শান্ত মনে হয়, কিন্তু ভেতরে এর একেকটি রূপ একেক রকম ইতিহাসের সাক্ষী।

​স্বেচ্ছায় সন্তান না নেওয়া আর বাধ্য হয়ে সন্তানহীন থাকা— এই দুই অভিজ্ঞতার ব্যবধান বুঝতে শেখা উচিত, যাতে কাউকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আঘাত পেতে না হয়।
___________________
Source : সংগৃহীত

আজ কোলে যে শিশু, কাল সেই-ই ভরসা…পার্কের শান্ত বিকেলে এক মা তার শিশুকে নিয়ে হাঁটছেন।দৃশ্যটা সাধারণ। কিন্তু জলের আয়নায় ...
17/03/2026

আজ কোলে যে শিশু, কাল সেই-ই ভরসা…

পার্কের শান্ত বিকেলে এক মা তার শিশুকে নিয়ে হাঁটছেন।
দৃশ্যটা সাধারণ। কিন্তু জলের আয়নায় দেখা যায় ভবিষ্যৎ—
হুইলচেয়ারে বসে আছেন সেই মা,
আর তাকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে বড় হয়ে ওঠা সেই সন্তান।

জীবন আসলে এক বৃত্ত।

আজ যে মা সন্তানের হাত ধরে হাঁটতে শেখায়,
একদিন সেই হাতই কাঁপবে।
আজ যে মা রাত জেগে জ্বর দেখে,
একদিন সেই সন্তানের চোখেই জেগে থাকবে মায়ের ওষুধের সময়।

আমরা ভুলে যাই—
মা কখনও শুধু মা নন,
তিনি একদিন বৃদ্ধ হবেন।
শক্ত কাঁধ একদিন দুর্বল হবে।
অটল কণ্ঠ একদিন নরম হয়ে যাবে।

সেদিন আমরা কী করব?
বিরক্ত হব,
নাকি মনে রাখব—
এই মানুষটাই আমাকে পৃথিবী চিনিয়েছিল?

এই ছবিটা মনে করিয়ে দেয়—
ভালোবাসা একমুখী নয়।
আজ তিনি আমাদের আগলে রাখছেন,
কাল আমরা তাঁকে আগলে রাখব।

কারণ জীবন ঘুরে ফিরে
ভালোবাসার হিসাব ঠিকই মিটিয়ে দেয়। 💛

"বিয়ে করার পর যদি নির্লজ্জের মতো স্বার্থপর না হতে পারো, তবে তোমার সংসার টিকবে না।"আপনার সমস্ত আদর্শকে আমি সম্মান জানাচ্ছ...
07/03/2026

"বিয়ে করার পর যদি নির্লজ্জের মতো স্বার্থপর না হতে পারো, তবে তোমার সংসার টিকবে না।"

আপনার সমস্ত আদর্শকে আমি সম্মান জানাচ্ছি। কিন্তু অনুরোধ একটাই, আমাকে স্বার্থপর, পরিবার-বিদ্বেষী বলে গালি দেওয়ার আগে, লেখাটা শেষ পর্যন্ত পড়ুন। যদি আপনার 'ত্যাগ' এবং 'ভালোবাসা'র সংজ্ঞাকে আমি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে না পারি, তবে বলবেন।

এছাড়া এই আর্টিকেল আপনাকে মানসিকভাবে আঘাত দিতে পারে। তাই পরবর্তী অংশ নিজ দায়িত্বে পড়বেন

আমরা এমন এক আবেগী সমাজে বড় হয়েছি, যেখানে আমাদের শেখানো হয়, "সংসার মানেই স্যাক্রিফাইস"। আমাদের শেখানো হয়, "বিয়ের পর সবাইকে নিয়ে চলতে হয়"। এই মধুর বিষাক্ত কথাগুলো শুনতে খুব ভালো শোনায়। কিন্তু এই 'সবাইকে নিয়ে চলার' চক্করে যে দুটি মানুষ সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায়, তারা হলো স্বামী এবং স্ত্রী। তারা একে অপরের জন্য নয়, 'সবার জন্য' বাঁচতে গিয়ে নিজেদের ভালোবাসার কবর খুঁড়ে ফেলে।

এই লেখাটি পরিবার ভাঙার উস্কানি নয়। এই লেখাটি বাবা-মা বা আত্মীয়-স্বজনকে অশ্রদ্ধা করার জন্যও নয়। এই লেখাটি হলো সেই নির্মম সত্যটাকে তুলে ধরার চেষ্টা, যা একটি নতুন সংসারকে বটগাছের মতো মজবুত করতে পারে, আবার পরগাছার মতো শুকিয়েও মারতে পারে।

বিয়ের প্রথম রাত থেকেই এক অদৃশ্য যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধটা কোনো শত্রু দেশের সাথে নয়, এই যুদ্ধটা হলো 'আমাদের' সাথে 'বাকি সবার'।

'আমরা'—মানে নতুন স্বামী আর স্ত্রী। এক নতুন ইউনিট, এক নতুন দল, এক নতুন পৃথিবী।
'বাকি সবাই'—মানে বাবা, মা, ভাই, বোন, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন। পুরনো পৃথিবী।

