02/08/2026
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ ডঃ মনমোহন সিং যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বকেয়া ঋণ ও দায়বদ্ধতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫.৮৭ লাখ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বকেয়া ঋণ ও দায়বদ্ধতার পরিমাণ প্রায় ২০১.১৭ লাখ কোটি টাকায় এসে পৌঁছেছে। তবে এটি বিগত ১২ বছরের মোট করা "নতুন ঋণ" নয়, এটি হলো ভারতের বর্তমান মোট পুঞ্জীভূত বকেয়া ঋণের পরিমাণ (যার মধ্যে ২০১৪ সালের আগের ঋণও অন্তর্ভুক্ত)। মোদী সরকারের আমলে মূল ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৪৫ লাখ কোটি টাকা।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঋণের সিংহভাগ টাকা দেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন (যেমন- জাতীয় সড়ক, রেলওয়ে, এবং ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
২০২০-২২ সালের বৈশ্বিক মহামারী এবং লকডাউনের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যায় এবং জনকল্যাণমূলক খদে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ করেই ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
ঋণ বা দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো
১) সরকারের ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় পুরনো ঋণের সুদ মেটাতে।
২) সরকারের বার্ষিক মোট উপার্জনের চেয়ে মোট খরচের পরিমাণ বেশি থাকে।
৩) বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়।
৪) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, পেনশন এবং প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৫) আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্য হ্রাস পাওয়া।
৬) নোটবন্দী এবং জিএসটি ব্যবস্থা চালুর শুরুর বছরগুলোতে কর আদায়ে যে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল।