26/06/2026
হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই, উচ্চ-নীচ আছে তাই?
উচ্চবর্ণের মেয়ের সঙ্গে কথা বলার অপরাধে দলিত কিশোরকে পিটিয়ে খুন করলো মেয়ের বাড়ির লোকজন। উত্তরাখন্ডের তেহেরি গাড়ওয়াল জেলার প্রতাপগড় ব্লকের দেবল গ্রামের আঠারো বছরের ছেলে কেতন লাল এর সঙ্গে খোলগড় গ্রামের এক মেয়ের গত ছয়মাস ধরে কথাবার্তা হতো ফোনের মাধ্যমে। মেয়েটি আপার কাস্ট পরিবারের আর কেতন একজন "শিডিউলড কাস্ট"। কেতনের অপরাধ: "শিডিউলড কাস্ট হয়ে আপার কাস্ট পরিবারের মেয়ের সঙ্গে কথা বলা"! এই অপরাধের শাস্তি হিসাবে কেতনকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটির পরিবার। আমাদের বীভৎস পুঁজিবাদী ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ববাদী বর্ণবাদী দেশে এভাবে প্রায় রোজ দেশের নানা প্রান্তে দলিত ও আদিবাসী নারীপুরুষকে নৃশংসভাবে খুন করাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। বহু দুপায়ে হাঁটা মানুষের মতো দেখতে কিছু জন্তু এই খুনকে সমর্থন করে। গাছ কাটা, নদী ধ্বংসের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা দাঁড়ালে, নিম্নবর্ণের মানুষ উচ্চবর্ণের মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা মনে করে দলিত আদিবাসীদের খুন করে তাদের "অউকাত" বুঝিয়ে দিতে হয়। মেয়ের বাড়ির লোকজন সেই অউকাত বোঝানোর জন্য পনেরো বছরের মেয়েকে দিয়ে ফোন করিয়ে কেতনকে গ্রামে ডেকে আনে রবিবার রাতে। তারপর কেতন ও তার বন্ধুকে একটা ঘরে আটকে বাড়ির লোকজন মিলে মারতে শুরু করে। মারতে মারতে কেতনের হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলে। যৌনাঙ্গে আঘাত করে। বুকে পিঠে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়। সকাল অবধি এভাবে চালানোর পর কেতনের বাবাকে ডেকে মেয়ের বাবা বলে, আপনার ছেলেকে আমি খুন করলাম। আমাদের কাস্টের মেয়ের সঙ্গে কথা বলার অপরাধে। কেতনের শরীরে তখনও কিছু প্রাণ ছিলো। হাসপাতালে যাওয়ার পথে বাবাকে সে কিছু কথা বলে। সেই ভিডিও তার বাবা জমা দিয়েছে পুলিশকে। হাসপাতালেই কেতন মারা যায়।
আমাদের স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবাদী ব্রাহ্মণ্যবাদী দেশে একদিকে আদানী আম্বানী কর্তৃক লাখ লাখ গাছ কাটা, সমুদ্র নদী ধ্বংস চলছে, অন্যদিকে সেই ঘটনার প্রতিবাদে আদিবাসীদের উপর নারকীয় অত্যাচার, কৃষক আত্মহত্যা, কৃষকরা আন্দোলন করলে সেখানে অত্যাচার, নীট পরীক্ষার নোংরামিতে পাঁচজন বাচ্চা ছেলেমেয়ের আত্মহত্যা, তার সঙ্গে প্রায়ই শোনা যায় দলিত পিটিয়ে বা পুড়িয়ে খুন করা হচ্ছে, কোনও বাচ্চার দোষ সে আপার কাস্টের কারো বোতল থেকে জল খেয়েছে, কারো অপরাধ সে কথা বলে ফেলেছে।
বিকৃত অসুস্থ মানুষ ছাড়া যে কোনও সুস্থ মানুষ বুঝবেন এগুলো হতে পারে কারণ এসব কিছু অ্যালাও করে এই রাষ্ট্র, তাই ক্ষণে ক্ষণে মেয়েদের প্রকাশ্য ধর্ষণও হয়। এরকম বীভৎস একটা অবস্থায়, বিচারের ভাবনা রইলো সুস্থ মানুষদের হাতে। যারা এখনও বেঁচে আছেন, বাঁচার নামে একটা লাশ বয়ে বেড়াচ্ছেন না তাদের হাতে!!! সারা পৃথিবীর কাছে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে এই রাষ্ট্রের এই সমস্ত দিক সোচ্চারে তুলে ধরুন, আপনার আশপাশে সব জায়গায় লাগাতার এতভাবে কথা বলুন যাতে অজস্র মানুষ বুঝতে পারে কোন ঘৃণ্য শাসনে, কোন ঘৃণ্য সমাজ ব্যবস্থায়, কত অপমানে মানুষ এখানে কোনওক্রমে বেঁচে আছে! এবং ভাবুন কীরকম সমাজ আপনি চান যেখানে আপনি আপনার সন্তান, আপনার পরিবেশ সহজ সরল সুস্থ ভাবে এগিয়ে চলতে পারবে!
সূত্র:
Dalit History Instagram Page
The Hindu
Times of India