সমস্যাটা হয় তখনই, যখন এই নতুন দলটা নিজেদেরকে একটা 'ইউনিট' হিসেবে ভাবতে পারে না। যখন স্বামী ভাবে, "আগে আমি আমার মায়ের ছেলে, তারপর তোর স্বামী।" আর স্ত্রী ভাবে, "আগে আমি আমার বাবার মেয়ে, তারপর তোমার বউ।"

যে পুরুষ বিয়ের পরেও প্রতিটি সিদ্ধান্তে তার মায়ের আঁচলের নিচে আশ্রয় খোঁজে, যে তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত কথা, দুর্বলতার কথা, এমনকি শোবার ঘরের কথাও তার পরিবারের কাছে গিয়ে বলে, সে তার 'পোশাক'কে সবার সামনে নগ্ন করে দেয়। সে একজন বিশ্বাসঘাতক।

একইভাবে, যে নারী বিয়ের পর তার নতুন সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি, স্বামীর আয়-রোজগার, শাশুড়ির আচরণ নিয়ে বাপের বাড়িতে রিপোর্ট করে, সে তার স্বামীর সম্মানকে, তার নতুন ঘরের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

'স্বার্থপর' হওয়ার মানে হলো, সবার আগে নিজেদের এই 'আমরা' নামক ইউনিটটাকে গুরুত্ব দেওয়া। পৃথিবীর বাকি সবার মতামত, সবার চাহিদা, সবার আবেগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তোমার সঙ্গীর অনুভূতি। যদি তোমার কোনো সিদ্ধান্তে তোমার সঙ্গী কষ্ট পায়, কিন্তু 'বাকি সবাই' খুশি হয়, তবে জেনে রাখো, তুমি ভুল পথে আছ। তোমার সংসারের প্রথম ইটে ঘুণ ধরে গেছে।

"আমি তোমার জন্য আমার বন্ধুদের ছেড়ে দিয়েছি।"
"আমি তোমার জন্য আমার চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি।"
"আমি এই সংসারের জন্য আমার সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছি।"

এই কথাগুলো শুনতে খুব মহৎ শোনায়, তাই না? এগুলো আসলে মহৎ নয়, এগুলো হলো একে অপরকে দেওয়া মানসিক অত্যাচারের বিষাক্ত চাকু। আজ যে সঙ্গী 'ত্যাগ' করছে, সে কাল তার প্রতিদান চাইবেই। সে সারাজীবন অন্যজনকে এই ত্যাগের খোঁটা দিয়ে যাবে।

একজন বুদ্ধিমান এবং 'স্বার্থপর' দম্পতি একে অপরের জন্য ত্যাগ করে না, তারা একে অপরের স্বপ্নের জন্য জায়গা তৈরি করে দেয়।

'স্বার্থপর' স্বামী তার স্ত্রীকে বলবে না, "আমার মায়ের সেবা করার জন্য তোমার চাকরি করার দরকার নেই।" বরং সে বলবে, "চলো, আমরা এমন একটা উপায় বের করি, যাতে তুমি তোমার স্বপ্নও পূরণ করতে পারো, আবার আমরা সংসারটাও সামলাতে পারি।"

'স্বার্থপর' স্ত্রী তার স্বামীকে বলবে না, "বন্ধুদের সাথে আড্ডা না দিয়ে আমাকে সময় দাও।" বরং সে বলবে, "তোমার বন্ধুদের জন্যও সময় দরকার। কিন্তু আমাদের দুজনের জন্যও একটা কোয়ালিটি টাইম নির্দিষ্ট থাকতে হবে, যে সময়ে ফোন বা অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না।"

যখন তুমি তোমার সঙ্গীর স্বপ্নকে, তার ব্যক্তিগত সত্তাকে সম্মান না করে, তাকে শুধু তোমার সংসারের জন্য 'ত্যাগ' করতে বাধ্য করো, তখন তুমি আসলে তাকে তিলে তিলে খুন করছো। একদিন সেই মৃতপ্রায় মানুষটাই তোমার সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচার পথ খুঁজবে।

বিয়ের পর টাকা-পয়সা নিয়ে যে দম্পতি পুরোপুরি 'স্বার্থপর' হতে পারে না, তাদের সম্পর্ক নরকে পরিণত হতে বাধ্য।

'স্বার্থপর' হওয়ার মানে কী? এর মানে হলো, বিয়ের পর তোমাদের দুজনের আয় একটাই gemeinsamen (যৌথ) আয়। সেটা আর 'আমার টাকা' বা 'তোমার টাকা' নয়, সেটা 'আমাদের টাকা'।

যে স্বামী তার আয়ের হিসাব স্ত্রীকে দেয় না, খরচের জন্য স্ত্রীর হাতে টাকা তুলে দেওয়ার সময় এমন ভাব করে যেন সে ভিক্ষা দিচ্ছে, সে আসলে তার স্ত্রীকে সম্মান করে না। সে তাকে একজন জীবনসঙ্গী নয়, একজন নির্ভরশীল কর্মচারী মনে করে।

