29/04/2025
গতর খাটিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের ওপর শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মে দিবসের মিছিলে পা মেলান।
সাথী,
'মে দিবস' সারা বিশ্বের সমস্ত খেটে খাওয়া মানুষের দিন। আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে, ১৮৮৬ সালের ১লা মে শ্রমিকদের যে লড়াই এবং আত্মত্যাগ, তাকে মনে রেখে, নতুন করে শপথ নিতে, এই দিনটি পালিত হয়। সেদিন আটঘণ্টা কাজ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা হে মার্কেটে এক বিশাল জমায়েত করেন। পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায় এবং পুলিশের গুলিতে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক নিহত হন। তখন শ্রমিকদের দিনে ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা পরিশ্রম করতে হতো। জীবনে বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য কোনো সময় ছিলনা। হে মার্কেটের ওই আন্দোলনের ফলে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবীকে মেনে নেওয়া হয় এবং ১লা মে দিনটিকে 'আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আজ পর্যন্ত সারা পৃথিবী জুড়ে শ্রমিকরা মে দিবস পালন করে চলেছেন।
‘মিড-ডে মিল সহায়িকা সমিতি' (Association of Mid-day Meal Assistants, A.M.M.A.) মিড-ডে মিল উপভোক্তা ছাত্রছাত্রীদের এবং মিড-ডে মিল কর্মীদের প্রাপ্য অধিকারের জন্য লাগাতার লড়াই চালিয়ে আসছেন, কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লেজুড় বৃত্তি না করেই।এই লড়াই গড়ে উঠছে। হে মার্কেটের আটঘণ্টা কাজের লড়াই শ্রমিকদের ওপর যথেচ্ছ শোষণকে বন্ধ করেছিল, আম্মা (A.M.M.A)-ও লড়ছে নিজেদের ওপর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শোষণের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে গোটা বিশ্ব জুড়ে শ্রমিকদের আত্মদানে অর্জিত ৮ ঘন্টা কাজের অধিকারকে আবার নস্যাৎ করা হচ্ছে, আনা হচ্ছে দানবীয় সব আইন। তাই, স্বাভাবিকভাবেই, এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগামী ‘মে দিবস’-এ, কৃষ্ণনগর শহরে, আম্মা (A.M.M.A.)-র সদস্যরা পথে নামবেন। সমস্ত মিড-ডে মিল কর্মী, খেটে খাওয়া মানুষ ও গণতান্ত্রিক ব্যক্তির কাছে আম্মা-র আহ্বান, আসুন, মহান মে দিবসের এই মিছিলে পা মেলান।