07/06/2024
বাইবেলে বর্ণিত সত্যের আত্না বিষয়ে আল-কুরআন ও হাদিস থেকে লাইন by লাইন বিশ্লেষণ করা হলো,যা আগে কেউ করে নি এবং তা ভাবায় নিঃ-
****************★*************
★ভূমিকা:-আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমি যাকে পাঠাবো তাকে য়ে গ্রহণ করবে, সে আমাকেই গ্রহণ করবে৷ আর য়ে আমাকে গ্রহণ করে, আমায় যিনি পাঠিয়েছেন, সে তাঁকেও গ্রহণ করে৷’(যোহন 13:20)য়ে তোমাদের সাদরে গ্রহণ করে, সে আমাকেইগ্রহণ করে৷ আর য়ে আমাকে গ্রহণ করে, সে তো যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন সেই ঈশ্বরকেই গ্রহণ করে৷(মথি 10:40)কেউ যদি কোন ভাববাদীকে একজন ভাববাদী বলেই সাদরে গ্রহণ করে, তবে ভাববাদীর য়ে পুরস্কার সেও তা লাভ করবে৷ আর কেউ যদি কোন ধার্মিক লোককে ধার্মিক বলে সাদরে গ্রহণ করে, তবে ধার্মিক ব্যক্তির প্রাপ্য় য়ে পুরস্কার সেও তা পাবে৷(মথি 10:41)।তোমাদের বলবার মতো আমার এখনও অনেক কথা আছে; কিন্তু সেগুলো তোমাদের গ্রহণ করার পক্ষে এখন অতিরিক্ত হয়ে যাবে৷(যোহন 16:12)আমি পিতার কাছে চাইব, আর তিনি তোমাদের আর একজন সাহায্যকারী দেবেন, য়েন তিনি চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকেন৷(যোহন 14:16)কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি; আমার যাওযা তোমাদের পক্ষে ভাল, কারণ আমি যদি না যাই তাহলে সেই সাহায্যকারী তোমাদের কাছে আসবেন না৷ কিন্তু আমি যদি যাই তাহলে আমি তাঁকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব৷(যোহন 16:7)
******************************★**********
পরিচয়:-
(১)তিনি সত্যের আত্না(যোহন 14:17)
হ্যা,নবী(স)হলেন সত্যের আত্না।কারণ পল বলছে-
প্রিয় বন্ধুরা, এ জগৎ সংসারে অনেক ভণ্ড নবীদের দেখা দিয়েছে, তাই তোমরা সব আত্মাকে বিশ্বাস করো না৷ কিন্তু সেই সব আত্মাদের যাচাই করে দেখ য়ে তারা ঈশ্বর হতে এসেছে কিনা৷যে আত্না স্বীকার করে যিশু খৃস্ট পৃথিবীতে মানুষ হয়ে এসেছে,সে আত্না ঈশ্বরপ্রেরিত আত্না(১ যোহন 4:1-2)একই কথা নবী(স) স্বীকার করছেন-যে মরিয়মের পুত্র মসীহ ঈসাকে আল্লাহর/ঈশ্বরের বান্দা(মানুষ) ও রাসূল বলে বিশ্বাস করে....তার জন্য আল্লাহ তাকে জান্নাত দিবেন(বুখারী হা-৩৪৩৫)।যিশু/ঈসা থাকা কালে পবিত্র আত্না কখনোই স্বীকার করেনি,যিশু একজন মানুষ।সুতরাং পবিত্র আত্না সত্যের আত্না নয়,পলের প্রসংগে ঈশ্বর প্রেরিতও নয়।
(২)জগতবাসী তাকে জানে না কিন্ত তোমরা তাকে চিনো ও জানো,তিনি তোমাদের সঙ্গে ও মধ্যে থাকবেন (যোহন 14:17)হুবাহু একই বিষয়ে নবী(স)কে নিয়ে কুরআনে বলা-আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।(সূরাঃ সাবা, আয়াতঃ ২৮) এবং খৃস্টানরা নবী(স)কে ভালো করে চিনে যেমন কুরআনে বলা-যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চিনে, যেমন তাদের সন্তানদেরকে চিনে। যারা নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।(সূরাঃ আল আনআম, আয়াতঃ ২০)
৩)যখন সেই সাহায্যকারী আসবেন তখন তিনি পাপ, ন্যায়পরায়ণতা ও বিচার সম্পর্কে জগতের মানুষকে চেতনা দেবেন৷(যোহন 16:8)একই কথা নবী(স) সম্পর্কে বলা কুরআনে-আপনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনুন(সূরা ইব্রাহিম ১৪:১)
৪)বিচার সম্বন্ধে চেতনা দেবেন কারণ এই জগতের য়ে শাসক তার বিচার হয়ে গেছে৷(যোহন 16:11)
নবী(স)কে বলা হয়েছে এভাবে-বলে দিন, হে মানবজাতি!তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহর প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। (সূরাঃ আল আ'রাফ, আয়াতঃ ১৫৮)আপনি বলুন-আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম(পাপ-পুণ্য)এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম(পাপ-পুণ্য)। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।(সূরা আশ-শুরা, আয়াত-১৫)।