আর যে স্ত্রী নিজের আয় লুকিয়ে রাখে, স্বামীর সংসারের খরচে অংশগ্রহণ না করে নিজের টাকা শুধু বাপের বাড়ির জন্য বা নিজের ব্যক্তিগত শখের জন্য খরচ করে, সেও সেই সংসারের প্রতি সৎ নয়।

তোমাদের 'আমাদের টাকা' থেকে প্রথমে 'আমাদের সংসারের' চাহিদা পূরণ হবে। তারপর 'আমাদের ভবিষ্যতের' জন্য সঞ্চয় হবে। এরপর যদি কিছু বাঁচে, তবেই সেটা দিয়ে নিজ নিজ পরিবারের জন্য কিছু করা যেতে পারে। যে দম্পতি এই নিয়ম মানে না, তাদের মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে যে অবিশ্বাস আর দূরত্বের জন্ম হয়, তা আর কোনোদিনও ঘোচে না।

'স্বার্থপর' হও। আগে নিজেদের আর্থিক ভিত্তিকে মজবুত করো। কারণ তোমার বিপদের দিনে তোমার বাবা-মা বা ভাই-বোন হয়তো সহানুভূতি দেখাবে, কিন্তু তোমার পাশে থেকে লড়াইটা তোমার জীবনসঙ্গীকেই করতে হবে।

প্রত্যেক মানুষের ভেতরে একটা 'ভালোবাসার ট্যাংক' থাকে। যখন সেই ট্যাংকটা ভর্তি থাকে, তখন সে পৃথিবীর সবাইকে ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু যখন ট্যাংকটাই খালি, তখন সে দেবেটা কী?

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো একে অপরের 'ভালোবাসার ট্যাংক' ভর্তি রাখা।

'স্বার্থপর' হওয়ার মানে হলো, পৃথিবীর অন্য সবার চাহিদা মেটানোর আগে, নিজের সঙ্গীর মানসিক এবং শারীরিক চাহিদা পূরণ করা। তুমি যদি সারাদিন তোমার মা-ভাই-বোন-বন্ধুদের সময় দিয়ে, তাদের সমস্যা সমাধান করে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরো, আর তোমার সঙ্গীর জন্য তোমার কাছে কোনো শক্তি বা আবেগ অবশিষ্ট না থাকে, তবে তুমি তোমার প্রধান দায়িত্বেই অবহেলা করছ।

তোমার সঙ্গীর একটুখানি প্রশংসা, একটুখানি স্পর্শ, মন দিয়ে তার কথা শোনা—এগুলোই তার 'ভালোবাসার ট্যাংকে' জ্বালানি ভরে দেয়। যখন সে তোমার কাছ থেকে এই জ্বালানি পায়, তখন সেও তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে উজাড় করে ভালোবাসতে পারে।

কিন্তু তুমি যদি তোমার সঙ্গীর ট্যাংক খালি রেখে, তার কাছ থেকে তোমার পরিবারের জন্য ভালোবাসা আর সেবা আশা করো, তবে তুমি একজন নির্বোধ। একটা খালি গাড়ি যেমন চলতে পারে না, একটা খালি মনের মানুষও তেমন ভালোবাসতে পারে না।

সমাজ তোমাকে স্বার্থপর বলবে। আত্মীয়-স্বজন তোমাকে 'বউয়ের গোলাম' বা 'সংসারভোলা মেয়ে' বলে গালি দেবে। দিক।

কিন্তু দিনশেষে যখন তুমি তোমার সঙ্গীর হাত ধরে শান্তিতে ঘুমাতে যাবে, যখন তোমরা দুজন মিলে নিজেদের ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণ করবে, যখন তোমরা একে অপরের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে, তখন তুমি বুঝবে, এই 'স্বার্থপরতা' কতটা জরুরি ছিল।

'স্বার্থপর' হওয়া মানে পরিবারকে ছুড়ে ফেলা নয়। 'স্বার্থপর' হওয়ার মানে হলো, আগে নিজেদের ঘরকে গোছানো। আগে নিজেদের সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করা। কারণ যে বাড়ির ভিত মজবুত, সেই বাড়িই বড় ঝড় সামলাতে পারে। আর যে দম্পতির বন্ধন অটুট, সেই দম্পতিই তাদের পরিবার এবং সমাজকে কিছু দিতে পারে।

এখন আয়নার সামনে দাঁড়াও। নিজেকে প্রশ্ন করো—তুমি কি 'সবার' মন রক্ষা করতে গিয়ে তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে হারাতে বসেছো? তুমি কি 'ত্যাগের' নামে নিজের সঙ্গীকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছো?

যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে আজ থেকেই 'স্বার্থপর' হতে শেখো। কারণ তোমার এই স্বার্থপরতার উপরেই তোমার ভালোবাসার স্বর্গ বা নরক জীবন লাভ নির্ভর করছে।

সংগৃহীত

Address

Hudco
Kolkata
700054

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when We & The so called Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share