03/03/2026
৩রা মার্চ ২০২৬। মিতার জন্মদিন। মিতা দাস, জন্ম গড়িয়ার পাঁচপোতায়, নিম্নবিত্ত পরিবারে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়া কৃতী ছাত্রী। বেঁচে থাকলে এই দিনে তার বয়স হত ৩৪। ২০১৬ সালের ১১ই অক্টোবর ভোরবেলায় মিতা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। সেই রাতে মিতার শ্বশুরালয়ে ঠিক কী ঘটেছিল, এখনও নাকি 'আইনি পরিভাষা'য় নিশ্চিত করে জানা যায়নি। কেবল এটুকু জানা গেছে, শরীরে অসংখ্য আঘাত ও গলায় গভীর কালো দাগ নিয়ে মিতার শরীরটা উলুবেড়িয়া শহরের হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরে শেষে মর্গে এসে আশ্রয় নিয়েছিল ভোরবেলায়। কেন? কী ঘটেছিল তার আগে? আদালত এখনও চুপ।
পৃথিবীর আরও বহু মানুষের মত মিতার মৃত্যুও পালকের মত হালকা হতে পারত, কিন্তু, তার পরিবার ও সহপাঠী-বন্ধু নিয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর পরিবারের ন্যায়বিচারের লড়াইতে মিতার মৃত্যু ক্রমেই পাহাড়ের মত ভারী হয়ে উঠেছে। যেমন ভারী হয়ে উঠেছে সময়। জমতে থাকা মামলার স্তূপ ভারী হয়ে উঠছে ক্রমশ।
মিতার নামে গড়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'মিতা ফাউন্ডেশন'। বিগত কয়েক বছর ধরে নানা জনসেবামূলক কাজ করে চলেছে সংগঠনটি। ন্যায়বিচার এক দীর্ঘ পথ। ক্রমশ প্রাসঙ্গিক থাকতে হয়, অশ্লীলভাবে নিজেদের কষ্টকে বিজ্ঞাপিত করে চলতে হয় পৃথিবীর সবার সামনে। সর্বদা, সর্বথা। সংগঠনটি থাকবে। অশ্লীলভাবে নির্লজ্জের মত কেবল জানান দিয়ে যাবে, বেঁচে থাকলে এই দিনে মাত্র ২৪ বছর বয়সে ফুরিয়ে যাওয়া মিতার বয়স হত ৩৪।