৫)সত্যের আত্মা যখন আসবেন, তখন তিনি সকল সত্যের মধ্যে তোমাদের পরিচালিত করবেন৷ (যোহন 16:13) নবী(স) ব্যাপারে কুরআনে বলা:- বলে দিন, হে মানবজাতি!তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত(সূরাঃ আল আ'রাফ, আয়াতঃ ১৫৮)
বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ নির্দেশ করবেন।
(সূরাঃ কাহফ, আয়াতঃ ২৪)বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।(সূরাঃ আল ইমরান, আয়াতঃ ৩১)
৬)তিনি নিজে থেকে কিছু বলেন না(যোহন 16:13)
একই কথা কোরানে নবী(স) বিষয়ে বলা-তিনি নিজের থেকে কিছু বলেন না,এটা তো ওহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয় (সূরা নাজম ৫৩:২-৩)
৭) আর আগামী দিনে কি ঘটতে চলেছে তা তিনি তোমাদের কাছে বলবেন৷(যোহন 16:13)
এটাও নবী(স) সাথে মিলে যেমন-রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ হে আওফ! কিয়ামতের পূর্বকার ছয়টি আলামত স্বরন রাখবে। সেগুলোর একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু। আওফ (রাঃ) বলেন, আমি একথায় অত্যন্ত মর্মাহত হলাম। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, প্রথমটি। অতঃপর বাইতুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) বিজয়। অতঃপর তোমাদের মধ্যে এক মহামারী ছড়িয়ে পড়বে, যার দ্বারা আল্লাহ তোমাদের বংশধরকে ও তোমাদেরকে শাহাদাত নসীব করবেন এবং তোমাদের আমলসমূহ পরিশুদ্ধ করবেন। এরপর তোমাদের সম্পদের প্রাচুর্য হবে, এমনকি মাথাপিছু শত দীনার (স্বর্নমুদ্রা) পেয়েও মানুষ সন্তুষ্ট হবে না। তোমাদের মধ্যে এমন বিপর্যয় সৃষ্টি হবে, যা থেকে কোন মুসলমানের ঘরই রেহাই পাবেনা। এরপর বনু আসফার (রোমক খৃস্টান) এর সাথে তোমাদের সন্ধি হবে। কিন্তু তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকাতলে সংঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। প্রতিটি পতাকার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য।(ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪০৪২)
৮)তিনি আমাকে মহিমান্বিত করবেন।(যোহন 16:14)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মতের দুটি দল, আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ দান করবেন। একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদ করবে, আর একদল যারা ঈসা ইব্ন মারিয়াম (আঃ)-এর সঙ্গে থাকবে।(সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩১৭৫)নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমার ও তাঁর অর্থাৎ ঈসা (আঃ) এর মাঝে কোন নবী নেই। আর তিনি তো অবতরণ করবেন।.... তিনি ইসলামের জন্য মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন ও জিযিয়া রহিত করবেন। তিনি তাঁর যুগে ইসলাম ছাড়া সকল ধর্ম বিলুপ্ত করবেন এবং মাসীহ দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তিনি পৃথিবীতে চল্লিশ বছর অবস্থান করবেন, অতঃপর মৃত্যুবরণ করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযা পড়বে।(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩২৪)
যিশু/ঈসা বলেন-‘আমি তোমাদের অনাথ রেখে যাবো না৷ আমি তোমাদের কাছে আসব৷(যোহন 14:18)
৯)কারণ আমি যা বলি তাই তিনি গ্রহণ করবেন এবং তোমাদের তা বলবেন৷(যোহন 16:14)ঈসা বলেন-হে ইস্রায়েল!আমাদের ঈশ্বর এক(মার্ক১২/২৯)নবী(স) একই শিক্ষা সবাইকে দিছেন কুরআন থেকে:-বলুন আল্লাহ এক(সূরা ইখলাস আয়াত-১)ইত্যাদি।
১০)যা কিছু পিতার, তা আমার৷ এই কারণেই আমি বলেছি য়ে সত্যের আত্মা আমার নিকট থেকে সবই গ্রহণ করবেন এবং তোমাদের তা বলবেন৷(যোহন 16:15)নবী(স) সত্যের আত্না বলে,তার ওপর নাজিলকৃত কুরআনে তৌরাত ও ইনজিল কথা বলার পাশাপাশি,ইনজিলের কিছু আইন হাদিস ও কুরআনে পাওয়া যায় এবং হাদিসে ঈসা ঘটনাগুলো বর্ণনা করেছেন।